শুক্রবার, অক্টোবর ২৩, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো গোপন চুক্তি নেই:পররাষ্ট্রমন্ত্রী

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের কোনো গোপন চুক্তি নেই। আমেরিকার সঙ্গে যা কিছু আছে, তা প্রকাশ করা হয়েছে। গতকাল সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে সরকারের ওপর কোনো ধরনের বাধ্যবাধকতা নেই।

সাম্প্রতিক বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক, বিশেষ করে জ্বালানি, বাণিজ্য ও উন্নয়ন সহযোগিতা নিয়ে সাধারণ আলোচনা হয়েছে। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সহায়তা অব্যাহত রাখার বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। মন্ত্রী আরো বলেন, রোহিঙ্গাদের জন্য যুক্তরাষ্ট্র এখনো বিশ্বের সবচেয়ে বড় দাতা দেশ এবং তাদের এই সহায়তা অব্যাহত রাখার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। জ্বালানি খাতে সহযোগিতা প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি দপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।

আলোচনার কিছু বিষয় গোপনীয়তার কারণে এই মুহূর্তে প্রকাশ করা না গেলেও, বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র সব ধরনের সহযোগিতা করবে বলে আশ্বাস দিয়েছে। তিনি আরও বলেন, সরকারের মূল লক্ষ্য হচ্ছে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

এজন্য বিশ্ববাজারে সবচেয়ে প্রতিযোগিতামূলক ও সাশ্রয়ী উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে। এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য বিদেশ সফর নিয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বিষয়টি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং সফরের জন্য নির্দিষ্ট কোনো দেশের নাম চূড়ান্ত হয়নি।

এবার শায়খ আহমাদুল্লাহর ভিসা বাতিল করলো অস্ট্রেলিয়া

জনপ্রিয় ধর্মীয় বক্তা মাওলানা ড. মিজানুর রহমান আজহারির পর এবার বাংলাদেশের বিশিষ্ট ইসলামি ব্যক্তিত্ব শায়খ আহমাদুল্লাহর ভিসা আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করেছে অস্ট্রেলিয়া সরকার। স্থানীয় সময় রোববার (৫ এপ্রিল) দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

হিটলারের প্রশংসা, ইহুদিবিদ্বেষী ও উগ্রবাদী প্রচারণার অভিযোগে আজহারিকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করার পরেই অস্ট্রেলিয়া সরকার শায়খ আহমদুল্লাহর বিরুদ্ধে এই কঠোর ব্যবস্থা নিলো।

খবরে জানা গেছে, সিডনি বিমানবন্দর দিয়ে শায়খ আহমাদুল্লাহ অস্ট্রেলিয়া ত্যাগের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় তার ভিসা বাতিলের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসে। অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন বিষয়ক সহকারী মন্ত্রী ম্যাট থিসলেথওয়েট এই সিদ্ধান্তের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ইহুদিবিদ্বেষী বা ইসলামোফোবিক বক্তব্যকারীদের প্রতি অস্টেলিয়া সরকারের কোনো সহনশীলতা নেই।

এ ছাড়া ডেইলি টেলিগ্রাফ শায়খ আহমদুল্লাহর ভিসা বাতিলের খবর নিয়ে প্রতিবেদনে প্রকাশ করেছে। তাতে বলা হয়েছে, শায়খ আহমদুল্লাহ অতীতে ইহুদিদের ঘৃণ্য বলে উল্লেখ করেছিলেন এবং বিশ্বব্যাপী অস্থিরতার জন্য ইহুদিদের দায়ী করেন।

(আইপিডিসি)-এর ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত ‘লিগ্যাসি অব ফেইথ’ কর্মসূচিতে অংশ নিতে শায়খ আহমদুল্লাহ সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়া সফরে যান। সফরের অংশ হিসেবে তিনি প্রথমে মেলবোর্নে পৌঁছে প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্দেশে একটি ভিডিও বার্তা দেন।

তার ৩ এপ্রিল মেলবোর্নের আল-তাকওয়া কলেজ, ৪ এপ্রিল সিডনির ডায়মন্ড ভেন্যুতে প্রধান কনভেনশন, ৬ এপ্রিল ক্যানবেরার ন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টার, ১০ এপ্রিল অ্যাডিলেডের উডভিল টাউন হল এবং ১১ এপ্রিল পার্থে ধারাবাহিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করার কথা ছিল।

তবে এসব অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করার আগেই আজহারির মতো তাকেও অস্ট্রেলিয়া ছাড়তে হলো।

চীনে যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

বাংলাদেশ-চীন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিষয়ে আলোচনার জন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান চলতি মাসের শেষ দিকে চীন যাচ্ছেন। বেইজিং সফরের সময় তিনি চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইর সঙ্গে বৈঠক করবেন।

রোববার (৫ এপ্রিল) পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে ঢাকায় চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সৌজন্য সাক্ষাতের সময় পরিকল্পিত ওই সফরের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এদিন বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন চীনের রাষ্ট্রদূত।

প্রসঙ্গত, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি খলিলুর রহমান বাংলাদেশের নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তাকে অভিনন্দন জানান চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির পলিটব্যুরোর সদস্য ওয়াং ই। অভিনন্দন বার্তায় ওয়াং ই বলেন, দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নে তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে কাজ করতে চান। এর মাধ্যমে তিনি চীন-বাংলাদেশ ‘বিস্তৃত কৌশলগত অংশীদারত্বের’ সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন ।

ঢাকার সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে বেইজিংয়ের গুরুত্বের উল্লেখ করে ওয়াং ই বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা আরও গভীর করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

এদিকে চলতি মাসে বাংলাদেশ ও চীনের পররাষ্ট্রসচিবদের মধ্যে ঢাকায় অনুষ্ঠিত বৈঠকটি একেবারে শেষ মুহুর্তে স্থগিত হয়ে গেছে। গত ৩ এপ্রিল ঢাকায় দুই দেশের পররাষ্ট্রসচিবদের ১৪ তম বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। বৈঠকে চীনের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সুন ওয়েইডংয়ের তার দেশের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তাকে পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী করার ফলে চীনের পক্ষ থেকে বৈঠকটি স্থগিত করার অনুরোধ জানানো হয়।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের বেইজিং সফরের আগে ঢাকায় দুই দেশের পররাষ্ট্রসচিবদের বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা কম।

নতুন সরকারের প্রথম একনেক বৈঠক আজ, উত্থাপন হচ্ছে ১৮টি প্রকল্প

সরকার গঠনের পর আজ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের প্রথম জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) বৈঠক বসছে। প্রাথমিকভাবে বৈঠকে ১৮টি প্রকল্প উত্থাপনের কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত ১৭টি প্রকল্পই উপস্থাপন হতে পারে। এই প্রকল্পগুলোর জন্য মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১৩ হাজার ১৬১ কোটি টাকা।

বৈঠকে নদী, পানি ও জলবায়ু, অবকাঠামো, সড়ক উন্নয়ন, স্বাস্থ্যখাত, প্রযুক্তি ও অংশীদারিত্বমূলক উন্নয়ন গুরুত্ব পেলেও বাদ যাচ্ছে আলোচিত ‘পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প’। সোমবার (৬ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টায় সচিবালয়ে মন্ত্রিসভা কক্ষে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক সভাপতি তারেক রহমানের সভাপতিত্বে এ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, প্রাথমিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নতুন সরকারের প্রথম একনেক বৈঠকে ১৮টি প্রকল্পের কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত ১৭টি প্রকল্পই উপস্থাপন হতে পারে, যার মধ্যে ৯টি নতুন প্রকল্প। এছাড়া, পরিকল্পনা মন্ত্রীর অনুমোদিত ৩৩টি প্রকল্পও বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে। তবে আলোচিত ‘পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প’ বাদ পড়েছে।

পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প প্রস্তাব করেছিল ভারতের ফারাক্কা বাঁধের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য। প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে ব্যয় ধরা হয়েছিল ৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি ২৫ লাখ টাকা। তবে বৈঠকে আলোচনার মধ্যে রয়েছে করতোয়া নদী সিস্টেম উন্নয়ন (বগুড়া ও গাইবান্ধা), ময়মনসিংহে জলবায়ু সহনশীল সেতু নির্মাণ, রাজধানীতে জরুরি পানি সরবরাহ, সর্বজনীন সামাজিক অবকাঠামো নির্মাণ, আইটি ট্রেনিং সেন্টার স্থাপন, সীমান্ত সড়ক নির্মাণ, এবং ৮টি বিভাগে শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্য উন্নয়নের জন্য মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও অংশীদারিত্বমূলক উন্নয়ন প্রকল্প।

বৈঠকে উপস্থাপনের জন্য চূড়ান্ত ১৭টি প্রকল্পের মধ্যে নদী, পানি, জলবায়ু বিষয়ক প্রকল্প রয়েছে ৪টি। এছাড়া অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্প ৫টি, সড়ক নির্মাণ ও উন্নয়ন সংশ্লিষ্ট ৩ টি, মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ডেন্টাল কলেজ হাসপাতাল নির্মাণ ২টি, প্রযুক্তি উন্নয়ন বিষয়ক এবং অংশীদারিত্বমূলক উন্নয়ন বিষয়ক একটি প্রকল্প উঠতে যাচ্ছে। মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১৩ হাজার ১৬১ কোটি টাকা।

অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, নতুন সরকারের প্রথম একনেক বৈঠকে প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলো সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনার প্রাথমিক দিকনির্দেশনা হিসেবে দেখা হবে। তবে প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা এবং সঠিক তদারকির প্রয়োজন রয়েছে।

অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মো. আইনুল ইসলাম বলেন, জলবায়ু, নদী, রাস্তা, ভবন, ব্রিজ-কালভার্টের মতো প্রকল্প হাতে নেয়ার উদ্যোগ প্রশংসনীয়। তবে প্রকল্প বাস্তবায়ন ও ব্যয় সমন্বয় বড় চ্যালেঞ্জ। এখানে দুর্নীতি হতে পারে, প্রকল্প দীর্ঘমেয়াদি হলে খরচ বাড়তে পারে; তাই নজরদারি জরুরি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, নতুন সরকারের প্রথম একনেক বৈঠকের সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর উন্নয়নের অগ্রাধিকার।

র‌্যাব থাকবে কি না, সিদ্ধান্ত নেবে সরকার : মহাপরিচালক

র‌্যা‌পিড অ্যাকশন ব‌্যাটালিয়নের (র‌্যাব) নতুন মহাপরিচালক আহসান হাবিব পলাশ বলেছেন, ‘র‌্যাব থাকবে কি না, সিদ্ধান্ত সরকারের। তবে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট হিসেবে র‌্যাবের প্রয়োজনীয়তা আছে। গত দেড় বছর র‌্যাব যেভাবে পরিচালিত হয়েছে, এভাবে পরিচালনা করতে পারলে ভাবমূর্তি ঠিক থাকবে।’

রবিবার (৫ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর কাওরান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘আগে কিছু কাজের জন্য নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। তবে এখন আমরা আমাদের কাজের দ্বারা সেটিকে মুছে দিতে চাই।’

তিনি আরো বলেন, ট্রাইব্যুনালে চলা র‍্যাবের গুম খুনের ব্যাপারে মামলায় এখন পর্যন্ত কোনো সহায়তা চাওয়া হয়নি। যদি চাওয়া হয় তাহলে ট্রাইব্যুনালকে সহায়তা করা হবে।

জামিন পেলেন গায়ক নোবেল

প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের মামলায় জামিন পেয়েছেন গায়ক মাইনুল আহসান নোবেল। আজ রবিবার (৫ এপ্রিল) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

এ বিষয়ে আসামিপক্ষের আইনজীবী ইমরান হোসেন বলেন, গত ২ এপ্রিল ধার্য তারিখে নোবেলের জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠিয়েছে ছিলেন আদালত। আজকে তার জামিন চেয়ে আবেদন করেছিলাম।

আসামির উপস্থিতিতে জামিন শুনানি হয়। শুনানি শেষে আদালত পাঁচ হাজার টাকা মুচলেকায় অভিযোগ গঠনের শুনানি পর্যন্ত তার জামিন মঞ্জুর করেন। তার কারামুক্তিতে কোন বাধা নেই।
এরআগে গত ২ ফেব্রুয়ারি গায়ক নোবেলসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে একই আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

এই পরোয়ানার পর গত ২৩ ফেব্রুয়ারি নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানার বটতলা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন ২৪ ফেব্রুয়ারি তাকে আদালতে হাজির করা হয়। ওইদিন শুনানি শেষে আপোসের শর্তে তার জামিন মঞ্জুর করেন আদালত। পরে আদালতের হাজতখানা থেকে তিনি মুক্ত হন।
এরপর গত ২ এপ্রিল আদালতে হাজিরা দিতে আসেন। ওইদিন বাদীপক্ষে জামিন বাতিল চেয়ে আবেদন করে। সেখানে উল্লেখ করা হয়, আসামি জামিনে গিয়ে শর্ত ভঙ্গ করেছে। এমনকি বাদীকে বাসায় নিয়ে মারধর করেছে। এই ঘটনায় আলাদা মামলাও হয়েছে।
পরে আদালত তার জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
গত বছরের ১৩ আগস্ট ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। আদালত মামলাটি গ্রহণ করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, আনাননিয়া শবনম রোজ নামের এক তরুণীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন গায়ক নোবেল। পরে ২০২৩ সালের ২৫ আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তার কাছ থেকে প্রায় ১৩ লাখ ১৮ হাজার ৫৪০ টাকা আত্মসাৎ করেন তিনি। অন্য আসামিরা প্রতারণার কাজে নোবেলকে সহযোগিতা করেছেন বলেও অভিযোগ করা হয়। তদন্ত শেষে পিবিআইয়ের উপপরিদর্শক নুরুজ্জামান চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে মর্মে প্রতিবেদন দাখিল করেন।

নোবেল বাদে এই মামলার অন্য আসামিরা হলেন নোবের মা নাজমা হোসেন, স্ত্রী ইসরাত জাহান প্রিয়া, সহকারী মুনেম শাহ সৌমিক এবং পরিচিত মাসুদ রানা।

মঙ্গল-আনন্দ দুটোই বাদ, নববর্ষে হবে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’

চলতি বছর পহেলা বৈশাখের দিন বাংলা নববর্ষ বরণের শোভাযাত্রা ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ নামে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। রবিবার (৫ এপ্রিল) সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে এ তথ্য জানান তিনি।

এর আগে তিনি সচিবালয়ে বাংলা নববর্ষ এবং চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, গারো ও অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর নববর্ষ উদযাপনের লক্ষ্যে এক সভা করেন মন্ত্রী।

মন্ত্রী বলেন, ‘পহেলা বৈশাখ উদ্‌যাপনের লক্ষ্যে শোভাযাত্রার নাম আনন্দ কিংবা মঙ্গল নিয়ে বিতর্ক হচ্ছে।

এই বিতর্কের কোনো মানে হয় না।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা কোনো বিভাজন চাই না। বৈচিত্র্যের মাধ্যমে আমরা ঐক্য চাই। এ অবস্থায় সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবারের পহেলা বৈশাখে শোভাযাত্রা আনন্দ কিংবা মঙ্গল নামে নয়, বৈশাখী শোভাযাত্রা নামে হবে।
এখন থেকে প্রতিবছর এই নামই থাকবে।’
পহেলা বৈশাখের শোভাযাত্রার নাম ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ হলেও ইউনেস্কোর স্বীকৃতি নিয়ে কোনো সমস্যা হবে না বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।

অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য : মির্জা ফখরুল

ধর্মবিশ্বাস মানুষের ব্যক্তিগত বিষয় উল্লেখ করে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘আমরা এটিকে রাষ্ট্রের প্রশাসনিক কাঠামোর অংশ করতে চাই না। বরং একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।’

রবিবার (৫ এপ্রিল) রাজধানীর ভাটারায় খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ‘ইস্টার সানডে’ উপলক্ষে আয়োজিত এক শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

ধর্মকে পুঁজি করে বিভাজন সৃষ্টির সুযোগ নেই উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দেশের সার্বিক অগ্রযাত্রায় ধর্মকে পুঁজি করে কোনো ধরনের বিভাজন সৃষ্টির সুযোগ নেই।

কিছু রাজনৈতিক শক্তি ধর্মকে সামনে রেখে স্বার্থের রাজনীতি করতে চায়, তবে বাংলাদেশের দীর্ঘ সামাজিক ঐতিহ্যে এমন বিভাজনের স্থান নেই।’
কিছু রাজনৈতিক দলের সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, ‘কিছু অশুভ শক্তি রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশে সমাজে বিভাজন সৃষ্টির অপচেষ্টা চালায়। এমনকি কেউ কেউ মহান মুক্তিযুদ্ধকেও অস্বীকার করতে চায়, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।’

অনুষ্ঠানে মন্ত্রী জ্বালানি তেলসংকট ইস্যুতেও কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে বারবার আশ্বস্ত করা হয়েছে দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি তেল মজুদ রয়েছে। তবু অনেকে আতঙ্কিত হয়ে অপ্রয়োজনে বারবার তেল সংগ্রহ করছেন, যা বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে। কোনো ধরনের গুজবে কান দেওয়া উচিত নয়।’
তিনি আরো বলেন, ‘বিএনপি তারেক রহমানের নেতৃত্বে আপনাদের সহায়তায় সরকার গঠন করেছে।

এজন্য সবার প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। সত্য ও ন্যায়কে সামনে রেখে দেশকে এগিয়ে নিতে চাই।’

প্রোটেস্ট্যান্ট চার্চের নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা বিনিময়

‘ইস্টার সানডে’ উপলক্ষে প্রোটেস্ট্যান্ট চার্চের নেতাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

রবিবার (৫ এপ্রিল) বেলা পৌনে ১২টায় বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে এই শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠিত হয়।

।

এলডিসি উত্তরণে দেশ এখনো পুরো প্রস্তুত নয় : অর্থমন্ত্রী

দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের লক্ষ্য নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠলেও এখনো সেই লক্ষ্যে পৌঁছানোর মতো পূর্ণ প্রস্তুতি নেই বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

তিনি বলেন, ‘বৈদেশিক ঋণ ও অভ্যন্তরীণ দেনার চাপ, উচ্চ সুদের হারে ঋণ গ্রহণের ঝুঁকি এবং সামগ্রিক আর্থিক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা দেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

রবিবার (৫ এপ্রিল) শেরে বাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক বহুপক্ষীয় পরামর্শসভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে তিনি এসব কথা বলেন। দেশের উত্তরণ প্রস্তুতি পর্যালোচনার লক্ষ্যে জাতিসংঘের সংস্থা UN-OHRLLS একটি স্বতন্ত্র মূল্যায়ন সম্পন্ন করেছে, যার মূল বিষয়গুলো এই সভায় উপস্থাপন করা হয়।

মন্ত্রী বলেন, ‘জ্বালানি সংকট ও বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার বিঘ্ন দেশের অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। এর প্রভাব শুধু জ্বালানি খাতে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং খাদ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারেও পড়বে, যা মূল্যস্ফীতি বাড়াবে।’ তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জ্বালানির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে এবং বাংলাদেশ এখনো তা নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে। তবে দীর্ঘদিন এই চাপ বহন করা সরকারের জন্য সম্ভব নয়।

তিনি আরো বলেন, সরকার জনগণের ওপর হঠাৎ অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে চায় না। কিন্তু সরকারি তহবিল থেকে ধারাবাহিক ব্যয় চলতে থাকলে শেষ পর্যন্ত এর প্রভাব জনগণের ওপরই পড়বে। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। যেন জনগণের স্বার্থ রক্ষা করা যায় এবং অন্যদিকে অর্থনীতির দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতাও নিশ্চিত হয়।

বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘প্রতিদিনের সংকট মোকাবেলা’ হিসেবে বর্ণনা করে মন্ত্রী বলেন, ‘দেশের অর্থনীতির প্রায় সব সূচকই নিম্নমুখী। সরকার এখন অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে, কিন্তু জ্বালানি খাতে ভর্তুকি, বৈশ্বিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি এবং আমদানি নির্ভরতার কারণে চাপ আরো বাড়ছে।’

সংকট উত্তরণে সক্ষমতা বৃদ্ধিকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘প্রয়োজনীয় সংস্কার ও দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে অর্থনীতিকে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করানো হবে।’ এ ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নীতিমালার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

মন্ত্রী আরো বলেন, ‘বর্তমানে উত্তরণ প্রক্রিয়া কিছু সময়ের জন্য পিছিয়ে দেওয়ার সুযোগ রয়েছে এবং এই সময়ের মধ্যে দেশের অর্থনীতির মৌলিক সূচকগুলো শক্তিশালী করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়ন করা গেলে ভবিষ্যতে উত্তরণ একটি বাস্তবসম্মত লক্ষ্য হয়ে উঠবে।’
সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন—পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, জাতিসংঘের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মিজ রাবাব ফাতিমা এবং পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি।