মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬

‘ডালিমের জুস পান করলে তেলআবিবে আঘাত হবে আরও নির্ভুল’ ইরানের দূতাবাসের ভিডিও

সাউথ আফ্রিকায় অবস্থিতি ইরানিয়ান এম্বাসি থেকে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি নিয়ে চলছে ব্যাপক সমালোচনা। কারণ—ভিডিওটি অনেকটা ইসরায়েলকে অপমান করে বানানো হয়েছে।

ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর যৌথ কমান্ড খাতাম আল-আম্বিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টারসের মুখপাত্র ইব্রাহিম জুলফাকারি স্কেটবোর্ডে সেলফি স্ট্যান্ড এক হাতে নিয়ে অন্য হাতে ডালিমের জুস পান করছেন। আর পেছনে লঞ্চ হচ্ছে মিসাইল।

ভিডিওতে রসিকতার ছলে বলা হয়েছে, ডালিমের জুস পান করলে তেলআবিবে আঘাত হবে আরও নির্ভুল। এই পোস্টটি অনলাইনে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার নতুন ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ইরানি দূতাবাস সাউথ আফ্রিকার অফিশিয়াল অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্ট করা হয়েছে। এছাড়াও ইন্ডিয়া টুডে’র পেজ থেকে ভিডিও আপলোড করা হয়েছে। ভিডিওটির সত্যতা যাচাইয়ের জন্য কোন বিবৃতি এখন পর্যন্ত দেয়নি ইরানি দূতাবাস। তবে পোস্টের ক্যাপশনে লেখা ‘ফান পোস্ট’।

ইসরায়েলের ১১ জায়গায় আঘাত হানল ইরানের এক মিসাইল

চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরান নতুন করে ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। ইরানের দাবি, একটি মিসাইল দিয়েই রাজধানী তেল আবিবের অন্তত ১১টি স্থানে আঘাত হানা হয়েছে, যাতে উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাতে ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ-৪’-এর অংশ হিসেবে এই হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। তেল আবিব লক্ষ্য করে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হলেও এর মধ্যে একটি মিসাইলই একাধিক স্থানে আঘাত হেনেছে বলে দাবি করা হয়েছে।

ইসরায়েলি গণমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, রকেটের ধ্বংসাবশেষ বৃহত্তর তেল আবিবের বিভিন্ন এলাকায় পড়ে ভবন, সড়ক ও যানবাহনের ক্ষতি করেছে। ইসরায়েলি সম্প্রচার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মোট ১১টি স্থানে এসব ধ্বংসাবশেষ আছড়ে পড়ে ক্ষয়ক্ষতি সৃষ্টি করেছে।

হামলার পরপরই উদ্ধারকারী দলগুলো ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। ইসরায়েলের হোম ফ্রন্ট কমান্ড সেই ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে তল্লাশি ও উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম চ্যানেল-১৪ জানিয়েছে, এই হামলায় একজন নিহত হয়েছেন। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

এর আগে, ইসরায়েলজুড়ে বিমান হামলার সতর্কতা সাইরেন বেজে ওঠে। নেগেভ মরুভূমি, ডিমোনা, বিয়ার শেবা, আরাদ ও আশকেলনসহ বিভিন্ন এলাকায় সতর্ক সংকেত জারি করা হয়।

এদিকে ইসরায়েলের হামলায় ইরানের দুটি পারমাণবিক কেন্দ্র ও বড় শিল্প স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর তেহরান কঠোর প্রতিশোধ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিল। তারই অংশ হিসেবে এই হামলাকে দেখা হচ্ছে। সব মিলিয়ে পাল্টাপাল্টি হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে।

দুবাইয়ের বুর্জ খলিফার ওপর বিরাট বজ্রপাত

সংযুক্ত আরব আমিরাতের অর্থনৈতিক রাজধানী দুবাইয়ের আইকনিক স্থাপনা ও বিশ্বের সর্বোচ্চ বহুতল ভবন বুর্জ খলিফার ওপর বজ্রপাত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার রাতে ব্যাপক ঝড়-বৃষ্টি হয়েছে দুবাইয়ে, সে সময়েই বিশাল আকারের বজ্রপাত আঘাত হানে ভবনটিতে।

বজ্রপাতে অবশ্য ভবনটির কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। তবে ভবনটিতে বজ্রপতনের দৃশ্য ক্যামেরায় ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তা পোস্ট করা হয়েছে এবং সেই ভিডিও ভাইরাল হয়েছে।

শুক্রবার দুবাই ছাড়াও রাজধানী আবুধাবি, শারজাহসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক ঝড়বৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবহাওয়া দপ্তর।

২০১০ সালে প্রতিষ্ঠিত ১৬৩ তলাবিশিষ্ট ভবন বুর্জ খলিফার উচ্চতা ২ হাজার ৭৭২ ফুট। আশেপাশে সমান কিংবা অধিকতর উচ্চতার ভবন না থাকায় ঝড়বৃষ্টির সময় স্বাভাবিক কারণেই ভবনটির ওপর বজ্রপাতের আঘাত এসেছে।

তবে এত বড় বজ্রপাতের পরও বুর্জ খলিফা অক্ষত থাকার রহস্য লুকিয়ে আছে সেটির অবকাঠামোগত গঠনে। ভবনটির কাঠামো অত্যন্ত দৃঢ় এবং ইস্পাতে তৈরি। এছাড় বুর্জ খলিফার চূড়ায় আছে একটি উুঁচু লাইটেনিং রড, যেটির প্রান্তদেশ একদম মাটিতে। বজ্রপাত হলে সেই রডে আঘাত হানে এবং সেটির মাধ্যমে বিদ্যুৎ নিচে নেমে যায়। লাইটেনিং রড থাকলে ভবনে বজ্রপাতের আঘাত আসে না। বুর্জ খলিফার ক্ষেত্রেও তা-ই ঘটেছে।

বুর্জ খলিফার মালিক দুবাইয়ের রিয়েল এস্টেট বা ডেভেলপার কোম্পানি এমার প্রোপার্টিজ। ভবনটির নামে ১৫০ কোটি ডলারের বিমা করা আছে। বুর্জ খলিফার ১২৪, ১২৫ এবং ১৪৮ তলায় দর্শনার্থীদের জন্য অবজারভেশন ডেস্ক আছে। বিদেশে থেকে যেসব পর্যটক দুবাইয়ে যান, তাদের অন্যতম আকর্ষণ থাকে বুর্জ খলিফা।

সূত্র : এনডিটিভি

‘ট্রিগারে আঙুল’, সরাসরি যুদ্ধে নামার হুঁশিয়ারি হুথিদের

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের মুখপাত্র ইয়াহইয়া সারি জানিয়েছেন, নির্দিষ্ট কিছু পরিস্থিতি তৈরি হলে তারা সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপে চলে আসবে। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘আমাদের আঙুল সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের ট্রিগারে রয়েছে।’ খবর আলজাজিরার।

ইয়াহইয়া সারি পাঁচটি দফা উল্লেখ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে ইরান ও লেবাননসহ “প্রতিরোধ অক্ষভুক্ত” দেশগুলোর বিরুদ্ধে যুদ্ধ বন্ধে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় সাড়া দেওয়ার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, এই আগ্রাসন ‘অন্যায়, দমনমূলক এবং অযৌক্তিক”, যা বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর।

তিনি দ্বিতীয় দফায় ফিলিস্তিন, লেবানন, ইরাক ও ইরানে আগ্রাসন বন্ধ করা এবং ইয়েমেনের ওপর আরোপিত অন্যায় অবরোধ তুলে নেওয়ার কথা বলেন।

তৃতীয় দফায় তিনি গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা এবং মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করার কথা উল্লেখ করেন।

সারি আরো জানান, নিচের পরিস্থিতিগুলোর কোনোটি ঘটলে হুথিরা সরাসরি যুদ্ধে অংশ নিতে পারে—

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের পক্ষে নতুন কোনো দেশ যুদ্ধে যুক্ত হলে
লোহিত সাগর (রেড সি) ব্যবহার করে ইরান বা অন্য কোনো মুসলিম দেশে হামলা চালানো হলে
ইরান ও “প্রতিরোধ অক্ষের” বিরুদ্ধে যুদ্ধ আরো বিস্তৃত হলে

সর্বশেষে তিনি ইয়েমেনের জনগণের ওপর অবরোধ আরো কঠোর করার লক্ষ্যে যেকোনো অন্যায় পদক্ষেপের বিরুদ্ধেও সতর্কবার্তা দেন।

যুক্তরাষ্ট্র কূটনীতির কথা বলছে আবার হামলাও চালাচ্ছে: ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ইরান অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল একদিকে আলোচনা ও কূটনীতির কথা বলছে অন্যদিকে তেহরানের বেসামরিক স্থাপনা ও অবকাঠামোর ওপর অব্যাহত হামলা চালাচ্ছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এই মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, স্কুল, হাসপাতাল, ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক স্থাপনা এবং আবাসিক এলাকাসহ বিভিন্ন বেসামরিক কেন্দ্রকে লক্ষ্য করে ‘অবৈধ হামলা’ চালানো হচ্ছে।

এদিকে আরাগচি টেলিগ্রাম এ দেওয়া এক পোস্টে জানান, চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে তিনি রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সঙ্গে ফোনে আলোচনা করেছেন।

ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনার খবর অনুসারে আরাগচি বলেন, হরমুজ প্রণালিতে যে অস্থিতিশীলতা তৈরি হয়েছে তার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপ দায়ী। তার মতে, এই পরিস্থিতিতে প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণ করার আইনি অধিকার ইরানের রয়েছে।

অন্যদিকে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া বার্তায় বলেন, ইসরায়েল ইরানের দুটি বৃহৎ ইস্পাত কারখানা, একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং বেসামরিক পারমাণবিক স্থাপনাসহ বিভিন্ন অবকাঠামোয় হামলা চালিয়েছে।

আরাগচির ভাষ্য অনুযায়ী, ইসরায়েল দাবি করেছে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় করেই এই হামলা চালিয়েছে। তিনি বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষিত কূটনীতির জন্য দেওয়া বাড়তি সময়সীমার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলা ১০ দিনের জন্য স্থগিত রাখা হবে।

এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা বলেছেন, আলোচনার আহ্বান জানিয়ে একই সঙ্গে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের হামলা চালানো ‘অসহনীয়’। শিল্প ও পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তাবে সাড়া দেওয়া হবে কিনা তা এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলেও তিনি জানান।

‘তেল নেই’ লেখা পাম্পে মিলল ৯৭৮৩ লিটার জ্বালানি

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে জ্বালানি তেল থাকার পরেও বিক্রি বন্ধ করে দেওয়ায় একটি পেট্রোল পাম্পকে জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

শুক্রবার (২৭ মার্চ) দুপুরে উপজেলার পার্বতীপুর ইউনিয়নের বড়দাদপুর এলাকার মেসার্স ব্রাদার্স অ্যান্ড সিস্টার্স ফিলিং স্টেশনকে এ জরিমানা করা হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালতে নেতৃত্ব দেওয়া নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও গোমস্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাকির মুন্সী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, মেসার্স ব্রাদার্স অ্যান্ড সিস্টার্স ফিলিং স্টেশনে ‘পাম্পে তেল নেই’ ব্যানার ঝুলিয়ে দিয়ে জ্বালানি তেল বিক্রয় বন্ধ করে দেওয়া হয়। বিষয়টি জানতে পেরে ভ্রাম্যমাণ আদালত ওই পাম্পে যান এবং তেলের মজুত যাচাই করেন। এ সময় দেখা যায়, সেখানে ২ হাজার ৩৬৮ লিটার পেট্রোল, ৩ হাজার ৭৬০ লিটার ডিজেল এবং ৩ হাজার ৬৫৫ লিটার অকটেন মজুত রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, মজুত থাকা সত্ত্বেও বিক্রি না করার অপরাধে ওই পেট্রোল পাম্পকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জনস্বার্থে এমন অভিযান অব্যহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

এ সময় পার্বতীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেনসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত থেকে সহায়তা করেন।

কিবরিয়া হত্যার নেপথ্যে রাজনৈতিক আধিপত্য-চাঁদাবাজি, কিলিং মিশনে ছয়-সাতজন

ঢাকার মিরপুরের পল্লবীতে যুবদল নেতা গোলাম কিবরিয়াকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় দুই ব্যক্তিকে বিদেশি রিভলবার, গুলিসহ গ্রেপ্তারের পর র‌্যাব জানিয়েছে আলোচিত এই কিলিং মিশনের সঙ্গে ছয়-সাতজন জড়িত ছিলেন। রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকাণ্ড হয়েছে বলে মনে করছে র‌্যাব।

র‌্যাব বলছে, যে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তারা সরাসরি কিলিং মিশনে ছিল। হত্যাকাণ্ডের পর তারা অবৈধ পথে পার্শ্ববর্তী দেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু ব্যর্থ হয়ে বৈধ কাগজপত্র সংগ্রহে চেষ্টা করছিল তারা।

আজ (শুক্রবার) রাজধানীর মিরপুর র‍্যাব-৪ এর কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সন্মেলনে এসব জানান কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শাহাবুদ্দিন কবির।

শাহাবুদ্দিন কবির বলেন, কিলিং মিশনে অংশগ্রহণকারী এই দুই শ্যুটার ঘটনার পর থেকেই পলাতক ছিল। এক পর্যায়ে আমরা জানতে পারি, তারা অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করার চেষ্টা করছে। কিন্তু হাদি হত্যার পর সীমান্তে কড়াকড়ি শুরু হলে তারা অবৈধ পথে দেশ অতিক্রম করতে ব্যর্থ হয়। নির্বাচন পরবর্তী সময়ে কিছুটা স্থিরতা এলে তারা ঢাকায় ফিরে আসে এবং বৈধ পথে বিদেশে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, পাসপোর্ট, ভিসা এগুলো তৈরির কাজ শুরু করে।

তিনি বলেন, পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-৪ এর একটি আভিযানিক বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে মিরপুরের রূপনগর ইস্টার্ন হাউজিং এলাকায় অভিযান চালিয়ে রাশেদ ওরফে লোপনকে এবং উত্তরা ১৮নং সেক্টরে দিয়াবাড়ি এলাকা থেকে মো. জাহাঙ্গীর হোসেন ওরফে কাল্লুকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার লোপনের দেওয়া তথ্যমতে, তার বাসা থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি বিদেশি রিভলবার ও ৩ রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তার হওয়া আসামিরা এই হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশগ্রহণ করার কথা স্বীকার করেছে উল্লেখ করে র‌্যাবের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, লোপনের কাছ থেকে পাওয়া রিভলবারের চেম্বারে ছয়টি গুলি থাকার কথা। কিন্তু পাওয়া গেছে তিনটি গুলি। পরবর্তীতে তাকে জিজ্ঞাসা করলে সে জানায়, ঘটনার সময় সে দুটি দুই রাউন্ড ফায়ার করেছিল গোলাম কিবরিয়াকে হত্যা করতে এবং এক রাউন্ড ফাঁকা গুলি করেছিল আশপাশের জনগণকে সরিয়ে দিতে।

গোলাম কিবরিয়া হত্যায় কিলিং মিশনে কতজন অংশ নিয়েছিল জানতে চাইলে তিনি বলেন, কিলিং মিশনে সরাসরি শ্যুট করার জন্য ছিল তিনজন শুটার। একজন শুটার জনি, সে আগেই ধরা পড়েছে। আজকে আমরা আরও দুই শুটারকে ধরেছি।
তিনি আরও বলেন, তাদের অস্ত্র দেওয়া এবং নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার জন্য রেসকিউ টিমে ছিল ‘ভাগিনা মাসুম’। অস্ত্রগুলো সরবরাহ করা এবং সার্বিক নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্বে ছিল ‘পাতা সোহেল’। আর নিহত কিবরিয়া গোলাম কিবরিয়াকে নজরদারি করার কাজে নিযুক্ত ছিল সুজন। তো সার্বিকভাবে দেখা যায়, এই কিলিং মিশনে ছয় থেকে সাত জন জড়িত ছিল।

হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য কী ছিল জানতে চাইলে কোম্পানি কমান্ডার মো. শাহাবুদ্দিন কবির বলেন, রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকাণ্ড হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে আসামিদের স্বীকারোক্তি, তাদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং আসামিদের কাছ থেকে আমরা যে ডিভাইসগুলো পেয়েছি, সেগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে আমরা দেখতে পাই যে আসামিদের মিরপুরের শীর্ষ সন্ত্রাসী মশিউর রহমান মশির সঙ্গে যোগাযোগ ছিল। গোলাম কিবরিয়া পল্লবী থানা যুবদলের সদস্য সচিব হিসেবে বেশ জনপ্রিয় একজন নেতা ছিলেন এবং তার রাজনৈতিক ভবিষ্যতও খুবই উজ্জ্বল ছিল। তিনি হয়তো পরবর্তীতে পল্লবী থানা বিএনপির বড় কোন পদে যেতে পারতেন। মশি যে ঝুট ব্যবসা, হাউজিং ব্যবসা, ডেভলপার ব্যবসা, ফুটপাথের চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ করতেন, এগুলোতে কিবরিয়া বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল বলে আমরা প্রাথমিক জানতে পেরেছি। এর কারণেই কিবরিয়াকে তারা সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করে।

গত বছরের ১৭ নভেম্বর সন্ধ্যায় মুখোশধারী তিন সন্ত্রাসী মিরপুর ১২ নম্বরের বি ব্লকে ‘বিক্রমপুর হার্ডওয়্যার অ্যান্ড স্যানিটারি’ নামের একটি দোকানে ঢুকে খুব কাছ থেকে গুলি করে হত্যা করে পল্লবী থানা যুবদলের সদস্যসচিব গোলাম কিবরিয়াকে। ঘটনার পর দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যাওয়ার সময় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় ওঠেন এবং দ্রুত না চালানোয় চালককে কোমরে গুলি করে আহত করে।

হত্যাকাণ্ডে ঘটনায় কিবরিয়ার স্ত্রী সাবিহা আক্তার দীনা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় আসামি হিসেবে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া অজ্ঞাত পরিচয় আরও সাত-আটজন এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।

হত্যাকাণ্ডের সময়ই জনি নামে এক শুটারকে আটক করে পুলিশে দেয় জনগণ। পরদিন মামলার এজাহারনামীয় আসামি মো. মনির হোসেন ওরফে সোহেল ওরফে পাতা সোহেল এবং মো. সুজন ওরফে বুকপোড়া সুজনকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।

জাতীয় সংসদ স্পিকারের সহধর্মিণী ভেন্টিলেশনে

জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন বীর বিক্রমের সহধর্মিণী মিসেস দিলারা হাফিজের শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন। উন্নত চিকিৎসার জন্য বর্তমানে তিনি সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভেন্টিলেশনে আছেন।

শুক্রবার (২৭ মার্চ) বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, স্পিকারের সহধর্মিণী মিসেস দিলারা হাফিজ সিঙ্গাপুরের ওই হাসপাতালে সংকটাপন্ন অবস্থায় রয়েছেন। আগামীকাল (শনিবার) সকালে মেডিকেল বোর্ডের বৈঠকে তার শারীরিক অবস্থার সর্বশেষ পরিস্থিতি জানানো হবে।

এর আগে দীর্ঘদিন ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন ছিলেন মিসেস দিলারা হাফিজ। পরে অবস্থার আশানুরূপ উন্নতি না হওয়ায় ঈদুল ফিতরের দিন দুপুরে তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হয়।

শায়রুল কবির খান আরও জানান, একই হাসপাতালে সিসিইউতে চিকিৎসাধীন আছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস। তবে তিনি এখন অনেকটাই সুস্থ রয়েছেন। চিকিৎসকের পরামর্শে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তাকে কেবিনে স্থানান্তর করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন পরিবারের সদস্যরা।

খাগড়াছড়িতে ইউপিডিএফ নেতাকে গুলি করে হত্যা

খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলায় নীতি দত্ত চাকমা (৪৫) নামে এক ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) নেতাকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। শুক্রবার (২৭ মার্চ) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার সুতাকর্মপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত নীতি দত্ত চাকমা ইউপিডিএফের (গণতান্ত্রিক) পানছড়ি উপজেলা সংগঠক ছিলেন। তিনি উপজেলার উত্তর শান্তিপুর এলাকার বাসিন্দা মৃত বর্ণনাতীত চাকমার ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে নীতি দত্ত চাকমা সুতাকর্মপাড়ার একটি দোকানে বসে ছিলেন। এ সময় অজ্ঞাতনামা কয়েকজন সশস্ত্র দুর্বৃত্ত সেখানে এসে তাকে খুব কাছ থেকে গুলি করে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে খাগড়াছড়ি জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

খাগড়াছড়ি জেলা সদর হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. জয়া ত্রিপুরা জানান, হাসপাতালে আনার আগেই নীতি দত্ত চাকমার মৃত্যু হয়েছে। তার পেটে গুলির আঘাত ছিল এবং বাম হাত ভাঙা অবস্থায় পাওয়া গেছে। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর বিস্তারিত কারণ জানা যাবে।

পানছড়ি থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস ওয়াহিদ জানান, গোলাগুলির খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কাজ করছে। স্থানীয়দের মাধ্যমে আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও পরে তার মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়।

এদিকে ইউপিডিএফের (গণতান্ত্রিক) কেন্দ্রীয় সংগঠক অমর চাকমা এই হত্যাকাণ্ডের জন্য প্রসিতপন্থি ইউপিডিএফকে দায়ী করেছেন। তবে ইউপিডিএফের জেলা সংগঠক অংগ মারমা এ অভিযোগ অস্বীকার করে সাংবাদিকদের বলেন, মেলা কেন্দ্রিক অভ্যন্তরীণ বিরোধের জের ধরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে।

চট্টগ্রাম বন্দরে আসছে ১ লাখ ৯৩ হাজার টন গ্যাস

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ অবস্থার মধ্যে পাঁচ দিনের ব্যবধানে প্রায় দুই লাখ টন তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়ছে তিনটি জাহাজ। এর মধ্যে একটি ইতোমধ্যে বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় পৌঁছেছে, আর বাকি দুটি আগামী বুধবারের মধ্যে আসার কথা রয়েছে। তিনটি জাহাজ মিলিয়ে মোট এলএনজি আসছে প্রায় ১ লাখ ৯৩ হাজার টন।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অস্ট্রেলিয়া থেকে ৬১ হাজার ৯৯৭ টন এলএনজি বহনকারী ‘এইচএল পাফিন’ ট্যাংকারটি বৃহস্পতিবার কুতুবদিয়া উপকূলে পৌঁছেছে।

পাশাপাশি ইন্দোনেশিয়া থেকে ৬১ হাজার টন এলএনজি নিয়ে ‘নিউ ব্রেভ’ এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রায় ৭০ হাজার টন এলএনজি বহনকারী ‘সেলসিয়াস গ্যালাপাগোস’ নামের আরও দুটি জাহাজ নির্ধারিত সময় অনুযায়ী বুধবারের মধ্যে বন্দরে ভিড়বে।

জাহাজ দুটির স্থানীয় শিপিং এজেন্ট ইউনি গ্লোবাল বিজনেস লিমিটেডের জ্যেষ্ঠ উপমহাব্যবস্থাপক মো. নুরুল আলম জানিয়েছেন, বর্তমান সূচি অনুযায়ী ট্যাংকার দুটি সময়মতো পৌঁছাবে বলেই আশা করা হচ্ছে।