মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬

ট্রাম্পের দখল হুমকির মধ্যেই কিউবার পাশে দাঁড়ালো রাশিয়া

রাশিয়া মনে করে যে কিউবার জীবন রক্ষাকারী ব্যবস্থা সচল রাখতে দেশটিকে জরুরি জ্বালানি সম্পদ সরবরাহ করা মস্কোর নৈতিক দায়িত্ব, কারণ চরম সংকটের মুখে তারা তাদের মিত্রকে একা ফেলে যেতে পারে না।

সোমবার (৩০ মার্চ) মস্কোতে এক সংবাদ সম্মেলনে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ এই মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, বর্তমানে কঠোর অবরোধের মধ্যে থাকা আমাদের কিউবান বন্ধুদের পেট্রোলিয়াম পণ্য এবং তেলের খুব প্রয়োজন। দেশটির বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা সচল রাখতে এবং সাধারণ মানুষকে চিকিৎসা ও অন্যান্য জরুরি সেবা প্রদান নিশ্চিত করতে এই জ্বালানি অপরিহার্য। মস্কো থেকে পাওয়া এই বার্তায় স্পষ্ট করা হয়েছে যে, মিত্রদের প্রতি রাশিয়ার এই সমর্থন কেবল রাজনৈতিক নয় বরং মানবিক দায়বদ্ধতার অংশ।

মার্কিন কোস্ট গার্ড কেন রাশিয়ার তেলবাহী ট্যাঙ্কারটিকে কিউবার পথে যেতে বাধা দেয়নি—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে পেসকভ জানান, কিউবায় মানবিক কারণে তেল সরবরাহের বিষয়টি নিয়ে মস্কো আগে থেকেই ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা করেছিল।

তিনি বলেন, ‘আমরা অত্যন্ত আনন্দিত যে পেট্রোলিয়াম পণ্যের এই চালানটি সফলভাবে দ্বীপে পৌঁছেছে।’ অর্থাৎ, একটি পূর্ব-নির্ধারিত সমঝোতার ভিত্তিতেই এই জাহাজটি গন্তব্যে পৌঁছাতে পেরেছে। এই ঘটনাটি নির্দেশ করে যে, বৈশ্বিক উত্তেজনার মাঝেও নির্দিষ্ট কিছু মানবিক ইস্যুতে বৃহৎ শক্তিগুলোর মধ্যে পর্দার আড়ালে আলোচনা চলমান রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার স্টাব-এর একটি বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় পেসকভ জানান, রাশিয়ায় নতুন করে কোনো সামরিক সংহতি বা মোবিলাইজেশন ডাকার পরিকল্পনা নেই। তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে, এই বিষয়টি বর্তমানে ক্রেমলিনের আলোচ্যসূচিতেই নেই।

এছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে জ্বালানি সম্পদ বিক্রির সম্ভাবনা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, রাশিয়া এখনো ইউরোপীয় বাজারসহ বিশ্বের যেকোনো বাজারে জ্বালানি সম্পদের নির্ভরযোগ্য সরবরাহকারী হিসেবে কাজ করতে প্রস্তুত। পেসকভ পুনরায় নিশ্চিত করেন, রাশিয়া তার প্রতিশ্রুতি রক্ষায় সর্বদা সচেষ্ট এবং যেকোনো পরিস্থিতিতে তারা তাদের সরবরাহ চেইন বজায় রাখতে চায়।

ক্রেমলিনের এই মুখপাত্র আরও নিশ্চিত করেছেন, রাশিয়ার সঙ্গে সার্বিয়ার গ্যাস সরবরাহ চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। সোমবার সকালেই সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার ভুচিক ঘোষণা করেছিলেন, ৩১ মার্চ শেষ হতে যাওয়া এই চুক্তির মেয়াদ আরও তিন মাসের জন্য বাড়ানো হয়েছে।

পেসকভ এই প্রসঙ্গে বলেন, রাশিয়া তার বন্ধুপ্রতিম এবং ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ সার্বিয়ার প্রতি করা প্রতিশ্রুতি রক্ষায় বিশেষভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সার্বিকভাবে রাশিয়ার এই কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক পদক্ষেপগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে, পশ্চিমা দেশগুলোর নানা নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও মস্কো তার মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্ক এবং জ্বালানি কূটনীতি অব্যাহত রাখতে সক্ষম হচ্ছে।

উল্লেখ্য, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন ইরান ও ভেনিজুয়েলায় সাম্প্রতিক সামরিক পদক্ষেপের পর এবার কিউবা হতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী লক্ষ্য।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

খুলনায় আতঙ্ক ছড়াচ্ছে হাম, ১০ জেলায় হাসপাতালে ভর্তি ৭৯ শিশু

খুলনায় হঠাৎ হাম আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। প্রতিদিনই গায়ে ব্যথা, তীব্র জ্বর, সর্দি ও লালচে ফুসকুড়ি নিয়ে রোগীরা হাসপাতালের বহির্বিভাগে আসছেন। এদিকে পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছায়নি বলে জানান চিকিৎসকরা।

হাসপাতালগুলোর তথ্য বলছে, বিভাগের ১০ জেলায় অন্তত ৭৯ জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে অন্তত ২৬ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য নতুন করে সতর্ক সংকেত দিচ্ছে।

এছাড়া খুলনা বিভাগের সর্বোচ্চ রোগী শনাক্ত হয়েছে কুষ্টিয়ায়।কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও সদর হাসপাতাল মিলিয়ে ৬৩ জন শিশু বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছে, যাদের বড় অংশই হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি। এছাড়া যশোরে ৬ জন, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৪ জন এবং ঝিনাইদহ, সাতক্ষীরা ও মাগুরায় ২ জন করে শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। অন্যান্য জেলাতেও হাম ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

চিকিৎসকরা বলছেন, আক্রান্তদের মধ্যে অধিকাংশই অল্পবয়সি শিশু। বিশেষ করে এক বছরের কম বয়সি এবং ৬ থেকে ৯ মাস বয়সি শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ বেশি দেখা যাচ্ছে। যেসব শিশু এখনো পূর্ণ টিকাদান পায়নি বা যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তারাই বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।

আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে জ্বর, সর্দি-কাশি, চোখ লাল হয়ে যাওয়া এবং পরে শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দিচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও শ্বাসকষ্টের মতো জটিলতাও তৈরি হচ্ছে। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি তিন শিশুর অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। তাদের বয়স ৫ থেকে ৮ মাসের মধ্যে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হওয়ায় তাদের জটিলতা বেড়েছে।

শিশু বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. সৈয়দা রুখশানা পারভীন বলেন, ‘হাম অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ এবং নির্দিষ্ট কোনো অ্যান্টিভাইরাল চিকিৎসা না থাকায় সাপোর্টিভ চিকিৎসার ওপরই নির্ভর করতে হচ্ছে।’

এদিকে রোগীর সংখ্যা বাড়লেও হাসপাতালগুলোতে অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে। আইসোলেশন ইউনিট চালু থাকলেও শয্যা ও প্রয়োজনীয় সুবিধা সীমিত। পুরনো অবকাঠামোর কারণে খুলনা সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালেও চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। জটিল রোগীদের জন্য এনআইসিইউ সুবিধা সীমিত থাকাও বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই বিষয়ে খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক মুজিবুর রহমান বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে হঠাৎ করেই দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মতো খুলনা বিভাগেরও কোনো কোনো জেলায় হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। এটি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য বিভাগ সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে। বিশেষ করে সবগুলো জেলা হাসপাতালে আলাদা আইসোলেশন ওয়ার্ড খোলার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এরই মধ্যে অধিকাংশ হাসপাতালে সে নির্দেশনা অনুযায়ী কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এছাড়া আমাদের চিকিৎসক, নার্সসহ চিকিৎসার সাথে জড়িত অন্যদেরও বিশেষ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।’

এই মুহূর্তে আমাদের সবচেয়ে বেশি প্রতিবন্ধকতা হচ্ছে এনআইসিইউ সংকট জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ অন্যান্য স্থানে এখনও এনআইসিইউ নেই। আমরা চেষ্টা করছি অন্তত বড় জেলাগুলোতে এনআইসিইউ সাপোর্ট দিতে, যাতে রোগীর জটিলতা বাড়লে এনআইসিইউতে চিকিৎসা করানো যায়।’

এই ব্যাপারে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামের বিস্তার ঠেকাতে নিয়মিত টিকাদান নিশ্চিত করা ছাড়া বিকল্প নেই।

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সৈয়দা রুখশানা পারভীন বলেন, ‘দ্রুত হামের ভ্যাক্সিনেশনের প্রোগ্রাম শুরু করতে হবে। পাশাপাশি শিশুদের মধ্যে জ্বর বা ফুসকুড়ির মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে এবং আক্রান্তদের আলাদা রাখতে হবে।’

উপবন এক্সপ্রেসে আগুন, সিলেটের সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ

মৌলভীবাজারে চলন্ত উপবন এক্সপ্রেস ট্রেনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সিলেটের সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সকাল ৬টার দিকে কমলগঞ্জ উপজেলার শমসেরনগর এলাকার পূর্ব কালিপুর গ্রামে, ভানুগাছ ও শমশেরনগর রেলস্টেশনের মাঝামাঝি স্থানে এ ঘটনা ঘটে।

কুলাউড়া স্টেশন মাস্টার রোমান আহমেদ জানান, সিলেট থেকে একটি বিকল্প ইঞ্জিন পাঠানো হয়েছে, যা এসে ক্ষতিগ্রস্ত ট্রেনটি উদ্ধার করবে।

প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ঢাকা থেকে সিলেটগামী উপবন এক্সপ্রেস চলন্ত অবস্থায় ইঞ্জিন থেকে মবিল পড়ে আগুনের সূত্রপাত হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই ইঞ্জিনে আগুন ছড়িয়ে পড়লে ট্রেনটি থামিয়ে দেওয়া হয়। এতে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হলেও বড় ধরনের কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

এই ঘটনার কারণে সিলেটমুখী কয়েকশ যাত্রী চরম দুর্ভোগে পড়েন এবং সিলেটের সঙ্গে সারাদেশের ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।

স্টেশন মাস্টার আরও জানান, বিকল্প ইঞ্জিন এসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করবে এবং এখন পর্যন্ত বড় ধরনের সময়সূচি বিপর্যয়ের খবর পাওয়া যায়নি।

ইরানে হামলায় জড়িত সকল মার্কিন বিমানের জন্য আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছে স্পেন

ইরানে হামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মার্কিন বিমানগুলোর জন্য তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছে স্পেন। সোমবার দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্গারিতা রোব্লেস এ তথ্য জানিয়েছেন।

স্প্যানিশ সংবাদপত্র ‘এল পাইস’ সোমবার সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে প্রথম এই খবরটি প্রকাশ করে।

মাদ্রিদে সাংবাদিকদের মার্গারিতা রোব্লেস বলেন, ‘ইরান যুদ্ধসংক্রান্ত কোনো অভিযানের জন্য স্পেন তার সামরিক ঘাঁটি বা আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দিচ্ছে না।’

স্প্যানিশ সংবাদপত্র আরো জানায়, আকাশসীমা বন্ধের ফলে সামরিক বিমানগুলোকে মধ্যপ্রাচ্যে তাদের লক্ষ্যে যাওয়ার পথে স্পেন এড়িয়ে যেতে হচ্ছে, তবে এটি জরুরি পরিস্থিতির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।

স্পেনের অর্থনীতি মন্ত্রী কার্লোস কুয়ের্পো বলেছেন, ‘একতরফাভাবে এবং আন্তর্জাতিক আইনের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া যুদ্ধে অংশগ্রহণ বা অবদান না রাখার স্পেন সরকারের সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে আকাশসীমা বন্ধ করা হয়েছে।’ রেডিও কাদেনা সেরকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।

স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার তীব্র বিরোধী। তিনি এই হামলাগুলোকে বেপরোয়া ও অবৈধ বলে আখ্যা দিয়েছেন। সূত্র: রয়টার্স

শিশুর হাম নিয়ে অভিভাবকদের যে বার্তা দিলেন আহমাদুল্লাহ

শিশুর হাম নিয়ে অভিভাবকদের জরুরি সতর্কবার্তা দিয়েছেন আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ার‌ম্যান ও ইসলামি ব্যক্তিত্ব শায়খ আহমাদুল্লাহ। তিনি বলেছেন, আপনার সন্তানের মাঝে হামের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন। বিচলিত না হয়ে দোয়া ও আশ্রয়ের মাধ্যমে ধৈর্য ধারণ করুন।

সোমবার (৩০ মার্চ) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক স্ট্যাটাসে এ বার্তা দেন তিনি।

শায়খ আহমাদুল্লাহর ফেসবুক স্ট্যাটাস হুবহু তুলে ধরা হলো :

‘NICU-এর অপেক্ষায় থাকতে থাকতে হাম আক্রান্ত শিশুদের মৃত্যুর মিছিল এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসার সংকট আমাদের স্বাস্থ্যখাতের এক করুণ চিত্র ফুটিয়ে তুলছে।

সরকারি হাসপাতালগুলোতে এনআইসিইউ সাপোর্ট বা শিশুদের ক্রিটিক্যাল ট্রিটমেন্ট সুবিধা একেবারেই অপ্রতুল। সামান্য অসুস্থতায় রোগীদের ঢাকায় ছুটে আসতে হয়, যা এক দুঃখজনক বাস্তবতা।

আবার খুব অল্পতেই আমাদের সন্তানরা নানা ধরনের ভাইরাসজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।
তারা একদিকে কৃত্রিম ও অপ্রাকৃতিক জীবনধারায় বড় হচ্ছে, দিনদিন উন্নতির নামে প্রকৃতি ও মাটির সাথে অনেকটাই সম্পর্কহীন হয়ে যাচ্ছে, ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাচ্ছে। অপরদিকে পশ্চিমা সংস্কৃতির থাবায় মা-বাবার যথাযথ যত্ন থেকে তারা অনেকাংশে বঞ্চিত হচ্ছে।

অনেক শিশু কাজের লোকের হাতে কিংবা ডে-কেয়ারে বড় হচ্ছে। ফলে শারীরিক ও মানসিকভাবে তারা দুর্বল হয়ে বেড়ে উঠছে।

সেই সাথে বিজাতীয় অপসংস্কৃতির প্রভাব ও উদাসীনতার কারণে স্পিরিচুয়াল দিক থেকেও আমাদের পরিবারগুলো দুর্বল এবং অনিরাপদ হয়ে পড়ছে। দিনদিন আমল, দোয়া, তাওয়াক্কুল সব কিছু আমাদের থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। ক্ষতিকর সব কিছুকে আমরা আপন করে নিয়েছি। আমাদের উচিত নিজেদের সার্বিক নিরাপত্তার জন্য সচেষ্ট হওয়া।

হামের চলমান যে সংকট তৈরি হয়েছে, এর জন্য অন্যান্য ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি অভিভাবকদের বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন জরুরি।
আগে থেকেই পুষ্টিকর খাবার ও প্রকৃতির স্পর্শে বেড়ে ওঠার ব্যবস্থাসহ প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে। আপনার সন্তানের মাঝে হামের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন, বিচলিত না হয়ে দোয়া ও আশ্রয়ের মাধ্যমে ধৈর্য ধারণ করুন।

মহান আল্লাহ আমাদের সন্তানদের সকল প্রকার ব্যাধি থেকে হেফাজত করুন। আমীন।’

নবনিযুক্ত জেলা পরিষদ প্রশাসকদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক

নবনিযুক্ত ৪২টি জেলা পরিষদের প্রশাসকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (৩০ মার্চ) রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

এর আগে রাত সাড়ে ৯টায় কার্যালয়ে আসেন প্রধানমন্ত্রী। গত ১৫ মার্চ সরকার ৪২টি জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ দেয়।
নিয়োগের পর এটিই প্রশাসকদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম আনুষ্ঠানিক সাক্ষাৎ।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী জেলা পরিষদের প্রশাসকদের মাঠ পর্যায়ে কার্যকরভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেন। বিশেষ করে স্থানীয় সরকার কাঠামো শক্তিশালী করা, তৃণমূল পর্যায়ে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ত্বরান্বিত করা এবং জনসেবা নিশ্চিতের বিষয়ে নবনিযুক্ত প্রশাসকদের নির্দেশ দেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লি উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

প্রধানমন্ত্রীর বার্তা পৌঁছে দিলেন বিশেষ দূত

প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির কাতারের আমিরের কাছে সংহতির বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন এবং দোহায় দেশটির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার নিয়ে বৈঠক করেছেন।

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত হিসেবে দোহা সফররত উপদেষ্টা কাতারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সুলতান বিন সাদ আল মুরাইখির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির কাছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পাঠানো চিঠি হস্তান্তর করেন।

চিঠিতে বর্তমান আঞ্চলিক পরিস্থিতিতে কাতারের নেতৃত্ব ও জনগণের প্রতি বাংলাদেশের সংহতি প্রকাশ করা হয়। একই সঙ্গে প্রায় ৪ লাখ ৫০ হাজার প্রবাসী বাংলাদেশিকে আশ্রয় দিয়ে তাদের নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করায় কাতারের ভূমিকাকে প্রশংসা করা হয়।

এতে প্রয়োজন হলে বাংলাদেশ যেকোনো সহায়তা দিতে প্রস্তুত বলেও উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া ২০২৫ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সের ব্যবস্থা করতে কাতারের আমিরের সহায়তার বিষয়টি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করা হয়।

বৈঠকে উভয় পক্ষ দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরো জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা করেন এবং শান্তি, সংলাপ ও মানবিক কূটনীতি প্রসারে কাতারের ভূমিকার প্রশংসা করেন।

এসময় উপদেষ্টা কাতারের শ্রমমন্ত্রী ড. আলি বিন সাঈদ বিন সামিখ আল মাররির সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন।
সাম্প্রতিক পারিবারিক শোকের ঘটনায় সমবেদনা জানিয়ে তাকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।

পরে তিনি দোহাস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস পরিদর্শন করে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কল্যাণসংক্রান্ত বিষয়গুলো পর্যালোচনা করেন। সফরের অংশ হিসেবে তিনি উপসাগরীয় অঞ্চলের আরো কয়েকটি দেশ সফর করবেন বলে জানা গেছে।

ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক আফজাল নাছের গ্রেপ্তার

এক-এগারো সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে পরিচিত ডিজিএফআই-এর সাবেক মহাপরিচালক মো. আফজাল নাছেরকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।

সোমবার (৩০ মার্চ) ভোরে রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএস-এর ১২ নম্বর সড়কের ৮৬৪ নম্বর বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ডিবির যুগ্ম কমিশনার নাসিরুল ইসলাম গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে কোন মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।

এর আগে এক-এগারো সরকারের দুই কুশীলব বিতর্কিত সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ও লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদকে গ্রেপ্তার করে ডিবি। তারা এখন রিমান্ডে রয়েছেন।

ক্রীড়া কার্ডের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রথমবারের মতো সরকারি পর্যায়ে জাতীয় ক্রীড়াবিদদের বেতনের আওতায় আনা হচ্ছে। সোমবার (৩০ মার্চ) সকালে তেজগাঁও নিজ কার্যালয়ে কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বেতন কাঠামোর আওতায় জাতীয় ক্রীড়াবিদদের ক্রীড়া ভাতা প্রদান কার্যক্রমের এবারের প্রতিপাদ্য বিষয়– “ক্রীড়া হলে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা”।

প্রথম পর্যায়ে ১২৯ জন ক্রীড়াবিদকে ক্রীড়া কার্ড দেওয়া হচ্ছে। বেতনের পাশাপাশি সরকারের পক্ষ থেকে তাদের সম্মাননাও দেওয়া হবে। সরকারের লক্ষ্য পর্যায়ক্রমে ৫০০ জন ক্রীড়াবিদকে এই বেতন কাঠামোর আওতায় আনা।

যেসব ক্রীড়াবিদ বেতনের আওতায় আসবেন, তাদের প্রতি চার মাস পরপর পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করা হবে। পারফরম্যান্স বজায় রাখতে পারলে তারা এই সুবিধা অব্যাহত রাখতে পারবেন, আর পারফরম্যান্সে ঘাটতি দেখা দিলে তালিকা থেকে বাদ পড়বেন।

সবার জন্য সমান বেতন নির্ধারণ করা হলেও এর পরিমাণ এখনো ঘোষণা করা হয়নি। এ ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়েছে।

এক মাসে রেকর্ড ৫৯ শতাংশ বেড়েছে অপরিশোধিত তেলের দাম

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ এবং তার জেরে হরমুজ প্রণালিতে তেহরান অবরোধ জারি করায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেল, বিশেষ করে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম এক মাসে রেকর্ড ৫৯ শতাংশ বেড়েছে। বাজার বিশ্লেষকরা এই দামবৃদ্ধিকে ‘রেকর্ড’ বলে উল্লেখ করেছে।

ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে তারা বলেছেন, ১৯৯০ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধের পর এই প্রথম এত অল্প সময়ের ব্যবধানে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম এই পরিমাণ বেড়েছে।

তারা আরও বলেছেন, তেলের ঘাটতির কারণে দামের এই উল্লম্ফন ঘটেনি; বরং এর জন্য দায়ী বাজারে মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা তেলের সরবরাহ অনিয়মিত হয়ে পড়া।

আরব সাগর এবং পারস্য উপসাগরকে যুক্ত করা হরমুজ প্রণালী আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ রুট। প্রতিদিন বিশ্বে যত তেল ও তরল গ্যাসবাহী জাহাজ চলাচল করে, সেসবের ২০ শতাংশই এই রুট ব্যবহার করে।

হরমুজ প্রণালীকে ‘জ্বালানির বৈশ্বিক দরজা’-ও বলা হয়, কারণ সৌদি, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইরাকসহ মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো এই পথ ব্যবহার করেই তাদের তেল রপ্তানি করে। হরমুজ না থাকলে মধ্যপ্রাচ্যের তেল অতি সহজে পশ্চিমা বিশ্বে সরবরাহ করা যেতো না।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ জারি করে ইরান। দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর পক্ষ থেকে বলা হয়, যুদ্ধ যতদিন চলবে— ততদিন এ প্রণালি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং তাদের যেসব মিত্র এই যুদ্ধে মার্কিন-ইসরায়েলি বাহিনীকে সহায়তা করছে— তাদের জাহাজ চলাচল করতে পারবে না।

আইআরজিসির এ পদক্ষেপে বিপদে পড়ে মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের তেলসমৃদ্ধ ৬ দেশ—সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন এবং ওমান। কারণ ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে এসব দেশে স্থাপিত সেনাঘাঁটিগুলো ব্যবহার করছে যুক্তরাষ্ট্র।

ফলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে এসব দেশের তেলবাহী জাহাজগুলো চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজারের নিয়মিত সরবরাহ ব্যাপকভাবে বিঘ্নিত হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের মোট সরবরাহের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ আসে এই দেশগুলো থেকে। এসব দেশের তেল স্থাপনাগুলোতে গত এক মাসে একাধিকবার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা করেছে ইরান।

জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক বাজারে বড় সরবরাহ আসে সৌদি আরব থেকে। আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষক সংস্থা কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে কোনো সৌদি তেলবাহী জাহাজ চলাচল করছে না। অপরিশোধিত তেল রপ্তানির জন্য হরমুজ প্রণালির পরিবর্তে নিজেদের ইয়ানবু বন্দর ব্যবহার করছে সৌদি। গত এক সপ্তাহে প্রতিদিন এই বন্দর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারের উদ্দেশে গিয়েছে ৪৬ লাখ ৫৮ হাজার ব্যারেল তেল।

আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষক সংস্থা জেপি মর্গানের বিশ্লেষক নাতাশা কানেভা রয়টার্সকে বলেন, “যুদ্ধের প্রথম দিকে পারস্য উপসাগর এবং হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী জাহাজ চলাচলে ঝুঁকি ছিল— এখন সেই ঝুঁকি লোহিত সাগর এবং বাব আল মান্দেব প্রণালি পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। এই দু’টি রুটে ঝুঁকি আরও বাড়লে সামনের দিনগুলোতে বাজার আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠবে।”

সূত্র: রয়টার্স