সোমবার, সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬

৫ লাখ শূন্যপদে জনবল নিয়োগ দেয়া হবে: জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী

পাঁচ লাখ সরকারি কর্মচারী নিয়োগের কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে এই পরিকল্পনা তুলে ধরেন তিনি।

চট্টগ্রাম-১৩ আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজামের টেবিলে উপস্থাপিত এক তারকাচিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, সরকারি দপ্তরে জনবল সংকট কাটাতে ইতোমধ্যে ৬ মাস, ১ বছর ও ৫ বছর মেয়াদি বিশেষ রোডম্যাপ তৈরি করা হয়েছে। এই পরিকল্পনার আওতায় আগামী ৬ মাসের মধ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ২ হাজার ৮৭৯টি, ১ বছরের মধ্যে ৪ হাজার ৪৫৯টি এবং ৫ বছরের মধ্যে ৩ হাজার ১১০টি শূন্যপদে নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।

প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, সরকারের লক্ষ্য হলো স্বচ্ছতা ও দ্রুততার সঙ্গে মোট ৫ লাখ শূন্যপদে জনবল নিয়োগ করা। এই প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে তাদের নিয়োগের সর্বশেষ অবস্থা ও শূন্যপদের তথ্য পাঠানোর জন্য চিঠি দেয়া হয়েছে।

‘স্ট্যাটিসটিক্স অফ পাবলিক সার্ভেন্টস ২০২৪’ এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশে সরকারি চাকরিতে মোট ৪ লাখ ৬৮ হাজার ২২০টি পদ শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে প্রথম থেকে নবম গ্রেডে ৬৮ হাজার ৮৮৪টি, দশম থেকে দ্বাদশ গ্রেডে ১ লাখ ২৯ হাজার ১৬৬টি এবং অন্যান্য গ্রেডগুলোতেও বড় সংখ্যার পদ খালি রয়েছে। এই বিশাল শূন্যপদ পূরণের মাধ্যমে প্রশাসনিক গতিশীলতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

সব রাজনীতিবিদ-কর্মকর্তাদের সম্পদ খতিয়ে দেখবে নেপাল

নেপালে নতুন সরকার গঠনের পর দুর্নীতির বিরুদ্ধে বড় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সরকার অতীত ও বর্তমান রাজনীতিবিদ ও কর্মকর্তাদের সম্পত্তি ও সম্পদের তদন্ত করার জন্য একটি বিশেষ প্যানেল গঠন করেছে। এর লক্ষ্য হলো দেশে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ করা।

এই সরকার গঠন হয়েছে ৫ মার্চের সংসদীয় নির্বাচনের মাধ্যমে।

ওই নির্বাচনে রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি) বড় জয় পায়। দলটির নেতা ৩৫ বছর বয়সী বলেন্দ্র শাহ এখন নেপালের প্রধানমন্ত্রী। তিনি আগে একজন র‍্যাপার ছিলেন। গত সেপ্টেম্বরে দুর্নীতিবিরোধী ‘জেন জি’ বিক্ষোভের পর এটিই ছিল দেশের প্রথম নির্বাচন।

নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর মেয়র হিসেবে তিন বছরের মেয়াদে শাহ দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই এবং সংস্কারবাদী পরিচয়ের জন্য জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। মন্ত্রিসভার মুখপাত্র শাসমিত পোখরেল বলেছেন, পাঁচ সদস্যের এই প্যানেলের প্রধান হবেন সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি রাজেন্দ্র কুমার ভান্ডারি।

বুধবার রাতে মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর সাংবাদিকদের পোখরেল বলেন, ‘আইনি মানদণ্ডের ভিত্তিতে প্রাপ্ত প্রমাণের ওপর নির্ভর করে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত চালানো হবে। তদন্তের প্রতিবেদন ও সুপারিশ অনুযায়ী সরকার সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো ব্যবস্থা নেবে।

’ তবে প্যানেলকে কাজ শেষ করার জন্য কোনো সময়সীমা দেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেননি। বিশ্লেষকরা বলেছেন, ২০০৮ সালে ২৩৯ বছরের পুরোনো রাজতন্ত্রের বিলুপ্তি ঘটানো গণআন্দোলনের পর সরকারি পদে আসীন হওয়া শত শত রাজনীতিবিদ ও কর্মকর্তাকে এই তদন্তের আওতায় আনা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তিন বছর আগে গঠিত রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি) নির্বাচনের সময় দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণকে তাদের প্রধান প্রতিশ্রুতিগুলোর একটি হিসেবে তুলে ধরেছিল। এ কারণে দলটি দীর্ঘদিন ধরে দেশের রাজনীতি দখলে রাখা পুরোনো দলগুলোর বিরুদ্ধে সহজেই বিজয় অর্জন করে।

সংসদের সাউন্ড সিস্টেম স্থাপনে দুর্নীতি, ঠিকাদারকে জিজ্ঞাসাবাদ

জাতীয় সংসদের সাউন্ড সিস্টেম স্থাপনে দুর্নীতির অভিযোগে ‘কমিউনিকেশন টেকনোলজি লিমিটেড’-এর সিইও জাহিদুর রহিম জোয়ারদারকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। সংস্থাটির সহকারী পরিচালক প্রবীর দাসের নেতৃত্বে একটি দল বিভিন্ন অনিয়মের বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

জানা গেছে, ২০১৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জাতীয় সংসদে স্থাপিত সাউন্ড সিস্টেমে বড় ধরনের অনিয়ম হয়। পরবর্তীকালে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সংস্কার কাজেও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় গত জানুয়ারিতে অনুসন্ধানে নামে দুদক।

এ প্রতিষ্ঠানটিই ২০১৮ সালে সংসদে সাউন্ড সিস্টেম স্থাপনের কাজ করেছিল। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে শত শত কোটি টাকা আত্মসাৎ ও অর্থ পাচারের অভিযোগ রয়েছে।

আসিফ নজরুলের মনোনীত সরকারি আইনজীবীরা এখনো বহাল তবিয়তে

অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল দেড় বছরে আইন ও নীতির কোনো তোয়াক্কা করেননি। তাঁর যা মন চেয়েছে তা-ই করেছেন। সরকারের পক্ষে আইনি লড়াই করার জন্য নিম্ন আদালত থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ আদালতে আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়। নিম্ন আদালতে সরকারি আইনজীবীদের বলা হয় পিপি বা পাবলিক প্রসিকিউটর।

আর উচ্চ আদালতে অ্যাটর্নি জেনারেলের নেতৃত্বে অতিরিক্ত, ডেপুটি এবং সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগ দেওয়া হয়। আইনে একজন অ্যাটর্নি জেনারেল এবং তিনজন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেলের কথা উল্লেখ থাকলেও ডেপুটি এবং সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের সংখ্যা কত হবে তা নির্ধারণ করা নেই। একইভাবে জেলায় একজন পাবলিক প্রসিকিউটর থাকার কথা বলা হলেও স্পেশাল পিপি, সহকারী পিপি ইত্যাদি পদে কতজন থাকবেন তা নির্ধারণ করা নেই। আর এ সুযোগ নিয়ে আসিফ নজরুল সরকারি আইনজীবী নিয়োগে অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার সব রেকর্ড ভঙ্গ করেছেন।

তাঁর দেড় বছরের শাসনকালে বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চসংখ্যক সরকারি কৌঁসুলি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে তাঁদের বেতন-ভাতা দেওয়া হয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ অর্থ অপচয় করা হয়েছে শুধু আসিফ নজরুলের নিজের লাভের জন্য। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর নতুন সরকার দায়িত্ব নিয়েছে।

নতুন আইনমন্ত্রী হিসেবে আসাদুজ্জামান দায়িত্ব পেয়েছেন। কিন্তু প্রায় দুই মাস অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত আসিফ নজরুল মনোনীত সরকারি আইনজীবীরা আছেন বহাল তবিয়তে। এঁদের কারও কারও রাজনৈতিক পরিচয় ক্ষমতাসীন দলের আদর্শের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। কারও বিরুদ্ধে রয়েছে দুর্নীতির অভিযোগ, কেউ অযোগ্য বলে আইনজীবীদের কাছে পরিচিত। তার পরও তাঁরা কীভাবে বহাল আছেন তা নিয়ে আদালতপাড়ায় আলোচনা হচ্ছে।

এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা গেছে। তবে আইন মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেছেন, খুব শিগগিরই নতুন করে সরকারি আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হবে। তিনি জানান, জাতীয় সংসদের অধিবেশনে আইন প্রণয়নসংক্রান্ত কার্যক্রম নিয়ে মন্ত্রণালয় গত এক মাস প্রচণ্ড ব্যস্ত থাকায় নতুন আইনজীবী নিয়োগের প্রক্রিয়া বিলম্বিত হয়েছে। তবে তিনি বলেন, এর মধ্যেই সরকার নতুন অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগ দিয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চিফ প্রসিকিউটর বদল করা হয়েছে। তবে আইনজীবীরা বলছেন, নতুন সরকার যদি দ্রুততম সময়ের মধ্যে নতুন সরকারি আইনজীবী নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু না করে তাহলে বিচারপ্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হবে। সেই সঙ্গে ‘গুপ্ত’রা ঢুকে যাবে সরকারের ভিতর।

অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলের ছড়াছড়ি : অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে এখন ১০৩ জন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) ও ২৩০ জন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল (এএজি) রয়েছেন। এত বেশিসংখ্যক আইন কর্মকর্তা এর আগে কখনো ছিল বলে জানা যায়নি। তাঁরা নিয়োগ পেয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়। এ দুই পদে এত বেশিসংখ্যক নিয়োগের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।

এত বেশিসংখ্যক আইন কর্মকর্তার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, ‘আমরা দেখছি কী করা যায়। বিষয়টি পর্যালোচনা করে পরবর্তী করণীয় ঠিক করা হবে।’

অ্যাটর্নি জেনারেল একজন থাকবেন, সংবিধানে এটি সুনির্দিষ্ট করে বলা আছে। অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল তিনজনের বেশি হবে না, এটি বলা আছে ১৯৭২ সালের ‘বাংলাদেশ ল অফিসার্স অর্ডার’-এ। তবে ডেপুটি ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল পদে ঠিক কতজনকে নিয়োগ দেওয়া যাবে, তা সংবিধান বা কোনো আইনে উল্লেখ নেই। যে কারণে যখন যারা ক্ষমতায় থাকে, তারা তাদের পছন্দের আইনজীবীকে এসব পদে ইচ্ছা অনুযায়ী নিয়োগ দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের সূত্রমতে আওয়ামী লীগ সরকার আমলে (২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে) বিভিন্ন সময়ে ৬০ থেকে ৬৮ জন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ছিলেন। তখন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ছিলেন ১৪৩ জন। আর অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে কর্মরত ছিলেন তিনজন। জুলাই গণ অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে ওই সরকারের সময় নিয়োগ পাওয়া আইন কর্মকর্তারা পদত্যাগ করেন। ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট নতুন অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগ দেওয়া হয়। অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের শুরুতে তিনজন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ও কয়েকজন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগ দেওয়া হয়। পর্যায়ক্রমে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল পদে আরও নিয়োগ দেওয়া হয়। অনেকই মনে করেন আসিফ নজরুল ডেপুটি এবং সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগ নিয়ে রীতিমতো বাণিজ্য করছেন। এঁদের মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অন্তর্বর্তী সরকার আমলে সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল পদে নিয়োগ পাওয়া সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. আবুল হাসানকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে একজন বিচারপ্রার্থীর কাছ থেকে ৩ কোটি ২০ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে বলে অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল জানিয়েছেন। নতুন অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নিয়োগ পাওয়া আইন কর্মকর্তাদের কাজ মূল্যায়ন করা হবে।’ তিনি নিশ্চিত করেন যে অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসে দুর্নীতির কোনো জায়গা থাকবে না। একাধিক সূত্র জানিয়েছেন, ১৯ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্ট খুললে অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসে শুদ্ধি অভিযান শুরু হবে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল : ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয়। ওই বছরের ৫ সেপ্টেম্বর চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। এ ছাড়া নয়জন প্রসিকিউটর নিয়োগ দেওয়া হয়। বিএনপি সরকার গঠনের পর ২৩ ফেব্রুয়ারি চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের নিয়োগ বাতিল করে সরকার। একই দিন নতুন চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে আইনজীবী মো. আমিনুল ইসলামকে নিয়োগ দেওয়া হয়। ৯ মার্চ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নতুন দুজন প্রসিকিউটর নিয়োগ দেওয়া হয়। তাঁরা হলেন মার্জিনা রায়হান (মদিনা) ও মোহাম্মদ জহিরুল আমিন। অন্যদিকে প্রসিকিউটর মো. সাইমুম রেজা তালুকদার পদত্যাগ করেন।

আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ নতুন দুই প্রসিকিউটরকে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে। তাতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন ১৯৭৩ অনুসারে ট্রাইব্যুনালের মামলা পরিচালনার জন্য মার্জিনা রায়হান ও মোহাম্মদ জহিরুল আমিনকে পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিয়োগ প্রদান করা হলো। পৃথক আরেক প্রজ্ঞাপনে আইন ও বিচার বিভাগ বলেছে, ২০২৪ সালের ৭ অক্টোবর ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর পদে নিয়োগকৃত সাইমুম রেজা তালুকদারের পদত্যাগপত্র গ্রহণপূর্বক তাঁকে এ পদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর তিনি পদত্যাগ করেন। মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় কারাবন্দি এক আওয়ামী লীগ নেতাকে জামিনে মুক্তি পাইয়ে দেওয়ার জন্য পরিবারের কাছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এই প্রসিকিউটরের ১ কোটি টাকা ঘুষ চাওয়ার অভিযোগের যে অডিও রেকর্ড ফাঁস হয়েছে, সেটির বিষয়ে অভ্যন্তরীণ তদন্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন বর্তমান চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। বর্তমানে দুটি ট্রাইব্যুনালে ২০২৪ সালের জুলাই গণ অভ্যুত্থানে সংঘটিত হত্যা, নির্যাতনসহ ২১ মামলার বিচার চলছে। চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে এসব মামলার তদন্ত ও প্রসিকিউশন প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনা হবে। একাধিক সূত্র জানান, চলতি মাসের মধ্যেই বিতর্কিত কয়েকজন প্রসিকিউটর পদত্যাগ করতে পারেন বা সরিয়ে দেওয়া হতে পারে। বিদায়ি চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলামসহ কিছু প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে পেশাগত অসদাচরণ, শৃঙ্খলাভঙ্গ ও অনৈতিক কার্যক্রমের অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগ তদন্তের জন্য একটি বিশেষ টিম গঠন করা হতে পারে।

পিপি নিয়োগে নৈরাজ্য এবং চরম স্বেচ্ছাচারিতা : আসিফ নজরুল নিম্ন আদালতে পাবলিক প্রসিকিউটর বা পিপি নিয়োগে নজিরবিহীন স্বেচ্ছাচারিতা করেছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পিপি নিয়োগ বাণিজ্য শুরু করেন আসিফ নজরুল। ২০২৪ সালের অক্টোবরে জেলা ও দায়রা জজ আদালত, মহানগর আদালত, বিশেষ জজ আদালতসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নিম্ন আদালতে সাড়ে ৪ হাজারের মতো পিপি, জিপিসহ অন্যান্য আইন কর্মকর্তা নিয়োগ চূড়ান্ত করা হয়। ২০২৪-এর ১৪ অক্টোবর রাতে ঢাকা জেলার ৬৭০ জন আইন কর্মকর্তার নাম প্রকাশ করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এদিন সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেন, ‘ইতোমধ্যে ঢাকা জেলার পিপি-জিপিদের নাম প্রকাশ করে প্রজ্ঞাপন জারি হয়েছে। অন্যান্য জেলার তালিকা পর্যায়ক্রমে প্রকাশ হবে।’ কিন্তু সারা দেশে পিপি তালিকা প্রকাশের পর এ নিয়ে রীতিমতো হাসিতামাশা শুরু হয়। এমনকি মৃত ব্যক্তিকে সরকারি আইনজীবী হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। জামালপুরে দুই বছর আগে মৃত এক ব্যক্তি সরকারি আইনজীবী হিসেবে নিয়োগ পান বলে অভিযোগ ওঠে।

নিয়োগের আদেশ জারির পর জেলা আইনজীবী সমিতি কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশে জেলা বিএনপির সহসভাপতি, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এ রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) ফজলুল হক এ অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, ‘জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য আনোয়ার হোসেন দুই বছর আগে মারা গেলেও তাঁকে অতিরিক্ত জিপি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া অতিরিক্ত পিপি দিদারুল ইসলামের নাম একই তালিকায় দুবার লেখা হয়েছে। আমরা কেউ চিনি না এমন আইনজীবীও কীভাবে নিয়োগ পান?’ আনোয়ার হোসেনের বাড়ি জেলার সরিষাবাড়ী উপজেলায়। তিনি দুই বছর আগে মারা যান বলে তাঁর সহকর্মীরা নিশ্চিত করেছেন।

তখন সরকারি আইন কর্মকর্তা হিসেবে পিপি, জিপি ও এপিপিদের নিয়োগ বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম।

একটি আদালতে বা জেলায় কতজন সরকারি আইনজীবী লাগবে তা যাচাই না করে শুধু ব্যক্তিগত লাভের জন্য ইচ্ছামতো পিপি নিয়োগ দেন আসিফ নজরুল। জেলা দায়রা বা মহানগর দায়রা আদালতে একেকটি এজলাসে বিচারকাজ পরিচালনা করতে রাষ্ট্রপক্ষে সাধারণত সর্বোচ্চ ১০ জন আইন কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়। কিন্তু আসিফ নজরুল ব্যতিক্রম ঘটান ঢাকার দুটি আদালতে। তিনি ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে ৮৪ এবং ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে ৬১ জন বিভিন্ন পদমর্যাদার সরকারি আইন কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়েছিলেন। যদিও এর আগে মহানগর দায়রা জজ আদালতে চার এবং জেলা দায়রা জজ আদালতে নয়জন আইন কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করেছেন। অথচ চারজনের স্থলে ৮৪ এবং নয়জনের স্থলে ৬১ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। আসিফ নজরুলের দায়িত্ব পালনকালে ঢাকার আদালতগুলোয় রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করতে ৬৫৯ জন আইন কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়েছিল আইন, বিচার এবং সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের সলিসিটর অনুবিভাগ। পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ঢাকা মহানগর দায়রা আদালত, ঢাকা জেলা ও দায়রা আদালত-এ তিন আদালতেই দায়িত্ব পালন করেন ১৪৫ জন আইন কর্মকর্তা। বিষয়টি ঢাকার আদালত এলাকায় আলোচনার খোরাক হয়েছিল। কিন্তু আসিফ নজরুল এসব সমালোচনা থোড়াই কেয়ার করেছেন। নিজের পকেট ভরাতে যা কিছু সম্ভব সবই তিনি করেছেন। এর ফলে আদালত অঙ্গনে চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছিল।

আসিফ নজরুলের নিয়ন্ত্রণে ছিল দুর্নীতি দমন আদালত :

বাংলাদেশে দুর্নীতি দমন সম্পর্কিত মামলা বিচারের জন্য ৩৭টি বিশেষ জজ আদালত রয়েছে। যার মধ্যে ঢাকাতেই ১৩টি। এ আদালতের বিচারক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল আসিফ নজরুলের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের। এসব আদালত নিয়ে আইনজীবীদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। কিন্তু বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এসব আদালতের বিচারক পরিবর্তনের কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

আসিফ নজরুল আইন উপদেষ্টার পদ থেকে বিদায় নিয়েছেন কিন্তু তাঁর নিয়োগকৃত লোকজন এখনো বহাল তবিয়তেই আছেন। ফলে ন্যায়বিচার এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বিএনপির অঙ্গীকার এই লোকজনকে রেখে কতটুকু সম্ভব-সেই প্রশ্ন রয়েই গেছে। আইনজীবীরা মনে করেন, অবিলম্বে আসিফ নজরুলের সময় আইন অঙ্গনে সব বিতর্কিত নিয়োগ বাতিল করা দরকার।

আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ নিয়ে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কয়েক দফা ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেননি। এসএমএস পাঠালেও কোনো উত্তর দেননি।

ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে রাজধানীতে এক দিনে ১৪৫৭ মামলা

রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে ১৪৫৭টি মামলা করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ কর্তৃক রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে এসব মামলা করা হয়।

ডিএমপির ট্রাফিক সূত্রে জানা যায়, ট্রাফিক-রমনা বিভাগে ৫টি বাস, ১টি কাভার্ড ভ্যান, ৯টি সিএনজি ও ২১টি মোটরসাইকেলসহ মোট ৬৫টি মামলা হয়েছে।

ট্রাফিক-লালবাগ বিভাগে ৫টি বাস, ৫টি ট্রাক, ১টি কাভার্ড ভ্যান, ৬টি সিএনজি ও ৭৮টি মোটরসাইকেলসহ মোট ১২৭টি মামলা হয়েছে।

ট্রাফিক-মতিঝিল বিভাগে ২০টি বাস, ২টি ট্রাক, ২৯টি কাভার্ড ভ্যান, ১৩৬টি সিএনজি ও ২২৩টি মোটরসাইকেলসহ মোট ৪৬৩টি মামলা হয়েছে।

ট্রাফিক-ওয়ারী বিভাগে ২৬টি বাস, ৮টি ট্রাক, ১৬টি কাভার্ড ভ্যান, ২০টি সিএনজি ও ৩৯টি মোটরসাইকেলসহ মোট ১৪২টি মামলা হয়েছে।

ট্রাফিক-তেজগাঁও বিভাগে ৬টি বাস, ১টি ট্রাক, ৩টি কাভার্ড ভ্যান, ৩৭টি সিএনজিসহ ৮২টি মোটরসাইকেলসহ মোট ১৭৬টি মামলা হয়েছে।

ট্রাফিক-মিরপুর বিভাগে ১০টি বাস, ৬টি ট্রাক, ৬টি কাভার্ড ভ্যান, ২৮টি সিএনজি, ১২৭টি মোটরসাইকেলসহ মোট ২০৬টি মামলা হয়েছে।

ট্রাফিক-উত্তরা বিভাগে ১৩টি বাস, ৭টি ট্রাক, ১৩টি কাভার্ড ভ্যান, ২০টি সিএনজি ও ৬৫টি মোটরসাইকেলসহ মোট ১৬৩টি মামলা হয়েছে।

ট্রাফিক-গুলশান বিভাগে ৫টি বাস, ১টি ট্রাক, ১০টি কাভার্ড ভ্যান, ১০টি সিএনজি ও ৩০টি মোটরসাইকেলসহ মোট ১১৫টি মামলা হয়েছে।

এ ছাড়া অভিযানকালে মোট ৩৮৮টি গাড়ি ডাম্পিং ও ২১৬টি গাড়ি রেকার করা হয়েছে।

ঢাকা মহানগর এলাকায় ট্রাফিক শৃঙ্খলা রক্ষায় ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক ৪ লেন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। হাইওয়ে ইম্প্রুভমেন্ট ফেস ওয়ানের আওতায় ২৬ দশমিক ২১ কিলোমিটার চার লেনে প্রশস্তকরণ প্রকল্পটির পিপিপি অনুমোদিত হয়েছে। এর কাজ ২০২৯ সালের মধ্যে সমাপ্তি হবে।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সংসদ অধিবেশনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

সেতুমন্ত্রী বলেন, এর মধ্যে ২ দশমিক ৬ কিলোমিটার ফ্লাইওভার রয়েছে। অবশিষ্ট যে অংশ প্রায় ৪৮ কিলোমিটারের সেটির ফিজিবিলিটি স্টাডি চলমান। জাইকার সঙ্গে অর্থায়নের জন্য আলোচনা চলছে। এই মহাসড়কের বাকি অংশ চার লেনে উন্নীত করার জন্য দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারব।

তিনি বলেন, কোনো সন্দেহ নেই এটি একটি দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা, দুর্ঘটনা ঘটছে। তবে দুর্ঘটনা প্রবল এলাকাগুলোতে কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

দুর্ঘটনাপ্রবণ হওয়ায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক চার লেন করার দাবি দীর্ঘদিনের। ১৫৯ কিলোমিটার চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক চার লাইনে উন্নীত করার জন্য একাধিকবার সমীক্ষা চালানো হয়েছে।

এর মধ্যে ২০১৩-১৫ সালে সমীক্ষা চালায় সুইডিশ কনসালট্যান্ট নামে একটি প্রতিষ্ঠান। তাদের সমীক্ষা প্রতিবেদনে এ কাজের জন্য ১০ হাজার কোটি টাকা প্রাক্কলন ব্যয় ধরা হয়েছিল।

প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরিতে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ হচ্ছে ৯৩ শতাংশ

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী জানিয়েছেন, বর্তমানে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ হচ্ছে ৯৩ শতাংশ।

আজ সংসদে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্য (জামায়াতে ইসলামী) মো. নূরুল ইসলামের টেবিলে উত্থাপিত লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ২০২৪ সালের ২৩ জুলাই তারিখের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী সরকারি চাকরিতে মেধার ভিত্তিতে ৯৩ শতাংশ, মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনার সন্তান ৫ শতাংশ, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ১ শতাংশ এবং শারীরিক প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গ ১ শতাংশ নিয়োগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়।

facebook sharing button

২০৩৩ সালের মধ্যে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে: এ্যানি

পানি সম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, পদ্মা অববাহিকার বিশাল কৃষি অঞ্চলকে মরুময়তা থেকে বাঁচাতে ও শুষ্ক মৌসুমে পানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে ‘পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প’ গ্রহণ করা হয়েছে।

২০৩৩ সালের মধ্যে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, প্রস্তাবিত পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পটি বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা দেশের মোট আয়তনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ জুড়ে বিস্তৃত এবং যেখানে প্রায় সাড়ে ৬ কোটি মানুষ বসবাস করে।

তিনি আরও বলেন, প্রকল্পটি নদী নির্ভরশীল জনগণের জীবন রক্ষাকারী প্রকল্প হিসেবে বিবেচিত।

পানি সম্পদ মন্ত্রী বলেন, পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের ধারণা দীর্ঘদিনের। ১৯৬০ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত সময়ে প্রকল্পটি প্রণয়নের উদ্দেশ্যে মোট চারটি সমীক্ষা পরিচালিত হয়।

তিনি আরও বলেন, পরবর্তীতে ২০০২ সালে প্রাক-সম্ভাব্যতা সমীক্ষার মাধ্যমে সম্ভাব্য স্থান নির্ধারণ করা হয়।

২০০৪ সালে ৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি বিস্তারিত সমীক্ষা প্রকল্প গ্রহণ করা হয়, যা ২০১৩ সালে সম্পন্ন হওয়ার পর, প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ নকশা চূড়ান্ত করা হয়।

শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারেও পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

এই ধারাবাহিকতায় পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে প্রকল্পের ডিপিপি ইতোমধ্যেই প্রণয়ন করে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটির প্রস্তাবিত ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি ২৫ লাখ টাকা। প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল ধরা হয়েছে ২০২৬ সাল থেকে জুন ২০৩৩ পর্যন্ত।

জাতিসংঘ সিপিডি-৫৯ অধিবেশনে গবেষণা ও তথ্যব্যবস্থা শক্তিশালীকরণের আহ্বান বাংলাদেশের

গবেষণা ও তথ্যব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তি বিনিময় ও সক্ষমতা উন্নয়ন এবং বৈশ্বিক ডিজিটাল বিভাজন কমাতে সমন্বিত ও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ।

জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী এ আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি উদীয়মান প্রযুক্তির নৈতিক ও দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করতে শক্তিশালী তথ্য-গোপনীয়তা সুরক্ষা কাঠামো গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

গতকাল (বুধবার) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত ‘জনসংখ্যা ও উন্নয়ন কমিশন’-এর ৫৯তম অধিবেশনে বক্তব্যকালে তিনি এ কথা বলেন।

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ও আন্তর্জাতিক জনসংখ্যা ও উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে প্রযুক্তি, উদ্ভাবন এবং গবেষণার অপরিহার্য ভূমিকার বিষয়টি তুলে ধরে রাষ্ট্রদূত বলেন, বিশ্বে এখনও প্রায় এক-তৃতীয়াংশ জনগোষ্ঠী ইন্টারনেট সুবিধা থেকে বঞ্চিত, যা শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও অর্থনৈতিক সুযোগে গভীর বৈষম্য সৃষ্টি করছে এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের পথে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে কাজ করছে।

তিনি বলেন, মাতৃমৃত্যু হার কমানো, টিকাদান কর্মসূচির সম্প্রসারণ, কমিউনিটি-ভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা জোরদার, নারীর ক্ষমতায়ন এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে।

পাশাপাশি দেশের টেলিমেডিসিন, ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা এবং রিয়েল-টাইম রোগ নজরদারির মতো প্রযুক্তিনির্ভর সেবার সম্প্রসারণের বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি।

তরুণ জনগোষ্ঠীতে বিনিয়োগ, দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্ভাবনকে টেকসই উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন রাষ্ট্রদূত। তিনি নগরায়ণ, জলবায়ু পরিবর্তন ও অসংক্রামক রোগের ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

বেকারত্ব মোকাবিলায় প্রাণিসম্পদ খাতকে কাজে লাগাতে সরকারের উদ্যোগ

দেশের ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব সমস্যা মোকাবিলায় প্রাণিসম্পদ খাতকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ।

আজ জাতীয় সংসদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মো. কামরুল হাসান (ময়মনসিংহ-৬)-এর টেবিলে উত্থাপিত এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

এ সময় মন্ত্রী আরও বলেন, প্রাণিসম্পদ খাতের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে নতুন নতুন প্রকল্প গ্রহণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
এ সব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বেকারত্ব হ্রাসে তা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে।

তিনি আরও বলেন, দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্বনির্ভর জনগোষ্ঠী ও উদ্যোক্তা শ্রেণি তৈরি করাই এ সব উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। এর ফলে স্ব-কর্মসংস্থান বাড়বে এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে মানুষের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পাবে।

মন্ত্রী জানান, সরকার যে প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে সিলেট অঞ্চলে দেশীয় দুগ্ধ গাভীর উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ, উত্তর-মধ্যাঞ্চলের চর ও নদী ভাঙনপ্রবণ এলাকায় প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন, জলবায়ু সহনশীল মুরগির জাত সম্প্রসারণে কেন্দ্রীয় পোলট্রি খামারের সক্ষমতা বৃদ্ধি, ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রাণিসম্পদ সেবা উন্নয়ন, কৃত্রিম প্রজনন সেবা আধুনিকায়ন এবং উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে ভেটেরিনারি সেবা উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন।

এ ছাড়া কেন্দ্রীয় ভেটেরিনারি হাসপাতালের আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ, পোলট্রি ও হাঁস খামার সেবা উন্নয়ন এবং ক্ষুদ্র জাবরকাটা প্রাণি খামারের উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন প্রকল্পও গ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ সব প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে, দেশে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে, নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হবে ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হবে।