সোমবার, সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬

যেকোনো মূল্যে গণভোটের রায়কে আদায় করেই ছাড়ব: শফিকুর রহমান

জাতীয় নির্বাচনের ফল হাইজ্যাক করা হলেও যেকোনো মূল্যে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করা হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

সোমবার (৬ এপ্রিল) জাতীয় প্রেসক্লাবে জাগপার ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠের অহমিকায় বিএনপি ফ্যাসিবাদী আচরণ করছে মন্তব্য করে আমির অভিযোগ করেন, শুধু ব্যক্তি পরিবর্তনের জন্য অভ্যুত্থান সংগঠিত হয়নি। অভ্যুত্থান পুরো ফ্যাসিবাদী কাঠামোর বিরুদ্ধে ছিল। কিন্তু জাতীয় নির্বাচনের ফলাফল হাইজ্যাক করেছে একটি পক্ষ। হুঁশিয়ারি দিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘যেকোনো মূল্যে গণভোটের রায়কে আমরা আদায় করেই ছাড়ব। এই প্রজন্ম ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সজাগ রয়েছে। তাদেরকে সঙ্গে নিয়ে যেকোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমরা লড়াই করবো।’ বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, জ্বালানি সংকট ও হাম সংক্রমণ ইস্যু নিয়ে সংসদে কথা বলতে গেলেই আমাদের মুখ বন্ধ করে দেয়া হয়। আমাদের নোটিশ আলোচনার জন্য উত্থাপন করা হয় না। সরকার বলছে, জ্বালানি সংকট নেই। কিন্তু আমি নিজের গাড়ির জন্যই প্রয়োজন মাফিক তেল পাই না।

‘সংসদে জনগণের ভাগ্য নিয়ে যেন কেউ ছিনিমিনি খেলতে না পারে, সেজন্য আমরা লড়াই করে যাবো’, যোগ করেন ডা. শফিকুর রহমান। আলোচনা সভায় বিভিন্ন দলের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের পাশাপাশি যোগ দেন কবি, সাহিত্যিকসহ সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। চলমান নানা সংকট ইস্যুতে সরকারের সমালোচনা করেন অনুষ্ঠানে আসা বক্তারা। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও রাষ্ট্র সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বক্তব্য দেন তারা। সংসদে অভ্যুত্থানের চেতনা সমুন্নত রাখতে সচেষ্ট হতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান বক্তারা।

সংরক্ষিত নারী আসনের ভোট ১২ মে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংরক্ষিত নারী আসনের ভোটের তফসিল ৮ এপ্রিল ঘোষণা করা হবে এবং ১২ মে ভোটগ্রহণ হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।

সোমবার (৬ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনের সভাকক্ষে ১১তম কমিশন সভা শেষে এসব কথা বলেন তিনি।

আখতার আহমেদ বলেন, আগামী ৯ মে বগুড়া-৬ এবং শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচনকে ১২ ফ্রেব্রুয়ারির ভোটের মতোই গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট নিয়ে ৫০টি মামলা রয়েছে। যার কারণে এসব মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সেসব জায়গার নির্বাচন সামগ্রী সংরক্ষণ করবে কমিশন- এ কথা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের সামগ্রী সংরক্ষণ একবছর করা হবে।

এবারের কমিশন সভায় মোট পাঁচটি আলোচ্য সূচি রাখা হয়। এরমধ্যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন এবং প্রাসঙ্গিক বিষয়াদি ছিল। সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলো তাদের প্রাপ্ত আসনসংখ্যা অনুসারে যাদের মনোনয়ন দেবে, মূলত তারাই নির্বাচিত হবেন।

এরইমধ্যে সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী রাজনৈতিক দলগুলো তাদের দলীয় ও জোটের তালিকা ইসিতে জমা দিয়েছে।

আইন অনুযায়ী, সাধারণ আসনে নির্বাচনী ফলাফলের সরকারি গেজেট প্রকাশ হওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে এ নির্বাচন সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

গত ১৩ ফেব্রুয়ারি এ গেজেট প্রকাশ হয়। সেক্ষেত্রে এ নির্বাচনের সময় রয়েছে আগামী ১৪ মে পর্যন্ত। এ নির্বাচন দ্রুত শেষ করতে চায় কমিশন।

এসএসসির খাতা মূল্যায়নে অনিয়ম হলে কঠোর ব্যবস্থা: শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, আসন্ন এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সারাদেশে সম্পূর্ণ নকলমুক্ত ও স্বচ্ছ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের পাশাপাশি খাতা মূল্যায়নেও যথাযথ নিয়ম অনুসরণের ওপর জোর দেন তিনি। কোনো পরীক্ষক মূল্যায়নে অনিয়ম করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সোমবার (৬ এপ্রিল) এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা ২০২৬ উপলক্ষ্যে ময়মনসিংহ শিক্ষাবোর্ড এবং ময়মনসিংহ অঞ্চলের মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের কেন্দ্রসচিবদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পরীক্ষায় নকল বন্ধ করা যেমন জরুরি, তেমনি খাতা মূল্যায়নেও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। খাতা মূল্যায়নে নির্ধারিত নিয়ম মানা না হলে তা শিক্ষাব্যবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।শিক্ষার্থীদের প্রকৃত মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে পরীক্ষকদের দায়িত্বশীল হতে হবে। কোনো ধরনের গাফিলতি বা পক্ষপাতিত্ব বরদাশত করা হবে না।

সভায় তিনি নকলমুক্ত পরীক্ষা আয়োজনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বলেন, শিক্ষার্থীরা যেন নিজ যোগ্যতায় উত্তীর্ণ হতে পারে, সে পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক হতে হবে। পরীক্ষাকেন্দ্র ব্যবস্থাপনায় কঠোরতা বজায় রাখতে হবে এবং প্রতিটি ধাপে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে সরকার কাজ করছে এবং এ ক্ষেত্রে শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি ইস্যুতে আমাকে ডাকা হয়নি: আসিফ নজরুল

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেসব চুক্তি হয়েছে, সেগুলোতে আমাকে কোনো দিনও ডাকা হয়নি। কারণ সেটা আমার এরিয়া কনসার্ন না। ইকোনমিক, ব্যাংকিং ও এনবিআর ইস্যুতে যে আলোচনা করা হয়েছে, সেখানেও আমাকে ডাকা হয়নি। সেটা স্যার (ড. মুহাম্মদ ইউনূস) কনসার্ন কয়েকজন উপদেষ্টাদের নিয়ে বসতেন।

লিগ্যাল (আইন) ইস্যুতে আমাকে ডাকা হতো। পলিটিক্যাল ও সংস্কার ইস্যুতে আমাকে ডাকা হতো। এমন অনেক বড় বড় ইস্যু—যেখানে যাকে প্রয়োজন, সেখানে স্যার তাকে ডাকতেন।

সম্প্রতি বিবিসি বাংলাকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন আসিফ নজরুল।

সাক্ষাৎকারে প্রশ্ন করা হয়, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দেড় বছরের পুরো সময়ে আলোচনায় ছিল সরকারের মধ্যে আর একটা সরকার ছিল। একটা কিচেন কেবিনেট ছিল। সেই কিচেন কেবিনেটের সদস্য আপনিও ছিলেন, এ ধরনের অভিযোগ আছে। প্রশ্ন শুনে আসিফ নজরুল সাফ জানিয়ে দেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তির বিষয়ে তাকে ডাকেননি ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

উল্টো প্রশ্ন রেখে আসিফ নজরুল বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে কোন সরকারের আমলে কিচেন কেবিনেট ছিল না? এ সময় সাবেক এই উপদেষ্টা আরো বলেন, কিচেন কেবিনেটের সদস্য কেউ না কেউ কোনোভাবে ছিল। যারা দু-একজন হয়তো ছিল না, তারা হয়তো ওই বিষয়ে এত বেশি গুরুত্বপূর্ণ না, এ জন্য তাদের রাখতেন না।

এ বিষয়ে সাবেক এক উপদেষ্টার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আমি শ্রদ্ধার সঙ্গে বলছি, ওই উপদেষ্টা বলেছেন— ইউনূস সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়ায় তিনি ছিলেন না। তবে উনি লেবার ‘ল’-এর বিষয়ে যতগুলো সিদ্ধান্ত হয়েছে, সেই আলোচনায় উনিই ছিলেন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি এবং প্রত্যেকটা বিষয়ে তিনিই বেশি সিদ্ধান্ত নিতেন। এরপর ইলেকশন কমিশন যখন ইলেকশন ‘ল’ ড্রাপ্টটা নিয়ে এলো, তখন উপদেষ্টারা মিলে আলোচনায় বসলাম।

তখন আমাদের অবজারভেশন কী কী আছে সেটা আপনিই বলেন। তখন ওই উপদেষ্টাকে বেশি বলতে বলা হয়েছিল। কারণ তার ইলেকশন বিষয়ে বেশি অভিজ্ঞা রয়েছে।

দেশে পৌঁছেছে জ্বালানি পণ্যবাহী ৪ জাহাজ

দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছেছে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস, এলপিজি এবং গ্যাস অয়েলবাহী চারটি জাহাজ।

সোমবার (৬ এপ্রিল) চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের মেরিন বিভাগ থেকে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

বন্দর সূত্র জানায়, উপসাগরীয় অঞ্চলসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে এসব জ্বালানি পণ্য নিয়ে জাহাজগুলো চটগ্রাম বন্দরে নোঙর করেছে। বর্তমানে এই জাহাজগুলো থেকে পণ্য খালাসের প্রক্রিয়া চলছে।

আগত জাহাজগুলো হলো গ্যাস চ্যালেঞ্জার (GAS CHALLENGER): ভারত থেকে এলপিজি (LPG) নিয়ে জাহাজটি গত ৩১ মার্চ বন্দরে পৌঁছায়। বর্তমানে এটি ‘ভাটিয়ারী’ এলাকায় অবস্থান করছে।

শান গ্যাং ফা শিয়ান (SHAN GANG FA XIAN): মালয়েশিয়া থেকে গ্যাস অয়েল নিয়ে আসা এই জাহাজটি ৩ এপ্রিল বন্দরে ভিড়েছে। এটি বর্তমানে ‘DOJ/6’ জেটিতে অবস্থান করছে এবং আগামী ৭ এপ্রিলের মধ্যে এর পণ্য খালাস সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। কুল ভয়েজার (COOL VOYAGER): নাইজেরিয়া থেকে এলএনজি (LNG) নিয়ে আসা বিশাল এই জাহাজটি ৫ এপ্রিল বন্দরে পৌঁছেছে। বর্তমানে এটি ‘FSRU’-তে অবস্থান করছে এবং ৮ এপ্রিলের মধ্যে এর কাজ শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

গ্যাস জার্নি (GAS JOURNEY): চীন থেকে এলপিজি (LPG) নিয়ে আসা এই জাহাজটিও ৫ এপ্রিল বন্দরে ভিড়েছে। বর্তমানে এটি ‘CERLIE’ এলাকায় অবস্থান করছে এবং ৮ এপ্রিলের মধ্যে এর কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেন, দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন সচল রাখতে এই জ্বালানি পণ্য দ্রুত খালাসে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। সবগুলো জাহাজ থেকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই পণ্য খালাস শেষ হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো গোপন চুক্তি নেই:পররাষ্ট্রমন্ত্রী

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের কোনো গোপন চুক্তি নেই। আমেরিকার সঙ্গে যা কিছু আছে, তা প্রকাশ করা হয়েছে। গতকাল সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে সরকারের ওপর কোনো ধরনের বাধ্যবাধকতা নেই।

সাম্প্রতিক বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক, বিশেষ করে জ্বালানি, বাণিজ্য ও উন্নয়ন সহযোগিতা নিয়ে সাধারণ আলোচনা হয়েছে। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সহায়তা অব্যাহত রাখার বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। মন্ত্রী আরো বলেন, রোহিঙ্গাদের জন্য যুক্তরাষ্ট্র এখনো বিশ্বের সবচেয়ে বড় দাতা দেশ এবং তাদের এই সহায়তা অব্যাহত রাখার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। জ্বালানি খাতে সহযোগিতা প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি দপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।

আলোচনার কিছু বিষয় গোপনীয়তার কারণে এই মুহূর্তে প্রকাশ করা না গেলেও, বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র সব ধরনের সহযোগিতা করবে বলে আশ্বাস দিয়েছে। তিনি আরও বলেন, সরকারের মূল লক্ষ্য হচ্ছে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

এজন্য বিশ্ববাজারে সবচেয়ে প্রতিযোগিতামূলক ও সাশ্রয়ী উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে। এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য বিদেশ সফর নিয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বিষয়টি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং সফরের জন্য নির্দিষ্ট কোনো দেশের নাম চূড়ান্ত হয়নি।

এবার শায়খ আহমাদুল্লাহর ভিসা বাতিল করলো অস্ট্রেলিয়া

জনপ্রিয় ধর্মীয় বক্তা মাওলানা ড. মিজানুর রহমান আজহারির পর এবার বাংলাদেশের বিশিষ্ট ইসলামি ব্যক্তিত্ব শায়খ আহমাদুল্লাহর ভিসা আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করেছে অস্ট্রেলিয়া সরকার। স্থানীয় সময় রোববার (৫ এপ্রিল) দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

হিটলারের প্রশংসা, ইহুদিবিদ্বেষী ও উগ্রবাদী প্রচারণার অভিযোগে আজহারিকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করার পরেই অস্ট্রেলিয়া সরকার শায়খ আহমদুল্লাহর বিরুদ্ধে এই কঠোর ব্যবস্থা নিলো।

খবরে জানা গেছে, সিডনি বিমানবন্দর দিয়ে শায়খ আহমাদুল্লাহ অস্ট্রেলিয়া ত্যাগের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় তার ভিসা বাতিলের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসে। অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন বিষয়ক সহকারী মন্ত্রী ম্যাট থিসলেথওয়েট এই সিদ্ধান্তের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ইহুদিবিদ্বেষী বা ইসলামোফোবিক বক্তব্যকারীদের প্রতি অস্টেলিয়া সরকারের কোনো সহনশীলতা নেই।

এ ছাড়া ডেইলি টেলিগ্রাফ শায়খ আহমদুল্লাহর ভিসা বাতিলের খবর নিয়ে প্রতিবেদনে প্রকাশ করেছে। তাতে বলা হয়েছে, শায়খ আহমদুল্লাহ অতীতে ইহুদিদের ঘৃণ্য বলে উল্লেখ করেছিলেন এবং বিশ্বব্যাপী অস্থিরতার জন্য ইহুদিদের দায়ী করেন।

(আইপিডিসি)-এর ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত ‘লিগ্যাসি অব ফেইথ’ কর্মসূচিতে অংশ নিতে শায়খ আহমদুল্লাহ সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়া সফরে যান। সফরের অংশ হিসেবে তিনি প্রথমে মেলবোর্নে পৌঁছে প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্দেশে একটি ভিডিও বার্তা দেন।

তার ৩ এপ্রিল মেলবোর্নের আল-তাকওয়া কলেজ, ৪ এপ্রিল সিডনির ডায়মন্ড ভেন্যুতে প্রধান কনভেনশন, ৬ এপ্রিল ক্যানবেরার ন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টার, ১০ এপ্রিল অ্যাডিলেডের উডভিল টাউন হল এবং ১১ এপ্রিল পার্থে ধারাবাহিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করার কথা ছিল।

তবে এসব অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করার আগেই আজহারির মতো তাকেও অস্ট্রেলিয়া ছাড়তে হলো।

চীনে যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

বাংলাদেশ-চীন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিষয়ে আলোচনার জন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান চলতি মাসের শেষ দিকে চীন যাচ্ছেন। বেইজিং সফরের সময় তিনি চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইর সঙ্গে বৈঠক করবেন।

রোববার (৫ এপ্রিল) পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে ঢাকায় চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সৌজন্য সাক্ষাতের সময় পরিকল্পিত ওই সফরের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এদিন বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন চীনের রাষ্ট্রদূত।

প্রসঙ্গত, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি খলিলুর রহমান বাংলাদেশের নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তাকে অভিনন্দন জানান চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির পলিটব্যুরোর সদস্য ওয়াং ই। অভিনন্দন বার্তায় ওয়াং ই বলেন, দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নে তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে কাজ করতে চান। এর মাধ্যমে তিনি চীন-বাংলাদেশ ‘বিস্তৃত কৌশলগত অংশীদারত্বের’ সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন ।

ঢাকার সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে বেইজিংয়ের গুরুত্বের উল্লেখ করে ওয়াং ই বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা আরও গভীর করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

এদিকে চলতি মাসে বাংলাদেশ ও চীনের পররাষ্ট্রসচিবদের মধ্যে ঢাকায় অনুষ্ঠিত বৈঠকটি একেবারে শেষ মুহুর্তে স্থগিত হয়ে গেছে। গত ৩ এপ্রিল ঢাকায় দুই দেশের পররাষ্ট্রসচিবদের ১৪ তম বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। বৈঠকে চীনের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সুন ওয়েইডংয়ের তার দেশের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তাকে পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী করার ফলে চীনের পক্ষ থেকে বৈঠকটি স্থগিত করার অনুরোধ জানানো হয়।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের বেইজিং সফরের আগে ঢাকায় দুই দেশের পররাষ্ট্রসচিবদের বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা কম।

নতুন সরকারের প্রথম একনেক বৈঠক আজ, উত্থাপন হচ্ছে ১৮টি প্রকল্প

সরকার গঠনের পর আজ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের প্রথম জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) বৈঠক বসছে। প্রাথমিকভাবে বৈঠকে ১৮টি প্রকল্প উত্থাপনের কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত ১৭টি প্রকল্পই উপস্থাপন হতে পারে। এই প্রকল্পগুলোর জন্য মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১৩ হাজার ১৬১ কোটি টাকা।

বৈঠকে নদী, পানি ও জলবায়ু, অবকাঠামো, সড়ক উন্নয়ন, স্বাস্থ্যখাত, প্রযুক্তি ও অংশীদারিত্বমূলক উন্নয়ন গুরুত্ব পেলেও বাদ যাচ্ছে আলোচিত ‘পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প’। সোমবার (৬ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টায় সচিবালয়ে মন্ত্রিসভা কক্ষে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক সভাপতি তারেক রহমানের সভাপতিত্বে এ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, প্রাথমিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নতুন সরকারের প্রথম একনেক বৈঠকে ১৮টি প্রকল্পের কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত ১৭টি প্রকল্পই উপস্থাপন হতে পারে, যার মধ্যে ৯টি নতুন প্রকল্প। এছাড়া, পরিকল্পনা মন্ত্রীর অনুমোদিত ৩৩টি প্রকল্পও বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে। তবে আলোচিত ‘পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প’ বাদ পড়েছে।

পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প প্রস্তাব করেছিল ভারতের ফারাক্কা বাঁধের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য। প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে ব্যয় ধরা হয়েছিল ৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি ২৫ লাখ টাকা। তবে বৈঠকে আলোচনার মধ্যে রয়েছে করতোয়া নদী সিস্টেম উন্নয়ন (বগুড়া ও গাইবান্ধা), ময়মনসিংহে জলবায়ু সহনশীল সেতু নির্মাণ, রাজধানীতে জরুরি পানি সরবরাহ, সর্বজনীন সামাজিক অবকাঠামো নির্মাণ, আইটি ট্রেনিং সেন্টার স্থাপন, সীমান্ত সড়ক নির্মাণ, এবং ৮টি বিভাগে শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্য উন্নয়নের জন্য মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও অংশীদারিত্বমূলক উন্নয়ন প্রকল্প।

বৈঠকে উপস্থাপনের জন্য চূড়ান্ত ১৭টি প্রকল্পের মধ্যে নদী, পানি, জলবায়ু বিষয়ক প্রকল্প রয়েছে ৪টি। এছাড়া অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্প ৫টি, সড়ক নির্মাণ ও উন্নয়ন সংশ্লিষ্ট ৩ টি, মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ডেন্টাল কলেজ হাসপাতাল নির্মাণ ২টি, প্রযুক্তি উন্নয়ন বিষয়ক এবং অংশীদারিত্বমূলক উন্নয়ন বিষয়ক একটি প্রকল্প উঠতে যাচ্ছে। মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১৩ হাজার ১৬১ কোটি টাকা।

অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, নতুন সরকারের প্রথম একনেক বৈঠকে প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলো সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনার প্রাথমিক দিকনির্দেশনা হিসেবে দেখা হবে। তবে প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা এবং সঠিক তদারকির প্রয়োজন রয়েছে।

অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মো. আইনুল ইসলাম বলেন, জলবায়ু, নদী, রাস্তা, ভবন, ব্রিজ-কালভার্টের মতো প্রকল্প হাতে নেয়ার উদ্যোগ প্রশংসনীয়। তবে প্রকল্প বাস্তবায়ন ও ব্যয় সমন্বয় বড় চ্যালেঞ্জ। এখানে দুর্নীতি হতে পারে, প্রকল্প দীর্ঘমেয়াদি হলে খরচ বাড়তে পারে; তাই নজরদারি জরুরি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, নতুন সরকারের প্রথম একনেক বৈঠকের সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর উন্নয়নের অগ্রাধিকার।

র‌্যাব থাকবে কি না, সিদ্ধান্ত নেবে সরকার : মহাপরিচালক

র‌্যা‌পিড অ্যাকশন ব‌্যাটালিয়নের (র‌্যাব) নতুন মহাপরিচালক আহসান হাবিব পলাশ বলেছেন, ‘র‌্যাব থাকবে কি না, সিদ্ধান্ত সরকারের। তবে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট হিসেবে র‌্যাবের প্রয়োজনীয়তা আছে। গত দেড় বছর র‌্যাব যেভাবে পরিচালিত হয়েছে, এভাবে পরিচালনা করতে পারলে ভাবমূর্তি ঠিক থাকবে।’

রবিবার (৫ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর কাওরান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘আগে কিছু কাজের জন্য নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। তবে এখন আমরা আমাদের কাজের দ্বারা সেটিকে মুছে দিতে চাই।’

তিনি আরো বলেন, ট্রাইব্যুনালে চলা র‍্যাবের গুম খুনের ব্যাপারে মামলায় এখন পর্যন্ত কোনো সহায়তা চাওয়া হয়নি। যদি চাওয়া হয় তাহলে ট্রাইব্যুনালকে সহায়তা করা হবে।