বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২২, ২০২৬

নারায়ণগঞ্জে ৫১ কৃতি শিক্ষার্থীকে জেলা পরিষদের সংবর্ধনা ও শিক্ষা সহায়তা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৪-২৫ ও ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় বিভিন্ন বিভাগে অসাধারণ কৃতিত্ব অর্জনকারীদের সংবর্ধনা ও শিক্ষা সহায়তা দিয়েছে নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদ।

বুধবার দুপুর ১২টায় জেলা পরিষদ কার্যালয়ে এ সংবর্ধনা ও শিক্ষা সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে ৫১ জন কৃতি শিক্ষার্থীর হাতে ক্রেস্ট ও এককালীন নগদ অর্থ সহায়তা তুলে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে একটি করে ফলজ গাছের চারা উপহার দেওয়া হয়।

জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাশফাকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা পরিষদ প্রশাসক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ। এ সময় জেলা পরিষদের সহকারী প্রকৌশলী নাহিদ ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক মামুন মাহমুদ বলেন, নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যে শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করা ও মেধার বিকাশে সহায়তা করা অন্যতম। শিক্ষা ও চাকরির ক্ষেত্রে নারায়ণগঞ্জ পিছিয়ে থাকলেও আমাদের নেতৃত্ব দেওয়ার পূর্ণ সক্ষমতা রয়েছে। সেই ভাবনা থেকেই আমরা এই উদ্যোগ নিয়েছি। আমরা নেতিবাচক নয়, একটি পজিটিভ নারায়ণগঞ্জ দেখতে চাই। অতীত কর্মকাণ্ডের কারণে জেলাটিকে ঘিরে তৈরি হওয়া নেতিবাচক ধারণা তরুণদের হাত ধরেই পরিবর্তন করতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাশফাকুর রহমান শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আমাদের নিজেদের প্রশ্ন করতে শিখতে হবে এবং নিজেকে জানতে হবে। নিজের ভিতর থেকেই সবকিছু জানার ও বোঝার চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।

সংবর্ধনা পেয়ে অনুভূতি ব্যক্ত করেন সদ্য সমাপ্ত এসএসসি পরীক্ষায় ১২০২ নম্বর পাওয়া শিক্ষার্থী বায়েজিদ ইবনে ওবায়েদ, কৃতি শিক্ষার্থী সাদিয়া চৌধুরী এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী অমিত হাসান।

তারা জানান, জেলা পরিষদের এমন উদ্যোগ তাদের দায়িত্ববোধ বাড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে আরো ভালো করার অনুপ্রেরণা জোগাবে।

অনুষ্ঠানে কৃতি শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি তাদের অভিভাবকরাও উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী / ছাত্রদের দেশের জন্য কাজ করতে হবে, তবে লেখাপড়া ছেড়ে নয়

দেশের প্রয়োজনে ছাত্রসমাজকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান বলেছেন, ছাত্রদের দেশের জন্য কাজ করতে হবে, তবে দেশের জন্য কাজ করতে গিয়ে লেখাপড়া ও ক্লাসের দায়িত্ব থেকে সরে যাওয়া যাবে না। একই সঙ্গে বই ও পাঠাগারকে শিক্ষার্থীদের জীবনের অমূল্য সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জিয়া স্মৃতি পাঠাগার আয়োজিত জিয়া স্মৃতি বইমেলা-২০২৬ এর আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ড. আবদুল মঈন খান বলেন, ছাত্র সমাজ সবকিছু করবে, দেশের বিপদে তারা এগিয়ে আসবে। যেমন তারা এগিয়ে এসেছিল জুলাই আন্দোলনে। তারা দেশকে নতুন দিক-দর্শন দিয়েছেন। অন্যায়, অত্যাচার, জুলুম, নির্যাতন ও স্বৈরশাসন থেকে দেশকে মুক্ত করেছেন।’

ছাত্রদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘কাজটি আপনারা করবেন, এটা ছাত্ররাই করতে পারে। আমরা হয়তো পারবো না। কিন্তু লেখাপড়া ছেড়ে দিয়ে নয়।

ক্লাস ছেড়ে দিয়ে আমি অন্য কিছু করবো, সেটা হতে পারে না। আমি সবকিছু করবো, কিন্তু আমি ক্লাসের লেখাপড়া কোনোদিন ছেড়ে দেব না।’

বই ও পাঠাগারের গুরুত্ব তুলে ধরে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, বইয়ের সঙ্গে পাঠাগারের সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নতুন প্রজন্ম মোবাইল ফোনে পড়ুক, ই-বুক পড়ুক কিংবা লাইব্রেরিতে গিয়ে পড়ুক—পড়ার চর্চা ধরে রাখতে হবে।

তিনি বলেন, লেখাপড়াতে কিন্তু ফিরে আসতে হবে। লেখাপড়া ব্যতিরেকে বিশ্বের বুকে কোনো জাতি গৌরব অর্জন করতে পারে না।

নতুন প্রযুক্তি প্রসঙ্গে মঈন খান বলেন, মোবাইল ফোনে সবকিছু খারাপ নয়। মোবাইল ফোনে অনেক ভালো জিনিসও পাওয়া যায়। নতুন প্রজন্ম ও শিশুদের সঠিকভাবে পরিচালিত করতে পারলে নতুন প্রযুক্তি নিয়ে ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। তবে যারা নেতৃত্ব দেবেন, তাদের নতুন সমাজ, তরুণ সমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে হবে।

পাঠাগারকে জ্ঞানের সন্ধানের স্থান উল্লেখ করে তিনি জিয়া স্মৃতি পাঠাগার প্রতিষ্ঠার সঙ্গে যুক্তদের প্রতি ধন্যবাদ ও শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, বই ও লাইব্রেরির গুরুত্ব মানবসমাজের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িত।

ড. আবদুল মঈন খান বিএনপির সঙ্গে তার পারিবারিক সম্পর্কের কথাও তুলে ধরেন। তিনি জানান, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান তার বাবাকে বিএনপিতে যুক্ত করেছিলেন। এ কারণে বিএনপি তাদের ‘রক্তে ঢুকে রয়েছে’ এবং সেই রক্তের ঋণ পরিশোধের চেষ্টা করবেন তিনি।

আলোচনা সভায় জিয়া স্মৃতি পাঠাগারের আহ্বায়ক সৈয়দা ফাতেমা সালামের সভাপতিত্বে ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আমানুল্লাহ আমানের সঞ্চালনায় এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শ্যামা ওবায়েদ, সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনিসহ বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকমীরা।

আশির দশকে ফিরে গেলেন তারকারা, কাকে কেমন লাগছে?

সময় বদলেছে, বদলেছে ফ্যাশন ও জীবনযাপনের ধরনও। তবে পুরোনো দিনের স্মৃতি আর নস্টালজিয়ার প্রতি মানুষের আকর্ষণ যেন কখনোই কমে না। বরং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) কল্যাণে সেই নস্টালজিয়াই এখন ফিরে আসছে নতুন রূপে। বর্তমান সময়ের ছবিকে এআইয়ের মাধ্যমে আশির দশকের আবহে রূপান্তর করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে নতুন এক ট্রেন্ড। সেই ট্রেন্ডে এবার যোগ দিয়েছেন দেশের বিনোদন অঙ্গনের বেশ কয়েকজন তারকা।

ঢাকাই সিনেমার চিত্রনায়িকা পূর্ণিমা নিজের একটি রেট্রো লুকের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেছেন। ছবির ক্যাপশনে শুধু লিখেছেন, ‘ট্রেন্ড’। প্রকাশের পরই ছবিটি নজর কেড়েছে ভক্ত-অনুরাগীদের।

ঢাকাই চলচ্চিত্রের আলোচিত চিত্রনায়িকা শবনম বুবলী আশির দশকের আবহের একটি ছবি শেয়ার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় এসেছেন। ছবির ক্যাপশনে শুধু লিখেছেন, ‘আশির ট্রেন্ডস’।

একই ট্রেন্ডে দেখা গেছে চিত্রনায়িকা তমা মির্জাকেও। আশির দশকের সাজ ও আবহে নিজের ছবি প্রকাশ করে তিনি লিখেছেন, ‘ট্রেন্ড অনুসরণ করছি।’

ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা তৌসিফ মাহবুবও পিছিয়ে নেই। আশির দশকের আবহে নিজের ছবি শেয়ার করে তিনি লিখেছেন, ‘আশির দশকের কোনো এক বিকেল থেকে।’

অভিনেতা ইরফান সাজ্জাদও একই ট্রেন্ডে। এআইয়ের ছোঁয়ায় আশির দশকের আবহে ছবি শেয়ার করে ক্যাপশনে তিনি লিখেছেন, ‘কিন্তু আমার কথা হলো ওই আমলে কি সবার একই জ্যাকেট ছিল? ছেলে মেয়ে সবাইকে দেখি সেম জ্যাকেট পড়াচ্ছে।’

এই রেট্রো ট্রেন্ডে অংশ নিয়েছেন অভিনেত্রী সাফা কবীর ও তাসনিয়া ফারিণও। আশির দশকের লুকে নিজের ছবি প্রকাশ করে সাফা কবীর লিখেছেন, ‘আশির দশকের উন্মাদনা এখন পুরো ইন্টারনেটজুড়ে, আর চরকি বিষয়টিকে এত সুন্দরভাবে উপস্থাপন করেছে! আশির দশকের লুকে ডা. ইরিনকে কেমন লাগছে?’। আর তাসনিয়া ফারিণ লিখেছেন, ‘ভালোই হতো।’

সংগীতশিল্পী পড়শীও এআইয়ের মাধ্যমে নিজেকে চার দশক আগের সময়ের একটি ফ্রেমে কল্পনা করেছেন। নিজের সেই ছবি প্রকাশ করে তিনি লিখেছেন, ‘১৯৮০ সালে যদি থাকতাম, তাহলে মনে হয় এমন থাকতাম।’

অন্যদিকে গায়ক ইমরান মাহমুদুল একটি ছবি প্রকাশ করে ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘ট্রেন্ড অনুসরণ করছি’।

এআইয়ের মাধ্যমে তৈরি আশির দশকের এই রেট্রো লুক এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ সাড়া ফেলেছে। তারকাদের ভিন্নধর্মী এই উপস্থাপনা যেমন নজর কেড়েছে, তেমনি তাদের ছবিতে ফিরে এসেছে পুরোনো দিনের ফ্যাশন ও সিনেমার আবহ। ফলে ভক্তদের মাঝেও তৈরি হয়েছে নস্টালজিয়ার আমেজ।

ভেনিসে হামলার ঘটনায় মামলা করলেন অভিনেত্রী বাঁধন

ইতালির ভেনিসে হামলা ও লাঞ্ছনার শিকার হয়ে স্থানীয় থানায় আনুষ্ঠানিক মামলা দায়ের করেছেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। মঙ্গলবার ভেনিসের পিয়াচ্ছা লে রোমা পুলিশ স্টেশনে গিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তিনি এই অভিযোগ দায়ের করেন। সেখানে প্রায় তিন ঘণ্টা অবস্থান করে পুলিশের কাছে ঘটনার আদ্যোপান্ত তুলে ধরেন তিনি। ঘটনার সময় ধারণকৃত ভিডিওচিত্র পর্যালোচনার মাধ্যমে চিহ্নিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এই মামলা দায়ের করা হয়।

মামলা দায়েরকালে ইতালিতে নিযুক্ত বাংলাদেশ মিলান কনস্যুলেটের একটি প্রতিনিধিদল তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিল। প্রমাণ হিসেবে সংশ্লিষ্ট ভিডিও ফুটেজও স্থানীয় তদন্তকারী পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এর আগে সামাজিক মাধ্যমে অভিনেত্রী জানিয়েছিলেন যে ভেনিসে নিজের ওপর হামলার সুবিচার না নিয়ে তিনি শহর ছাড়বেন না।

ঘটনার পরপরই ইতালির পুলিশ প্রশাসন তাঁকে নিরাপত্তা দিয়ে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেস মিনিস্টার গোলাম মোর্তোজা জানান যে কনস্যুলার কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।

আন্তর্জাতিক এই চলচ্চিত্র উৎসবের আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে বাঁধনের ওপর এমন অপ্রত্যাশিত আচরণের ঘটনাকে আয়োজক কর্তৃপক্ষ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে। স্থানীয় পুলিশকেও তারা বিষয়টি অবহিত করেছে এবং অভিনেত্রীকে বাড়তি নিরাপত্তা ও অবস্থান সুবিধার আশ্বাস দিয়েছে। উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শেষে তিনি ঢাকায় ফিরবেন এবং তদন্ত বা সাক্ষ্যপ্রমাণের প্রয়োজনে পরবর্তীতে ডাকলে পুনরায় ভেনিসে উপস্থিত হবেন বলে নিশ্চিত করেছেন।

মঞ্চ থেকে শিখিনি, আমি একজন অশিক্ষিত অভিনেত্রী

জনপ্রিয় অভিনয়শিল্পী মনিরা মিঠু অভিনয়ের ক্ষেত্রে নিজেকে একজন অশিক্ষিত অভিনেত্রী হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে গণমাধ্যমের সামনে নিজের অভিনয়জীবন ও ব্যক্তিগত জীবনের নানা দিক নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন তিনি। এ সময় মঞ্চ থেকে প্রথাগত শিক্ষা না থাকার বিষয়টি তুলে ধরে এমন বিনয়ী মন্তব্য করেন এই তারকা।

অনেক পরে অভিনয়ে এলেও সহকর্মী ও দর্শকদের নিঃস্বার্থ ভালোবাসায় তিনি জীবনের সব ব্যক্তিগত শোক ভুলে থাকেন। প্রখ্যাত অভিনেতা ও নির্মাতা শহীদুজ্জামান সেলিমের কাছ থেকে অভিনয়ের সূক্ষ্ম বিষয়গুলো শেখা কতটা কঠিন, তা বোঝাতে গিয়ে তিনি একটি মহড়ার স্মৃতিচারণ করেন। তিনি জানান, একটি সাধারণ শব্দের সঠিক উচ্চারণ শিখতেই তাঁর হয়তো দীর্ঘ সময় লেগে যেত।

প্রথাগত শিক্ষা না থাকলেও নিজের একটি নিজস্ব স্বকীয়তা বা প্রভাব রয়েছে বলে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন তিনি। ব্যক্তিগত জীবনে মা ও ভাইদের হারিয়ে একসময় তিনি সামাজিকভাবে অনেকটা নিঃস্ব হয়ে পড়েছিলেন বলে আক্ষেপ প্রকাশ করেন। দীর্ঘ অভিনয় ক্যারিয়ারে সহশিল্পী হিসেবে ডা. এজাজুল ইসলাম, দীপা খন্দকার, সুমাইয়া শিমু ও জাহিদ হাসানসহ অনেকের ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি।

সুমাইয়া শিমু তাঁর সাথে জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘হাউসফুল’-এ মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন জানিয়ে মিঠু তাঁকে অত্যন্ত দরদি ও মিষ্টি মানুষ হিসেবে আখ্যা দেন। পাশাপাশি নির্মাতা মোস্তফা কামাল রাজের জন্মগত প্রতিভার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন এই গুণী অভিনেত্রী। পরিশেষে ‘ফিরে আসার গল্প’ নামের নতুন একটি কাজের কথা জানিয়ে দর্শকদের কাছে দোয়া প্রার্থনা করেন মনিরা মিঠু।

এক সিনেমায় বাঁধন-ফারিয়া

আজমেরী হক বাঁধন ও নুসরাত ফারিয়া—দুজনই নিজ নিজ জায়গায় প্রতিষ্ঠিত। এবার প্রথমবারের মতো তাদের একসঙ্গে দেখা যাবে বড় পর্দায়। দুই অভিনেত্রীকে নিয়ে নির্মিত হতে যাচ্ছে নতুন সিনেমা ‘লজ্জা’। সিনেমাটি পরিচালনা করবেন এমএইচ খোকন।

‘লজ্জা’ যৌথভাবে প্রযোজনা করছে ইমপ্রেস টেলিফিল্ম ও জাজ মাল্টিমিডিয়া। সম্প্রতি চ্যানেল আই কার্যালয়ে সিনেমাটির প্রযোজনা নিয়ে দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইমপ্রেস টেলিফিল্ম ও চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও শিশু সাহিত্যিক ফরিদুর রেজা সাগর এবং জাজ মাল্টিমিডিয়ার কর্ণধার আবদুল আজিজসহ সংশ্লিষ্টরা।

সামাজিক সচেতনতামূলক গল্পে নির্মিত হবে ‘লজ্জা’। সিনেমাটির গল্প লিখেছেন আবদুল আজিজ। গল্পের প্রধান দুই চরিত্রে অভিনয় করবেন বাঁধন ও নুসরাত ফারিয়া। আগামী ২০ সেপ্টেম্বর থেকে সিনেমাটির শুটিং শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

বর্তমানে দেশের বাইরে রয়েছেন বাঁধন। ইতালিতে অনুষ্ঠিত ভেনিস উৎসবে প্রতিযোগিতা বিভাগে রয়েছে তার অভিনীত সিনেমা ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’। উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শেষে দেশে ফিরেই ‘লজ্জা’র শুটিংয়ে যোগ দেবেন তিনি।

‘লজ্জা’র পাশাপাশি বাঁধনের হাতে রয়েছে আরও একটি সিনেমা। মোহাম্মদ ইকবাল পরিচালিত ‘গুলশানের চামেলী’র শুটিং বছরের শেষ দিকে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

অন্যদিকে নুসরাত ফারিয়া বর্তমানে ব্যস্ত মেহেদী হাসান পরিচালিত ওয়েব ফিল্ম ‘লাপাত্তা’ নিয়ে। সিনেমাটির শুটিং প্রায় শেষ। শুধু একটি গানের দৃশ্যের শুটিং বাকি রয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী অক্টোবরে আইস্ক্রিনে মুক্তি পাবে ‘লাপাত্তা’।

যে কারণে পাকিস্তান ক্রিকেটকে সাহায্য করতে চান না ওয়াসিম আকরাম

পাকিস্তান ক্রিকেটের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন দেশটির কিংবদন্তি পেসার ওয়াসিম আকরাম। তার মতে, দেশের ক্রিকেট কাঠামোর সমস্যা এতটাই গভীরে পৌঁছে গেছে যে শুধু খেলোয়াড় কিংবা পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে দায়ী করে এর সমাধান করা সম্ভব নয়।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে মাঠে নামার আগে পাকিস্তানের পারফরম্যান্স নিয়ে বড় শঙ্কা প্রকাশ করেছেন আকরাম। তার ধারণা, এ ম্যাচেও পাকিস্তান হারতে পারে এবং ইংল্যান্ডের কাছে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ হারের লজ্জা পেতে পারে।

দলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করে আকরাম বলেন, ‘সিরিজ শুরুর আগেই আমি জানতাম, ইংল্যান্ডের কাছে আমরা ৩-০ ব্যবধানে হারব। আমাদের ব্যাটিং সংগ্রাম করছে, বোলিং গড়পড়তা এবং ফিল্ডিং আরও খারাপ। এটা কোনো রকেট সায়েন্স নয়।’

তবে দলের ব্যর্থতার জন্য শুধু খেলোয়াড়দের দায়ী করতে নারাজ সাবেক এই অধিনায়ক। তার মতে, সমস্যার পেছনে খেলোয়াড়দের মানসিকতাও যেমন ভূমিকা রাখছে, তেমনি ক্রিকেট পরিচালনার কাঠামোগত দুর্বলতাও বড় কারণ।

আকরাম পাকিস্তানের একটি প্রচলিত প্রবাদ টেনে বলেন, ‘দুই হাত ছাড়া যেমন তালি বাজে না, তেমনি সমস্যার জন্য দুই পক্ষই দায়ী।’

পাকিস্তান ক্রিকেটকে ঘুরে দাঁড় করাতে তাকে প্রায়ই কোনো ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়। কিন্তু আকরামের মতে, বর্তমান সংকট এতটাই গভীর যে একা তার পক্ষে সেটি পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।

সুলতান অব সুইংখ্যাত কিংবদন্তি এই পেসার বলেন, ‘সব সময় আমাকে জিজ্ঞেস করা হয়, পাকিস্তান ক্রিকেটকে সাহায্য করতে আমি কিছু করতে পারি কি না। কিন্তু সমস্যাগুলো আরও গভীরে। এগুলোই আমাদের সেরা খেলোয়াড়; এর নিচে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেই।’

বিশেষ করে ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের কাঠামো নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আকরাম। তার মতে, গত কয়েক বছরে এই কাঠামোতে ধারাবাহিকতা ও ধৈর্যের অভাব দেখা গেছে। আর এর প্রভাব জাতীয় দল পর্যন্ত পৌঁছে যাচ্ছে।

আকরামের ভাষায়, ‘ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির কাঠামো গত কয়েক বছরে পুরোপুরি এলোমেলো হয়ে গেছে। কোনো ধারাবাহিকতা নেই, ধৈর্যও নেই।’

শুধু ক্রিকেটার বা বোর্ড নয়, এই অস্থিরতার প্রভাব সমর্থকদের মধ্যেও পড়ছে বলে মনে করেন তিনি। দল হারলেই সমর্থকদের মধ্যে পুরো ব্যবস্থাকে ভেঙে নতুন করে শুরু করার দাবি ওঠে। কিন্তু বারবার পরিবর্তনের ফলে এখন কার্যকর কাঠামোই অনেকটা অবশিষ্ট নেই বলে মনে করেন পাকিস্তানের সাবেক এই পেসার।

যুক্তরাষ্ট্রের দুর্বলতা বুঝতে পেরে আগ্রাসী হয়ে উঠছে ইরান?

যুদ্ধবিরতি চলছে, কিন্তু যুদ্ধ থামেনি। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ ও সমুদ্রপথে প্রতিদিনই বাড়ছে উত্তেজনা। এক পক্ষের হামলার জবাব আসছে অন্য পক্ষ থেকে। সামরিক স্থাপনা, যুদ্ধজাহাজ, তেল ট্যাংকার ও জ্বালানি অবকাঠামো কিছুই বাদ যাচ্ছে না।

ছয় মাস ধরে চলা এই সংঘাতের সাম্প্রতিক পর্যায়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালি। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথটি নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইছে ইরান। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান দাবি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ অবিলম্বে আগের মতো উন্মুক্ত করতে হবে।

প্রশ্ন উঠছে, বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী সামরিক শক্তি যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখেও ইরান কেন এতটা অনড়? ইরান কি সত্যিই যুক্তরাষ্ট্রের দুর্বলতা বুঝে আরও আগ্রাসী হয়ে উঠছে?

পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের সংযোগকারী হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস পরিবহন করা হয়। ফলে এই নৌপথে সামান্য বিঘ্নও আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

যুদ্ধ শুরুর আগে হরমুজ প্রণালি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের প্রধান ইস্যু ছিল না। কিন্তু যুদ্ধের একপর্যায়ে ইরান এটি বন্ধ করে দেয়। যুদ্ধবিরতির পরও পুরোপুরি খুলে দিতে রাজি নয় তেহরান। বরং ইরান এখন প্রণালির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার কথা বলছে।

যুক্তরাষ্ট্র এ অবস্থান মেনে নেয়নি। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার প্রশাসনের কর্মকর্তারা বারবার হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। ট্রাম্প এমনও বলেছেন, প্রয়োজনে প্রণালিটির নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্র নেবে।

কিন্তু ওয়াশিংটনের হুমকি-হুঁশিয়ারিতে পিছু হটার বদলে পাল্টা অবস্থান আরও শক্ত করছে তেহরান।

সর্বশেষ বুধবার ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিস) দাবি করেছে, তারা জর্ডানের আল-আজরাক এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহৃত একটি সামরিক ঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালির কাছে ১০টি জাহাজেও হামলার দাবি করেছে তারা।

ইরানের দাবি, এসব জাহাজের মধ্যে দুটি মার্কিন জাহাজ ও আটটি তেলবাহী ট্যাংকার ছিল।

এর ঠিক একদিন আগে যুক্তরাষ্ট্র পাঁচটি ইরানি তেল ট্যাংকার ধ্বংস করার কথা জানায়। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডের দাবি, ইরানের আইআরজিসি একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজে দুবার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টা করেছিল। এর জবাবেই ট্যাংকারগুলোতে হামলা চালানো হয়।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সতর্ক করে বলেছেন, ইরান যতবার মার্কিন নৌযানে হামলার চেষ্টা করবে, ততবার তাদের ট্যাংকার হারাতে হবে।

এরপর জর্ডানে ইরানের হামলার দাবি সামনে আসে। তবে জর্ডানের ভাষ্য, ইরানের ছোড়া ২০টি ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ১৮টি ভূপাতিত করেছে তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। বাকি দুটি জনবসতিহীন এলাকায় পড়ে। এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। এক মার্কিন কর্মকর্তাও বলেছেন, সেখানে অবস্থানরত মার্কিন সেনারা নিরাপদে আছেন।

হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে সংঘাত বাড়ায় এর প্রভাব এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে পড়তে শুরু করেছে। বুধবার ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছায়।

ইরানের হামলায় তেলবাহী জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কুয়েত ও বাহরাইনের বন্দরে থাকা তেল ট্যাংকারগুলোকেও ইরান হুমকি দিয়েছে বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে।

এর মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের খোর ফাক্কান বন্দরে একটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসবাহী ট্যাংকার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর এসেছে। তবে এর জন্য কে দায়ী, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথিদের সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনায় সাম্প্রতিক হামলাও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

ইরানের অনড় অবস্থানের পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক চাপের কথাও সামনে আসছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের পাশাপাশি ইউক্রেন ও ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তা দিতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর বড় চাপ তৈরি হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের ধারাবাহিক হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের কিছু সামরিক স্থাপনা, রাডার ও অবকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

এর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে যুদ্ধ নিয়ে জনসমর্থনও প্রশ্নের মুখে। বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে, অনেক মার্কিন নাগরিক ইরানের সঙ্গে যুদ্ধকে সমর্থন করছেন না। দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত চালিয়ে যেতে হলে ট্রাম্প প্রশাসনকে কংগ্রেসের সমর্থনের বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হচ্ছে।

অর্থাৎ সামরিক শক্তিতে এগিয়ে থাকলেও ওয়াশিংটন রাজনৈতিক ও কৌশলগতভাবে চাপের মধ্যে রয়েছে এমন ধারণা ইরানের সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব ফেলতে পারে।

ইরানের কৌশল: ক্ষতি স্বীকার, কিন্তু আত্মসমর্পণ নয়

অন্যদিকে ইরান শুরু থেকেই এই সংঘাতকে অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই হিসেবে দেখছে। ব্যাপক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও সামরিক হামলার পরও তেহরান নতি স্বীকার করেনি।

শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা ও আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর পরও ইরানের সামরিক কাঠামো পুরোপুরি ভেঙে পড়েনি। বরং দেশটি পাল্টা হামলার সক্ষমতা ধরে রেখেছে।

ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রকে বুঝতে হবে যে খেলার নিয়ম বদলে গেছে। তার ভাষ্য, ইরানের নিরাপত্তা ও স্বার্থে হামলা হলে এখন থেকে আরও দ্রুত ও শক্তিশালী জবাব দেওয়া হবে।

আইআরজিসির দাবি, তারা হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখে যুক্তরাষ্ট্রের একটি চালকবিহীন সাবমেরিনও আটক করেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, এটি ‘ডাইভ-এলডি’ মডেলের স্বয়ংক্রিয় পানির নিচের যান।

এমন পরিস্থিতিতে সাবেক মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও সিআইএ পরিচালক লিওন প্যানেটা সতর্ক করেছেন, ইরানের সঙ্গে ট্রাম্পের যুদ্ধ আরও অন্তত ছয় মাস চলতে পারে।

প্যানেটার মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান এমন এক অচলাবস্থায় আটকে গেছে, যেখান থেকে বের হওয়ার কার্যকর পথ খুব সীমিত। এই সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের আরেকটি দীর্ঘস্থায়ী ‘চিরস্থায়ী যুদ্ধ’-এ পরিণত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

তিনি আরও বলেছেন, পেন্টাগনের নেতৃত্ব ও কমান্ড কাঠামো নিয়ে সাম্প্রতিক অস্থিরতা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা সম্পর্কে প্রতিপক্ষদের ভুল বার্তা দিতে পারে।

প্যানেটার মতে, ট্রাম্পের সামনে এখন তিনটি পথ: যুদ্ধ থেকে সরে আসা, বর্তমান অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত করা অথবা হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করা। তার মতে, তৃতীয় পথই যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক লক্ষ্য হয়ে উঠতে পারে।

বর্তমান পরিস্থিতি বলছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত এখন শুধু দুই দেশের সামরিক শক্তির লড়াই নয়। এটি হয়ে উঠেছে সহনশীলতা, অর্থনীতি, জনসমর্থন এবং কৌশলগত অবস্থানের লড়াই।

লিবিয়া যাওয়ার পথে নিখোঁজ ৫ যুবক, তিন বছরেও মেলেনি সন্ধান

যশোরের শার্শা উপজেলার পাঁচ যুবক উন্নত জীবনের আশায় লিবিয়া যাওয়ার পথে তিন বছর ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। লিবিয়ায় চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তাদের প্রত্যেকের কাছ থেকে ৯ থেকে ১২ লাখ টাকা করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় দালাল সোহাগের বিরুদ্ধে।

নিখোঁজ যুবকেরা হলেন, শার্শা উপজেলার ধান্যখোলা গ্রামের আবু মোছার ছেলে ইয়াসিন আরাফাত, মশিয়ারের ছেলে আনোয়ার হোসেন, আরশাদের ছেলে রানা হোসেন, আব্দুলের ছেলে শাহিন আলম এবং হাসেমের ছেলে মেহেদী হাসান।

পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, ধান্যখোলা গ্রামের মফিজুর রহমানের ছেলে সোহাগ লিবিয়ায় ভালো চাকরির কথা বলে তাদের বিদেশ পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। এ জন্য প্রত্যেকের কাছ থেকে ৯ থেকে ১২ লাখ টাকা নেওয়া হয়। টাকা দেওয়ার পর ওই পাঁচ যুবককে বিদেশে পাঠানো হলেও লিবিয়ায় পৌঁছানোর আগেই পরিবারের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

স্বজনরা জানান, প্রথমদিকে দালাল সোহাগ নিখোঁজ যুবকদের দেশে ফিরিয়ে আনা এবং টাকা ফেরতের আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু দীর্ঘ তিন বছর পার হলেও কোনো সমাধান হয়নি। একপর্যায়ে সোহাগও পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন বলে অভিযোগ করেন তারা।

নিখোঁজদের পরিবারের সদস্যরা জানান, সন্তানদের বিদেশ পাঠাতে জমি-জমা বিক্রি ও ঋণ করে টাকা জোগাড় করেছিলেন তারা। এখন সন্তানদের সন্ধান না পাওয়ার পাশাপাশি সেই ঋণের বোঝাও বহন করতে হচ্ছে।

নিখোঁজ শাহিন আলমের মা বলেন, ‘দালালের কথায় ছেলেকে বিদেশ পাঠিয়ে এখন তিনি ঋণের বোঝা ও সন্তানের অনিশ্চয়তা নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন। স্থানীয়ভাবে কয়েক দফা সমাধানের চেষ্টা হলেও কোনো কার্যকর ফল পাওয়া যায়নি। বর্তমানে তারা আইনের আশ্রয় নিয়েছেন।’

অভিযোগের বিষয়ে দালাল সোহাগের বাবা-মা জানান, বর্তমানে তাদের ছেলের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ নেই। তিনি লিবিয়ায় রয়েছেন বলে দাবি করেন তারা। তবে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন সোহাগের বাবা-মা।

মানবাধিকার কর্মী খায়রুল ইসলাম বলেন, ‘নিখোঁজ যুবকদের উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। একই সময়ে শার্শার এই পাঁচ যুবক ছাড়াও নড়াইল, বাগেরহাট ও ফরিদপুরের আরও কয়েকজন যুবক লিবিয়া যাওয়ার পথে নিখোঁজ রয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।’

এ বিষয়ে শার্শা থানার উপপরিদর্শক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আশিস সরকার বলেন, ‘ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযোগের বিষয়গুলো যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

তিন বছর ধরে নিখোঁজ যুবকদের ফিরে পাওয়ার আশায় দিন গুনছেন পরিবারগুলোর সদস্যরা। তারা সরকারি উদ্যোগে তাদের সন্ধান ও দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন।

১০০ ডলার ছাড়াল তেলের দাম, বিশ্ব অর্থনীতিতে শঙ্কার ছায়া

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির জেরে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আবারও ১০০ মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) অপরিশোধিত তেলের আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম সাময়িকভাবে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠে যায়।

এর আগে গত জুলাইয়ে সর্বশেষ ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১০০ ডলারের ওপরে উঠেছিল।

এদিন বাংলাদেশ সময় দুপুর ১টা ২০ মিনিটের দিকে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১০০ দশমিক ০১ ডলারে ওঠে। পরে সেটি কিছুটা কমে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৯৯ দশমিক ৯৩ ডলারে লেনদেন হচ্ছিল।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআইয়ের নভেম্বর সরবরাহের ফিউচার ১ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৪ দশমিক ৫৮ ডলারে উঠেছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলার কারণে মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি সরবরাহ আরও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে তেলবাহী জাহাজে হামলা বাড়ায় বাজারে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ আরও তীব্র হয়েছে।

মঙ্গলবার একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজে ইরানের হামলার চেষ্টার জবাবে পাঁচটি ইরানি অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজ ধ্বংসের দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম এ তথ্য জানিয়েছে। মার্কিন যুদ্ধজাহাজটি ইরানের হামলা এড়িয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে। এ ঘটনায় কোনো মার্কিন সেনা হতাহত হয়নি বলেও জানিয়েছে সেন্টকম।

যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সংঘাত এরই মধ্যে সপ্তম মাসে পড়েছে। এই সংঘাতে জাহাজ চলাচলে হামলা আরও বাড়লে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১২০ ডলারের ওপরে উঠতে পারে। এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন গোল্ডম্যান স্যাকসের বৈশ্বিক পণ্যবাজার গবেষণার সহপ্রধান ড্যান স্ট্রুইভেন।

সিএনবিসির ‘স্কোয়াক বক্স এশিয়া’ অনুষ্ঠানে তেলের দাম ১২০ ডলারে পৌঁছাতে পারে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এমন পরিস্থিতি অবশ্যই সম্ভব।

তবে গোল্ডম্যান স্যাকসের মূল পূর্বাভাস এখনো তুলনামূলকভাবে আশাবাদী। প্রতিষ্ঠানটির ধারণা, পারস্য উপসাগর থেকে তেল রপ্তানি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে পারে।

উৎপাদকেরা বিকল্প নৌপথ ব্যবহার করে সরবরাহের বিঘ্ন সামাল দিতে পারেন। পরবর্তী সময়ে অতিরিক্ত পাইপলাইন সক্ষমতাও রপ্তানি পুনরুদ্ধারে সহায়তা করতে পারে।

তবে সাম্প্রতিক উত্তেজনায় তেলের দাম আরও বাড়ার ঝুঁকি বেড়েছে বলে মনে করছেন স্ট্রুইভেন। তার মতে, আগামী কয়েক মাসে তেল রপ্তানি স্বাভাবিক না হওয়ার সম্ভাবনা এখন বেশি।

জাহাজে হামলার পরিধি ও তীব্রতা বাড়তে থাকলে পারস্য উপসাগর থেকে তেল সরবরাহ দীর্ঘ সময় ধরে কমে যেতে পারে।

এমন পরিস্থিতিতে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১২০ ডলারের ওপরে চলে যাওয়ার আশঙ্কাও বাড়বে।

তেলের দাম বেড়ে গেলে এর সরাসরি প্রভাব পড়ে জ্বালানি, পরিবহন ও শিল্প খাতে। জ্বালানি ব্যয় বাড়লে পণ্য উৎপাদন ও পরিবহনের খরচও বাড়তে পারে।

এর ফলে বিভিন্ন দেশে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়ার আশঙ্কা থাকে।

বিশ্ব অর্থনীতির জন্য তাই তেলের দাম ১০০ ডলারের ওপরে ওঠা নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি ঘিরে পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে বিশ্বের জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।