মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬

বিশ্বকাপে ইতালিয়ান ট্র্যাজেডির ‘হ্যাটট্রিক’

বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা ৪-১ ইতালি (টাইব্রেকার)

বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা ১-১ ইতালি (অতিরিক্ত সময়)

জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মা তখন নিশ্চল-পাথর। মাথায় হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে। একটু দূরে গ্যালারির দর্শকদের সঙ্গে উৎসবে মেতেছেন এসিমির বাজরাকতারভিচ। কয়েক মুহূর্ত আগে টাইব্রেকারে তাঁর গোলেই লেখা হয়েছে বিশ্বকাপে ইতালিয়ান ট্র্যাজেডির ‘তৃতীয় কিস্তি’।

জেনারো গাত্তুসোর চোয়াল শক্ত। ক্যারিয়ারজুড়ে লৌহকঠিন ফুটবল খেলার মতোই ভেতরের আবেগ বুঝতে দিলেন না ইতালি কোচ। শিষ্যদের সান্ত্বনা দিচ্ছিলেন। কিন্তু সবাই গাত্তুসো নন। কেউ কেউ আলেসান্দ্রো বাস্তোনিও হন। ইতালি সেন্টার ব্যাক নিজেকে কী বলে সান্ত্বনা দেবেন! ১-০ গোলে এগিয়ে থাকতে প্রায় নিশ্চিত গোল বাঁচাতে ফাউল করে দেখেছেন লাল কার্ড। ধারাভাষ্যকার তখন বলছিলেন, এটাই কি শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ‘টার্নিং পয়েন্ট হয়ে দাঁড়াবে?’

বাস্তোনি বের হয়ে আসার পর একজন বেশি নিয়ে বসনিয়া তারপর দিয়েছে মরণকামড়। দুই প্রান্ত থেকে একের পর এক ক্রস ফেলেছে ইতালির বক্সে। ৭৯ মিনিটে বসনিয়ার হয়ে হারিস তাবাকোভিচের সমতাসূচক গোলটি তো তারই ফল। কে জানে, বাস্তোনি থাকলে হয়তো ১২ বছরের বিশ্বকাপ-বিরহ ইতালি কাটাতে পারত!

কিন্তু ৪১ মিনিটে আমর মেমিচকে বাস্তোনি ট্যাকল করে না থামালে সমতাসূচক গোলটি বসনিয়া তখনই হয়তো পেয়ে যেত। বাস্তোনির কাছে অন্তত এতটুকু সান্ত্বনা তবু আছে। পিও এসপোসিতো ও ব্রায়ান ক্রিস্তান্তের তাও নেই। টাইব্রেকারে তাঁরা লক্ষ্যভেদ করতে পারেননি। এসপোসিতো মারেন পোস্টের ওপর দিয়ে। ক্রিস্তান্তের শট ক্রসবারে লেগে ফেরে। ইতালি তবু দোন্নারুম্মায় ভরসা রেখেছিল।

ক্যারিয়ারে পেনাল্টি শুটআউটে তাঁর হার মাত্র একটি, ম্যাচেও ছয়-সাতটি দারুণ সেভ করেছেন দোন্নারুম্মা। কিন্তু ইতালির ফেরার আশায় তিন কাঠির নিচে শেষ ‘ভরসা’ হিসেবে দাঁড়ানো দোন্নারুম্মাও পারলেন না। বসনিয়ার চারটি লক্ষ্যভেদ যেন ইতালিয়ান ট্র্যাজেডির শেষ পরিচ্ছেদ।

জেনিকার বিলিনো পোলজে স্টেডিয়ামে প্লে অফের এই ফাইনালে নির্ধারিত সময় পর্যন্ত স্কোরলাইন ছিল ১-১। অতিরিক্ত সময়েও তাই। টাইব্রেকারে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার ৪-১ গোলের এই জয়ে বলকান অঞ্চলের দেশটির শুধু বিশ্বকাপে খেলাই নিশ্চিত হয়নি, ইতালিকেও মেনে নিতে হয়েছে এক নিদারুণ বাস্তবতা। বিশ্বকাপে সাবেক চ্যাম্পিয়নদের মধ্যে ইতালিই একমাত্র দেশ, যাঁরা টানা তিনবার এই আসরে খেলার যোগ্যতা অর্জনে ব্যর্থ হলো। বাস্তোনি, এসপোসিতো ও ক্রিস্তান্তেদের দুঃখটা তাই আসলে অমোচনীয়। তাঁরা জানেন, রোমে অনেকেরই এখন বিশ্বাস করতে কষ্ট হয় ইতালি চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন!

এমন নয় যে ইতালি বাজে খেলেছে। ১৫ মিনিটে বসনিয়ার গোলকিপার নিকোলা ভাসিল চাপ সইতে না পেরে ভুল জায়গায় পাস দেন। নিকোলা বারেল্লা সেটা ধরে সামনে ফাঁকা জায়গায় ময়েজ কিনকে পাস দিতেই ঠান্ডা মাথায় ফিনিশ করেন ইতালিয়ান স্ট্রাইকার। ইতালির হয়ে টানা ছয় ম্যাচে গোল করলেন কিন। বাস্তোনি লাল কার্ড দেখার পর ৭৯ মিনিটে হজম করা গোলটিতে ভাগ্য সহায় হয়নি ইতালির। জটলার মধ্যে দোন্নারুম্মা গোললাইন থেকে সেভ করলেও ফিরতি বলে পয়েন্ট ব্লাঙ্ক রেঞ্জ শটে গোল করেন তাবাকোভিচ। এই গোল আসলে হওয়ারই কথা ছিল। ১০ জন নিয়ে কতক্ষণ একের পর এক ক্রস ঠেকানো যায়! বসনিয়া কখন, কেমন খেলেছে সেটি একটি পরিসংখ্যানেই পরিস্কার। এডেন জেকোরা শট নিয়েছেন মোট ৩০টি, এর মধ্যে ১১টি পোস্টে, বাস্তোনি লাল কার্ড দেখার আগে যেটা মাত্র ২টি।

২০১৭ সালে সুইডেনের বিপক্ষে প্লে অফে হেরে পরের বছর বিশ্বকাপ খেলা হয়নি ইতালির। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে খেলতে পারেনি উত্তর মেসিডোনিয়ার বিপক্ষে হারে। এবার ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে ৭১ তম বসনিয়ার কাছে হেরে বিশ্বকাপে ফেরা হলো না ‘আজ্জুরি’দের। অপেক্ষা করতে হবে ২০৩০ সাল পর্যন্ত। তবে বিশ্বকাপে এবারও ইতালির নীল উৎসব না থাকলেও নীল রংটা কিন্তু থাকছে। ঘরের মাঠে নীল জার্সি পরে নামা বসনিয়া বিশ্বকাপে ফিরল ১২ বছর পর। ইতালির মতোই ২০১৪ আসরে সর্বশেষ খেলে তাঁরা। সেটা তাঁদের অভিষেক বিশ্বকাপ। অর্থাৎ বসনিয়া দীর্ঘ এক যুগের অপেক্ষা ঘোচাতে পারল, কিন্তু ইতালি পারল না!

গাত্তুসো এসব ভেবেই সম্ভবত শেষ পর্যন্ত হয়তো আর চোখের পানি আটকাতে পারেননি। ভেজা চোখে ইতালি কোচ বলেন, ‘এটা কষ্টের। কারণ এটা (বিশ্বকাপে ওঠা) আমাদের নিজেদের জন্য, গোটা ইতালির জন্য প্রয়োজন ছিল। এই ধাক্কা হজম করা সত্যিই কঠিন।’

২৪ বছর পর বিশ্বকাপে তুরস্ক

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান অবশেষে বিশ্বকাপে ফিরছে তুরস্ক। ২৪ বছরের অপেক্ষা শেষ করে কসোভোকে হারিয়ে ২০২৬ আসরের টিকিট নিশ্চিত করেছে ভিনচেনজো মন্টেলার দল। শেষ বাঁশি বাজতেই যেন স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে তুর্কি শিবির।

প্রিস্টিনায় অনুষ্ঠিত ম্যাচটি মোটেও সহজ ছিল না। কাগজে-কলমে এগিয়ে থাকলেও শুরুতে আক্রমণে এগিয়ে ছিল কসোভোই। দ্রুত বল দখল ও পাল্টা আক্রমণে তারা বারবার চাপে ফেলে তুরস্ককে।

প্রথমার্ধেই এগিয়ে যাওয়ার বড় সুযোগ পায় স্বাগতিকরা। আসলানির দূরপাল্লার শক্তিশালী শট দারুণ দক্ষতায় ক্রসবারের ওপর দিয়ে ঠেলে দেন গোলরক্ষক চাকির।

তুরস্কও পাল্টা সুযোগ তৈরি করে। তরুণ কেনান ইয়িলদিজের ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে তৈরি হয় দারুণ এক সুযোগ। তবে শেষ মুহূর্তে গোললাইন থেকে বল সরিয়ে দেন কসোভোর ডিফেন্ডার হাজরিজি। ফলে গোলশূন্য অবস্থাতেই বিরতিতে যায় দুই দল।

দ্বিতীয়ার্ধে বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। ৫৩ মিনিটে দ্রুত পাল্টা আক্রমণ থেকে এগিয়ে যায় তুরস্ক। ডান দিক দিয়ে উঠে আসা ইয়িলদিজ বল বাড়ান, কোকচুর শট গোলমুখে গড়াতে থাকলে সবার আগে পৌঁছে সেটি জালে জড়ান আকতুরকোগলু।

গোল হজমের পর কসোভো কিছুটা চাপে পড়লেও দ্রুতই ঘুরে দাঁড়ায়। সমর্থকদের উচ্ছ্বাসে ভর করে একের পর এক আক্রমণে যায় তারা। কিন্তু তুরস্কের রক্ষণভাগ ছিল দৃঢ়।

অন্যদিকে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেয়েও তা কাজে লাগাতে পারেনি তুরস্ক। কসোভোর গোলরক্ষক মুরিচ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে দলকে ম্যাচে রাখেন শেষ পর্যন্ত।

শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল না হলে ১-০ ব্যবধানের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে তুরস্ক। এই জয়ের মাধ্যমেই নিশ্চিত হয় তাদের বিশ্বকাপে ফেরা। ২০০২ সালের পর আবারও ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরে দেখা যাবে তুর্কিদের।

মধুর প্রতিশোধে বিশ্বকাপের টিকিট কাটল সুইডেন

ঘরের মাঠে নাটকীয় লড়াইয়ে বিশ্বমঞ্চে ফেরার স্বপ্ন সত্যি করল সুইডেন। চার বছর আগে এই পোল্যান্ডের কাছে হেরেই কপাল পুড়েছিল সুইডেনের। সেই পুরনো আক্ষেপ মুছে এবার ঘরের মাঠ পোল্যান্ডকে ৩-২ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করেছে গ্রাহাম পটারের শিষ্যরা।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে সুইডেন। ইয়াসিন আইয়ারির চতুর এক ফ্লিক থেকে বল পেয়ে নিউক্যাসল উইঙ্গার অ্যান্টনি এলাঙ্গা চমৎকার ফিনিশিংয়ে দলকে এগিয়ে নেন। তবে এই লিড টিকে ছিল মাত্র ১৩ মিনিট। পোল্যান্ডের নিকোলা জালেস্কির বাঁকানো শট দলের সমতা ফিরিয়ে আনে।

প্রথমার্ধের শেষের দিকে বেঞ্জামিন নিগ্রেনের ফ্রি-কিক থেকে আসা বল হেড করে সুইডেনের সেন্টার-ব্যাক গুস্তাফ লেগারবিয়েল গোল করে ২-১ ব্যবধানে দলকে এগিয়ে দেন।

দ্বিতীয়ার্ধে পোল্যান্ড আক্রমণ চালিয়ে সমতায় ফেরে। কারোল সুইডারস্কির গোলে স্কোর ২-২ হয়। ম্যাচ যখন অতিরিক্ত সময়ে গড়াচ্ছিল, ঠিক তখনই নাটকীয় মুহূর্ত আসে। বেসফোর্ট জেনেলির শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে এবং ফিরতি বলে ভিক্টর গিওকেরেস ফাঁকা জালে বল জড়িয়ে দেন। এই গোলের মাধ্যমে নিশ্চিত হয় সুইডেনের বিশ্বকাপ যাত্রা।

শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানে জয় পেয়ে চার বছর আগের প্লে-অফে পোল্যান্ডের কাছে হারের প্রতিশোধও নিল সুইডেন। ম্যাচে প্রদর্শিত আক্রমণাত্মক ও নাটকীয় ফুটবল সুইডেনকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ফিরিয়ে আনে, যা তাদের বিশ্বকাপ যাত্রাকে আরও শক্তিশালী করে তোলে।

সাময়িক যুদ্ধবিরতি নয়, চার দেশে স্থায়ী যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তাব দিল ইরান

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, তারা কোনো সাময়িক যুদ্ধবিরতি বা শুধু হামলা বন্ধ রাখার (পজ) প্রস্তাব মেনে নেবেন না। তার বদলে তেহরান সমগ্র মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে যুদ্ধ এবং শত্রুতার স্থায়ী অবসান চায়।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আরাগচি বলেন, ‘আমরা কোনো যুদ্ধবিরতিতে বিশ্বাস করি না। আমরা সব ফ্রন্টে—লেবানন, ইয়েমেন, ইরাক ও ইরানসহ এই অঞ্চলের অন্যান্য দেশে যুদ্ধের পূর্ণাঙ্গ অবসান এবং স্থায়ী শান্তিতে বিশ্বাস করি।’

উল্লেখ্য, গত বছর ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যকার ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি বারবার লঙ্ঘিত হওয়ার তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে ইরান এ ধরনের কোনো সাময়িক পদক্ষেপে যেতে নারাজ। আরাগচি এর আগে গণমাধ্যমে জোর দিয়ে বলেছেন, ইরান কোনো শর্তহীন আত্মসমর্পণ বা শুধু সময়ক্ষেপণের উদ্দেশ্যে করা যুদ্ধবিরতি মেনে নেবে না। যেকোনো চুক্তির ক্ষেত্রে অবশ্যই স্থায়ী সমাধানের পাশাপাশি ভবিষ্যতে আগ্রাসন না চালানোর আন্তর্জাতিক নিশ্চয়তা থাকতে হবে।

বিদ্যুৎ উৎপাদনে যাচ্ছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র

আরো একটা মাইলফলক অর্জন করতে যাচ্ছে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। কয়েক দফা পিছিয়ে অবশেষে রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের পারমাণবিক চুল্লিতে জ্বালানি ইউরেনিয়াম লোড করা হচ্ছে। বিদ্যুৎকেন্দ্রটির ইউনিট-এ’কে এজন্য প্রস্তুত করা হয়েছে । বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব আনোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, আগামী ৭ এপ্রিল চুল্লিতে জ্বালানি (ইউরেনিয়াম রড) লোড করা হবে। এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে এক মাসের মতো সময় লাগতে পারে ।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে পালটাপালটি আঘাত হানা হচ্ছে জ্বালানি স্থাপনায়। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়মিত কমছে, বাড়ছে দাম । বাংলাদেশে ৭০ শতাংশের বেশি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির উৎস কাতার উৎপাদন বন্ধ রাখতে পারে দীর্ঘ সময় । ফলে গ্যাস-সংকটের ঝুঁকিতে পড়তে পারে দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত। এই পরিস্থিতিতে রূপপুরে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের সিদ্ধান্ত সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত বলে বিশেষজ্ঞ ও স্থানীয়রা মনে করছেন ।

পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রধান E সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নাম রিয়াক্টর প্রেসার ভেসেল বা চুল্লিপাত্র । এই চুল্লিপাত্রের ভেতরেই জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত ইউরেনিয়াম সংযোজন বা লোড করা হয়—যাকে বলা হয় ফুয়েল লোডিং। খনি থেকে সংগ্রহ করা ইউরেনিয়াম প্রক্রিয়াজাত করে ছোট ছোট দানাদার আকৃতিতে তৈরি করা হয়, যেগুলোকে বলা হয় ‘পেলেট’। এরপর কয়েক শ পেলেট একটি ধাতব নলের ভেতরে ঢুকিয়ে তৈরি করা হয় ফুয়েল রড। এ ধরনের অনেকগুলো ফুয়েল রড একত্রে সংযোজন করে তৈরি করা হয় একটি ফুয়েল অ্যাসেম্বলি। বাংলাদেশের রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে মোট ১৬৩টি ফুয়েল অ্যাসেম্বলি লোড করা হবে । এসব জ্বালানি অ্যাসেম্বলি আগেই রাশিয়া থেকে এনে প্রকল্প এলাকায় সংরক্ষণ করা হয়েছে । প্রকল্প কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, এক বছরের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি মজুত রয়েছে এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রের কার্যকাল জুড়েই জ্বালানি সরবরাহ করবে রাশিয়া। সংক্ষেপে, ফুয়েল লোডিং হলো পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ, যেখানে নির্ধারিত প্রক্রিয়া ও সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করে রিয়াক্টরে জ্বালানি স্থাপন করা হয়।

এনপিসিবিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জায়েদুল হাসান জানালেন, ফুয়েল লোডিংয়ের পর ফিশন বিক্রিয়া শুরু, তাপ উৎপাদন এবং সেই তাপ সঞ্চালনের মাধ্যমে টারবাইন ঘোরানোর জন্য প্রয়োজনীয় সব যন্ত্রপাতি প্রস্তুত রয়েছে। পুরো প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপ কঠোর পরীক্ষানিরীক্ষার মধ্য দিয়ে সম্পন্ন করা হবে। একটি ধাপ সফলভাবে শেষ হওয়ার পরই পরবর্তী ধাপ শুরু করা হবে, যাতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও নির্ভুলতা নিশ্চিত করা যায় ।

পারমাণবিক চুল্লিতে ইউরেনিয়াম-২৩৫ ফুয়েল লোডিং প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সাধারণত প্রায় ৩০ দিন সময় লাগে। তবে সবকিছু অনুকূলে থাকলে অত্যন্ত সূক্ষ্ম পরিকল্পনা ও দক্ষ ব্যবস্থাপনায় এটি ২১ দিনের মধ্যেও শেষ করা সম্ভব ।

প্রাথমিকভাবে খুব কম মাত্রায়—প্রায় ১ শতাংশ ক্ষমতায় বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করা হয়, যা পর্যায়ক্রমে ২ শতাংশ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয় । এই ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন হলে বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়। পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হতে প্রায় ৪০ দিন সময় লাগে । এ সময়ের প্রতিটি ধাপে কঠোর পরীক্ষানিরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণ চালানো হয়, যাতে নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিশ্চিত করা যায়।

পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি)-এর বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ গ্রহণের জন্য জাতীয় গ্রিড পুরোপুরি প্রস্তুত। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সব সঞ্চালন লাইন নির্মাণকাজ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। তবে পারমাণবিক বিদ্যুৎ সঞ্চালনের ক্ষেত্রে গ্রিডের ফ্রিকোয়েন্সি নির্ধারিত মানে বজায় রাখা নিয়ে রুশ কর্তৃপক্ষ কিছুটা উদ্বেগ প্রকাশ করেছে । যদিও পিজিসিবির কাজ নিয়ে রূপপুর প্রকল্পে দায়িত্বে থাকা বাংলাদেশি সংশ্লিষ্টরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
রূপপুর থেকে প্রাথমিকভাবে অল্প পরিমাণ বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হবে, যা ধীরে ধীরে বাড়ানো হবে। এ সময় জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থাকে সঠিকভাবে সিনক্রোনাইজ করতে হবে। পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হতে প্রায় তিন থেকে চার মাস সময় লাগতে পারে ।

ফুয়েল লোডিংয়ের পর পূর্ণ সক্ষমতায়— প্রায় ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ নিরবচ্ছিন্নভাবে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ শুরু হতে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে ।

পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের আগেই বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (IAEA)-এর সঙ্গে চুক্তি করেছে। এর ফলে বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণ, ফুয়েল লোডিং, চালু করা এবং জ্বালানি সরবরাহ পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াটি সংস্থা মনিটর করে। প্রতিটি ধাপে প্ৰকল্প পর্যবেক্ষণ করে IAEA করণীয় ও নিরাপত্তা বিষয়ক প্রতিবেদন প্রদান করে। নির্মাণ থেকে উৎপাদন পর্যন্ত প্রায় ১৯টি ধাপ অতিক্রম করতে হয়, এবং প্রতিটি ধাপের জন্য IAEA বিভিন্ন মিশন পরিচালনা করে। তাদের প্রতিবেদন সন্তোষজনক হলে বাংলাদেশের মতো দেশগুলো নির্ভয়ে পরবর্তী ধাপে অগ্রসর হতে পারে ।

এই পর্যবেক্ষণ কার্যক্রমের পাশাপাশি দেশের নিজস্ব পরমাণু শক্তি ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা- পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (BAERA ) – গঠন করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত IAEA-এর প্রতিবেদনগুলো ইতিবাচক এবং বাংলাদেশের পারমাণবিক শক্তি ব্যবহার ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে নিশ্চিত করেছে।
সাধারণভাবে বলতে গেলে,একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র মূলত একটি অত্যাধুনিক মেশিন। এটি তৈরি করতে হয় পারমাণবিক প্রকৌশল, বিশেষায়িত উন্নত বৈদ্যুতিক প্রযুক্তি এবং সিভিল প্রকৌশলের সমন্বয়ে। প্রতিটি ধাপ ধাপে পরীক্ষানিরীক্ষার মধ্য দিয়ে অগ্রসর হতে হয়, একই সঙ্গে মেনে চলতে হয় বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রটোকল ।
যদি কোনো বাধা না আসে, তাহলে একেকটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে সাধারণত ৮ থেকে ১০ বছর সময় লাগে। চালুর সময় যেসব যন্ত্রাংশ স্থাপন করা হয়—তাদের সঠিকভাবে সিনক্রোনাইজড হয়েছে কিনা তা কঠোরভাবে পরীক্ষা করা হয়। রিয়াক্টর থেকে শুরু করে টারবাইন এবং গ্রিড পর্যন্ত সবকিছু সঠিকভাবে নির্মাণ হয়েছে কিনা তাও বড় বিষয়। এই সব উপাদান সমন্বিতভাবে ও নির্ভুলভাবে কাজ করলে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকে সফল বলা যায় ।

রূপপুর প্রকল্পের নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার পর কেন্দ্রটি পরিচালনা করবে নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি অব বাংলাদেশ (NPCCBL) | এজন্য নিয়ন্ত্রিত ও পেশাদার কর্মীবাহিনী তৈরি করা হয়েছে, যাদের অনেকেই প্রকল্পের নির্মাণ প্রক্রিয়ার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন । তাদের প্রশিক্ষণের বড় অংশ ইতিমধ্যেই রাশিয়াতে সম্পন্ন হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, রাশিয়া এই জনবল কাঠামো গঠন ও প্রশিক্ষণ সরবরাহ করেছে। শুরুতে রাশিয়ার অপারেটরদের নেতৃত্বে বিদ্যুৎ চুল্লি চালু করা হবে, যেখানে সহযোগী হিসেবে থাকবেন বাংলাদেশিরা।

আলোচিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রাশিয়ান ফেডারেশনের সঙ্গে একটি চুক্তির মাধ্যমে নির্মাণ করা হচ্ছে। ২০১৩ সালে সমীক্ষা চুক্তি এবং ২০১৫ সালে নির্মাণ চুক্তি সম্পন্ন হয় । চুক্তি অনুযায়ী রাশিয়া প্রকল্পটিতে অর্থায়ন এবং কারিগরি সহায়তা প্রদান করছে । প্রথম ইউনিটের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হবে ২০২৭ সালের প্রথমার্ধে। অন্যদিকে, দ্বিতীয় ইউনিটের নির্মাণ এখনো শেষ হয়নি । প্রকল্প সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এটি আগামী বছরের শেষ নাগাদ সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সবমিলিয়ে, পুরো প্রকল্পের কাজ ২০২৮ সালের শেষ নাগাদ শেষ হওয়ার সম্ভাবনা আছে । সেই অনুযায়ী, আগামী বছরের শুরুর দিকে রূ পপুর থেকে প্রথম ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে এবং ২০২৮ সালের শেষ নাগাদ আরো ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যোগ হবে, ফলে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পুরো সক্ষমতায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে সক্ষম হবে ।

ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়ার ক্ষমতা ইরানের এখনো আছে: নেতানিয়াহু

বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, ইরানের এখনও ইসরায়েলে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর সক্ষমতা থাকলেও তা আর দেশটির অস্তিত্বের জন্য বড় হুমকি নয়।

সম্প্রতি প্রচারিত এক রেকর্ডকৃত ভাষণে তিনি এ মন্তব্য করেন। নেতানিয়াহু বলেন, তেহরান এবং অঞ্চলে তাদের মিত্র বা প্রক্সি গোষ্ঠীগুলো আগের মতো সামরিকভাবে শক্তিশালী অবস্থানে নেই।

তিনি বলেন, “ইরানের এখনও হামলার ক্ষমতা আছে, কিন্তু তারা আর আমাদের অস্তিত্বের জন্য হুমকি হতে পারবে না। শুধু ইরানই নয়, তাদের আঞ্চলিক মিত্ররাও এখন ইসরায়েলকে অস্তিত্ব সংকটে ফেলার সক্ষমতা রাখে না।”

চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত দেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী। তার মতে, এই যুদ্ধ ইসরায়েলের জন্য ইরানের বিরুদ্ধে নতুন মিত্র তৈরির এক অভূতপূর্ব সুযোগ সৃষ্টি করেছে।

নেতানিয়াহু বলেন, “এই যুদ্ধের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে আমাদের নতুন বন্ধু তৈরির পথ প্রশস্ত হয়েছে। আমি এখনই নির্দিষ্ট কোনো দেশের নাম বলছি না, তবে আশা করছি খুব শিগগিরই আমরা সেসব দেশের নাম প্রকাশ করতে পারব।”

বিশ্লেষকদের মতে, নেতানিয়াহুর এই বক্তব্য মূলত ইরানের সামরিক প্রভাব কমে আসা এবং আরব বিশ্বের কিছু দেশের সঙ্গে ইসরায়েলের গোপন বা প্রকাশ্য কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের ইঙ্গিত দেয়।

যুদ্ধের কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও তিনি দেশের জনগণকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেছেন যে, ইসরায়েলের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা এখন আগের তুলনায় আরও সুসংহত।

ফুটপাত দখল করে ব্যবসা বন্ধে আজ থেকে ডিএমপির অভিযান

গাড়ির টায়ার, ভারি যন্ত্রপাতি, ফার্নিচার কিংবা খাবার দোকান; বৈধ সীমানা ছাড়িয়ে ফুটপাত দখল করে চলছে বেশির ভাগ ব্যবসা। এতে বছরের পর বছর ধরে হাঁটার পথটুকুও পাচ্ছেন না রাজধানীবাসী। এবার পরিস্থিতি বদলাতে আজ বুধবার থেকে বৈধ সীমানার বাইরে ফুটপাত দখলকারী সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযানে নামছে পুলিশ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিএমপির ডিসি মিডিয়া তালেবুর রহমান। তিনি জানান, গত ২৩ মার্চ ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার স্বাক্ষরিত এক গণ-বিজ্ঞপ্তিতে অনতিবিলম্বে অপসারণের নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। সেই নির্দেশ মোতাবেক অভিযান শুরু হবে।

নির্বিকার ব্যবসায়ীরা : চারদিকে সারি সারি টায়ার আর যন্ত্রাংশ। এ যেন গ্যারেজের অন্দরমহল। চেনারই উপায় নেই হাঁটার পথ। ফুটপাত দখল করে এভাবেই চলছে ব্যবসা। রাজধানীর ধোলাইখালের ফুটপাত পুরোপুরি এভাবেই দখলের কারণে পথচারীদের ভোগান্তি তৈরি হলেও নির্বিকার ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, এটা নতুন কিছু নয়, বহু বছর ধরেই চলছে। যদি পণ্যটা বাইরে না রাখা হয়; তাহলে অন্য দোকান কাস্টমার নিয়ে নেবে। কাস্টমার গোডাউনে কম যায়, তাই পণ্য বাইরে রাখতে হয়।

পথচারীদের ভোগান্তি : শুধু ধোলাইখালই নয়, নগরীর অন্যান্য এলাকায়ও একই চিত্র। দোকানের সামনে ফুটপাত জুড়ে রাখা হচ্ছে ফার্নিচার, খাবার ও মুদিপণ্যের মালামাল। এতে চলাচলে পথচারীরা প্রতিদিনই ভোগান্তি পোহাচ্ছেন। পথচারীরা বলেন, বেশির ভাগ মুদি দোকানের সামনে আইসক্রিমের ফ্রিজ রেখে দেয়, রাস্তা দিয়ে হাঁটা যায় না। ফুটপাতের জায়গা না থাকায় বাধ্য হয়ে রাস্তা দিয়ে হাঁটতে হয়। বিগত দিনে অনেকেই বলেছে ফুটপাত দখলমুক্ত করা হবে, কিন্তু বাস্তবে কিছুই হয়নি।

অভিযান প্রস্তুতি : ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান জানিয়েছেন, বৈধ সীমানার বাইরে ফুটপাত দখল করে রাখা সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হবে। যেসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান তাদের বৈধ জায়গার বাইরে অতিরিক্ত আকারে ফুটপাত দখল করে ব্যবহার করছে, আমরা এবার তা দখলমুক্ত করবো। এছাড়া, হকারদের জন্য নির্ধারিত এলাকায় শিগগিরই হলিডে ও নাইট মার্কেট চালুর প্রস্তুতিও চলছে।

ডিএমপি কমিশনারের বিজ্ঞপ্তি : গত ২৩ মার্চ ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার স্বাক্ষরিত এক গণ- বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো নিজস্ব সীমানার বাইরে ফুটপাত ও সড়কের অংশ দখল করে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এর ফলে পথচারীদের চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে তাদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ছে। রেস্টুরেন্টের রান্নার সরঞ্জাম, গ্রিল ও কাবাব মেশিন, মোটর ওয়ার্কশপের টায়ার ও যন্ত্রপাতি, ওয়েল্ডিং সামগ্রী, পোশাক ও আসবাবপত্রের দোকানের প্রদর্শনী সামগ্রীসহ বিভিন্ন মালামাল ফুটপাত ও রাস্তায় রাখা হচ্ছে। এমনকি অনেক মোটরগাড়ির ওয়ার্কশপ রাস্তার এক লেন দখল করে মেরামতের কাজ পরিচালনা করছে।

এসব অবৈধ দখলের কারণে পথচারীরা বাধ্য হয়ে সড়কে চলাচল করছে, যা যানজট বৃদ্ধির পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে সব ব্যবসায়ীকে দ্রুত ফুটপাত ও রাস্তা থেকে তাদের মালামাল সরিয়ে নেয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। নির্দেশনা অমান্য করলে স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্টেট ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড ও মালামাল জব্দসহ কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান পুতিনের

মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতি নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এ সময় তারা মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানান।

বুধবার রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, দুই নেতা এই অঞ্চলের অস্থিতিশীল সামরিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে ‘গভীর উদ্বেগ’ প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে বেসামরিক মানুষের হতাহত হওয়া এবং অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি তাদের আলোচনায় গুরুত্ব পায়।

দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধানই যত দ্রুত সম্ভব এই সংঘাত বন্ধের ওপর জোর দিয়েছেন। তারা বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর ন্যায়সংগত স্বার্থ বজায় রেখে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে এই সংকটের সমাধান করতে হবে। সূত্র: আলজাজিরা

শিশুদের মৃত্যু নিয়ে দুঃখ প্রকাশ, সীমাবদ্ধতার কথা জানালেন স্বাস্থ্য সেবার সচিব

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (আইসিইউ) জন্য অপেক্ষমাণ তালিকায় থাকা শিশুদের মৃত্যু নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী। আজ মঙ্গলবার দুপুরে হাসপাতালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি দুঃখ প্রকাশ করে কিছু সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করেন।

সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ‘রাজশাহীতে আমাদের সন্তানেরা, আমাদের বাচ্চারা, আপনারা যেভাবে তুলে ধরেছেন, সেই মৃত্যুর জন্য আমরা দুঃখ প্রকাশ করছি। কোনো মৃত্যুই কারও জন্য কোনোভাবেই কাম্য নয়। আমরা এর জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি। এখানে আমাদের কিছু সীমাবদ্ধতা ছিল।’

হাসপাতালে শিশুদের জন্য মাত্র ১২টি আইসিইউ বেড আছে। এগুলো সরকার অনুমোদিত নয়, হাসপাতালের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় চালানো হয়। এই আইসিইউয়ে একটি বেডের জন্য সদ্য ভূমিষ্ঠ শিশুদের অপেক্ষায় থাকতে হয়। আইসিইউয়ে চিকিৎসাধীন কোনো শিশু মারা গেলে কিংবা কিছুটা সুস্থ হলে তাদের ডাক পড়ে। সিরিয়াল দিলে ৩০ থেকে ৫০ জনের পর শিশুদের আইসিইউয়ে নিতে ডাক আসে। বর্তমানে শিশুদের সাধারণ অসুখের পাশাপাশি ছোঁয়াচে রোগ হামের প্রকোপ দেখা দিয়েছে। এতে আইসিইউর চাহিদা আরও বেড়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। গতকাল সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত এই অপেক্ষমাণ তালিকার শিশুদের সংখ্যা ছিল ৩৯। এর মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে ছিল ১৬ জন।

১১ থেকে ২২ মার্চ পর্যন্ত আইসিইউর অপেক্ষায় থাকা ৩৩ শিশু মারা যায়। এ নিয়ে ২৬ মার্চ প্রথম আলোর অনলাইন সংস্করণে ‘আইসিইউর অপেক্ষায় থাকতে থাকতে ১১ দিনে ৩৩ শিশুর মৃত্যু’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। বিষয়টি জানতে পেরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন ২৮ মার্চ এক অনুষ্ঠানে মন্তব্য করেন, ‘হাসপাতালের পরিচালক আমাদের জানাননি যে, তাঁর কাছে ভেন্টিলেটর নেই। তাঁকে ফাঁসির কাষ্ঠে চড়ানো উচিত।’

ওই ঘটনার পর আজ এই হাসপাতাল পরিদর্শন করেন স্বাস্থ্যসচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস। তাঁরা সার্বিক বিষয় নিয়ে সকালে হাসপাতালের কর্মকর্তা ও চিকিৎসকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এরপর হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ও আইসিইউ পরিদর্শন করেন। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন কামরুজ্জামান চৌধুরী।

কামরুজ্জামান চৌধুরী জানান, ঢাকা থেকে বিভিন্ন সংস্থার সহযোগিতায় সাতটি ভেন্টিলেটর এনেছেন। এগুলো পরিস্থিতি মোকাবিলায় কিছুটা হলেও সহায়ক হবে। এর পাশাপাশি সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত নয়, এমন শিশুদের আইসিইউ প্রয়োজন হলে তাঁরা রাজশাহী হার্ট ফাউন্ডেশনে পাঠানোরও পরিকল্পনা করেছেন। সেখানেও আইসিইউ সাপোর্ট পাওয়া যাবে। এ ছাড়া রাজশাহী শিশু হাসপাতাল, সদর হাসপাতাল ও বক্ষব্যাধি হাসপাতালসহ যেসব হাসপাতালে অবকাঠামো আছে, সেগুলো সচল করার উদ্যোগ গ্রহণের পরিকল্পনা চলছে। আর এ জন্য আজ তিনি হাসপাতালগুলো পরিদর্শন করবেন।

কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ‘তিন মাসের মধ্যে আংশিকভাবে রাজশাহী শিশু হাসপাতাল চালু করব। সেখানে প্রথমে আউটডোর সেবা শুরু হবে এবং আগামী অর্থবছরে অন্য সেবাগুলোও চালু হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘গত সময়ে স্বাস্থ্যকর্মীদের আন্দোলনের কারণে হামের টিকা পায়নি শিশুরা। মায়েরা হয়তো যখন গেছেন টিকা দিতে, তখন স্বাস্থ্যকর্মীদের পাননি। এ জন্য এর প্রাদুর্ভাব দেখা দিতে পারে। ইতিমধ্যে ক্রয় কমিটি ৬০৪ কোটি টাকা অনুমোদন করেছে টিকা কেনার জন্য। আমরা টাকাও দিয়ে দিয়েছি। দ্রুতই শিশুদের হামসহ প্রয়োজনীয় টিকা প্রয়োগ শুরু হবে।’

নতুন প্রজন্মকে ২৫ মার্চ থেকে ১০ এপ্রিলের বীরত্বগাথা জানানোর আহ্বান তথ্যমন্ত্রীর

তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন ২৫ মার্চ থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত সময়ের যে বীরত্বগাথা ও নেতৃত্বের ইতিহাস রয়েছে, তা নতুন প্রজন্মের কাছে সঠিকভাবে পৌঁছে দেয়ার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন।

মন্ত্রী বলেন, ইতিহাস স্বয়ম্ভু। এটি নিজের বিবর্তনের ধারায় জন্ম নেয়। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা ও যুদ্ধকালীন নেতৃত্ব এক অবিনাশী সত্য।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘স্বাধীনতার ঘোষক ও রণাঙ্গনের জিয়া’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে এই সভার আয়োজন করে ড্যাব।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের প্রকৃত ইতিহাস নিয়ে একটি মহল দীর্ঘদিন ধরে বিভ্রান্তি জিইয়ে রেখেছে। বিশেষ করে, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত সময়ের যে বীরত্বগাথা ও নেতৃত্বের ইতিহাস রয়েছে, তা নতুন প্রজন্মের কাছে সঠিকভাবে পৌঁছে দিতে হবে।

এ সময় জহির উদ্দিন স্বপন আরো বলেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা ও যুদ্ধকালীন নেতৃত্ব এক অবিনাশী সত্য।’

তিনি বলেন, ইতিহাস নিজের বিবর্তনের ধারায় জন্ম নেয়। তাই কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী মনগড়াভাবে ইতিহাস রচনা করতে পারে না।

মন্ত্রী বলেন, পতিত ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ ইতিহাস বিকৃতির যে অপচেষ্টা চালিয়েছে, তথ্য প্রযুক্তির এই যুগে তা আর সম্ভব নয়।

তথ্য মন্ত্রী বলেন, ১৯৭০-এর নির্বাচনে এ দেশের মানুষ স্বায়ত্তশাসনের পক্ষে রায় দিয়েছিল। কিন্তু পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী যখন ক্ষমতা হস্তান্তরের পরিবর্তে ২৫ মার্চ কালরাত্রিতে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল, তখন এক চরম অনিশ্চয়তার সৃষ্টি হয়েছিল। সেই কঠিন মুহূর্তে ৩২ বছরের এক তরুণ বাঙালি সামরিক কর্মকর্তা মেজর জিয়াউর রহমান বিদ্রোহ ঘোষণা করে ‘আই রিভোল্ট’ বলে সম্মুখ সমরে ঝাঁপিয়ে পড়েন।

এ সময় তিনি বলেন, ২৬ মার্চ কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা দিশেহারা জাতিকে যুদ্ধের পথ দেখিয়েছিল। ১০ এপ্রিল প্রবাসী সরকারের নেতা তাজউদ্দীন আহমদের ভাষণেও এই বিদ্রোহ ও ঘোষণার স্বীকৃতি রয়েছে।

তথ্যমন্ত্রী বর্তমান সময়কে তথ্য প্রযুক্তি ও সিটিজেন জার্নালিজমের যুগ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এখন আর ইতিহাস বিকৃত করার বা সত্য লুকিয়ে রাখার কোনো সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রবর্তিত বহুদলীয় গণতন্ত্রের ধারা এবং বেগম খালেদা জিয়ার সংসদীয় গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রাম ও দেশনায়ক তারেক রহমানের বর্তমান নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা একই সূত্রে গাঁথা।

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, শহীদ জিয়াই বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের সূচনা করেছিলেন এবং পরাজিত শক্তিকেও পার্লামেন্টে জায়গা দিয়ে উদার গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির উদাহরণ সৃষ্টি করেছিলেন। সেই পথ অনুসরণ করেই বিএনপি দেশ ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাচ্ছে।

ড্যাব সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন ও ড্যাব-এর প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার।