শুক্রবার, অক্টোবর ২৩, ২০২৬

বৈশ্বিক সংকটেও কৃষকদের নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেল সরবরাহ করছে সরকার: বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের আঁচ বাংলাদেশকেও স্পর্শ করেছে। তারপরও জনগণের ভোগান্তি কমাতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, এখন সেচের মৌসুম চলছে। কৃষক যাতে কোনভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হন সেজন্য সরকার কাজ করছে। কৃষকদের নিরবচ্ছিন্নভাবে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের যশোর সফর উপলক্ষে কর্মসূচিস্থল পরিদর্শন শেষে আজ (শনিবার) দুপুরে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

তিনি আরও জানান, আগামী ২৭ এপ্রিল সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যশোর বিমানবন্দর থেকে শার্শা উপজেলার উলাশীতে যাবেন। সেখানে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত উলাশী খালের পুনঃখনন কাজে অংশ নেবেন তিনি। এরপর যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। পরে যশোর ইন্সটিটিউট পাবলিক লাইব্রেরি পরিদর্শন শেষে ঈদগাহ ময়দানের জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা রাখবেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বিগত ১৭ বছর ধরে যশোরে স্থবির হয়ে থাকা উন্নয়নের চাকা প্রধানমন্ত্রীর সফরের মধ্য দিয়ে ফের সচল হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আপোষহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ২০০৬ সালে যশোর ঈদগাহ ময়দানে এক ঐতিহাসিক জনসভায় যশোরে ৫শ’ শয্যাবিশিষ্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়েছিলেন। গত নির্বাচনের আগেও আমাদের রাজনৈতিক অঙ্গীকার ছিল, নির্বাচিত হলে এই হাসপাতাল করার। তারই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী এই হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন।’

তারেক রহমানের যশোর সফরের প্রস্তুতি উপলক্ষে প্রতিমন্ত্রী সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

পরে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের স্থান পরিদর্শন করেন। সবশেষে শার্শা উপজেলার উলাশী খাল পরিদর্শনে যান।

চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টদের আধুনিক প্রযুক্তির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার আহ্বান তথ্যমন্ত্রীর

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন আধুনিক প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নবীন চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টদের (সিএ) প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

আজ সকালে রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে দি ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএবি)-এর ২২তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘আমরা এখন ইন্টারনেটের যুগে বাস করছি, যেখানে কমিউনিকেশন সায়েন্সের সর্বোত্তম বিকাশ ঘটেছে। আধুনিক কর্পোরেট ব্যবস্থা এখন প্রায় পুরোপুরি প্রযুক্তি নির্ভর। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডাটা অ্যানালিটিক্সের মতো প্রযুক্তির অগ্রগতির ফলে হিসাব বিজ্ঞান পেশায় এক বৈপ্লবিক রূপান্তর ঘটছে। এই চ্যালেঞ্জকে সাহসের সঙ্গে আলিঙ্গন করেই আপনাদের এগিয়ে যেতে হবে।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বিশ্বে চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টরা কেবল হিসাব রক্ষক নন, বরং তারা যেকোনো প্রতিষ্ঠানের জন্য একজন কৌশলগত উপদেষ্টা (স্ট্র্যাটেজিক অ্যাডভাইজর)।

তিনি বলেন, ‘শুধু ইনস্টিটিউট থেকে পাওয়া অ্যাকাডেমিক জ্ঞানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে মেধার পূর্ণতা আসবে না। প্রযুক্তির সংমিশ্রণে যে নতুন প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে, সে বিষয়ে আপনাদের সার্বক্ষণিক সচেতন ও সজাগ দৃষ্টিভঙ্গি থাকতে হবে।’

পেশাগত সততার ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, অ্যাকাউন্টিং পেশার মূল ভিত্তি হলো মানুষের আস্থা। আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ এবং সুশাসন জোরদারের মাধ্যমে টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে সিএ’দের ভূমিকা অপরিসীম।

অনুষ্ঠানে সমাবর্তন বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরেণ্য বুদ্ধিজীবী অধ্যাপক ড. সলিমুল্লাহ খান।

তিনি বলেন, চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টদের (সিএ) আধুনিক সমাজ ও পুঁজিবাদের অবিচ্ছেদ্য অংশ বা ‘অর্গানিক ইন্টেলেকচুয়াল’ হিসেবে অবহিত করেছেন। তিনি বলেন, হিসাব বিজ্ঞান কেবল অংক মেলানোর শাস্ত্র নয়, বরং এটি আধুনিক গণতান্ত্রিক সভ্যতা ও অর্থব্যবস্থার অন্যতম প্রধান স্তম্ভ।

তিনি নবীন চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক ব্যবস্থার অন্যতম বুদ্ধিবৃত্তিক অবদানকারী হিসেবে কাজ করার পরামর্শ দেন।

সমাবর্তনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিলের (এফআরসি) চেয়ারম্যান ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূইয়া দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় স্বচ্ছ হিসাব ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

আইসিএবি প্রেসিডেন্ট এন কে এ মবিন এফসিএ নবীন চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, আইসিএবি শুরু থেকেই আন্তর্জাতিক মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করে আসছে। নতুন পেশাজীবীদের নৈতিকতা ও সততার সর্বোচ্চ মান বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি।

এবারের সমাবর্তনে নভেম্বর-ডিসেম্বর ২০২২ থেকে নভেম্বর-ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত সিএ পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের সনদ প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে আইসিএবি’র কাউন্সিল সদস্য, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং নবীন গ্র্যাজুয়েটদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

বিএমডিএ’র চলমান কাজ পরিদর্শন প্রধানমন্ত্রীর দুই উপদেষ্টার

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) বিভিন্ন চলমান কাজ পরিদর্শন করেছেন।

তারা শুক্রবার সকালে রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় বিএমডিএ’র আওতাধীন পদ্মা নদী থেকে সরমোংলা খালে ভূ-উপরিস্থ পানির সেচ কার্যক্রম এবং নেট মিটারিং সিস্টেমের মাধ্যমে সেচ পরিচালনাসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম তারা পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শনকালে উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, বিভিন্ন এলাকায় খাল খনন এবং পহেলা বৈশাখ কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সরকার কাজ করে যাচ্ছে।’

তিনি বলেন, কৃষকের জীবনমান উন্নয়নে কাজ চলমান থাকবে। সরকার এই এলাকার কৃষকদের জন্য বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে, যার মাধ্যমে কৃষকের জীবনমান আরও উন্নত হবে।

তিনি জানান, বিএমডিএ’র বিভিন্ন কাজ পরিদর্শন করে তিনি মুগ্ধ। উত্তরাঞ্চলকে শস্য ভান্ডারে পরিণত করেছে বিএমডিএ। কৃষির মাধ্যমে একটি এলাকার চিত্র বদলে দিতে পারে তা এই প্রতিষ্ঠানটি করে দেখিয়েছে। সোলারচালিত সেচ ব্যবস্থা, খাল থেকে পানি সংগ্রহ করে চাষাবাদ, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের মতো উদ্যোগ কৃষিখাতকে এগিয়ে নিচ্ছে।

উপদেষ্টা রেহান আসাদ বলেন, ‘কৃষি কার্যক্রম আরও গতিশীল ও আধুনিক করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একটি ডিজিটাল উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। তিনি পহেলা বৈশাখে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন। এই কার্ডের মাধ্যমে ভূমিহীন, ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকরা সরাসরি সরকারি ভর্তুকি, ঋণ এবং কৃষি উপকরণ সহায়তা পাবেন।’

তিনি বলেন, মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ এবং কৃষকদের জন্য ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। এটি কৃষিখাতের আধুনিকায়ন এবং স্মার্ট বাংলাদেশ গঠনে একটি বড় পদক্ষেপ।

পরিদর্শনকালে বিএমডিএর নির্বাহী পরিচালক আবু সাঈদ কামরুজ্জামান, উপদেষ্টার একান্ত সচিব সারওয়ার মোর্শেদ এবং সংস্থাটির অন্যান্য কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন, খাল পুনঃখনন ও কৃষক কার্ড চালুর মাধ্যমে কৃষিতে আসবে নতুন বিপ্লব : বাণিজ্যমন্ত্রী

দেশের কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও বাজার স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সরকার বহুমুখী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

আজ শনিবার (১১ এপ্রিল) সিলেট সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে প্রায় ৩ হাজার কৃষকের মাঝে কৃষি প্রণোদনা বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

বাণিজ্য মন্ত্রী বলেন, দেশের কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য খাল পুনঃখনন ও সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এ সময় তিনি আরও জানান, সিলেটের বাসিয়া খালসহ বিভিন্ন খাল পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা সুরমা নদী থেকে শুরু হয়ে দক্ষিণ সুরমা ও সুনামগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় বিস্তৃত।

মন্ত্রী বলেন, এ সব খাল পুনঃখননের মাধ্যমে একদিকে যেমন জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করা সম্ভব হবে, অন্যদিকে শুকনো মৌসুমে সেচ সুবিধা নিশ্চিত করা যাবে।

তিনি বলেন, ভৌগোলিক কারণে যে সব এলাকায় পানি জমে থাকে, সে সব স্থানে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে সেচ সুবিধা বাড়িয়ে বছরে অতিরিক্ত একটি ফসল উৎপাদনের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে, যা দেশের খাদ্য নিরাপত্তা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী আরও জানান, আগামী ১৪ এপ্রিল থেকে কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ প্রদান কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেন, এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের তথ্য একটি কেন্দ্রীয় ডাটাবেজে সংরক্ষিত থাকবে, ফলে সার, বীজ, কীটনাশক ও কৃষি ঋণসহ বিভিন্ন সেবা সহজে প্রাপ্তি নিশ্চিত হবে।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির আরও বলেন, এর পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা ফসল ক্ষতির তথ্য দ্রুত কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়াও সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, সরকার ধাপে ধাপে দেশের সকল কৃষি জমির ম্যাপিং কার্যক্রম পরিচালনা করবে। এর মাধ্যমে কোন অঞ্চলে কোন ফসল সবচেয়ে উপযোগী ও লাভজনক— সে তথ্য কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে, যাতে করে তারা সহজে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

কৃষকদের উদ্দেশ্যে বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী বলেন, দেশের সীমিত আবাদি জমির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। কোনো জমি ফেলে না রেখে, সকল জমিকে চাষাবাদের আওতায় আনতে হবে।

এক এলাকায় একই ধরনের ফসল চাষ করলে সরকারিভাবে সহায়তা প্রদান, রোগবালাই দমন এবং বাজার ব্যবস্থাপনা সহজ হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী আরও বলেন, খাল পুনঃখনন, সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও কৃষি প্রণোদনা কার্যক্রম বাস্তবায়নের মাধ্যমে সিলেটসহ সারা দেশে একটি কৃষি বিপ্লব সাধিত হবে বলে সরকার আশাবাদী।

নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে সরকার বদ্ধপরিকর উল্লেখ করে বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার মুক্তাদির বলেন, সিলেটের অবকাঠামো উন্নয়ন— যেমন রাস্তা, ব্রিজ ও কালভার্ট নির্মাণকে ইতোমধ্যেই পরিকল্পনার আওতায় আনা হয়েছে।

উল্লেখ্য, কৃষকদের মাঝে প্রণোদনা হিসেবে বিতরণকৃত কৃষি উপকরণের মধ্যে ছিল কৃষক প্রতি বীজ ৫ কেজি, ডিএপি সার ১০ কেজি ও এমওপি সার ১০ কেজিসহ সর্বমোট ২৫ কেজি।

অনুষ্ঠানে সিলেট সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার খোশনূর রুবাইয়াতের সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন— সিলেট মহানগর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী, ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সদর উপজেলা বিএনপি সভাপতি আবুল কাসেম ও সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান ও উপজেলা কৃষি অফিসার মো. শওকত জামিল।

জেলা পরিষদকে জনগণের আস্থার প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে চাই: অধ্যাপক মামুন মাহমুদ

দীর্ঘ দেড় দশকের রাজনৈতিক সংগ্রাম আর গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াই শেষে নতুন এক দায়িত্ব কাঁধে নিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ। তবে এবার রাজপথের আন্দোলন নয়, তার কাঁধে পড়েছে জেলা পরিষদের প্রশাসকের গুরু দায়িত্ব। দায়িত্ব নেয়ার স্বল্প সময়ের মধ্যেই তিনি হাত দিয়েছেন উন্নয়ন ও জনসেবার বহুমুখী কর্মপরিকল্পনায়। সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জের বর্তমান প্রেক্ষাপট, ভবিষ্যৎ উন্নয়ন এবং জেলা পরিষদের স্বচ্ছতা নিয়ে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার বাসস’র সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে নিজের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন তিনি।

উন্নয়নের অগ্রাধিকার: জনসম্পৃক্ততা ও সমন্বয়

জেলা পরিষদের মূল কর্মক্ষেত্র নিয়ে মামুন মাহমুদ বলেন, ‘জেলা পরিষদের কাজ মূলত উন্নয়ন এবং জনসেবামূলক। আমি দায়িত্ব নেয়ার আগেই একটি বাজেট প্রণীত হয়েছিল। তবে বর্তমান জন আকাঙ্ক্ষা এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিদের চাহিদাকে সমন্বয় করে আমি নতুন অগ্রাধিকার ঠিক করছি।’

তিনি জানান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে সরাসরি কাজ করার ব্যাপক সুযোগ এখানে রয়েছে। মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান থেকে শুরু করে মসজিদ-মাদ্রাসা, মন্দির ও শ্মশানের উন্নয়ন-সবকিছুই এখন তার অগ্রাধিকার তালিকায়।

চলমান প্রকল্পের তদারকি ও ‘অপ্রয়োজনীয়’ কাজ বাতিল :

দায়িত্ব নিয়েই কাজে স্বচ্ছতা ফেরাতে জোর দিয়েছেন এই প্রশাসক। তিনি জানান, বর্তমানে অনেকগুলো প্রকল্প চলমান আছে যার গুণগত মান ও গুরুত্ব পর্যালোচনা করা হচ্ছে। মামুন মাহমুদ স্পষ্ট করে বলেন, যেসব কাজ জনগুরুত্বহীন বা কম গুরুত্বপূর্ণ, সেগুলো আমরা প্রয়োজনে বাতিল করে দিচ্ছি।

ইতোমধ্যেই কিছু মানবিক কাজে জেলা পরিষদ সাড়া পাওয়া গেছে। এক অসহায় পরিবারের বেদখল হওয়া জমি উদ্ধার ও ঘর সংস্কারে সহায়তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশেই আমরা অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছি। এমনকি দুরারোগ্য রোগীর চিকিৎসা সহায়তায়ও জেলা পরিষদ হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে।

দৃশ্যমান কিছু উন্নয়ন প্রকল্প:

জেলা পরিষদ প্রশাসক বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট প্রকল্পের তথ্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের উদ্যোগে জনকল্যাণ ও জেলা অবকাঠামো উন্নয়নে বর্তমানে ২শতাধিক ছোট-বড় প্রকল্পের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। এই উন্নয়ন অগ্রযাত্রার অন্যতম বিশেষ দিক হলো সদর উপজেলার ফতুল্লায় প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে একটি আধুনিক বিনোদন কেন্দ্র বা পার্ক নির্মাণ, যা স্থানীয়দের সুস্থ বিনোদনের সুযোগ তৈরি করবে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ ভবঘুরে ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধী কেন্দ্রের আবাসস্থল সংস্কারে ২৫ লক্ষ টাকার প্রকল্প চলমান। প্রায় ৪০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে সরকারি আশ্রয় কেন্দ্রের কার্যক্রম সংক্রান্ত প্রকল্প এবং গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় আরসিসি ঢালাইয়ের কাজ চলছে। এসব বহুমুখী প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো প্রান্তিক পর্যায়ে নাগরিক সুবিধা পৌঁছে দেয়া এবং জনজীবনের মানোন্নয়ন নিশ্চিত করা।

অতীত সংগ্রাম ও আগামীর দিকনির্দেশনা:

বিগত সরকারের আমলের দীর্ঘ সংগ্রামের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদ প্রশাসক মামুন মাহমুদ আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, আমাদের সংগ্রাম ছিল জনগণের ভোটের অধিকার আদায়ের। এই লড়াইয়ে অসংখ্য নেতাকর্মী গুম-খুন ও কারাবন্দী হয়েছেন। আজ জনগণের রায়ে আমাদের দল রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে।
বাসস’র সঙ্গে সাক্ষাৎকারে তিনি আরও জানান, জেলা পরিষদের মর্যাদা বৃদ্ধি এবং প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী বৃক্ষরোপণ ও জেলা পরিষদের সক্ষমতা অনুযায়ী খাল খনন কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।

শিক্ষা ও কর্মসংস্থান: শিক্ষকের চোখে পরিকল্পনা

দীর্ঘসময় শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন অধ্যাপক মামুন মাহমুদ। তিনি তরুণ প্রজন্ম ও শিক্ষা খাত নিয়ে বিশেষ পরিকল্পনা করছেন। তিনি মনে করেন, ঝরে পড়া রোধকল্পে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপকরণ ও আর্থিক সহযোগিতা প্রয়োজন। বেকারত্ব নিরসনে সরাসরি শিল্পকারখানা স্থাপন না করলেও শিল্পায়নের পরিবেশ তৈরির ওপর জোর দিচ্ছেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘আমি যদি একটি অবহেলিত জনপদে রাস্তা করে দেই, সেই রাস্তা ঘেষেই কলকারখানা গড়ে উঠবে। উন্নয়ন কাজের মাধ্যমে হাজারো মানুষের কর্মসংস্থান ও ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।’

লক্ষ্য: এক বছরের ব্র্যান্ডিং

এক বছর পর জেলা পরিষদকে কোথায় নিয়ে যেতে চান-এমন প্রশ্নে মামুন মাহমুদের উত্তর ছিল আত্মবিশ্বাসে ভরপুর। তিনি বলেন, অতীতে জেলা পরিষদকে জনমুখী করা সম্ভব হয়নি। সাধারণ মানুষের ধারণা নেই এই প্রতিষ্ঠানটি কী কাজ করে।

আমি এই প্রতিষ্ঠানটির ব্র্যান্ডিং করতে চাই। মানুষ যেন মনে করে, যেকোনো প্রয়োজনে জেলা পরিষদে গেলে কাজ হবে।

সবশেষে নারায়ণগঞ্জের সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে তার বার্তা-জেলা পরিষদ আপনাদের প্রতিষ্ঠান। যেকোনো প্রয়োজনে আপনারা এখানে আসুন, আমরা আপনাদের দ্বারে সেবা পৌঁছে দিতে বদ্ধপরিকর।

চমক ছাড়াই নিউজিল্যান্ড সিরিজের দল ঘোষণা বাংলাদেশের

সীমিত ওভারের দুই ফরম্যাটের সিরিজ খেলতে নিউজিল্যান্ড জাতীয় ক্রিকেট দল শিগগিরই বাংলাদেশ সফরে আসছে। এ সিরিজকে সামনে রেখে প্রথম দুই ওয়ানডের জন্য স্কোয়াড ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

ঘোষিত দলে বড় কোনো চমক নেই। পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের সর্বশেষ সিরিজে থাকা সব ক্রিকেটারই জায়গা পেয়েছেন। ফলে নতুন কোনো মুখ যুক্ত হয়নি, আবার কেউ বাদও পড়েননি।

দলে যথারীতি আছেন মেহেদী হাসান মিরাজ (অধিনায়ক), নাজমুল হোসেন শান্ত, লিটন কুমার দাস, আফিফ হোসেন ও সাইফ হাসানসহ পরিচিত মুখরা। পাকিস্তান সিরিজে পারফরম্যান্স সন্তোষজনক না হলেও তাদের ওপর আস্থা রেখেছে নির্বাচকরা।

তিনটি ওয়ানডে ও তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলতে ১৩ এপ্রিল ঢাকায় পৌঁছাবে নিউজিল্যান্ড দল। ওয়ানডে সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে মিরপুরের শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম-এ ১৭ ও ২০ এপ্রিল। তৃতীয় ম্যাচ ২৩ এপ্রিল চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হবে।

এরপর টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচ ২৭ ও ২৯ এপ্রিল চট্টগ্রামে এবং শেষ ম্যাচ ২ মে মিরপুরে অনুষ্ঠিত হবে।

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে ম্যাচের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। ওয়ানডে ম্যাচগুলো এখন বেলা ১১টায় শুরু হবে, যা আগে বিকেল ৩টায় হওয়ার কথা ছিল। একইভাবে টি-টোয়েন্টি ম্যাচগুলো সন্ধ্যা ৬টার পরিবর্তে বিকেল ৩টায় শুরু হবে।

প্রথম দুই ওয়ানডেতে বাংলাদেশের স্কোয়াড

মেহেদী হাসান মিরাজ (অধিনায়ক), সৌম্য সরকার, সাইফ হাসান, তানজিদ হাসান তামিম, নাজমুল হোসেন শান্ত, তাওহীদ হৃদয়, লিটন কুমার দাস, আফিফ হোসেন, মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন, রিশাদ হোসেন, তানভীর ইসলাম, মুস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ, শরিফুল ইসলাম ও নাহিদ রানা।

হঠাৎ অসুস্থ ত্রাণমন্ত্রী, এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে আনা হবে ঢাকায়

লালমনিরহাটে যাওয়ার পথে নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় নেওয়া হচ্ছে।

শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুর গফুর সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, দুই দিনের সফরে লালমনিরহাট সফরে সকালে ঢাকা থেকে বিমানযোগে এসে সৈয়দপুর আসেন মন্ত্রী। রেস্টরুমে গিয়ে বসে নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করছিলেন তিনি। এ সময় হঠাৎ মাথা ঘুরে অসুস্থতা বোধ করেন। পরে তাকে দ্রুত সৈয়দপুর সেনানিবাসের সিএমএইচ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

গফুর সরকার আরও বলেন, নেতাকর্মীদের পরামর্শে আসাদুল হাবিব দুলুকে দুপুর ১২টা ১০ মিনিটের বিমানে ঢাকায় পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তবে, তার শারীরিক অবস্থা ভালো না হওয়ায় বিমানে যেতে পারেননি। পরে তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ঢাকা থেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স রওনা হয়েছে সৈয়দপুর পৌঁছালে সেটিতে মন্ত্রীকে ঢাকায় নেওয়া হবে।

সিসি ক্যামেরা বন্ধ থাকলে বুঝবো ‘ডাল মে কুচ কালা হ্যায়’: শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে জানিয়েছেন, পরীক্ষাকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা নিয়ে কোনো অজুহাত সহ্য করা হবে না। আবার বইলেন না পরীক্ষার সময় বিদ্যুৎ বিভ্রাটে সিসি ক্যামেরা বন্ধ ছিল। তেমনটা হলে বুঝবো ‘ডাল মে কুচ কালা হ্যায়’ (নিশ্চয়ই কোনো ঘাপলা আছে)। পরীক্ষার কোনো দলিল যেন তামাদি না হয়, সব সংরক্ষণ করতে হবে।

শনিবার (১১ এপ্রিল) রাজশাহীতে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা ২০২৬ উপলক্ষে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের কেন্দ্র সচিবদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন। সভায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীও উপস্থিত ছিলেন।

প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে কঠোর আইন প্রণয়নের ইঙ্গিত দিয়ে মন্ত্রী বলেন, আইন এমনভাবে স্টিপোলড (নির্ধারিত) করবো যা কেবল ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য নয়, আমাদের নিজেদের দায়বদ্ধতাও নিশ্চিত করবে। ডিজিটাল পদ্ধতিতে প্রশ্ন কীভাবে ফাঁস হচ্ছে, তা আমাদের নখদর্পণে। এখন থেকে সব নজরদারি করা হবে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শূন্য শতাংশ পাশ করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিও বন্ধের পূর্বঘোষণা থাকলেও মানবিক বিবেচনায় এবার তা কার্যকর করা হচ্ছে না। তবে শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করতে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে বিদ্যমান ‘পোষ্য কোটা’র কড়া সমালোচনা করেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, যোগ্যতার ভিত্তিতে পাশ করেই শিক্ষার্থীদের ভর্তি হতে হবে। আমরা চাই না কেউ বিনা পরীক্ষায় বা বিশেষ সুবিধায় পার পেয়ে যাক। এছাড়া তিনি প্রস্তাব করেন, জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সন্তানদের বাধ্যতামূলকভাবে জেলা স্কুলেই পড়ানো উচিত, যাতে সরকারি স্কুলগুলোর মানোন্নয়নে কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতা তৈরি হয়।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, মানবসম্পদ তখনই অভিশাপ হয়ে দাঁড়াবে যখন তাকে কর্মক্ষম করে গড়ে তোলা সম্ভব হবে না। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন উল্লেখ করে তিনি শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল সংস্কারের (রিফর্ম) ডাক দেন।

সঙ্ঘবদ্ধ কোনো নকল চক্র থাকলে তাদের চিহ্নিত করার নির্দেশ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, আমরা চাই না পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ভীতি ছড়াক বা ফলাফলে ধস নামুক। তবে কোনোভাবেই বিনা পরীক্ষায় পাশ বা অনৈতিক সুযোগ দেওয়া হবে না।

মতবিনিময় সভায় রাজশাহী অঞ্চলের শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং তিন বোর্ডের বিভিন্ন কেন্দ্রের সচিবরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে স্থানীয় প্রশাসনকে আরও তৎপর হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

ট্রেলার সাড়া ফেলে, ঈদে আসছে সুমনের ‘রইদ’-কী থাকছে সিনেমায়

চার বছর আগে ‘হাওয়া’ দিয়ে দেশ–বিদেশের প্রেক্ষাগৃহে ব্যাপক সাড়া ফেলেন নির্মাতা মেজবাউর রহমান সুমন। সেই সফলতার পর এবার তিনি ফিরছেন তাঁর নতুন পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘রইদ’ নিয়ে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ছবিটি অবশেষে মুক্তির চূড়ান্ত সময় পেয়েছে, আগামী ঈদুল আজহায়। গতকাল শুক্রবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন পরিচালক নিজেই। তিনি জানান, ‘রইদ’ এখন ঈদুল আজহায় মুক্তির জন্য প্রস্তুত। সে অনুযায়ী চলছে চূড়ান্ত পরিকল্পনা ও প্রচারণার প্রস্তুতি। প্রযোজনা সূত্রেও জানা গেছে, খুব শিগগির ছবিটির পূর্ণাঙ্গ প্রচারণা শুরু হবে।

এরই মধ্যে আগামী সপ্তাহে সিনেমাটির একটি গান প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে, যা গেয়েছেন সহজিয়া ব্যান্ডের রাজু। ফলে ঈদের আগে থেকেই ‘রইদ’ ঘিরে দর্শকের আগ্রহ আরও বাড়বে বলে আশা করছে প্রযোজনাপ্রতিষ্ঠান বঙ্গ।

গল্পের দিক থেকে ‘রইদ’ নির্মিত হয়েছে এক ব্যতিক্রমী মানবিক সম্পর্ককে কেন্দ্র করে। এক সাধু ও তার মানসিক ভারসাম্যহীন স্ত্রীর জীবনসংগ্রামকে ঘিরে আবর্তিত হয়েছে সিনেমাটির মূল কাহিনি। ছবির প্রধান দুই চরিত্রে অভিনয় করেছেন নাজিফা তুষি ও মোস্তাফিজুর নূর ইমরান। এ ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে আছেন গাজী রাকায়েত, আহসাবুল ইয়ামিন রিয়াদসহ আরও অনেকে।

২০২৫ সালের শেষ দিকে ‘রইদ’–এর ট্রেলার ও পোস্টার প্রকাশের পর থেকেই চলচ্চিত্রটি নিয়ে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা। দর্শক ও চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রশংসা পায় ট্রেলারটি। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও জায়গা করে নেয় সিনেমাটি। মর্যাদাপূর্ণ ‘ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল রটারড্যাম’-এর ৫৫তম আসরের মূল প্রতিযোগিতা বিভাগ ‘টাইগার কম্পিটিশন’–এ অফিশিয়ালি নির্বাচিত হয় ‘রইদ’।

পরিচালক সুমন জানান, ছবিটি মূলত আগেই নির্মিত হলেও মুক্তির আগে যথাযথ প্রচারণার জন্য সময় নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের ছবিটি অনেক আগেই তৈরি। আমরা চেয়েছিলাম, মুক্তির আগে দর্শকের কাছে ঠিকভাবে পৌঁছাতে। প্রচারণা এখানে বড় বিষয়। এ ছাড়া উৎসবে অংশগ্রহণ এবং ঈদুল ফিতরের আগের সময়টা উপযুক্ত মনে হয়নি। তাই আমরা ঈদুল আজহাকে বেছে নিয়েছি।’

উল্লেখ্য, ‘রইদ’–এর সঙ্গে শুরুতে যুক্ত ছিলেন অভিনেত্রী জয়া আহসান, যিনি প্রযোজক হিসেবেও ছিলেন। ২০২০-২১ অর্থবছরে ছবির জন্য ৬০ লাখ টাকার সরকারি অনুদানও পেয়েছিলেন। তবে কাজ শুরু হতে দেরি হওয়ায় সরে দাঁড়ান অভিনেত্রী। পরে প্রযোজনায় যুক্ত হয় চলচ্চিত্র প্রযোজনাপ্রতিষ্ঠান বঙ্গ।

সমঝোতা না হলে ইরানকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিলেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, পাকিস্তানে অনুষ্ঠিতব্য আলোচনা যদি কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয় তবে ইরানের ওপর আবারও বড় ধরনের সামরিক হামলা চালানো হবে।

নিউইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট করেছেন, মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলোকে ইতোমধ্যে সর্বাধুনিক ও শক্তিশালী অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ট্রাম্পের মতে, এবারের প্রস্তুতি আগের যেকোনো সময়ের চেয়েও ভয়াবহ এবং আলোচনার ফল ইতিবাচক না হলে এই শক্তি অত্যন্ত কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা হবে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, বর্তমানে একটি ‘রিসেট’ বা নতুন করে সাজানোর প্রক্রিয়া চলছে, যেখানে মার্কিন বাহিনী তাদের ইতিহাসের সেরা গোলাবারুদ মজুত করছে। ট্রাম্প সরাসরি হুমকি দিয়ে বলেছেন, যদি তেহরানের সঙ্গে কোনো সম্মানজনক চুক্তিতে আসা সম্ভব না হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পথ বেছে নিতে দ্বিধা করবে না।

মূলত পাকিস্তানের ইসলামাবাদে প্রস্তাবিত শান্তি আলোচনার প্রাক্কালে ইরানকে চাপে রাখতেই ওয়াশিংটন এই মারমুখী অবস্থান গ্রহণ করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

সূত্র: আলজাজিরা।