সোমবার, সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬

ভারতের সঙ্গে নতুন অধ্যায় শুরু করতে চায় সরকার : প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলের সম্পর্কের ধারা বদলে ভারতের সঙ্গে সম্পূর্ণ নতুন এক অধ্যায় শুরু করতে চায় বর্তমান সরকার।

সোমবার (৬ এপ্রিল) সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মার সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।

উপদেষ্টা জানান, বৈঠকে দুই দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে বিশেষ আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে ভারত থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল আমদানির বিষয়টি প্রাধান্য পেয়েছে।

হুমায়ুন কবির বলেন, ‘দুই দেশের মধ্যে ইতিবাচক সম্পর্ক বজায় থাকলে অনেক সমস্যার সমাধান সম্ভব। পাইপলাইনে জ্বালানি আমদানির প্রক্রিয়াটি এগিয়ে নিতে আমরা আশাবাদী।’

সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের প্রসঙ্গ টেনে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘শেখ হাসিনার আমলে যে ধরনের সম্পর্ক ছিল, তা আর হবে না। সেই অধ্যায় এখন শেষ।’

আসন্ন ‘ইন্ডিয়ান ওশান কনফারেন্স’-এ যোগ দিতে মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ভারত সফরে যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা। এই সফরে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রীর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে।

হুমায়ুন কবির জানান, সফরে দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট সব বিষয়, বিশেষ করে সীমান্ত হত্যা বন্ধসহ অন্যান্য অমীমাংসিত ইস্যুগুলো নিয়ে আলোচনা হবে।

২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির লক্ষ্য : অর্থমন্ত্রী

২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু আয় দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৭৬৯ মার্কিন ডলার। একইসঙ্গে আগামী ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশের অর্থনীতিকে এক ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার মেগা লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার।

সোমবার (৬ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের নবম দিনে ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস. এম. জাহাঙ্গীর হোসেনের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ তথ্য জানান। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অধিবেশনটি অনুষ্ঠিত হয়।

অর্থমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ তথ্যমতে মাথাপিছু আয় এখন ২ হাজার ৭৬৯ ডলার। তবে সরকারের লক্ষ্য আরও সুদূরপ্রসারী। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির মাইলফলক স্পর্শ করা। এই লক্ষ্য অর্জনে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, অর্থনৈতিক গণতন্ত্রায়ন, ক্রিয়েটিভ ইকোনমি এবং স্পোর্টস ইকোনমিকে গুরুত্ব দিয়ে বিশেষ কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হচ্ছে।

মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির জন্য সরকার কেবল নির্দিষ্ট কোনো খাতের ওপর নির্ভর করছে না। অর্থমন্ত্রী সংসদে জানান, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, উৎপাদনশীলতা বাড়ানো, রপ্তানি ও প্রবাস আয় বৃদ্ধি এবং সামাজিক সুরক্ষার মতো সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

সংসদে উপস্থাপিত তথ্যানুযায়ী সরকারের প্রধান পদক্ষেপগুলো হলো- বেকারত্ব নিরসন ও কর্মসংস্থানের মাধ্যমে উৎপাদন, আইটি, কৃষি-প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা খাতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হচ্ছে। শিল্পায়ন ও বেসরকারি বিনিয়োগের মাধ্যমে ব্যবসা সহজ করা এবং শিল্প স্থাপনে উৎসাহ দেওয়ার মাধ্যমে উৎপাদনমুখী খাতে অর্থপ্রবাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে।

এছাড়া এসএমই খাতে বিশেষ নজর আছে সরকারের। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা, বিশেষ করে নারী ও যুব উদ্যোক্তাদের জন্য অর্থায়ন সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দেশি ও বিদেশি শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী কারিগরি প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করা হচ্ছে, যাতে তাদের আয় করার ক্ষমতা বাড়ে। বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠানো সহজ করা এবং রপ্তানি পণ্য বহুমুখীকরণের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করার চেষ্টা চলছে।

গৃহীত এসব পদক্ষেপের বাস্তবায়ন সম্পর্কে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, বেশ কিছু পদক্ষেপ চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরেই বাস্তবায়নাধীন আছে। বাকিগুলো স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদে পর্যায়ক্রমে সম্পন্ন করা হবে।

তিনি বলেন, সরকারের এই সমন্বিত উদ্যোগগুলো একদিকে যেমন মানুষের ক্রয়ক্ষমতা সুরক্ষিত রাখবে, অন্যদিকে ২০৩৪ সালের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে মজবুত ভিত্তি তৈরি করবে।

এখন থেকে সরকারের সমালোচনা কম করব: আসিফ নজরুল

অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেছেন, অধ্যাপনাজীবনে ফেরত গিয়েছি। এখন আমার চিন্তা ভালো কিছু রিসার্চ করা। ভালো কিছু উপন্যাস লেখা। সরকারের সমালোচনা আগের চেয়ে একটু কম করব।

সমালোচনা করার সময় আরেকটু সাবধান থাকব। বাইরে থেকে দেখে মনে হয়, খুব সোজা সব কিছু। কিন্তু এত সোজা নয়, অনেক কঠিন।
সম্প্রতি বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন তিনি।

এ সময় মব জাস্টিস নিয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে সাবেক এই উপদেষ্টা বলেন, মব জাস্টিস ঠেকানোর ক্ষেত্রে আমাদের যে ধরনের কঠোরতা বা দৃঢ়তা দেখানোর দরকার ছিল, সেটা দেখাতে ব্যর্থ হয়েছি।

তিনি বলেন, গত জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের পর পুলিশ বাহিনীর মনোবল ভেঙে যাওয়া এবং প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলার কারণে শুরুতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা চ্যালেঞ্জিং ছিল।

ধানমণ্ডি-৩২ নম্বরের বাড়ি ভাঙার বিষয়ে তাকে প্রশ্ন করা হয়। এ ঘটনায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নীরব থাকার বিষয়ে নিজেদের দোষ স্বীকার করেন। তিনি বলেন, এটা আমাদের চরম ব্যর্থতা।

তিনি বলেন, ৫ থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত দেশে কোনো ভাঙচুর হয়নি। কিন্তু পরবর্তী সময়ে কিছু কিছু উসকানি দেওয়ার কারণে এই ঘটনাগুলো ঘটেছে। শেখ হাসিনাও বিভিন্ন সময় জুলাই আন্দোলনকারীদের সম্পর্কে বিভিন্ন আক্রমণাত্মক কথা বলেছেন, সে জন্য এ ঘটনাগুলো ঘটেছে।

শীর্ষ ২০ ঋণ খেলাপীর তালিকা সংসদে

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, বর্তমানে (৩১ ডিসেম্বর ২০২৫) খেলাপী ঋণের পরিমান ৫ লাখ ৪৪ হাজার ৮৩১ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। বতর্মান সংসদ সদস্য ও তাদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের খেলাপী ঋণ ১১ হাজার ১১৭ কোটি ৩১ লাখ টাকা।

সোমবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তরে এনসিপির সংসদ সদস্য আবুল হাসনাতের (হাসনাত আবদুল্লাহ) প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্য মন্ত্রী এ তথ্য জানান। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উপস্থাপিত হয়।

হাসনাত আবদুল্লাহর প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী শীর্ষ ২০ ঋণ খেলাপীর তালিকা সংসদে তুলে ধরেন। মন্ত্রীর দেওয়া তালিকা অনুযায়ী শীর্ষ ২০ ঋণ খেলাপী প্রতিষ্ঠান হচ্ছে- এস আলম সুপার এডিবল অয়েল লি., এস আলম ভেজিট্যাবল অয়েল লি., এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাজট্রিজ লি., এস আলম কোল্ড রোলেড স্ট্রিলস লি., সোনালী ট্রেডার্স, বাংলাদেশ এক্সপোর্ট ইমপোর্ট কোম্পানী লি., গ্লোবাল ট্রেডিং করপোরেশন লি., চেমন ইসপাত লি., এস আলম ট্রেডিং কোম্পানী প্রাইভেট লি., ইনফিনাইট সিআর স্ট্রিপস ইন্ডাজট্রিজ লি., কেয়া কসমেটিকস লি., দেশবন্ধু সুগার মিলস লি., পাওয়ার প্যাক মুতিয়ারা কেরাণীগঞ্জ পাওয়ার প্লান্ট লি., পাওয়ার প্যাক মুতিয়ারা জামালপুর পাওয়ার প্লান্ট লি., প্যাসিফিক বাংলাদেশ টেলিকম লি., কেরাণীগঞ্জ ফুডস (প্রা.) লি., মুরাদ এন্টারপ্রাইজ, সিএলসি পওয়ার কোম্পানী, বেক্সিমকো কমিউনিকেশনস লি. এবং রংধনু বিল্ডার্স (প্রা.) লিমিটেড।

বর্তমান সংসদ সদস্য ও তাদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণের পরিমাণ ১১ হাজার ১১৭ কোটি ৩১ লাখ টাকা।

এর মধ্যে আদালতের নির্দেশণা অনুযায়ী খেলাপী ঋণের মধ্যে তিন হাজার ৩৩০ কোটি ৮ লাখ টাকা খেলাপী হিসেবে দেখানো হয়নি।

সরকারের কথা শুনলে মনে হয় বাংলাদেশ তেলের ওপর ভাসছে: শফিকুর রহমান

বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান সরকারের জ্বালানি নীতি ও বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, সরকারি দলের মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের কথা শুনলে মনে হয় বাংলাদেশ যেন তেলের ওপর ভাসছে।

সোমবার (৬ এপ্রিল) জাতীয় প্রেস ক্লাবের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি অভিযোগ করেন, পাম্পগুলোতে জ্বালানি তেলের জন্য যানবাহন ও মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন থাকলেও সরকার রিজার্ভ বেশি থাকার দাবি করে প্রকৃত সত্য আড়াল করতে চাইছে। সংসদে জ্বালানি সংকট নিয়ে কথা বলতে চাইলে সেই নোটিশ আলোচনাতেই আসতে দেওয়া হয় না বলে তিনি দাবি করেন।

ডা. শফিকুর রহমান বর্তমান সংসদের গঠন প্রকৃতি নিয়ে আলোকপাত করতে গিয়ে বলেন যে, এই সংসদে যারা প্রবেশের সুযোগ পেয়েছেন তাদের প্রায় সকলেই কোনো না কোনোভাবে মজলুম। এদের মধ্যে কেউ জেল খেটেছেন, কেউ আয়নাঘরে বন্দি ছিলেন, আবার কেউ ফাঁসির মঞ্চ বা নির্বাসন থেকে ফিরে এসেছেন।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, এমন ব্যক্তিদের নিয়ে গঠিত সংসদ যদি জনগণের দুঃখ না বোঝে, তবে আর কে বুঝবে? তিনি সতর্ক করে বলেন যে, ৫৪ বছর ধরে যে ফ্যাসিবাদ বাঙালি জাতিকে দাবিয়ে রেখেছিল, ২০২৪ সালের বিপ্লবীরা তাকে বঙ্গোপসাগরে ছুড়ে ফেলে দিয়েছে। এখন যারা সেই নর্দমা থেকে ফ্যাসিবাদকে তুলে আনতে চাইছে, তাদের বিরুদ্ধে তরুণ প্রজন্ম ও জামায়াতে ইসলামী ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।

বক্তব্যের এক পর্যায়ে জামায়াত আমির ২৪-এর আন্দোলনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে বলেন যে, বর্তমান প্রজন্ম কেবল ব্যক্তি পরিবর্তনের জন্য লড়াই করেনি, বরং তারা ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের জন্য যুদ্ধ করেছে। তিনি দাবি করেন, বিগত নির্বাচনে ৭০ শতাংশ মানুষ ‘হা’ এর পক্ষে রায় দিয়ে জামায়াতকে সমর্থন দিয়েছিল, কিন্তু সেই রায়কে ‘হাইজ্যাক’ ও ‘ডাকাতি’ করা হয়েছে।

ডা. শফিকুর রহমানের মতে, যেদিন গণভোটের রায়কে অস্বীকার করা হয়েছে, সেদিন থেকেই বাংলাদেশে নতুন করে ফ্যাসিবাদের যাত্রা শুরু হয়েছে। তিনি ঘোষণা করেন যে, এই সংসদ মানুক আর না মানুক, জামায়াতে ইসলামী জনগণের রায় বাস্তবায়নে রাজপথে ফিরে যাবে এবং যেকোনো মূল্যে ইনসাফ কায়েম করবে।

দলের অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন যে, যারা নিজেদের দলের ভেতরে গণতন্ত্র ও ইনসাফের চর্চা করতে পারে না, তারা ১৮ কোটি মানুষকে নিরাপত্তা বা গণতন্ত্র উপহার দিতে পারবে না। সংসদে উপস্থিত তাদের ৭৭ জন সদস্য জনগণের অধিকার রক্ষায় অতন্দ্র প্রহরীর মতো কাজ করবে এবং জাতির ভাগ্য নিয়ে কাউকে ছিনিমিনি খেলতে দেবে না বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন।

আলোচনা সভায় জাগপা-র মুখপাত্র রাশেদ প্রধানসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। পরিশেষে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন যে, যেকোনো মূল্যে বাংলাদেশে পুনরায় ফ্যাসিবাদের ফিরে আসা রোধ করা হবে এবং ইনশাআল্লাহ এই অশুভ যাত্রাকে থামিয়ে দেওয়া হবে।

বাংলাদেশ-পাকিস্তানের মধ্যে যৌথভাবে কাজ করার নতুন সুযোগ সৃষ্টি করেছে

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, বর্তমান বিশ্বে নিউ মিডিয়ার দ্রুত বিস্তার বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে যৌথভাবে কাজ করার নতুন সুযোগ সৃষ্টি করেছে। পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে গণমাধ্যম খাতে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র চিহ্নিত করা হবে।

সোমবার (৬ এপ্রিল) সচিবালয়ে মন্ত্রীর অফিস কক্ষে বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এসময় তিনি এ কথা বলেন।

সাক্ষাতে পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদার এবং দুই দেশের গণমাধ্যম, সংস্কৃতি ও জ্ঞানভিত্তিক সহযোগিতা বৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা হয়।

সাক্ষাতের শুরুতে পাকিস্তানের হাইকমিশনার তথ্যমন্ত্রীকে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অভিনন্দন জানান।

এসময় তারা দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির উপর গুরুত্বারোপ করেন।

দ্বিপাক্ষিক সাংস্কৃতিক বিনিময়, বিশেষ করে শিল্পী ও অভিনয়শিল্পীদের পারস্পরিক সফর এবং যৌথ প্রযোজনার সম্ভাবনাও আলোচনায় উঠে আসে।

পাকিস্তান-বাংলাদেশ ‘নলেজ করিডোর’ উদ্যোগের আওতায় বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষায় শিক্ষার্থী বিনিময় কার্যক্রম সম্প্রসারণের বিষয়েও সাক্ষাতে আলোচনা হয়।

এ সময় বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) এবং পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস অব পাকিস্তান (এপিপি)-এর মধ্যে বিদ্যমান সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে তারা একমত হন।

হাইকমিশনার তথ্যমন্ত্রীকে পাকিস্তান সফরের আমন্ত্রণ জানান এবং এই ধরনের সফরের মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

পে-স্কেলের দাবিতে প্রধানমন্ত্রীকে স্মারকলিপি

নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো কর্মসূচি পালন করছেন সরকারি কর্মচারীরা। আসন্ন ২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ৯ম পে-স্কেলের জন্য বরাদ্দ রেখে দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে সোমবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে স্মারকলিপি দিয়েছেন তারা।

বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারী কল্যাণ সমিতির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির আহ্বায়ক আবদুল মালেক ও সদস্যসচিব আশিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

স্বারকলিপিতে বলা হয়, বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রতিটি সেক্টরে নিষ্ঠা, সততা, ও দ্বায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করে দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।

প্রশাসন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আইনশৃঙ্খলা, অবকাঠামো উন্নয়নসহ সব সেবামূলক কার্যক্রমে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে বলতে হচ্ছে ২০১৫ সালে ৮ম পে-স্কেল হবার পর প্রায় ১১ বছর অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়ন হয়নি।

দীর্ঘ এই সময়ে দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতা, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং জীবনযাপনের ব্যয় ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে সরকারি নিম্ন গ্রেডভুক্ত কর্মচারীরা ২০১৫ সালের বেতন দিয়ে জীবনযাপনে চরমভাবে আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছে।

প্রায় ৯০ শতাংশ কর্মচারী ব্যাংক ও প্রবিডেন্ট ফান্ড থেকে বার বার ঋণ নিয়ে সর্বস্বান্ত হয়েছেন।

এতে আরো বলা হয়, বর্তমান নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, বাসা ভাড়া, বিদ্যুৎ, গ্যাস, শিক্ষা ও চিকিৎসা ব্যয় অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি বেড়েছে কিন্তু সেই অনুপাতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন কাঠামোতে কোনো মৌলিক পরিবর্তন হয়নি। ২০১৫ সালের বেতন কাঠামোতে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে সঙ্গে বেতন সমন্বয়ের কথা থাকলেও তা করা হয়নি। এক কথায় নিম্ন গ্রেডভুক্ত কর্মচারীরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়নের পক্ষে স্মারকলিপিতে উল্লিখিত যুক্তিগুলো হলো:

১। দীর্ঘ সময় বেতন কাঠামো অপরিবর্তিত, সাধারণত ৫ বছর পরপর নতুন পে-স্কেল ঘোষণা করার প্রচলন থাকলেও প্রায় এক দশকের বেশি সময় ধরে নতুন পে-স্কেল ঘোষণা হয়নি। এতে সরকারি চাকরিজীবিদের ন্যায্য অধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছে।

২। দ্রব্যমূল্যের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ২০১৫ সালের তুলনায় বর্তমান খাদ্যদ্রব্য, পরিবহন, বাসা ভাড়া, শিক্ষা ও চিকিৎসা খাতে ব্যয় বহুগুনে বৃদ্ধি পেয়েছে অথচ সেই তুলনায় কর্মচারীদের বেতন কাঠামো অপরিবর্তিত রয়েছে।

৩। সরকারি চাকরির মর্যাদা ও আকর্ষণ কমে যাওয়া বর্তমান বেতন কাঠামো বাস্তব জীবনের ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে সরকারি চাকরির প্রতি আগ্রহ কমে যাচ্ছে এবং কর্মচারীদের মনোবলেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে ও মানসিক চাপ বেড়েছে।

৪। প্রশাসনিক কার্যকারিতা বৃদ্ধিতে যদি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ন্যায্য বেতন নিশ্চিত করা হয়, তাহলে তাদের কর্মস্পৃহা ও দায়িত্ববোধ আরো বাড়বে যা রাষ্ট্রীয় সেবার মান উন্নত করতে সহায়ক হবে।

৫। সামাজিক নিরাপত্তা ও জীবনমান উন্নয়ন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দেশের উন্নয়নের অন্যতম চালিকাশক্তি তাদের জীবনমান উন্নত হলে তা রাষ্ট্রের সামগ্রিক উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে কর্মচারীরা বলেন, বাংলাদেশ আজ উন্নয়নশীল রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বদরবারে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত হয়েছে। এ উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবদান অপরিসীম। তাই দেশের লাখো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে ৯ম জাতীয় পে-স্কেল দ্রুত বাস্তবায়ন করা সময়ের দাবি।

এমতাবস্থায় দেশের সরকারি-কর্মকর্তা-কর্মচারীর পক্ষে আপনার নিকট বিনীতভাবে প্রার্থনা করছি আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ৯ম পে-স্কেলের জন্য বরাদ্দ নির্ধারণ পূর্বক বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রজ্ঞাপন জারি করে কর্মচারীদের মুখে হাসি ফুটিয়ে কর্মস্থলে সরোব করে তুলুন এবং জীবনমান দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির সাথে সমন্বয় করে আর্থিক সুবিধা বৃদ্ধি করুন যাতে পরিবার একটু সচ্ছল ভাবে চলতে পারে।

তারা আরো বলেন, আপনার মানবিক নেতৃত্বে আমরা দৃড়ভাবে বিশ্বাস করি যে, দেশের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর ন্যায্য দাবির প্রতি সদয় দৃষ্টি দেবেন এবং আপনার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য আপনাকে বিনীতভাবে অনুরোধ জানাচ্ছি।

ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ, ভিসি অবরুদ্ধ

মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. ইমাম হোসেনের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ ও উপাচার্য কার্যালয়ে তালা দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

সোমবার (৬ এপ্রিল) দুপুরে এ ঘটনায় ক্যাম্পাসজুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে। ‎ ‎শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, আওয়ামীপন্থী হিসেবে পরিচিত কিছু শিক্ষককে পুনর্বাসনের লক্ষ্যে প্রশাসন পরিকল্পিতভাবে ‘সেইফ এক্সিট’ নিশ্চিত করেছে। ৫ আগস্টের আন্দোলনের বিরোধিতাকারী সাবেক সহকারী প্রক্টর সহকারী অধ্যাপক শাকিল মাহমুদ শাওনসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং অভিযুক্তদের দেশের বাইরে পাঠিয়ে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে, যার সঙ্গে প্রক্টরের সরাসরি সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে দাবি শিক্ষার্থীদের। ‎ ‎শিক্ষার্থীরা আরও অভিযোগ করেন, পূর্বে একাধিকবার অভিযোগ দাখিলের চেষ্টা করা হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে তা গ্রহণে গড়িমসি করা হয়েছে। ‎ ‎এই পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীরা প্রক্টরকে অপসারণ এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে আলটিমেটাম দিয়েছিল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত উপাচার্য অফিসে তালা দিয়েছে।

এদিকে ব্যক্তিগত কারণে চার দিনের ছুটি নিয়েছেন প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. ইমাম হোসেন।

উপাচার্য কার্যালয়ের সামনে চলমান কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবসহ সাধারণ শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

সরকারের প্রথম একনেক সভায় ১৭ প্রকল্প অনুমোদন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের প্রথম জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (৬ এপ্রিল) দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের একনেক সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এই বৈঠকে মোট ১৩ হাজার ১৬১ কোটি টাকার ১৭টি প্রকল্প অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হয়।

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) এই সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব উপস্থাপন ও আলোচনার জন্য উপস্থিত ছিলেন।

সভায় উপস্থাপন করা ১৭টি প্রকল্পের মধ্যে নদী, পানি, জলবায়ু বিষয়ক প্রকল্প রয়েছে ৪টি।

এছাড়া, অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্প ৫টি, সড়ক নির্মাণ ও উন্নয়ন সংশ্লিষ্ট প্রকল্প তিনটি, মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ডেন্টাল কলেজ হাসপাতাল নির্মাণ দুইটি, প্রযুক্তি উন্নয়ন বিষয়ক প্রকল্প দুইটি এবং অংশীদারিত্বমূলক উন্নয়ন বিষয়ক প্রকল্প একটি। এসব প্রকল্পে সব মিলিয়ে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৩ হাজার ১৬১ কোটি টাকা।

যেকোনো মূল্যে গণভোটের রায়কে আদায় করেই ছাড়ব: শফিকুর রহমান

জাতীয় নির্বাচনের ফল হাইজ্যাক করা হলেও যেকোনো মূল্যে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করা হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

সোমবার (৬ এপ্রিল) জাতীয় প্রেসক্লাবে জাগপার ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠের অহমিকায় বিএনপি ফ্যাসিবাদী আচরণ করছে মন্তব্য করে আমির অভিযোগ করেন, শুধু ব্যক্তি পরিবর্তনের জন্য অভ্যুত্থান সংগঠিত হয়নি। অভ্যুত্থান পুরো ফ্যাসিবাদী কাঠামোর বিরুদ্ধে ছিল। কিন্তু জাতীয় নির্বাচনের ফলাফল হাইজ্যাক করেছে একটি পক্ষ। হুঁশিয়ারি দিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘যেকোনো মূল্যে গণভোটের রায়কে আমরা আদায় করেই ছাড়ব। এই প্রজন্ম ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সজাগ রয়েছে। তাদেরকে সঙ্গে নিয়ে যেকোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমরা লড়াই করবো।’ বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, জ্বালানি সংকট ও হাম সংক্রমণ ইস্যু নিয়ে সংসদে কথা বলতে গেলেই আমাদের মুখ বন্ধ করে দেয়া হয়। আমাদের নোটিশ আলোচনার জন্য উত্থাপন করা হয় না। সরকার বলছে, জ্বালানি সংকট নেই। কিন্তু আমি নিজের গাড়ির জন্যই প্রয়োজন মাফিক তেল পাই না।

‘সংসদে জনগণের ভাগ্য নিয়ে যেন কেউ ছিনিমিনি খেলতে না পারে, সেজন্য আমরা লড়াই করে যাবো’, যোগ করেন ডা. শফিকুর রহমান। আলোচনা সভায় বিভিন্ন দলের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের পাশাপাশি যোগ দেন কবি, সাহিত্যিকসহ সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। চলমান নানা সংকট ইস্যুতে সরকারের সমালোচনা করেন অনুষ্ঠানে আসা বক্তারা। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও রাষ্ট্র সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বক্তব্য দেন তারা। সংসদে অভ্যুত্থানের চেতনা সমুন্নত রাখতে সচেষ্ট হতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান বক্তারা।