মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬

এক মাসে রেকর্ড ৫৯ শতাংশ বেড়েছে অপরিশোধিত তেলের দাম

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ এবং তার জেরে হরমুজ প্রণালিতে তেহরান অবরোধ জারি করায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেল, বিশেষ করে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম এক মাসে রেকর্ড ৫৯ শতাংশ বেড়েছে। বাজার বিশ্লেষকরা এই দামবৃদ্ধিকে ‘রেকর্ড’ বলে উল্লেখ করেছে।

ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে তারা বলেছেন, ১৯৯০ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধের পর এই প্রথম এত অল্প সময়ের ব্যবধানে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম এই পরিমাণ বেড়েছে।

তারা আরও বলেছেন, তেলের ঘাটতির কারণে দামের এই উল্লম্ফন ঘটেনি; বরং এর জন্য দায়ী বাজারে মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা তেলের সরবরাহ অনিয়মিত হয়ে পড়া।

আরব সাগর এবং পারস্য উপসাগরকে যুক্ত করা হরমুজ প্রণালী আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ রুট। প্রতিদিন বিশ্বে যত তেল ও তরল গ্যাসবাহী জাহাজ চলাচল করে, সেসবের ২০ শতাংশই এই রুট ব্যবহার করে।

হরমুজ প্রণালীকে ‘জ্বালানির বৈশ্বিক দরজা’-ও বলা হয়, কারণ সৌদি, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইরাকসহ মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো এই পথ ব্যবহার করেই তাদের তেল রপ্তানি করে। হরমুজ না থাকলে মধ্যপ্রাচ্যের তেল অতি সহজে পশ্চিমা বিশ্বে সরবরাহ করা যেতো না।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ জারি করে ইরান। দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর পক্ষ থেকে বলা হয়, যুদ্ধ যতদিন চলবে— ততদিন এ প্রণালি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং তাদের যেসব মিত্র এই যুদ্ধে মার্কিন-ইসরায়েলি বাহিনীকে সহায়তা করছে— তাদের জাহাজ চলাচল করতে পারবে না।

আইআরজিসির এ পদক্ষেপে বিপদে পড়ে মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের তেলসমৃদ্ধ ৬ দেশ—সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন এবং ওমান। কারণ ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে এসব দেশে স্থাপিত সেনাঘাঁটিগুলো ব্যবহার করছে যুক্তরাষ্ট্র।

ফলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে এসব দেশের তেলবাহী জাহাজগুলো চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজারের নিয়মিত সরবরাহ ব্যাপকভাবে বিঘ্নিত হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের মোট সরবরাহের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ আসে এই দেশগুলো থেকে। এসব দেশের তেল স্থাপনাগুলোতে গত এক মাসে একাধিকবার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা করেছে ইরান।

জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক বাজারে বড় সরবরাহ আসে সৌদি আরব থেকে। আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষক সংস্থা কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে কোনো সৌদি তেলবাহী জাহাজ চলাচল করছে না। অপরিশোধিত তেল রপ্তানির জন্য হরমুজ প্রণালির পরিবর্তে নিজেদের ইয়ানবু বন্দর ব্যবহার করছে সৌদি। গত এক সপ্তাহে প্রতিদিন এই বন্দর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারের উদ্দেশে গিয়েছে ৪৬ লাখ ৫৮ হাজার ব্যারেল তেল।

আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষক সংস্থা জেপি মর্গানের বিশ্লেষক নাতাশা কানেভা রয়টার্সকে বলেন, “যুদ্ধের প্রথম দিকে পারস্য উপসাগর এবং হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী জাহাজ চলাচলে ঝুঁকি ছিল— এখন সেই ঝুঁকি লোহিত সাগর এবং বাব আল মান্দেব প্রণালি পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। এই দু’টি রুটে ঝুঁকি আরও বাড়লে সামনের দিনগুলোতে বাজার আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠবে।”

সূত্র: রয়টার্স

রাজশাহী বিভাগে বাড়ছে হাম, ৯ মাসের নিচে শিশুরাই বেশি আক্রান্ত

রাজশাহী বিভাগে হামে আক্রান্ত শিশুদের সংখ্যা বিগত বছরের তুলনায় বেড়েছে। রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও পাবনা জেলায় আক্রান্ত শিশুদের সংখ্যা অন্যসব জেলার চেয়ে বেশি। আর রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলা হামে আক্রান্ত শিশু রয়েছে সবচেয়ে বেশি।

তবে হঠাৎই হাম বেড়ে যাওয়া নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ৯ মাস পূর্ণ হলে হামের টিকার প্রথম ডোজ। আর ১৫ মাসে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হয়। এছাড়া তিন বছর পর পর ক্যাম্পেনে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের টিকা দেওয়া হয়। তবে এবার হাম আক্রান্ত বেশিরভাগ শিশুই ৬ থেকে ৯ মাস বয়সী। দুই বছর বয়সী শিশুরাও এই রোগে আক্রান্ত হয়েছে। তাদের সংখ্যাও কম নয়।

চলতি মাসে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে হাম রোগের চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে আইসিইউয়ে নেওয়ার পরেও ৯ জনকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। সবশেষ শনিবার (২৮ মার্চ) বিকেলে তিন শিশুকে আইসিইউয়ে নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে- হামে আক্রান্ত শিশুদের টিকা নেওয়ার বয়স হয়েছিল কিনা? তারা ঠিকমতো টিকা নিয়েছিল কিনা? আর টিকা কার্যক্রম চালু ছিল কিনা?

রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তার সূত্রে জানা গেছে, নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে কিছুটা বিলম্ব হওয়ায় সংক্রমণের হার স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। এখন পর্যন্ত রাজশাহী বিভাগে ৭৭ জন আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। যাদের মধ্যে বড় একটি অংশ ৯ মাস বয়সের নিচে থাকা শিশু। আক্রান্তদের চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বাদ পড়া শিশুদের দ্রুত টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা নিচ্ছে।

সীমান্ত এলাকা ও উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ উপজেলাগুলোতে নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসার মাধ্যমে পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা চলছে। এই সংক্রমণ সীমান্ত দিয়ে আসা বহিরাগত কোনো সমস্যা নয়। স্থানীয়ভাবে এটি নিয়ন্ত্রণে কাজ চলছে।

এদিকে, রাজশাহী জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা বর্তমানে নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রয়েছে। আক্রান্তদের বেশিরভাগই টিকা গ্রহণের উপযুক্ত বয়সের নিচের শিশু। সংক্রমণ ঠেকাতে স্বাস্থ্যকর্মীরা মাঠ পর্যায়ে সন্দেহভাজন রোগীদের শনাক্তকরণ এবং দ্রুত আইসোলেশন নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির পাশাপাশি বাদ পড়া শিশুদের খুঁজে বের করে ভ্যাকসিনের আওতায় আনার বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের আগেই আগামী বছরে একটি বৃহৎ টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরুর প্রস্তুতির কথাও এখানে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে এ বিষয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের মুখপাত্র শংকরকে বিশ্বাসকে একাধিক বার কল করেও যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়নি।

জানা গেছে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহায়তায় গেল ১৮ মার্চ রাজশাহী বিভাগের ১৫৩ রোগীর নমুনা পরীক্ষা করে ৪৪ জনের হাম পজিটিভ পাওয়া যায়। এতে আক্রান্তের হার প্রায় ২৯ শতাংশ। তবে সংক্রমণের দিক থেকে বিভাগের রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও পাবনায় বেশি। গেল ১ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) পর্যন্ত রাজশাহীতে ৮৪ জন হামের রোগীকে আইসিইউয়ে নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে আইসিইউয়ে নেওয়ার পরও ৯ জন ও আইসিইউর অপেক্ষায় থাকা ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

অন্যদিকে, বিভাগের সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত জেলার মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ রয়েছে। এই জেলায় গত তিন থেকে চারবছরে অনেক বাচ্চা হামের টিকা মিস করেছে। এ কারণে এবার হামের রোগী বেশি পাওয়া গেছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালের শিশু বিভাগের জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. মাহফুজ রায়হান বলেন, এটা মারাত্মক ছোঁয়াছে রোগ। আবার অনেক বাচ্চা টিকা নেয়নি। আবার ৯ মাসের নিচের বাচ্চাগুলো বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। তাদের মৃত্যুহারও যথেষ্ট বেশি এবং আক্রান্তের হারও বেশি। আমাদের সদর হাসপাতালে যে বাচ্চাগুলো ভর্তি হচ্ছে তার মধ্যে ৯৫ ভাগ বাচ্চাকে চিকিৎসা দিতে সক্ষম।

এই চিকিৎসক আরও বলেন, গত তিন থেকে চার বছরে অনেক বাচ্চা হামের টিকা মিস করার কারণে এবার হামের মহামারি দেখা গেছে। কেন মিস করেছে সেটার অনেকগুলো ব্যাখ্যা আছে। হাম আক্রান্ত হয়ে গেলে বাচ্চাগুলোকে আইসোলেশনে রাখতে হবে।

রাজশাহী সিভিল সার্জন ডা. এসআইএম রাজিউল করিম বলেন, রাজশাহী জেলায় এখন পর্যন্ত রোগটি সেভাবে বৃদ্ধি পায়নি। জেলায় ৪৫ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ১০ জন পজিটিভ পেয়েছি। তারা হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে বাড়িতে সুস্থভাবে চলে গেছে। জেলার রোগীদের মধ্যে কোনো মৃত্যু নেই। তবে জেলার তিন উপজেলায় গোদাগাড়ীতে ১৪ শিশু আক্রান্ত হয়েছে। জেলার ৯টা উপজেলার মধ্যে ৬ থেকে ৯ মাস বয়সী বাচ্চারাই বেশি আক্রান্ত হয়েছে। যারা আক্রান্ত হয়েছে তারা টিকা নেওয়ার আগেই আক্রান্ত হয়েছে।

তিনি বলেন, স্বাস্থ্যকর্মী, কমিউনিটি ক্লিনিক পর্যন্ত সবাইকে এলাট করেছি সন্দেহজনদের খুঁজে বের করে দ্রুত আইসোলেশনের মাধ্যমে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা। অনেকে টিকার সময় মিস করে পরে আর টিকা নেয় না, আবার অনেকে একটা ডোজ নিয়েছে অন্য একটা নেয়নি। এমন যারা তাদের খুঁজে বের করে টিকার আওতায় দ্রুত নিয়ে আসার জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

টিকা দানে বিলম্ব হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, হামের টিকা ৯ মাস পূর্ণ হয়ে গেলে প্রথম ডোজ আর ১৫ মাসে হলো দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হয়। আর এমনি তিন-চার বছর অন্তর অন্তর একটা ক্যাম্পেইন হয়। যেখানে আমরা আন্ডার ফাইভ বাচ্চাদেরকে টিকা দিয়ে থাকি। এটা ২০২৫ সালের অক্টোবর দিকে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু দেওয়া হয়নি। এ টিকা ২০২৬ সালের মে মাসের দিকে দেওয়া হবে আশা করছি।

টিকা না পাওয়ার কারণে কি আক্রমণ বেড়েছে এমন কথার উত্তরে তিনি বলেন, যেহেতু যারা আনভ্যাক্সিনেটেড তারাই বেশি আক্রান্ত হয়েছে। ওইটা তো টিকা না দেওয়ার কারণের মধ্যে আসছে না। যারা ভ্যাকসিন পাওয়ার বয়সে এসে পৌঁছায়নি তারাই মূলত বেশি আক্রান্ত হয়েছে, তাদের বয়স ৯ মাসের কম। রাজশাহী জেলায় বিগত এক বছর নিয়মিত হামের টিকা প্রদান করা হয়েছে।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান বলেন, বিগত বছরের তুলনায় হাম আক্রান্ত শিশু তুলনামূলক বেশি মনে হচ্ছে। আমাদের একটা ক্যাম্পেইন করার কথা ক্যাম্পেইনটা ডিলে হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সঙ্গে আমাদের রেগুলার কথা হচ্ছে। স্যাম্পলগুলা তারা আইইডিসিআর থেকে পরিচালনা করে নিয়ে আসতেছে, আমাদের নলেজ নেই। তবে দুই বছর নিচে বাচ্চারা বেশি আক্রান্ত হয়েছে। নয় মাসের টিকার পরেও কিছু হয়তো আক্রান্ত হয়েছে, আমরা দেখছি। চিকিৎসা চলছে এবং সেই সঙ্গে আমরা দেখব যদি বাকিদের ভ্যাক্সিনেশন করা যায় কিনা।

আজও বাতিল মধ্যপ্রাচ্যের ১৮ ফ্লাইট

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডান তাদের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে।

যার পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার (৩০ মার্চ) মোট ১৮টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া সব মিলিয়ে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত সর্বমোট বাতিল হওয়া ফ্লাইটের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৫৮।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) সূত্র ঢাকা পোস্টকে জানায়, যুদ্ধপরিস্থিতিতে আকাশপথ বন্ধের কারণে ঢাকা থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি ২৩টি, ১ মার্চ ৪০টি ফ্লাইট, ২ মার্চ ৪৬টি, ৩ মার্চ ৩৯টি, ৪ মার্চ ২৮টি, ৫ মার্চ ৩৬টি, ৬ মার্চ ৩৪টি, ৭ মার্চ ২৮টি, ৮ মার্চ ২৮টি, ৯ মার্চ ৩৩টি, ১০ মার্চ ৩২টি, ১১ মার্চ ২৭টি, ১২ মার্চ ২৮টি, ১৩ মার্চ ২৫টি, ১৪ মার্চ ২৪টি, ১৫ মার্চ ২৩টি, ১৬ মার্চ ২৮টি, ১৭ মার্চ ২৬টি, ১৮ মার্চ ২৬টি, ১৯ মার্চ ২৬টি ২০ মার্চ ২৮টি, ২১ মার্চ ২৫টি, ২২ মার্চ ২০টি, ২৩ মার্চ ২০টি, ২৪ মার্চ ২০টি, ২৫ মার্চ ২০টি, ২৬ মার্চ ২২টি, ২৭ মার্চ ২২টি, ২৮ মার্চ ২১টি এবং ২৯ মার্চ ২২টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।

সোমবার (৩০ মার্চ) বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে রয়েছে– কুয়েত ২টি, এয়ার অ্যারাবিয়া (শারজাহ, ইউএই) ৪টি, গালফ এয়ার (বাহরাইন) ২টি, কাতার এয়ারওয়েজ (কাতার) ৪টি, এমিরেটস এয়ারলাইনস (সংযুক্ত আরব আমিরাত) ২টি, জাজিরা এয়ারওয়েজ (কুয়েত) ৪টি ফ্লাইট।

জামায়াতের নোট অব ডিসেন্ট : ১৩৩ অধ্যাদেশের ১৫টিতেই দ্বিমত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে উত্থাপিত ১৩৩টি অধ্যাদেশ পর্যালোচনায় গঠিত বিশেষ কমিটির বৈঠকে মৌলিক বেশ কিছু বিষয়ে একমত হতে পারেনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বিশেষ করে গণভোট, মানবাধিকার কমিশন ও বিচারবিভাগ পৃথকীকরণের মতো ১৫টি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে জামায়াতের পক্ষ থেকে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বা ভিন্নমত দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন জামায়াত ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান।

রোববার (২৯ মার্চ) সংসদের বিশেষ বৈঠক শেষে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে এসব তথ্য জানান তিনি। বৈঠকে দলটির নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমানসহ অন্যান্য সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

রফিকুল ইসলাম খান বলেন, আজকে প্রায় ২২টি বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে, যার মধ্যে ১৪-১৫টি বিষয়ে আমরা একমত হতে পারিনি। আমরা নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছি। ওনারা সংখ্যাধিক্যের জোরে কিছু বিষয় পাস করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ করে মানবাধিকার কমিশন, পুলিশ কমিশন এবং গুম-খুন প্রতিরোধ কমিশনের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোকে তারা আগের মতো দলীয়করণের লাইনে নিয়ে যেতে চাচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, সুপ্রিম কোর্টের স্বাধীন সচিবালয় প্রতিষ্ঠা এবং বিচারপতি নিয়োগের বাছাই কমিটি—যেগুলো সংস্কারের মাধ্যমে আনা হয়েছিল, সেগুলো তারা রহিত করে আগের অবস্থায় ফিরে যেতে চায়। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) স্বাধীনতা খর্ব করার বিষয়েও আমরা তীব্র আপত্তি জানিয়েছি।

সংবিধানে গণভোটের বিধান রাখা না রাখা নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা প্রসঙ্গে জামায়াতের এই নেতা বলেন, গণভোটের সঙ্গে গোটা জাতি জড়িত। ওনারা এটি বাতিল করার কথা বলছেন, যা আমরা প্রত্যাখ্যান করেছি। যদি গণভোট সংবিধান বহির্ভূত হয়, তবে একই দিনে হওয়া জাতীয় সংসদ নির্বাচন কীভাবে বৈধ হয়? জনগণ ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত করেছে, সুতরাং গণভোটের রায় কার্যকর করতে হবে—এটাই আমাদের মূল দাবি।

কমিটির বৈঠকে যেসব বিষয়ে একমত হওয়া সম্ভব হয়নি, সেগুলো চূড়ান্ত আলোচনার জন্য পুনরায় সংসদ অধিবেশনে উত্থাপন করা হবে বলে জানান তিনি। রফিকুল ইসলাম খান বলেন, ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ১০-১৫টি বিষয়ে আমরা কিছু সংশোধনীসহ একমত হয়েছি। বাকি যেগুলোতে জনগণের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা আছে, সেগুলোতে আমরা ছাড় দেব না। সংসদে এসব নিয়ে ভোটাভুটি বা বিস্তারিত আলোচনা হবে।

‘সবচেয়ে দামি’ ক্রিকেটারের বোলিং সুবিধা পাচ্ছে না কলকাতা, তীব্র সমালোচনা

আইপিএলের ইতিহাসে সবচেয়ে দামি বিদেশি ক্রিকেটার হিসেবে ক্যামেরন গ্রিনকে ২৫.২০ কোটি রুপিতে দলে নিয়েছিল কলকাতা নাইট রাইডার্স। যদিও এবারের আসর শুরুর আগে থেকেই এই অস্ট্রেলিয়ান অলরাউন্ডারের বোলিং সুবিধা পাওয়া নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। কলকাতার প্রথম ম্যাচ শেষেও সেটাই আলোচনার কেন্দ্রে। মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের কাছে হারের পর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে– গ্রিন কেন বোলিং করেননি!

গতকাল (রোববার) ওয়ানখেড়ে স্টেডিয়ামে অতিথি হিসেবে খেলতে নেমে ২২০ রানের পুঁজি গড়ে কলকাতা। কিন্তু সেটাও জয়ের জন্য যথেষ্ট ছিল না। লক্ষ্য তাড়ায় ৫ বল হাতে রেখে ৬ উইকেটের বড় ব্যবধানে জিতেছে হার্দিক পান্ডিয়ার মুম্বাই। চোটের কারণে আইপিএলের আসর শুরুর আগে থেকেই ধুঁকছিল কলকাতা, মুম্বাইয়ের বিপক্ষে তারা কার্যকর পেস বোলারের সংকটটা তীব্রভাবে টের পেল। একইভাবে গ্রিনের বোলিং না করার বিষয়ও নজর কেড়েছে সবার।

মাঝে লম্বা সময় ইনজুরিতে ছিলেন গ্রিন। সে কারণে তাকে পুরোপুরি বোলিংয়ে ফেরার অনুমতি দিচ্ছে না ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ)। সতর্কতাস্বরূপ সর্বশেষ অ্যাশেজেও তাকে খুব কম সময়ই বল হাতে দেখা গিয়েছিল। বিশ্বকাপেও করেছেন হাতেগোনা কয়েক ওভার। এবারের আইপিএলেও অস্ট্রেলিয়া তাদের এই তারকা ক্রিকেটারকে বোলিং করতে দেবে না বলে গুঞ্জন ছিল। চলমান বিতর্কের মাঝে এই বিষয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া, ‘ক্যামেরনের পিঠে ইনজুরি ছিল, যা ইতোমধ্যে কাটিয়ে উঠেছে, তবুও সাময়িক সময়ের জন্য বোলিং থেকে দূরে থাকতে হচ্ছে তাকে।’

সিএ’র এক মুখপাত্র বলেন, ‘ভারতে বোলিং লোড নেওয়ার উপযোগী হয়ে উঠছেন ক্যামেরন, পুরোদমে বল হাতে ফিরতে তার প্রায় ১০-১২ দিন লাগবে। এই বিষয়ে কলকাতাও আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছে এবং এই তথ্য তারা জানে।’ মুম্বাইয়ের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে এ বিষয়ে কথা বলেছেন কলকাতার ব্যাটার অজিঙ্কা রাহানেও, ‘আমি মনে করি শিগগিরই গ্রিন বোলিং শুরু করলে আমাদের কম্বিনেশন কিছুটা ভিন্ন হবে। এই মুহূর্তে আমাদের ভারসাম্য কেমন তা দেখতে হবে– কারা বল করতে পারবে। ব্যাটিংয়ে আমরা ভালো করেছি, কিন্তু বোলিংয়েও সেই ভারসাম্য পাওয়াটা গুরুত্বপূর্ণ। আশা করি গ্রিন দ্রুত বোলিং শুরু করবে এবং আমরা দেখব কম্বিনেশন ঠিক হয় কি না।’

রাহানের এমন আশাবাদী মন্তব্যের পরও গ্রিনের বোলিং নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘এই প্রশ্ন আপনারা ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়াকে করুন।’ অন্যদিকে, ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার গ্রিনের ব্যাপারে অবস্থান নিয়ে সমালোচনা করেছেন সাবেক ভারতীয় ব্যাটার আম্বাতি রাইডু। ইএসপিএন ক্রিকইনফোর আলোচনায় তিনি বলেন, ‘তিনি কি কভার ড্রাইভ খেলতে পারেন নাকি না? সম্ভবত তার ইনজুরি শুধু কনুইয়ে। হয়তো তিনি শুধু বল ফ্লিক করতে পারেন। এটি খুবই অযৌক্তিক। যখন কেউ টুর্নামেন্ট খেলতে আসে, তখন যদি বলা হয় “তুমি এটা করতে পারবে, এটা করতে পারবে না”, এটা নির্বোধ কথা। পেশাদার জায়গায় এমনটা চলতে পারে না। আমার মতে এটি ক্রিকেটারের ওপর ছেড়ে দেওয়া উচিত।’

‘যদি তিনি পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন, তিনি যা করতে সক্ষম তা করতে দেওয়া উচিত। ওই ক্রিকেটারই সেরা বিচারক (সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী)। আমার মা সবসময়ই চান আমি যাতে হেলমেট পরি, কিন্তু আমি কখনও এটা পছন্দ করি না। তার মানে এই না যে আমার মা চুক্তি স্বাক্ষর করে তারপর আমাকে বাইরে পাঠাচ্ছেন এবং বলছেন– “সে খেলতে পারবে না, আমার সন্তান চোট পেতে পারে”, আরও যোগ করেন রাইডু।

তার কথার সূত্র ধরে আরেক সাবেক ভারতীয় স্পিনার পিযূশ চাওলা প্রশ্ন তুললেন– ‘আচ্ছা তার (গ্রিন) বোর্ড বলল যে তিনি কিছু ম্যাচে বল করতে পারবেন না। আমি জানতে চাই– কোনও অলরাউন্ডার বিগ ব্যাশে গিয়ে যদি বলে তিনি বল কিংবা ব্যাট করতে পারবেন না, তাহলে কি তারা ওই খেলোয়াড়কে একাদশে রাখবে? আমার মনে হয় না। তাহলে এখানে কেন সেই বিষয়ের প্রয়োগ হলো। খুবই সহজ কথা।’

ইরানের জ্বালানি তেল ও খারগ দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ চাই : ট্রাম্প

ইরানের জ্বালানি তেল ও খারগ দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্প্রতি ফিনান্সিয়াল টাইমস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন।

সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প সরাসরি বলেন, ইরানের জ্বালানি তেলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়াই তার অন্যতম পছন্দের পরিকল্পনা। একই সঙ্গে তিনি ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র খারগ দ্বীপ-এর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, “হয়তো আমরা খারগ দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নেব, আবার হয়তো নেব না-আমাদের হাতে অনেক বিকল্প আছে।”

খারগ দ্বীপকে ইরানের তেল রপ্তানির প্রধান কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই দ্বীপের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা মানে কার্যত ইরানের জ্বালানি অর্থনীতির ওপর সরাসরি প্রভাব বিস্তার করা। ফলে ট্রাম্পের এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ট্রাম্প আরও দাবি করেন, খারগ দ্বীপে ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল। তার ভাষায়, “আমার মনে হয় না তাদের উল্লেখযোগ্য কোনো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আছে। আমরা খুব সহজেই এটি নিয়ন্ত্রণে নিতে পারি।”

সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলা-এর উদাহরণও টানেন। তিনি বলেন, ভেনেজুয়েলার জ্বালানি সম্পদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নীতির সঙ্গে ইরানের বিষয়টির মিল রয়েছে। গত জানুয়ারিতে দেশটির রাজধানী কারাকাস-এ মার্কিন সামরিক অভিযানের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

এরপর থেকে ভেনেজুয়েলার জ্বালানি খাত একটি অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে এবং ওয়াশিংটন সেখানেও প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে বলে জানান ট্রাম্প।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের তেল ও কৌশলগত স্থাপনার ওপর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার এমন প্রকাশ্য বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাতের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। বিশেষ করে ইরান ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সঙ্গে উত্তেজনাপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের মন্তব্য ভবিষ্যৎ ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

সূত্র : আল জাজিরা

হামে ১০০ শিশুর মৃত্যু, দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

সম্প্রতি হামে আক্রান্ত হয়ে ১০০ শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় দুই মন্ত্রীকে সারাদেশ ঘুরে পরিস্থিতি পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

রবিবার (২৯ মার্চ) দুপুরে সংসদ ভবনে সংসদীয় কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি।

চিফ হুইপ বলেন, ‘সংসদীয় কমিটির বৈঠকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ব্রিফ করেছে। সেখানে হামে আক্রান্ত হয়ে ১০০ শিশুর মৃত্যুর বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে। তিনি দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন। দুজন মন্ত্রীকে দায়িত্ব দিয়েছেন সারা দেশ ঘুরে পর্যালোচনা করে পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে ব্যবস্থা নিতে।’

সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হামে আক্রান্ত হয়ে শিশুমৃত্যুর খবর আসছে। এর মধ্যে শুধু রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেই (রামেক) হাম ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে গত তিন মাসে ৬৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।সংবাদ বিশ্লেষণ প্রোগ্রাম

সংসদীয় কমিটির বৈঠকে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান চিফ হুইপ। তিনি জানান, সংবিধান সংশোধন সাপেক্ষে জুলাই সনদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

নূরুল ইসলাম মনি বলেন, ‘জুলাই সনদ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সংবিধান সংশোধন করে যা করার, তা-ই করা হবে। সংসদে আলোচনা করে জুলাই সনদ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী তেলের পর্যাপ্ত মজুত থাকা বিষয়ে ৩০০ বিধিতে সংসদ অধিবেশনে বক্তব্য দেবেন বলে জানান তিনি। এ ছাড়া সংসদীয় কমিটির সভায় জ্বালানি তেল নিয়ে কৃত্রিম সংকট নিরসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

চিফ হুইপ বলেন, ‘তেলের কোনো সংকট নেই। পর্যাপ্ত তেল থাকার পরও তেল সংগ্রহে যে সংকট চলছে, তা নিরসনের জন্য প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন।’

সংসদে বিল আকারে উঠছে না গণভোট: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সদ্য সমাপ্ত গণভোট যে অধ্যাদেশের অধীনে অনুষ্ঠিত হয়েছে, সেটির কার্যকারিতা শেষ হয়ে যাওয়ায় তা বিল আকারে সংসদে পাস করার কোনো প্রয়োজনীয়তা নেই বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ।

রবিবার (২৯ মার্চ) রাতে জাতীয় সংসদ ভবনে বিশেষ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা জানান।

গণভোট অধ্যাদেশ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গণভোট অধ্যাদেশের ব্যবহার হয়ে গেছে। যে কারণে এটি করা হয়েছিলো, সেই গণভোট অনুষ্ঠিত হয়ে গেছে। এটার অধীনে সামনে আর কোনো গণভোট অনুষ্ঠিত হবে না। তাই এটাকে আবার অনুমোদন করে বিল আকারে নিয়ে এসে আইন বানানোর কোনো অর্থ নেই।

তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন, সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী অধ্যাদেশগুলো সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে। সংসদ অধিবেশন বসার ৩০ দিনের মধ্যে অধ্যাদেশগুলোর ভাগ্য নির্ধারণ করতে হয়। কিন্তু এই অধ্যাদেশের কাজ তো শেষ। এটি কোনো সংবিধানের অংশ ছিলো না। আইন প্রণয়ন হয়েছিলো একটি গণভোট অনুষ্ঠানের জন্য, সেই অধ্যাদেশ ব্যবহারও শেষ হয়েছে।

বিশেষ কমিটির বৈঠক সম্পর্কে সালাউদ্দিন আহমেদ জানান, মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। আমরা ১৩৩টি অধ্যাদেশের প্রত্যেকটি নিয়ে আলোচনা করেছি। অনেকগুলো অধ্যাদেশ যেভাবে আছে সেভাবেই পাস করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। কিছু কিছু অধ্যাদেশ সংশোধিত আকারে বিল হিসেবে আনা হবে। তবে হাতে সময় কম থাকায় (আগামী ১০ তারিখের মধ্যে) সবগুলোর বিল আনা সম্ভব হবে না। যেগুলো বাকি থাকবে, সেগুলো পরবর্তী সেশনে বিল আকারে নিয়ে আসা হবে।

কমিটির বৈঠকে বিরোধী দলীয় সদস্যদের মতপার্থক্য প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বিশেষ কমিটিতে বিরোধী দলের কয়েকজন সদস্য এবং সরকারি দলেরও কয়েকজন সদস্য কিছু কিছু অধ্যাদেশের বিষয়ে ‘নোট অফ ডিসেন্ট’ (ভিন্নমত) দিয়েছেন। রিপোর্টে তাদের বক্তব্য যথাযথভাবে প্রতিফলিত হবে। তবে বিল যখন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা উত্থাপন করবেন, তখন ফার্স্ট, সেকেন্ড ও থার্ড রিডিংয়ের সময় সবাই যার যার বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পাবেন।

নির্ধারিত ৩০ দিনের সময়সীমা পার হলে অধ্যাদেশগুলোর কী হবে—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ৩০ দিনের ভেতরে যে সমস্ত বিল বা অধ্যাদেশ আনা সম্ভব হবে না, সেগুলো অটোমেটিক ল্যাপস (বাতিল) হয়ে যাবে। তাতে অসুবিধার কিছু নেই। আমরা পরবর্তী সেশনে সেগুলো আবার বিল আকারে নিয়ে আসবো। যেমন সীমানা নির্ধারণ বা আরপিও—এগুলোর ভবিষ্যৎ ইফেক্ট আছে, তাই এগুলোকে আইনে পরিণত করতে হবে।

মানবাধিকার কমিশন বা পুলিশ অধ্যাদেশ প্রসঙ্গে তিনি জানান, এগুলো আইন মন্ত্রণালয়ের বিষয় হওয়ায় এ নিয়ে আইনমন্ত্রী বিস্তারিত কথা বলবেন। আগামী ২ এপ্রিল বিশেষ কমিটির রিপোর্ট সংসদে উত্থাপন করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

অন্তর্বর্তী সরকারের ১৩৩ অধ্যাদেশ নিয়ে রাতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হতে পারে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের বিষয়ে রাতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হতে পারে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

রবিবার (২৯ মার্চ) দুপুরে সরকারি দলের সংসদীয় সভা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই সংক্রান্ত সংসদীয় বিশেষ কমিটির বৈঠক আজ রাতে অনুষ্ঠিত হবে। ১৩৩টি অধ্যাদেশের বিষয়ে রাতেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হতে পারে।

এদিকে সংসদীয় বিশেষ কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীন জানিয়েছেন, ২৪টি অধ্যাদেশের বিষয়ে এখনো ঐকমত্য হয়নি, সেগুলো নিয়ে আজ বিশেষ কমিটিতে আলোচনা করা হবে।

ফ্যাসিস্ট আমলে উন্নয়নের নামে চরম দুর্নীতি হয়েছে : স্থানীয় সরকারমন্ত্রী

বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে উন্নয়নের নামে চরম দুর্নীতি করা হয়েছে বলে জাতীয় সংসদে বলেছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রবিবার (২৯ মার্চ) প্রশ্নোত্তর পর্বে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য আখতার হোসেনের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, ‘বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে উন্নয়নের নামে যে চরম দুর্নীতি করা হয়েছে, তা আমরা উপলব্ধি করছি। বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্বশীলরাও নিজ নিজ এলাকায় ফান্ড নিয়ে চলে গেছেন।
যে কারণে উত্তরাঞ্চলের রাস্তাগুলো একেবারেই অবহেলিত থেকে গেছে। আমরা আগামীতে এ ধরনের কোনো দুর্নীতিকে প্রশ্রয় না দিয়ে গ্রামাঞ্চলের রাস্তাঘাটসহ যোগাযোগব্যবস্থাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে কাজ করব।’

বাগেরহাট-৪ আসনের আব্দুল আলীমের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার ও অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সীমাহীন দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অনিয়মের কারণে গ্রামাঞ্চলের সড়কের খুব বেশি উন্নতি হয়নি। রাস্তাগুলো এখনো কাঁচা রয়েছে।
এই রাস্তাগুলো পাকা করার জন্য আমরা উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। আমরা কাঁচা রাস্তাগুলো পর্যায়ক্রমে পাকা করব।’

ফেনী-২ আসনের জয়নাল আবদিনের প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল জানান, ২০০৮ সাল থেকে ঢাকা মহানগরের ১২১টি রাস্তার নতুন নামকরণ হয়েছে। এর মধ্যে উত্তর সিটি করপোরেশনের ৮৩টি ও দক্ষিণ সিটি করপোরশেনের ৩৮টি।
বিশিষ্ট বীর মুক্তিযোদ্ধা, ভাষাসৈনিক, বিশিষ্ট সাংবাদিক ও চব্বিশের জুলাই আন্দোলনের শহীদদের নামে সড়ক, ভবন ও স্থাপনার নামকরণ হয়েছে।