বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২২, ২০২৬

বেনজীরকে দেশে ফেরাতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে চার দাবি মীর আহমাদের

সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে বিদেশ থেকে দেশে ফিরিয়ে আনতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে চার দফা দাবি জানিয়েছেন ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য মীর আহমদ বিন কাসেম। একই সঙ্গে তার বিদেশে যাওয়া এবং দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়ায় কোনো ব্যর্থতা বা আইনি ত্রুটি ছিল কি না, তা সংসদে জানানোর দাবি জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে এসব দাবি জানান তিনি।

প্রস্তাব উত্থাপনের আগে দেওয়া বক্তব্যে মীর আহমদ বলেন, গুমের ভুক্তভোগী পরিবার, শহীদ পরিবার এবং দীর্ঘদিনের নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে সংসদে আলোচনা করার সুযোগ পাওয়ায় তিনি কৃতজ্ঞ।

বেনজীর আহমেদের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, বেনজীর র‍্যাবের মহাপরিচালক এবং পুলিশের মহাপরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ফ্যাসিবাদকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে যারা মাস্টারমাইন্ড হিসেবে কাজ করেছেন, বেনজীর তাদের অন্যতম—এমন অভিযোগ করেন মীর আহমদ।

এরপর স্পিকার তাকে বক্তব্য না দিয়ে শুধু নোটিশটি পড়ার নির্দেশ দেন। পরে মীর আহমদ তার প্রস্তাবের মূল বিষয়গুলো সংসদে তুলে ধরেন।

প্রস্তাবে বলা হয়, মানবতাবিরোধী অপরাধ, গুম, অর্থপাচার ও দুর্নীতির বিভিন্ন মামলায় অভিযুক্ত সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ ইন্টারপোলের রেড নোটিশের ভিত্তিতে দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হওয়ার পর গত ১৪ জুন কার্যপ্রণালি বিধির ৩০০ বিধিতে দেওয়া বিবৃতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শিগগির তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

মীর আহমদের দাবি, ওই প্রতিশ্রুতির পরও বেনজীর জামিনে মুক্তি পেয়ে পরে সেন্ট লুসিয়ায় যাওয়ার ঘটনা দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়ায় গুরুতর ব্যর্থতার পরিচয় দেয়।

এ অবস্থায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে চার দফা দাবি জানান তিনি। দাবিগুলো হলো—

এক. নির্ধারিত ৩০ দিনের মধ্যে আনুষ্ঠানিক প্রত্যাবর্তন অনুরোধ পাঠানোসহ বেনজীরকে দেশে ফিরিয়ে আনতে নেওয়া সব পদক্ষেপের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ সংসদে দাখিল করতে হবে।

দুই. পাঠানো নথিপত্রে কোনো আইনি বা পদ্ধতিগত ত্রুটি ছিল কি না এবং থাকলে ওই ত্রুটির জন্য দায়ী কে, তা চিহ্নিত করে সংসদকে জানাতে হবে।

তিন. সরকারি চাকরিতে থাকা অবস্থায় বেনজীর আহমেদ কীভাবে একাধিক দেশের পাসপোর্ট অর্জন করেছেন, সে বিষয়ে কোনো তদন্ত চলছে কি না এবং তদন্ত চললে তার অগ্রগতি সংসদকে অবহিত করতে হবে।

চার. বেনজীর আহমেদকে সেন্ট লুসিয়া থেকে দেশে ফিরিয়ে আনা এবং দেশে-বিদেশে থাকা তার অবৈধ সম্পদ জব্দের কোনো পরিকল্পনা আছে কি না, থাকলে তা বাস্তবায়নে নেওয়া পদক্ষেপ সম্পর্কে সংসদকে অবিলম্বে বিস্তারিত জানাতে হবে।

মীর আহমদ আরও বলেন, জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৭ জুলাই দুবাইয়ের আদালত বেনজীরকে জামিন দেন। ৩০ জুলাই তিনি মুক্তি পান এবং ১৭ আগস্ট দুবাই ছেড়ে সেন্ট লুসিয়ায় যান।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বেনজীরের বিরুদ্ধে ১০টি তদন্ত মামলা এবং তিনটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে।

জুলাই বিপ্লবের শহীদ পরিবার, গুমের শিকার পরিবার এবং ন্যায়বিচার প্রত্যাশী জনগণের স্বার্থে বিষয়টি জনগুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে সংসদে এ বিষয়ে আলোচনার আবেদন জানান মীর আহমদ বিন কাসেম।

কাপড়ের চালান খুলতেই মিললো ১৬৫৫ মোবাইল

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এয়ারফ্রেইট এলাকায় কাপড়ের রোলের আড়ালে আনা প্রায় ৫ কোটি টাকা মূল্যের ১৬৫৫টি মোবাইল ফোনের চালান আটক করা হয়েছে।

নিট ফেব্রিকস/ পি কভার জি রোল হিসেবে ঘোষণা দিয়ে আনা চালানটি পরীক্ষার পর বিপুলসংখ্যক মোবাইল ফোন পাওয়ার তথ্য জানিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটি জানায়, আটক চালানটির আমদানিকারক হিসেবে থিনিয়াস এপিরিয়ালস লিমিটেডের নাম রয়েছে। প্রাথমিক গণনায় উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোনের মধ্যে ৪৫০টি রেডমি ১৪ সি, ১৫০টি রেডমি ১৫ সি এবং পুরোনো আইফোনও বিভিন্ন চীনা ব্র্যান্ডের আরও ১ হাজার ৫৫টি ফোন রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চালানটির মোট ওজন ৮৯৫ কেজি এবং প্যাকেজ সংখ্যা ২০টি।

এয়ার কার্গো সিস্টেমের তথ্য অনুযায়ী, চালানটি হংকং থেকে ঢাকায় আসে। একটি ফ্লাইটে গত ৩১ আগস্ট চালানটি ঢাকায় পৌঁছায়।

কাস্টমসের প্রাথমিক পরীক্ষায় ঘোষিত পণ্যের সঙ্গে বাস্তবে পাওয়া পণ্যের বড় ধরনের অসঙ্গতি ধরা পড়ে। এয়ার কার্গো রেকর্ডে পণ্যের ধরণ হিসেবে ‘নিট ফেব্রিকস’ এবং অন্য একটি নোটে ‘পি কভার জি রোল সিআরটি’ উল্লেখ থাকলেও চালানটির মধ্যে বিপুলসংখ্যক মোবাইল ফোন পাওয়া যায়।

এনবিআর জানায়, ঘোষিত পণ্যের আড়ালে মোবাইল ফোন আনার ঘটনায় মিথ্যা ঘোষণা, পণ্য গোপন এবং প্রযোজ্য শুল্ক-কর ফাঁকির বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে মোবাইলগুলোর সুনির্দিষ্ট মডেল, আইএমইআই, নতুন নাকি ব্যবহৃত—এসব তথ্য যাচাই এবং প্রকৃত বাজারমূল্য ও প্রযোজ্য শুল্ক-কর নির্ধারণের পর চালানটির আর্থিক মূল্য ও সম্ভাব্য রাজস্ব ক্ষতির পরিমাণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

বিদ্যুৎ সংকট নিরসনের দাবিতে বিএনপির মানববন্ধন

সরিষার নামে অন্য তেল, ঘিতে নিম্ন মানের চর্বি, মধুতে চিনির সিরাপ

অভিনেত্রী বাঁধনের ওপর আওয়ামী লীগের হামলায় বিস্মিত আসিফ নজরুল

তেজগাঁওয়ে চোর সন্দেহে যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

২০৩০ সালের মধ্যে ৫৫০০ মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ

শাহজালালে সড়ক দুর্ঘটনা, বিমানবাহিনীর ৩ সদস্য নিহত

ছেঁড়া-ফাটা নোটের বিনিময় সেবা দিতে সব তফসিলি ব্যাংককে নির্দেশনা

সংসদে যাচ্ছে ‘আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন বিল’

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার শূন্যপদ পূরণে ৪ সদস্যের কমিটি

সম্পত্তি হস্তান্তর বিল কোরআন-সুন্নাহর সুস্পষ্ট পরিপন্থি: জামায়াত এমপি

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নিলেন খলিলুর রহমান

আবারও বাঁচালেন সেই বোলাররাই, স্বস্তির জয়ে সেমিতে বাংলাদেশ

বেনজীর সিরিয়াল কিলার, তাকে ফেরাতে আমিরাতে ল ফার্ম নিয়োগ করা হয়েছে

বেনজীরকে ফেরাতে কী ব্যবস্থা, দ্রুত সংসদকে জানাতে স্পিকারের নির্দেশ

তেজগাঁওয়ে চোর সন্দেহে যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল) কার্যালয়ে চোর সন্দেহে মারধরে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। তার পরিচয় জানা যায়নি, বয়স আনুমানিক ২৫ বছর।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে এ ঘটনা ঘটে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ওই যুবককে হাসপাতালে নিয়ে আসা বিটিসিএলের অফিস সহকারী মো. সাইফুল বলেন, ‘আমি গাজীপুর থেকে এসে অফিস করি। আজ বাসা থেকে অফিসে এসে জানতে পারি- সকাল সাড়ে ৭টার দিকে তিনজন যুবক বিটিসিএল অফিসের দেওয়াল টপকে চুরির উদ্দেশ্যে ভেতরে প্রবেশ করে। অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা টের পেয়ে তাদের ধাওয়া করেন। এতে দুজন চোর পালিয়ে যায়। একজন ধরা পড়ে। পরে তাকে আনসার সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।’

তিনি বলেন, কিছুক্ষণ পর বৃষ্টি শুরু হয় এবং তাকে আনসার ক্যাম্পে রাখা হয়। পরে আনসার সদস্যদের মারধরে ওই যুবক গুরুতর আহত হন। আমরা তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেলের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্প ইনচার্জ (পরিদর্শক) হাবিবুর রহমান চিকিৎসকের বরাত দিয়ে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা আছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানায় জানানো হয়েছে।

তিনি বলেন, নিহত ব্যক্তির নাম-পরিচয় জানা যায়নি। সিআইডির ক্রাইমসিনকে খবর দেওয়া হয়েছে। প্রযুক্তির সহায়তায় তার নাম-পরিচয় শনাক্ত চেষ্টা চলছে।

এদিকে বিটিসিএল কার্যালয়ে চোর সন্দেহে এক যুবককে আটক করে আনসার সদস্যদের পিটিয়ে হত্যার অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ দাবি করেছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী।

মঙ্গলবার রাতে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বাহিনীর সহকারী পরিচালক ও গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. নাজমুস সাকিব এ দাবি করেন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে তেজগাঁও টিঅ্যান্ডটি তার ভান্ডার এলাকায় কয়েকজন যুবক অনুপ্রবেশ করেন। এসময় দায়িত্বে থাকা অঙ্গীভূত আনসার সদস্য শাহজামাল এক যুবককে চুরি করতে দেখে ধাওয়া করেন। পুরোনো টিনের চালের ওপর দিয়ে দৌড়ানোর সময় ওই যুবক চাল ভেঙে নিচে পড়ে যান। পরে তাকে উদ্ধার করে বিটিসিএলের স্টাফ মো. শওকত হোসেন আটক করেন। সংস্থার টেলিফোনিক নির্দেশে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা অঙ্গীভূত আনসার সদস্যরা তাকে আটক করতে সহযোগিতা করেন।

আনসার বাহিনীর দাবি, ঘটনাস্থলে দায়িত্ব পালনকারী আনসার সদস্যদের মধ্যে পিসি নুরুল ইসলাম আটক যুবককে বিটিসিএল কর্তৃপক্ষের পিও সুলতান মাহমুদ ও ইলেকট্রিশিয়ান সাইফুল ইসলামের কাছে হস্তান্তর করেন। এরপর আনসার সদস্যরা ঘটনাস্থল ছেড়ে নিজ নিজ দায়িত্বস্থলে ফিরে যান।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বিভিন্ন গণমাধ্যমে আটক যুবককে আনসার ক্যাম্পে নিয়ে মারধর এবং নির্যাতনের পর তার মৃত্যু হয়েছে বলে যে তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে, তার সঙ্গে বাহিনী কর্তৃপক্ষের পাওয়া তথ্যের কোনো সামঞ্জস্য নেই। আনসার সদস্যরা ওই যুবককে ক্যাম্পে নিয়ে নির্যাতন বা মারধর করেছেন এমন তথ্যেরও কোনো ভিত্তি নেই বলে দাবি করা হয়েছে।

আটক যুবককে আনসার সদস্যরা আহত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে গেছেন প্রকাশিত এমন তথ্যকেও অবান্তর ও অপ্রাসঙ্গিক। দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তারা আইন, বিধি ও মানবিক মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। কোনো স্থাপনায় নিরাপত্তা ভঙ্গকারী ব্যক্তিকে যথাযথ আইনগত প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সোপর্দ করাই দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যদের মূল কর্তব্য।

এ ঘটনায়ও আটক ব্যক্তিকে সংশ্লিষ্ট সংস্থার দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের কাছে হস্তান্তরের মাধ্যমে আনসার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে।

বাহিনীর পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, কোনো ধরনের আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ড, নির্যাতন বা মানবাধিকার লঙ্ঘনকে তারা প্রশ্রয় দেয় না। তবে কোনো ঘটনার বিষয়ে যাচাই-বাছাই ছাড়া সদস্যদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ প্রচার করা হলে বাহিনীর ভাবমূর্তি ও জনআস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য ও তথ্য যাচাই করে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের জন্য গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী।

বিদ্যুৎ সংকট নিরসনের দাবিতে বিএনপির মানববন্ধন

সরিষার নামে অন্য তেল, ঘিতে নিম্ন মানের চর্বি, মধুতে চিনির সিরাপ

অভিনেত্রী বাঁধনের ওপর আওয়ামী লীগের হামলায় বিস্মিত আসিফ নজরুল

তেজগাঁওয়ে চোর সন্দেহে যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

২০৩০ সালের মধ্যে ৫৫০০ মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ

শাহজালালে সড়ক দুর্ঘটনা, বিমানবাহিনীর ৩ সদস্য নিহত

ছেঁড়া-ফাটা নোটের বিনিময় সেবা দিতে সব তফসিলি ব্যাংককে নির্দেশনা

সংসদে যাচ্ছে ‘আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন বিল’

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার শূন্যপদ পূরণে ৪ সদস্যের কমিটি

সম্পত্তি হস্তান্তর বিল কোরআন-সুন্নাহর সুস্পষ্ট পরিপন্থি: জামায়াত এমপি

বেনজীরকে ফেরাতে কী ব্যবস্থা, দ্রুত সংসদকে জানাতে স্পিকারের নির্দেশ

ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ প্রতিরোধে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

হামলার ঘটনায় ইতালিতে মামলা করলেন বাঁধন

রূপপুর প্রকল্পের বায়েক অফিসে গভীর রাতে অগ্নিকাণ্ড

সার্বভৌম বন্ড ছাড়তে জেপি মরগানের পরামর্শ নেবে সরকার

আন্তর্জাতিক পুঁজিবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহে সার্বভৌম বন্ড ইস্যুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এই বন্ড ছাড়ার সম্ভাব্যতা যাচাই ও কৌশল নির্ধারণে বৈশ্বিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান জেপি মরগানের বিশেষজ্ঞ পরামর্শ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্রটি জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক পুঁজিবাজারে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করা এবং সরকারি অর্থায়নের উৎস বৈচিত্র্যময় করাই এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। একই সঙ্গে বিদেশি স্থির-আয় ও ইকুইটি বিনিয়োগকারীদের কাছে বাংলাদেশকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।

সার্বভৌম বন্ড ইস্যু করার লক্ষ্যে গত জুলাই মাসে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজার বিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভীর গণিকে প্রধান করে গঠিত এ কমিটিতে অর্থ বিভাগ, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি), বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) প্রতিনিধিরা রয়েছেন।

বন্ড ইস্যুর পরিমাণ, কোন মুদ্রায় কত অর্থ সংগ্রহ করা হবে, মেয়াদ, সুদের কাঠামো, ইস্যুর সময় ও বাজার নির্বাচনসহ সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা করে এই কমিটির সুপারিশ দেওয়ার কথা রয়েছে। কমিটি গঠনের পর এখন বিশেষজ্ঞ পরামর্শ নেওয়ার জন্য জেপি মরগানকে নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সার্বভৌম বন্ড আন্তর্জাতিক বাজার থেকে ঋণ নেওয়ার আরেকটি পথ। তবে এ ধরনের বন্ড ইস্যুর ক্ষেত্রে সুদের হার, পরিশোধ সক্ষমতা এবং বৈদেশিক মুদ্রায় দায় পরিশোধের বিষয়গুলো অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। সেই সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতিতে বন্ডের আকার ৫০০ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। বন্ডের আকার এর থেকে বড় করা উচিত হবে না।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দেশের ভেতরে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ওপর সরকারের ঋণের নির্ভরতা কমানো এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে বহুমুখিতা আনার অংশ হিসেবে এই সার্বভৌম বন্ড ইস্যুর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে বন্ড ছাড়ার ক্ষেত্রে সঠিক সময় নির্ধারণ, মুদ্রার ধরন, সুদের হার এবং বিশ্বব্যাপী বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করার কৌশল নির্ধারণে জেপি মরগানের মতো একটি বৈশ্বিক শীর্ষ সারির আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে চায় সরকার।

বাজার পরিস্থিতি এবং বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের সাড়া যাচাই করতে প্রাথমিকভাবে একটি ছোট অংকের ইউএস ডলার ডেনোমিনেটেড বন্ড বা চীনের বাজারে ‘পান্ডা বন্ড’ ছাড়ার চিন্তাভাবনা চলছে। অতীতে আর্জেন্টিনা বা শ্রীলঙ্কার মতো উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর অনিয়ন্ত্রিত সার্বভৌম বন্ড ইস্যুর কারণে ঋণের যে নেতিবাচক অভিজ্ঞতা রয়েছে, তা মাথায় রেখে বাংলাদেশ কোনো ধরনের আর্থিক ঝুঁকিতে পড়তে চায় না। তাই প্রয়োজনীয় পরামর্শ নিতে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ পরামর্শক নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, বাংলাদেশ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভিন্ন ভিন্ন মুদ্রায় বন্ড ছাড়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে। নিউইয়র্কের বাজারে ডলার বন্ড, চীনের বাজারে পান্ডা বন্ড এবং জাপান ও হংকংয়ের বাজারে সংশ্লিষ্ট দেশের মুদ্রায় বন্ড ইস্যুর সম্ভাবনা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি সার্বভৌম বন্ডের পরিপ্রেক্ষিতে শ্রীলঙ্কায় ঋণের যে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছিল সে বিষয়টিও মাথায় রাখা হচ্ছে। এ কারণে জেপি মরগানের মতো প্রতিষ্ঠানকে পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, জেপি মরগানকে পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ দিতে হলে সেখানে পরামর্শক ব্যয়ের একটি বিষয় আছে। এক্ষেত্রে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদনের প্রয়োজন হবে। সুতরাং জেপি মরগানকে পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে, বিষয়টি এখনই চূড়ান্ত বলা যায় না। মন্ত্রিসভা কমিটি অনুমোদন দিলে তারপর বিষয়টি চুড়ান্ত হবে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ যদি সফলভাবে এই বন্ড আন্তর্জাতিক বাজারে ছাড়তে পারে, তবে তা দেশের ইতিহাসে একটি গ্লোবাল প্রাইসিং বেঞ্চমার্ক বা মানদণ্ড হিসেবে কাজ করবে। এর ফলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের বেসরকারি খাত ও বিভিন্ন করপোরেট প্রতিষ্ঠানও আন্তর্জাতিক বাজার থেকে সহজে এবং কম সুদে বৈদেশিক ঋণ বা তহবিল সংগ্রহ করতে সক্ষম হবে।

সার্বভৌম বন্ড আন্তর্জাতিক বাজার থেকে ঋণ নেওয়ার আরেকটি পথ। তবে এ ধরনের বন্ড ইস্যুর ক্ষেত্রে সুদের হার, পরিশোধ সক্ষমতা এবং বৈদেশিক মুদ্রায় দায় পরিশোধের বিষয়গুলো অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।—বলছেন অর্থনীতিবিদরা

এই কর্মকর্তা বলেন, বাংলাদেশের ঋণ-জিডিপি অনুপাত তুলনামূলক কম। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা থেকে ঋণ নেওয়া হয়। দেশ কখনো কোনো ঋণ পরিশোধে খেলাপি হয়নি। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের বন্ড ইস্যুর সক্ষমতা রয়েছে। বন্ড থেকে পাওয়া অর্থ সরকার বিভিন্ন ব্যয়ে ব্যবহার করতে পারবে।

সরকার আন্তর্জাতিক বাজারে সার্বভৌম বন্ড ছাড়ার উদ্যোগ নিলেও এর আকার ও শর্ত নির্ধারণে সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই) বাংলাদেশের চেয়ারম্যান জায়েদী সাত্তার।

তিনি জাগো নিউজকে বলেন, সার্বভৌম বন্ড আন্তর্জাতিক বাজার থেকে ঋণ নেওয়ার আরেকটি মাধ্যম। এতে সরকারের সার্বভৌম নিশ্চয়তা থাকে। বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) মতো বহুপাক্ষিক সংস্থার কাছ থেকে ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রেও সরকারের নিশ্চয়তা থাকে। তবে সার্বভৌম বন্ডের ক্ষেত্রে এসব প্রতিষ্ঠানের পরিবর্তে আন্তর্জাতিক বাজারের বিভিন্ন বিনিয়োগকারী বাংলাদেশি কিংবা অন্যান্য দেশের বিনিয়োগকারীরা বন্ড কিনতে পারেন।

জায়েদী সাত্তারের মতে, সার্বভৌম বন্ডের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো কী সুদের হারে তা ইস্যু করা হচ্ছে। কারণ বন্ডের অর্থ নির্দিষ্ট সময় পরপর পরিশোধ করতে হয় এবং বৈদেশিক মুদ্রায় দায় তৈরি হয়। তাই বন্ড ছাড়ার আগে দেশের ঋণ পরিশোধ সক্ষমতা, বৈদেশিক মুদ্রার মজুত ও ভবিষ্যৎ দায় পরিশোধের সক্ষমতা সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, অনেক দেশ সার্বভৌম বন্ড ইস্যু করে পরে সংকটে পড়েছে। ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে পরিস্থিতি অত্যন্ত খারাপ হতে পারে। তবে বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি সে রকম নয় এবং এখন দেশের ঋণ গ্রহণের সক্ষমতা ভালো রয়েছে।

বাংলাদেশের জন্য প্রাথমিকভাবে বড় অঙ্কের সার্বভৌম বন্ডে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন এই অর্থনীতিবিদ। তিনি বলেন, ২০০ থেকে ৫০০ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে দিয়ে শুরু করা যেতে পারে।

জায়েদী সাত্তার বলেন, বর্তমানে ৫০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি যাওয়া উচিত হবে না। ২০০ থেকে ৫০০ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে দিয়ে শুরু করা যেতে পারে। এখনই এক বিলিয়ন ডলারে যাওয়া ঠিক হবে না।

এ প্রসঙ্গে শ্রীলঙ্কার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, বড় অঙ্কের ঋণ নেওয়ার পর দেশটি সংকটে পড়ে এবং এক পর্যায়ে ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হয়। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও যাতে এমন পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সে জন্য বন্ডের আকার নির্ধারণ ও পরিশোধ সক্ষমতা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

সার্বভৌম বন্ডের ইতিবাচক দিকও তুলে ধরেছেন জায়েদী সাত্তার। তার মতে, সরকার যখন দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে বেশি ঋণ নেয়, তখন বেসরকারি খাতে ঋণ পাওয়ার সুযোগ কমে গিয়ে ‘ক্রাউডিং আউট’ তৈরি হতে পারে। আন্তর্জাতিক বাজার থেকে সার্বভৌম বন্ডের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করা হলে দেশের অভ্যন্তরীণ ঋণবাজারের ওপর চাপ কিছুটা কমার সুযোগ রয়েছে। এতে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের জন্য অভ্যন্তরীণ ঋণের সুযোগ বাড়তে পারে।

তবে সার্বভৌম বন্ড ইস্যুর প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন এই অর্থনীতিবিদ। তার মতে, বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ ও এডিবির মতো বহুপাক্ষিক প্রতিষ্ঠান থেকে প্রয়োজনীয় ঋণ সময়মতো পাওয়া না গেলে বিকল্প হিসেবে সার্বভৌম বন্ডের কথা বিবেচনা করা হতে পারে।

এ সময় আইএমএফের ঋণের একটি অংশ না পাওয়ার প্রসঙ্গে উল্লেখ করা হলে জায়েদী সাত্তার বলেন, সরকার পরিবর্তনের পর আগের সরকারের দেওয়া প্রতিশ্রুতি ও কমিটমেন্টের বিষয়গুলো নতুন সরকারের সঙ্গে নতুন করে সমন্বয় করার প্রয়োজন হতে পারে। এ কারণে আইএমএফের সঙ্গে নতুন করে বোঝাপড়া হতে পারে। একই সঙ্গে দেশের প্রয়োজনীয় সংস্কারও এগিয়ে নেওয়া দরকার।

সার্বভৌম বন্ড ইস্যুর উদ্যোগের মধ্যে চীনের পান্ডা বন্ডকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। গত মাসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের আগে চীনা সরকার বাংলাদেশকে চীনা মুদ্রা ইউয়ানে পান্ডা বন্ড ইস্যুর প্রস্তাব দেয়।

এ বিষয়ে আলোচনা করতে সম্প্রতি চীনের একটি প্রতিনিধিদল ঢাকায় এসে বাংলাদেশ ব্যাংক, ইআরডি ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে। প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরকালে দুই দেশের প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতেও পান্ডা বন্ড চালুর উদ্যোগের বিষয়ে দুই দেশের সম্মতির কথা উল্লেখ করা হয়।

গত জুলাই মাসে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদের নেতৃত্বে সরকারের বিকল্প ঋণ অনুসন্ধান কমিটির সভায় পান্ডা বন্ডসহ বিদেশি মুদ্রায় বন্ড ইস্যুর বিষয়টি আলোচনা হয়। ওই সভায় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান প্রাথমিকভাবে ৫০ মিলিয়ন ডলারের পান্ডা বন্ড চালুর পক্ষে মত দেন।

সার্বভৌম বন্ড ইস্যু করা হলে অভিজ্ঞ ও বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে এর আকার, সুদের হার ও পরিশোধ কাঠামো নির্ধারণ করা উচিত, যেন ভবিষ্যতে ঋণ পরিশোধে কোনো ধরনের চাপ তৈরি না হয়।—জায়েদী সাত্তার

সভায় বৈদেশিক মুদ্রায় বন্ড ইস্যুর ক্ষেত্রে আইএমএফের অবস্থানসহ সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। সভায় ইআরডির সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী জানান, পান্ডা বন্ড ইস্যু করতে চীন বাংলাদেশকে সহায়তা করবে। তবে এ ক্ষেত্রে আইএমএফের আপত্তির সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে সার্বভৌম বন্ড ছাড়ার পরিকল্পর অংশ হিসেবে জুলাই মাসের শেষের দিকে অর্থ বিভাগ আট সদস্যের কমিটি গঠন করে। বন্ডের পরিমাণ, মুদ্রা নির্ধারণ, অফারিং সার্কুলার, ইনফরমেশন মেমোরেন্ডাম, ডিউ ডিলিজেন্স, ক্রেডিট রেটিং, রোডশো, বিনিয়োগকারী উপস্থাপনা ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে যোগাযোগের মতো বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়ার কথা এই কমিটির।

এছাড়া বুকরানার, লিড ম্যানেজার, আর্থিক ও আইনগত উপদেষ্টা, রেটিং এজেন্সি, পেইং এজেন্ট, রেজিস্ট্রার, ট্রাস্টি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সেবা প্রদানকারী নিয়োগের ক্ষেত্রেও সুপারিশ করবে কমিটি। একই সঙ্গে অন্যান্য প্রয়োজনীয় পরামর্শক ও সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রচলিত আইন, বিধি-বিধান ও সরকারি ক্রয় নীতিমালা অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় সুপারিশ দেওয়াও বিষয়টিও কমিটির কার্যপরিধির মধ্যে রয়েছে।

বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের উন্নয়ন, সম্প্রসারণ ও গভীরতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বন্ড ও ইকুইটি বাজারের জন্য প্রয়োজনীয় নীতি, কৌশল ও কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করে সরকারকে সুপারিশ করবে কমিটি। পাশাপাশি সরকারি সিকিউরিটিজ, করপোরেট বন্ড, সুকুক, গ্রিন বন্ডসহ বিভিন্ন ধরনের বন্ড ও ঋণপত্র ইস্যুর সম্ভাব্যতা, সময়োপযোগিতা, ব্যয়, ঝুঁকি এবং বাজার পরিস্থিতিও পর্যালোচনা করবে কমিটি।

ডেঙ্গুতে এক দিনে বছরের সর্বোচ্চ মৃত্যু, সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি

ডেঙ্গু ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় অর্থাৎ গতকাল সোমবার থেকে আজ মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত এক দিনে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত এক দিনের হিসাবে এটি রেকর্ড প্রাণহানি। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু নিয়ে ১ হাজার ৫৭১ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এত রোগী এর আগে কোনো এক দিনে ভর্তি হননি। এর আগে গত রোববার সর্বোচ্চ ১ হাজার ৫৫৮ রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন।আজ মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বুলেটিনে ডেঙ্গুতে মৃত্যু ও হাসপাতালে ভর্তির এই তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।.এ নিয়ে চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে প্রাণহানি বেড়ে দাঁড়াল ১৩০ জনে। আর হাসপাতালে ভর্তি রোগী বেড়ে দাঁড়াল ৪৫ হাজার ৪৭৫ জনে।নতুন করে ভর্তি রোগীদের মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালগুলোতে ১৯৬ জন, দক্ষিণ সিটিতে ১৩৪ জন ভর্তি হন। দুই সিটির বাইরে ঢাকা বিভাগে ৪০৮ জন হাসপাতালে ভর্তি হন।এ ছাড়া খুলনায় ২৪২ জন, বরিশাল বিভাগে ১৪২ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১১৭ জন ও ময়মনসিংহে ৭৭, রংপুরে ৭১ জন, রাজশাহীতে ১১৬ এবং সিলেটে ৮ জন ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আজ পর্যন্ত বিভাগের হিসাবে সর্বোচ্চ রোগী হয়েছে খুলনা বিভাগে, ৭ হাজার ২৯৮ জন।.গত বছর ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয় চার শতাধিক মানুষের, শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ২ হাজারের মতো।দেশে ডেঙ্গুর বড় ধরনের প্রাদুর্ভাব হয় ২০০০ সালে। এরপর প্রতিবছর এ রোগে আক্রান্ত রোগী পাওয়া যেত। তবে ২০১৯ সালে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়ে যায়। এরপর ২০২৩ সালে এ রোগ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হন। সে বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সবচেয়ে বেশি ১ হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যুও হয়। এর আগের ২৩ বছরে ডেঙ্গুতে এত মৃত্যু এবং এত রোগী হয়নি।

ঢাকা-রংপুর লংমার্চ সফল করতে জামায়াতের বৈঠক

গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ সাত দফা দাবিতে আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা-রংপুর লংমার্চ পালন করবে ১১ দলীয় ঐক্য। পূর্বঘোষিত দ্বিতীয় এই কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও নির্বিঘ্নে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে বৈঠক করেছে জামায়াতে ইসলামীর লংমার্চ বাস্তবায়ন কমিটি।

মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক ও জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের সভাপতিত্বে বৈঠকে লংমার্চ কর্মসূচি বাস্তবায়নে রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউয়ে উদ্বোধনী সমাবেশ, মানিক মিয়া এভিনিউ টু রংপুর পর্যন্ত মানবপ্রাচীর তৈরি করা; গাজীপুর বাইপাস, টাঙ্গাইলের নগর জালপাই, সিরাজগঞ্জের হাটিকুমড়ুল, বগুড়ার চারমাথা, গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে পথসভা এবং রংপুর জিলা স্কুল মাঠে সমাপনী সমাবেশ সুন্দরভাবে সফল করার লক্ষ্যে দায়িত্বশীলদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হয়। উপস্থিত সংশ্লিষ্ট জেলা/মহানগরীর দায়িত্বশীলরা লংমার্চ কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়নে তাদের সুচিন্তিত মতামত ও পরামর্শ প্রদান করেন।

বৈঠকে জামায়াত নেতারা বলেন, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন; নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ; আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন; দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারি রোধ এবং প্রশাসনের সর্বস্তরে সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধের দাবিতে ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা-রংপুর রুটে লংমার্চ করবে ১১ দলীয় ঐক্য। বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানসহ জোটের শীর্ষ নেতারা এতে নেতৃত্ব দেবেন।

লংমার্চ কর্মসূচি সার্বিকভাবে বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তুতিসভা, গণসংযোগ, প্রচারপত্র বিলি ও প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ এবং ১১ দলীয় ঐক্যের স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে নিয়ে গৃহীত পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়নে কার্যকর ভূমিকা পালনের জন্য সর্বস্তরের দায়িত্বশীলদের সক্রিয় ভূমিকা পালনে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। একই সঙ্গে কর্মসূচি বাস্তবায়নে প্রশাসনসহ সর্বস্তরের জনগণের সহযোগিতা কামনা করা হয়।

হামিদুর রহমান আযাদ জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম প্রথম লংমার্চ ৬ দফা দাবিতে হলেও এবার ‘দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারি রোধ’ বিষয়টি যুক্ত হয়ে সাত দফায় পরিণত হয়েছে। এই লংমার্চ সফল করতে মঙ্গলবার জামায়াতের বাস্তবায়ন কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে জামায়াতের নায়েবে আমির ও বগুড়া অঞ্চল পরিচালক এটিএম আজহারুল ইসলাম এমপি, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি, ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ, লংমার্চ বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, ঢাকা উত্তর অঞ্চলের পরিচালক ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য আব্দুর রব, নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মো. সেলিম উদ্দিন, গাজীপুর মহানগরী আমির অধ্যাপক জামাল উদ্দিন, জেলা আমির জাহাঙ্গীর আলম, রংপুর মহানগরী আমির উপাধ্যক্ষ এটিএম আযম খান, জেলা আমির মো. গোলাম রব্বানী এমপি, বগুড়া মহানগরী আমির অধ্যক্ষ আবিদুর রহমান সোহেল, জেলা আমির মো. আব্দুল হক, পাবনা জেলা আমির আবু তালেব মন্ডল এমপি, গাইবান্ধা জেলা আমির আব্দুল করিম এমপি, মাওলানা নজরুল ইসলাম এমপি, আব্দুল ওয়ারেছ এমপি, জয়পুরহাট জেলা আমির ফজলুর রহমান সাঈদ, টাঙ্গাইল জেলা আমির আহসান হাবিব মাসুদ ও সিরাজগঞ্জ জেলা আমির মো. শাহিনুর আলম প্রমুখ।

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

ডিএসই-ডিবিএর জরুরি বৈঠক, অস্বাভাবিক লেনদেনে সুনির্দিষ্ট মানদণ্ডের দাবি

পুঁজিবাজারের সাম্প্রতিক অস্থিরতা ও বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ কাটিয়ে বাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে জরুরি বৈঠক করেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডিবিএ)।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনার পাশাপাশি স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল লেনদেন নিশ্চিত করতে ডিএসই ও সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোর করণীয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বৈঠকে ব্রোকারেজ হাউসগুলোর কার্যক্রম, বাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার এবং নতুন আইপিও ও আর্থিক পণ্যের সরবরাহ বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা করা হয়। একই সঙ্গে কোনো নির্দিষ্ট সময়ে বেশি শেয়ার লেনদেন হলেই সেটিকে অস্বাভাবিক বা অনিয়ম হিসেবে বিবেচনা না করে লেনদেনের ধরন, দামের ওপর প্রভাব, বিনিয়োগকারীর সক্ষমতাসহ সার্বিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সুনির্দিষ্ট মানদণ্ড নির্ধারণের দাবি জানানো হয়।

বৈঠকের শুরুতে ডিবিএ সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, পুঁজিবাজারের বর্তমান পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারী ও বাজারসংশ্লিষ্টদের মধ্যে তৈরি হওয়া উদ্বেগ ও বিভ্রান্তি দূর করতে এ ধরনের মতবিনিময় সভা সময়োপযোগী।

তিনি বলেন, বর্তমানে অধিকাংশ ব্রোকার ও বাজারসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছে। বাজারের আস্থা ও কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে ডিএসই, নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং সব অংশীজনকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। বাজারকে দমন নয়, বরং একটি পরিপালনসম্মত, প্রাণবন্ত, দক্ষ ও বিকাশমান পুঁজিবাজারে রূপান্তর করাই সবার লক্ষ্য হওয়া উচিত।

বৈঠকে ডিএসই চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম বলেন, বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় ইনভেস্টর প্রোটেকশন ফান্ড (আইপিএফ) নিয়ে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নতুন আইপিও ও আর্থিক পণ্যের সরবরাহ বাড়ানোকে ডিএসইর অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। মমিনুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বাজারে নতুন আইপিও না আসা এবং ফিক্সড ইনকাম সিকিউরিটিজের সীমিত উপস্থিতি পুঁজিবাজারের অন্যতম দুর্বলতা।

এ পরিস্থিতিতে নতুন বন্ডের লিস্টিং ফি কমানো হয়েছে। পাশাপাশি ২০২৭ সালের মার্চ পর্যন্ত আইপিও বা ডাইরেক্ট লিস্টিংয়ের আবেদনকারী কোম্পানির প্রথম বছরের লিস্টিং ফির ৫০ শতাংশ মওকুফের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

ব্রোকারেজ হাউসগুলোর ওপর অতিরিক্ত হস্তক্ষেপের অভিযোগের বিষয়ে ডিএসই চেয়ারম্যান বলেন, পরিচালনা পর্ষদ রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স বিভাগের দৈনন্দিন কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ করে না, বরং নীতিগত দিকনির্দেশনা প্রদান করে। নির্দিষ্ট অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট বিষয়েই তদন্ত বা অনুসন্ধান করা হবে।

সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সিসি অ্যাকাউন্ট, শেয়ার বা অন্যান্য সম্পদে কোনো ঘাটতি থাকলে তা দ্রুত নিজ উদ্যোগে সমাধান করতে হবে। এ ধরনের ঘাটতি শুধু সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নয়, পুরো বাজারের ইকোসিস্টেমের সুনামকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে।

ডিএসই চেয়ারম্যান বলেন, বাজারকে আরও সুশৃঙ্খল, স্বচ্ছ ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করতে হলে সব পক্ষকে নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া সম্ভব।

তিনি সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোর সমস্যা, উদ্বেগ, পরামর্শ ও নতুন ধারণা ডিএসইর কাছে তুলে ধরার আহ্বান জানান। সদস্যদের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও মতামতের ভিত্তিতেই বাজারের উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করতে চায় ডিএসই।

বৈঠকে জানানো হয়, ২০২৫ সালের কমপ্লায়েন্স ও সার্ভেইল্যান্স সংক্রান্ত কিছু ইন্সপেকশন কার্যক্রম অমীমাংসিত ছিল। এসব কার্যক্রমের বিষয়ে বিএসইসিতে প্রতিবেদন দাখিলের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা প্রয়োজন। ওই ইন্সপেকশনগুলো সম্পন্ন করার ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবেই সম্প্রতি বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউসে পরিদর্শন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে।

এদিকে বৈঠকে বক্তারা অস্বাভাবিক লেনদেনের ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট মানদণ্ড নির্ধারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, কোনো নির্দিষ্ট সময়ে বেশি পরিমাণ শেয়ার লেনদেন হলেই সেটিকে অনিয়ম হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। বরং লেনদেনের ধরন, দামে এর প্রভাব, বিনিয়োগকারীর সক্ষমতা ও নির্দেশনাসহ সংশ্লিষ্ট সব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে লেনদেন মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।

বৈঠকে বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি, স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্ব এবং পুঁজিবাজারের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন নিয়ে ডিএসই ও ডিবিএর সদস্য প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের মধ্যে মতবিনিময় হয়।

ডিএসই-ডিবিএর জরুরি বৈঠক, অস্বাভাবিক লেনদেনে সুনির্দিষ্ট মানদণ্ডের দাবি

১০-৩০ কাউন্টের সুতায় বন্ডেড সুবিধা বাতিলের সিদ্ধান্তকে স্বাগত বিটিএমএর

এশিয়ার প্রবৃদ্ধিতে নতুন চ্যালেঞ্জ, ভরসা এআই ও সহযোগিতা

অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের গতি কমছে, উৎপাদন খাতে বড় পতন

৪ হাজার টাকা কমানোর পর আজ যে দামে বিক্রি হচ্ছে সোনা

এয়ারবাসের প্রস্তাব বাংলাদেশের গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত

ইএসজি এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ডসে দুটি বিশেষ স্বীকৃতি পেল আকিজ রিসোর্স

ইইউর ৬১ নন-ট্যারিফ বাধার ৪৮টি সমাধান

ইইউ সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা শিগগির

তেজগাঁওয়ে চোর সন্দেহে যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

এলডিসি উত্তরণের আগে শুল্ক সংস্কারে দ্রুত পদক্ষেপ জরুরি

‘ইচ্ছা থাকলেও পর্দা করা সম্ভব না’, মেঘনা আলমের আক্ষেপ

রোগী বাগাতে ‘কম খরচে’ চিকিৎসার টোপ, ১৭ দালাল গ্রেফতার

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী / আওয়ামী সন্ত্রাসীদের বিচার নিশ্চিতে সরকার সর্বশক্তি প্রয়োগ করবে

বিদেশে অবস্থানরত শেখ হাসিনাসহ গণহত্যা ও রাষ্ট্রীয় লুণ্ঠনে জড়িত অপরাধীদের আন্তর্জাতিক আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার নিশ্চিত করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, এই সরকার রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুণ্ঠনকারী, গণহত্যায় জড়িত এবং পালিয়ে থাকা আওয়ামী সন্ত্রাসীদের বিচার নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রের সর্বশক্তি প্রয়োগ করবে।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেনের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এ কথা বলেন।

সংসদের বৈঠকে বক্তব্য উপস্থাপনকালে রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন দুঃখ ও ক্ষোভ প্রকাশ করে স্পিকারকে অবহিত করেন যে, বৈষম্যবিরোধী জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ায় সম্প্রতি ইতালিতে গিয়ে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের তোপের মুখে পড়েছেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। সেখানে জুলাই আন্দোলনে অংশগ্রহণকেই অপরাধ হিসেবে উপস্থাপন করে তার ওপর বর্বরোচিত হামলা চালানো হয়।

আখতার হোসেন আরও উল্লেখ করেন, এর আগেও তিনি নিজে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় জাতিসংঘ কর্মসূচিতে অংশ নিতে আমেরিকা সফরে গেলে সেখানেও আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা তার ওপর একইভাবে হামলা চালিয়েছিল।

তিনি জানান, জুলাই আন্দোলনে যুক্ত সাধারণ মানুষ কিংবা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব যারা বর্তমানে বিদেশে যাচ্ছেন, বিদেশের মাটিতে আওয়ামী গুন্ডারা তাদের ওপর হামলা, হেনস্থা ও হুমকি প্রদান অব্যাহত রেখেছে। এসব অপরাধীরা বিদেশে অপরাধ করে পার পেয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে এমন হামলাকারী আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের গুন্ডাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে সরকারের দৃঢ় পরিকল্পনা ও পদক্ষেপ আছে কি না তা পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর কাছে জানতে চান রংপুর-৪ আসনের এই সংসদ সদস্য।

প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, ইতালির ভেনিস শহরে সংঘটিত এই ন্যক্কারজনক ঘটনার বিরুদ্ধে সরকার কঠোর কূটনৈতিক ও আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে। একইসঙ্গে দেশের ভেতর হত্যা, লুণ্ঠন ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে বিদেশে পালিয়ে থাকা শেখ হাসিনাসহ সব আওয়ামী সন্ত্রাসীদের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করতে সরকার বিন্দুমাত্র দ্বিধাবোধ করবে না।

আখতার হোসেনের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির সংসদে তার প্রথম ভাষণে সকল জুলাই শহীদ ও আহত গণতন্ত্রপ্রেমীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। বিদেশে জুলাই যোদ্ধাদের নিরাপত্তাহীনতার বিষয়ে তিনি স্পষ্টভাবে জানান, একজন জুলাই যোদ্ধার ওপর হামলা মানেই বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার ওপর নগ্ন হামলা।

ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরে তিনি বলেন, সেপ্টেম্বর মাসের ৪ তারিখ সন্ধ্যায় ইতালির ভেনিস শহরের একটি পার্কে আজমেরী হক বাঁধন, তার ভাই, বোন ও সন্তানকে নিয়ে অবস্থান করছিলেন। সে সময় বাংলাদেশ থেকে বিতাড়িত আওয়ামী লীগের কয়েকজন চিহ্নিত ক্যাডার তার ওপর অতর্কিত ও কাপুরুষোচিত হামলা চালায়।

ঘটনা জানার সঙ্গে সঙ্গেই সরকার তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়েছে উল্লেখ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, তিনি নিজে সকালে পররাষ্ট্র সচিবের সাথে কথা বলেছেন এবং সংশ্লিষ্ট রোমস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন। রোমের বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে এরইমধ্যে ইতালীয় পুলিশ প্রশাসন এবং ইতালির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ে যোগাযোগ করা হয়েছে। মিস বাঁধন যেন সর্বোচ্চ কনসুলার সহায়তা ও নিরাপত্তা পান তা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং ঘটনার শিকার আজমেরী হক বাঁধন ইতালি পুলিশে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ দায়ের করার পর সেই দেশের সরকারের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা আরও জোরদার করা হচ্ছে।

হুমায়ুন কবির জাতীয় সংসদে দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করে বলেন, দেশের জনগণের দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে নির্বাচিত এই সরকার রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুণ্ঠনকারী, গণহত্যায় জড়িত এবং পালিয়ে থাকা আওয়ামী সন্ত্রাসীদের বিচার নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রের সর্বশক্তি প্রয়োগ করবে। শেখ হাসিনাসহ যেসব সন্ত্রাসীরা বিদেশে আশ্রয় নিয়ে অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে, তাদের সবাইকে আইনের দীর্ঘ হাত ব্যবহার করে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে।

একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের প্রেসিডেন্সি গ্রহণসহ আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে বাংলাদেশ এখন অন্যতম শক্তিশালী ও কৌশলগত অবস্থানে রয়েছে। বাংলাদেশ আর কোনো পরাশক্তির দাসত্ব বা গোলামি করবে না, বরং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে এবং এই মহান সংসদের সমর্থনে স্বাধীন গতিতে এগিয়ে গিয়ে বিশ্বের বুকে একটি স্বকীয় প্রভাবশালী দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।

গণতন্ত্রকে বাঁচাতে হলে গণমাধ্যমকেও বাঁচাতে হবে: রাষ্ট্রপতি

র‌্যাব বিলুপ্ত হয়ে পাস হচ্ছে এসআরবি বিল, সংসদীয় কমিটির অনুমোদন

২০২৭ সালে হজ প্যাকেজে সর্বোচ্চ কমবে ৭৫ হাজার টাকা

সমালোচনা থাকলেও সম্পত্তি হস্তান্তর আইনকে ক্ষতিকর বলা যায় না

বাঁধনকে হেনস্তার ঘটনায় সরকার তাৎক্ষণিক কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিয়েছে

শাহজালালে সড়ক দুর্ঘটনা, বিমানবাহিনীর ৩ সদস্য নিহত

সাবেক ডিআইজি আতিকার স্বামীর ২ কোটির ‘অবৈধ’ সম্পদ, বিবরণী চাইবে দুদক

মুখে কালো কাপড় বেঁধে সংসদ ভবন থেকে বেরিয়ে গেল বিরোধীদল

সন্তানকে সম্পত্তি দান করলেও আজীবন ভোগ করতে পারবেন বাবা-মা

শাহজালালে দ্রুত সময়ে যাত্রীদের লাগেজ সরবরাহের নির্দেশ বিমানমন্ত্রীর

দেম্বেলের চোখে ব্যালন ডি’অরের দাবিদার হ্যারি কেইন!

১০-৩০ কাউন্টের সুতায় বন্ডেড সুবিধা বাতিলের সিদ্ধান্তকে স্বাগত বিটিএমএর

বিদেশের মাটিতেও বদলায়নি আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক সংস্কৃতি

ডিএমপির অভিযানে গ্রেপ্তার ৫০২, মামলা ৭১

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) নিয়মিত অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৫০২ জন গ্রেপ্তার হয়েছে। একই সময়ে ৭১টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ডিএমপির মিডিয়া ও পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন আলামত ও মাদকদ্রব্য উদ্ধারসহ তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

এতে বলা হয়, ৫০২ জনের মধ্যে রমনা বিভাগ ১৮, লালবাগ বিভাগ ২৮, ওয়ারী বিভাগ ৫৫, মতিঝিল বিভাগ ৭২, তেজগাঁও বিভাগ ৯৪, মিরপুর বিভাগ ১৩৪, গুলশান বিভাগ ৩২, উত্তরা বিভাগ ৫০, গোয়েন্দা বিভাগ ১৯ জনকে গ্রেফতার করেছে।

অভিযানকালে ৭ হাজার ৯৪২ পিস ইয়াবা, পাঁচ কেজি ২৫০ গ্রাম গাঁজা, ৩.২ গ্রাম হেরোইন, একটি মোবাইল ফোন, একটি ছুরি, চারটি চাপাতি, একটি স্পোকেট, দুইটি হেলমেট, দুইটি পিকআপ, ১৫০ লিটার ডিজেল, একটি ড্রাম, একটি ব্যাটারি, একটি প্লাস্টিকের পাইপ ও নগদ ২ হাজার ২০০ টাকা উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল ১৬ ডিসেম্বর আংশিক চালু: বিমানমন্ত্রী

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল আগামী ১৬ ডিসেম্বর আংশিকভাবে চালু হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।

তিনি জানান, শুরুতে এই টার্মিনাল থেকে প্রায় ২০টি উড়োজাহাজ চলাচল করবে।

টার্মিনালটি পর্যায়ক্রমে পুরোপুরি কার্যকর হবে। একই সঙ্গে যন্ত্রপাতির সমন্বয় সম্পন্ন করা এবং এর সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) ব্যবস্থাসংক্রান্ত সমস্যাগুলো সমাধানের চেষ্টা চলছে।

মঙ্গলবার তৃতীয় টার্মিনাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান মন্ত্রী।

তিনি জানান, ধীরে ধীরে ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়ানো হবে।

মন্ত্রী বলেন, এর আগে টার্মিনালটির সফট ওপেনিং করা হয়েছিল। তবে ভবনের ভেতরের যন্ত্রপাতি সমন্বয় করা না হওয়ায় এর কার্যক্রম চালু করা সম্ভব হয়নি।

তৃতীয় টার্মিনাল চালুর আগেই ঋণের চাপ, প্রথম বছরেই শোধ করতে হবে ২২০০ কোটি টাকা

‘শুধু ভবনের উদ্বোধন করা হয়েছিল। কিন্তু ভেতরের যন্ত্রপাতি সমন্বয় করা হয়নি এবং এটিকে চালু করার যথাযথ উদ্যোগও নেওয়া হয়নি’, যোগ করেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সমস্যাগুলোর সমাধানে সরকার জাপানি অংশীদারদের সঙ্গে বেশ কয়েকটি বৈঠক করেছে।

তিনি বলেন, মূল চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশ ১৫ শতাংশ রাজস্ব পাওয়ার কথা ছিল, আর জাপানি অংশীদাররা পেত ৮৫ শতাংশ।

আলোচনার পর বাংলাদেশের অংশ বাড়িয়ে ২৭ শতাংশ করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন মন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) তাদের নিজেদের আয় থেকে ইতোমধ্যে ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে। ডিসেম্বরে আরও ৯০০ কোটি টাকা পরিশোধ করতে হবে।’

‘তৃতীয় টার্মিনাল চালু না থাকায় অন্য দুই টার্মিনালের আয় ও এয়ারলাইন্সগুলোর কাছ থেকে পাওয়া রাজস্ব দিয়ে ঋণ পরিশোধ করতে হচ্ছে। ফলে আর্থিক চাপের মধ্যে আছে বেবিচক’, জানান তিনি।

তিনি জানান, (তৃতীয়) টার্মিনালটি দ্রুত চালু করা না গেলে এভাবেই অন্যান্য উৎসের আয় থেকেই ঋণের অর্থ পরিশোধ করে যেতে হবে।

তিনি বলেন, বাকি কাজ শেষ করতে বেবিচক ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাবে।

মন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানান, পুরোপুরি কার্যক্রম শুরু হলে এই টার্মিনালের মাধ্যমে প্রায় ২০০ ফ্লাইটের ব্যবস্থাপনা করা সম্ভব হবে।

ব্যাগেজ সেবার বিষয়ে মন্ত্রী জানান, যাত্রীদের লাগেজের জন্য অপেক্ষার সময় কমাতে একটি প্রটোকল তৈরি করা হয়েছে।

এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, যাত্রীরা ১৮ থেকে ৪৫ মিনিটের মধ্যে তাদের লাগেজ পাবেন।

নতুন টার্মিনালের অপারেটরকে ১৫ থেকে ৪০ মিনিটের মধ্যে লাগেজ ব্যবস্থাপনার কাজ শেষ করতে হবে। নির্ধারিত সময়সীমা পূরণে ব্যর্থ হলে অপারেটরকে বেবিচক জরিমানা করতে পারে বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, টার্মিনালের বিভিন্ন প্রক্রিয়ার সমন্বয়কাজের ৫৭ শতাংশ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এই মুহূর্তে আমদানি করা যন্ত্রপাতির পরীক্ষা ও ট্রায়াল চলছে।

তিনি বলেন, ‘একটি বিমানবন্দর একটি দেশের আয়না। মানুষ যখন এখানে আসবে, তখন তাদের বোঝা উচিত বাংলাদেশ কেমন একটি দেশ।’

তৃতীয় টার্মিনালে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ভূমিকার বিষয়ে মিল্লাত বলেন, হ্যান্ডলিং কার্যক্রমে জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থাটির সম্পৃক্ততা বাড়ানোর বিষয়টি সরকার বিবেচনা করছে।

তিনি বলেন, আলোচনা শেষে বিস্তারিত চূড়ান্ত করা হবে এবং বিমানকে তাদের ব্যাগেজ হ্যান্ডলিং সক্ষমতা ও কর্মীদের প্রশিক্ষণ উন্নত করতে হবে।

‘সরকার বাংলাদেশ বিমানের বহর বাড়াতে চায়। প্রায় ২০ কোটি মানুষের একটি দেশের জন্য শক্তিশালী জাতীয় পতাকাবাহী উড়োজাহাজ সংস্থা গুরুত্বপূর্ণ’, যোগ করেন তিনি।

উন্নয়নশীল দেশ হওয়া সত্ত্বেও বড় বহরের জাতীয় পতাকাবাহী উড়োজাহাজসংস্থা হিসেবে ইথিওপিয়ান এয়ারলাইনসের উদাহরণও দেন তিনি।

বিমানমন্ত্রী মিল্লাত বলেন, ‘সরকার অপ্রয়োজনীয় ব্যয় এড়িয়ে চলবে। এর মধ্যে বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তনের বিষয়টিও রয়েছে।’

এ ধরনের পরিবর্তনের জন্য আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সিস্টেমে পরিবর্তন আনতে বড় ধরনের ব্যয় হবে বলে মত দেন তিনি।

তিনি বলেন, তৃতীয় টার্মিনালের পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু হতে সময় লাগবে। ইমিগ্রেশন সুবিধাসহ বিভিন্ন অংশ ধীরে ধীরে চালু করা হবে।

দ্রুত শাহজালালের তৃতীয় টার্মিনাল চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের

আগামী বছরের মার্চ বা এপ্রিলের মধ্যে টার্মিনালটি পুরোপুরি চালু হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।