বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২২, ২০২৬

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক ৪ লেন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। হাইওয়ে ইম্প্রুভমেন্ট ফেস ওয়ানের আওতায় ২৬ দশমিক ২১ কিলোমিটার চার লেনে প্রশস্তকরণ প্রকল্পটির পিপিপি অনুমোদিত হয়েছে। এর কাজ ২০২৯ সালের মধ্যে সমাপ্তি হবে।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সংসদ অধিবেশনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

সেতুমন্ত্রী বলেন, এর মধ্যে ২ দশমিক ৬ কিলোমিটার ফ্লাইওভার রয়েছে। অবশিষ্ট যে অংশ প্রায় ৪৮ কিলোমিটারের সেটির ফিজিবিলিটি স্টাডি চলমান। জাইকার সঙ্গে অর্থায়নের জন্য আলোচনা চলছে। এই মহাসড়কের বাকি অংশ চার লেনে উন্নীত করার জন্য দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারব।

তিনি বলেন, কোনো সন্দেহ নেই এটি একটি দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা, দুর্ঘটনা ঘটছে। তবে দুর্ঘটনা প্রবল এলাকাগুলোতে কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

দুর্ঘটনাপ্রবণ হওয়ায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক চার লেন করার দাবি দীর্ঘদিনের। ১৫৯ কিলোমিটার চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক চার লাইনে উন্নীত করার জন্য একাধিকবার সমীক্ষা চালানো হয়েছে।

এর মধ্যে ২০১৩-১৫ সালে সমীক্ষা চালায় সুইডিশ কনসালট্যান্ট নামে একটি প্রতিষ্ঠান। তাদের সমীক্ষা প্রতিবেদনে এ কাজের জন্য ১০ হাজার কোটি টাকা প্রাক্কলন ব্যয় ধরা হয়েছিল।

প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরিতে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ হচ্ছে ৯৩ শতাংশ

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী জানিয়েছেন, বর্তমানে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ হচ্ছে ৯৩ শতাংশ।

আজ সংসদে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্য (জামায়াতে ইসলামী) মো. নূরুল ইসলামের টেবিলে উত্থাপিত লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ২০২৪ সালের ২৩ জুলাই তারিখের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী সরকারি চাকরিতে মেধার ভিত্তিতে ৯৩ শতাংশ, মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনার সন্তান ৫ শতাংশ, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ১ শতাংশ এবং শারীরিক প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গ ১ শতাংশ নিয়োগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়।

facebook sharing button

২০৩৩ সালের মধ্যে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে: এ্যানি

পানি সম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, পদ্মা অববাহিকার বিশাল কৃষি অঞ্চলকে মরুময়তা থেকে বাঁচাতে ও শুষ্ক মৌসুমে পানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে ‘পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প’ গ্রহণ করা হয়েছে।

২০৩৩ সালের মধ্যে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, প্রস্তাবিত পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পটি বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা দেশের মোট আয়তনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ জুড়ে বিস্তৃত এবং যেখানে প্রায় সাড়ে ৬ কোটি মানুষ বসবাস করে।

তিনি আরও বলেন, প্রকল্পটি নদী নির্ভরশীল জনগণের জীবন রক্ষাকারী প্রকল্প হিসেবে বিবেচিত।

পানি সম্পদ মন্ত্রী বলেন, পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের ধারণা দীর্ঘদিনের। ১৯৬০ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত সময়ে প্রকল্পটি প্রণয়নের উদ্দেশ্যে মোট চারটি সমীক্ষা পরিচালিত হয়।

তিনি আরও বলেন, পরবর্তীতে ২০০২ সালে প্রাক-সম্ভাব্যতা সমীক্ষার মাধ্যমে সম্ভাব্য স্থান নির্ধারণ করা হয়।

২০০৪ সালে ৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি বিস্তারিত সমীক্ষা প্রকল্প গ্রহণ করা হয়, যা ২০১৩ সালে সম্পন্ন হওয়ার পর, প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ নকশা চূড়ান্ত করা হয়।

শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারেও পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

এই ধারাবাহিকতায় পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে প্রকল্পের ডিপিপি ইতোমধ্যেই প্রণয়ন করে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটির প্রস্তাবিত ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি ২৫ লাখ টাকা। প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল ধরা হয়েছে ২০২৬ সাল থেকে জুন ২০৩৩ পর্যন্ত।

জাতিসংঘ সিপিডি-৫৯ অধিবেশনে গবেষণা ও তথ্যব্যবস্থা শক্তিশালীকরণের আহ্বান বাংলাদেশের

গবেষণা ও তথ্যব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তি বিনিময় ও সক্ষমতা উন্নয়ন এবং বৈশ্বিক ডিজিটাল বিভাজন কমাতে সমন্বিত ও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ।

জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী এ আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি উদীয়মান প্রযুক্তির নৈতিক ও দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করতে শক্তিশালী তথ্য-গোপনীয়তা সুরক্ষা কাঠামো গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

গতকাল (বুধবার) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত ‘জনসংখ্যা ও উন্নয়ন কমিশন’-এর ৫৯তম অধিবেশনে বক্তব্যকালে তিনি এ কথা বলেন।

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ও আন্তর্জাতিক জনসংখ্যা ও উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে প্রযুক্তি, উদ্ভাবন এবং গবেষণার অপরিহার্য ভূমিকার বিষয়টি তুলে ধরে রাষ্ট্রদূত বলেন, বিশ্বে এখনও প্রায় এক-তৃতীয়াংশ জনগোষ্ঠী ইন্টারনেট সুবিধা থেকে বঞ্চিত, যা শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও অর্থনৈতিক সুযোগে গভীর বৈষম্য সৃষ্টি করছে এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের পথে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে কাজ করছে।

তিনি বলেন, মাতৃমৃত্যু হার কমানো, টিকাদান কর্মসূচির সম্প্রসারণ, কমিউনিটি-ভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা জোরদার, নারীর ক্ষমতায়ন এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে।

পাশাপাশি দেশের টেলিমেডিসিন, ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা এবং রিয়েল-টাইম রোগ নজরদারির মতো প্রযুক্তিনির্ভর সেবার সম্প্রসারণের বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি।

তরুণ জনগোষ্ঠীতে বিনিয়োগ, দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্ভাবনকে টেকসই উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন রাষ্ট্রদূত। তিনি নগরায়ণ, জলবায়ু পরিবর্তন ও অসংক্রামক রোগের ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

বেকারত্ব মোকাবিলায় প্রাণিসম্পদ খাতকে কাজে লাগাতে সরকারের উদ্যোগ

দেশের ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব সমস্যা মোকাবিলায় প্রাণিসম্পদ খাতকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ।

আজ জাতীয় সংসদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মো. কামরুল হাসান (ময়মনসিংহ-৬)-এর টেবিলে উত্থাপিত এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

এ সময় মন্ত্রী আরও বলেন, প্রাণিসম্পদ খাতের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে নতুন নতুন প্রকল্প গ্রহণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
এ সব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বেকারত্ব হ্রাসে তা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে।

তিনি আরও বলেন, দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্বনির্ভর জনগোষ্ঠী ও উদ্যোক্তা শ্রেণি তৈরি করাই এ সব উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। এর ফলে স্ব-কর্মসংস্থান বাড়বে এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে মানুষের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পাবে।

মন্ত্রী জানান, সরকার যে প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে সিলেট অঞ্চলে দেশীয় দুগ্ধ গাভীর উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ, উত্তর-মধ্যাঞ্চলের চর ও নদী ভাঙনপ্রবণ এলাকায় প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন, জলবায়ু সহনশীল মুরগির জাত সম্প্রসারণে কেন্দ্রীয় পোলট্রি খামারের সক্ষমতা বৃদ্ধি, ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রাণিসম্পদ সেবা উন্নয়ন, কৃত্রিম প্রজনন সেবা আধুনিকায়ন এবং উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে ভেটেরিনারি সেবা উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন।

এ ছাড়া কেন্দ্রীয় ভেটেরিনারি হাসপাতালের আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ, পোলট্রি ও হাঁস খামার সেবা উন্নয়ন এবং ক্ষুদ্র জাবরকাটা প্রাণি খামারের উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন প্রকল্পও গ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ সব প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে, দেশে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে, নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হবে ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হবে।

মাদক, সন্ত্রাস ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’: পার্বত্যমন্ত্রী

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান বলেছেন, মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর ও আপসহীন।

রাষ্ট্র ও সমাজের স্থিতিশীলতা রক্ষায় এসব অপরাধের বিরুদ্ধে ঘোষিত ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি মাঠপর্যায়ে শতভাগ বাস্তবায়ন করা হবে বলেও জানান তিনি।

গতকাল (বুধবার) বান্দরবান জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে জেলার সরকারি কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘মাদক, সন্ত্রাস বা চাঁদাবাজিতে অভিযুক্ত ব্যক্তি যেই হোক না কেন, তাকে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। অপরাধীর কোনো দলীয় পরিচয় বিবেচনা করা হবে না। যদি আমাদের দলের কোনো ব্যক্তিও এসব অপকর্মে লিপ্ত থাকে, তবে তাকেও আইনের আওতায় আসতে হবে। জননিরাপত্তা বিঘ্নিত হয় এমন কোনো কাজ সরকার মেনে নেবে না।’

দীর্ঘদিন পর অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে একটি জনপ্রতিনিধিত্বশীল সরকার গঠিত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের মূল লক্ষ্য হলো উন্নয়ন। নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে উন্নয়নের নতুন দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। পর্যায়ক্রমে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও গতিশীল করা হবে।

মন্ত্রী সরকারি কর্মকর্তাদের নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের জীবনমান ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন অনেকাংশেই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ওপর নির্ভরশীল। তাই সবাইকে আরও দায়িত্বশীল ও জনবান্ধব হতে হবে।

এ সময় তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে বাস্তব পরিস্থিতি ও সমস্যার কথা শোনেন। তাৎক্ষণিক সমাধান সম্ভব না হলে সেগুলো গুরুত্বের সঙ্গে ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে উপস্থাপন করা হবে বলে আশ্বস্ত করেন।

মতবিনিময় সভায় বান্দরবান পার্বত্য জেলায় কর্মরত পদস্থ সরকারি কর্মকর্তা, স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।

সভা শেষে মন্ত্রী বান্দরবান জেলা সদরের রাজার মাঠে মারমা সম্প্রদায়ের প্রধান সামাজিক উৎসব ‘মাহা সাংগ্রাই পোয়ে ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত মৈত্রী পানি বর্ষণ (জলকেলি) অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন।

এ সময় তিনি পার্বত্য অঞ্চলের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও কৃষ্টি রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

রাজধানীতে ২৪ ঘণ্টায় বিভিন্ন অভিযোগে গ্রেফতার ৫৯

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে ৫৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

বুধবার বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকায় নিয়মিত অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া ও পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-কমিশনার এন এম নাসিরুদ্দিন আজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।

গ্রেফতারদের মধ্যে তেজগাঁও থানায় চারজন, মোহাম্মদপুর থানায় ৩১ জন, শেরেবাংলা নগর থানায় পাঁচজন, আদাবর থানায় পাঁচজন, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় ১০ জন ও হাতিরঝিল থানায় চারজন রয়েছে।

গ্রেফতাররা হলেন-বিথী বেগম (২৬), মো. শাকিল (২৫), মো. রিপন (২৬), মো. নাদিম সরকার (২০), মো. ফরহাদ হোসেন (২২), মো. লুৎফর রহমান (৬৭), মো. বাবু (৫০), রতন মিয়া ওরফে ইকবাল হোসেন (৩৬), মো. শিমুল (২৯), তানজিল গাজী (২৪), মো. সাগর (২৭), মো. ফারুক হোসেন (৩৮), মো. সাব্বির, মো. মামুন, মো, সুজন (১৯), মো. আরিফ হোসেন (২০), মো. রকি (২১), মো. আরিফ হোসেন রিফাত (১৯), মো. লালন দেওয়ান (২৬), মো. আকরাম হোসেন (২৫), মো. সজিব (১৮), শাকিল ওরফে কুন্ডু, মো. রনি, মো. সজল সরদার (২০), মো. সাদ্দাম হোসেন (২১), রিয়াজ আশরাফি (২৫), মো. সরুজ মিয়া (৪৫), মো. রিয়াজ (২৪), মো. তাইজুল ইসলাম (২৭), মো. কামাল হোসেন (৩৪), মো. সোহেল (২৪), মো. সুমন মিয়া (২৫), প্রকাশ ঋষি (২২), মো. শফিক (৪৫), আব্দুল মাসুদ (২১), মো. নাহিদ ইসলাম (২০), মো. সবুজ মিয়া (২৪), মো. হাসান আল রাব্বী (৩০), মো. নাইম (২০), তৌফিক (২০), আলী আকবর (২২), মো. আশরাফুল (২০), মিরাজ (২৩), মো. রনি (১৯), রায়হান (২৩), মো. কামাল (৫২), সজীব সরকার (২১), মো. ইমরান (৩০), মো. সেলিম (২০), মো. নাসিম (২২), মো. মাসুদ রানা (২৫), জুয়েল হোসেন (২১), মোরসালিন জিহাদ (২৪), আজিজুল হক (১৯), মো. মিন্টু (২৭), মো. পারভেজ (১৯), মো. তরিকুল ইসলাম (২৫), দেবুনীল পোদ্দার (১৯) ও মো. সিয়াম (২০)।

গ্রেফতারদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

বিশ্বকাপ দলে ফিরতে নতুন চ্যালেঞ্জ নেইমারের

ব্রাজিল জাতীয় দলে জায়গা ফিরে পাওয়ার লড়াইয়ে কঠিন সময় পার করছেন নেইমার। ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ সামনে রেখে নিজেকে প্রমাণ করতে হলে মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি মানসিক দৃঢ়তা দেখানো জরুরি হয়ে পড়েছে এই তারকার জন্য।

ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনচেলত্তি ইতোমধ্যেই স্পষ্ট করে দিয়েছেন, জাতীয় দলে খেলতে হলে খেলোয়াড়দের শারীরিক ও মানসিক, দুই দিক থেকেই সেরা অবস্থায় থাকতে হবে। বিশেষ করে মাঠে সংযম হারানোর ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

সম্প্রতি এক ম্যাচে সান্তোসের হয়ে খেলতে গিয়ে নেইমারের আচরণ নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। উত্তেজনাপূর্ণ মুহূর্তে তার প্রতিক্রিয়া আবারও প্রশ্ন তুলেছে চাপের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা নিয়ে। শুধু তাই নয়, এমন পরিস্থিতিতে ইনজুরির ঝুঁকিও বেড়ে যায়, যা তার মতো খেলোয়াড়ের জন্য বড় চিন্তার বিষয়।

ম্যাচ শেষে নিজের সমর্থকদের সঙ্গে তার আচরণও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
একজন সিনিয়র ও নেতৃত্ব দেওয়ার মতো খেলোয়াড়ের কাছ থেকে এমন আচরণ প্রত্যাশিত নয় বলে মনে করছেন অনেকেই।

সব মিলিয়ে, নেইমারের ক্যারিয়ারে প্রতিভার কোনো ঘাটতি নেই। তবে ধারাবাহিকতা, নিয়ন্ত্রণ এবং গুরুত্বপূর্ণ সময়ে নিজেকে ধরে রাখার ক্ষমতাই এখন তার সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

২০২৬ বিশ্বকাপের আগে ব্রাজিল দলে জায়গা পেতে হলে এই বিষয়গুলো দ্রুত উন্নতি করতে হবে নেইমারকে।
নাহলে কঠিন প্রতিযোগিতার মধ্যে তার জায়গা হারানোর শঙ্কা থেকেই যাবে।

তুরস্কে স্কুলে গোলাগুলি, শিক্ষার্থী ও শিক্ষকসহ নিহত ৯

দক্ষিণ তুরস্কের একটি স্কুলে গোলাগুলির ঘটনায় অন্তত আটজন ছাত্র ও একজন শিক্ষক নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া আরো বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মুস্তাফা চিফচি।

ঘটনাটি ঘটেছে কাহরামানমারাস এলাকার আইসের চালিক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে। চিফচি জানান, ১৩ জন আহত হয়েছেন।
যাদের মধ্যে ছয়জনের অবস্থা গুরুতর।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই ঘটনায় ১৪ বছর বয়সী এক হামলাকারীও নিহত হয়েছে। দেশটির দক্ষিণে আরেকটি উচ্চ বিদ্যালয়ে এক প্রাক্তন ছাত্রের গুলিবর্ষণের ঘটনায় ১৬ জন আহত হওয়ার একদিন পর এই ঘটনাটি ঘটল। এরপর ওই ছাত্রটি আত্মহত্যা করে।

বুধবারের এই হামলার উদ্দেশ্য এখনো জানা যায়নি এবং একটি তদন্ত শুরু করা হয়েছে। তুর্কি গণমাধ্যম জানিয়েছে, হামলাকারী একজন ছাত্র বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি দুটি শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করেছিল এবং তার কাছে পাঁচটি বন্দুক ও সাতটি ম্যাগাজিন ছিল।

স্থানীয় গভর্নর মুকেরেন উনলুয়ের অভিযোগ করেছেন, অস্ত্রগুলো ওই ছাত্রের সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা বাবার ছিল।
স্থানীয় গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, হামলাকারীর বাবাকে পুলিশ আটক করেছে।

বিবিসি কর্তৃক যাচাইকৃত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, হামলা চলাকালে লোকজন স্কুলের প্রথম তলার জানালা থেকে লাফিয়ে পড়ছে এবং চত্বর থেকে দৌড়ে পালাচ্ছে। তুর্কি সম্প্রচারকারী সংস্থা এনটিভির একজন প্রতিবেদক বলেন, ‘গুলি চালানোর শব্দ খুব তীব্র ছিল। স্কুলের সামনে আতঙ্ক বিরাজ করছিল।’ গুলি চালানোর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর অশ্রুসন্তপ্ত অভিভাবকরা ভবনটির বাইরে জড়ো হন।

এএফপি সংবাদ সংস্থাকে একজন অভিভাবক ওমর এরদাগ বলেন, ‘আমার সন্তান দৃশ্যটি দেখে বলেছিল, বাবা আমার বন্ধু আহত হয়েছে।’ তিনি প্রশ্ন করেন, ‘আমি কিভাবে আমার সন্তানদের আবার এই স্কুলে নিয়ে আসব?’ তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান এক্স-এ একটি পোস্টে আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন।

স্পোর্টিংকে আটকে দিয়ে সেমিফাইনালে আর্সেনাল

চ্যাম্পিয়নস লিগে কঠিন এক লড়াই শেষে সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে আর্সেনাল। নিজেদের মাঠে গোলশূন্য ড্র করেও দুই লেগ মিলিয়ে ১-০ ব্যবধানে স্পোর্টিং সিপিকে হারিয়ে শেষ চারে উঠেছে ইংলিশ ক্লাবটি।

প্রথম লেগে কাই হাভার্টজের করা একমাত্র গোলই হয়ে ওঠে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারক। সেই লিড ধরে রেখেই সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে মিকেল আর্তেতার দল।
শেষ চারে তাদের প্রতিপক্ষ অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদ।

তবে ম্যাচে খুব একটা ছন্দে ছিল না আর্সেনাল। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক খেলতে থাকে স্পোর্টিং। ত্রিনকাওর শট অল্পের জন্য বাইরে চলে গেলে যে যাত্রায় বেঁচে যায় আর্সেনাল।
অন্যদিকে আর্সেনালের ভিক্টর গিয়োকেরেসের প্রচেষ্টাও লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।

প্রথমার্ধের শেষ দিকে গোল পেয়েই যাচ্ছিল স্পোর্টিং। ম্যাক্সি আরাউহোর পাস থেকে কাটামোর ভলি পোস্টে লেগে ফিরে আসে। এছাড়া গোলরক্ষক ডেভিড রায়ার একটি ভুলও প্রায় বিপদ ডেকে আনছিল।

দ্বিতীয়ার্ধেও চাপ ধরে রাখে স্পোর্টিং। তবে আর্সেনালের রক্ষণভাগ দৃঢ় থাকায় গোলের দেখা পায়নি তারা। অন্যদিকে গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লি ও ননি মাদুয়েকের সুযোগগুলোও কাজে লাগাতে পারেনি স্বাগতিকরা।

শেষ দিকে লিয়ান্দ্রো ত্রোসার্ডের হেড পোস্টে লাগে, আর যোগ করা সময়ে জোয়াও সিমোএসের শট অল্পের জন্য বাইরে চলে গেলে বেঁচে যায় আর্সেনাল।

শেষ পর্যন্ত দুই লেগ মিলিয়ে ১-০ ব্যবধানে সেমিফাইনালে উঠেছে আর্সেনাল।
এখন তাদের সামনে আরো বড় চ্যালেঞ্জ, সেমিতে তাদের প্রতিপক্ষ অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদ।