সোমবার, সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬

জাপানকে বাংলাদেশে মোটরগাড়ি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান শিল্পমন্ত্রীর

জাপানকে বাংলাদেশে মোটরগাড়ি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

সোমবার রাজধানীর মতিঝিলে শিল্পমন্ত্রীর অফিস কক্ষে বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনইচি সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ আহ্বান জানান।

বৈঠকে শিল্পমন্ত্রী জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে বলেন, জাপান বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন সহযোগী ও অকৃত্রিম বন্ধু। বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও শিল্পায়নে জাপান গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।

তিনি অভিন্ন স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।

বৈঠকে শিল্পমন্ত্রী শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল করপোরেশনের সঙ্গে জাপানি শিল্প প্রতিষ্ঠান মিতসুবিশি ও টয়েটার সঙ্গে সমঝোতা স্মারকের আলোকে বাংলাদেশে মোটরগাড়ি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।

জবাবে রাষ্ট্রদূত জানান, এ বিষয়ে কাজ চলছে।

জাপানি রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের সম্পর্ক। ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অতীতে যেভাবে পাশে থেকেছি, ভবিষ্যতে বাংলাদেশের উন্নয়নে সেভাবে পাশে থাকবো।

তিনি চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ ফ্যাসিলিটিজ অর্থাৎ ট্রিটমেন্ট, স্টোরেজ অ্যান্ড ডিসপোজাল ফ্যাসিলিটি (টিএসডিএফ) স্থাপনে বাংলাদেশের প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এ বিষয়ে আমরা শিগগিরই সম্ভাব্যতা যাচাই করে তা বাস্তবায়নের কার্যক্রম গ্রহণ করবো।

শিল্প সচিব মো. ওবায়দুর রহমান, অতিরিক্ত সচিব মো. নুরুজ্জামান, যুগ্ম সচিব সাহেলা আক্তার, ঢাকাস্থ জাপানি দূতাবাসের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের প্রধান প্রথম সচিব কারাসাওয়া শিনজু এবং অর্থনৈতিক বিভাগের প্রথম সচিব সুকাও দাইসুকে এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

যথার্থ তথ্য পেলে অপতথ্য কমে আসবে: পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি বলেছেন, বিকাশমান অর্থনীতির জন্য যথার্থ তথ্য লাগবে। যথার্থ তথ্য পেলে অপতথ্য কমে আসবে। প্রত্যেকটি সেক্টরে সঠিক তথ্যটা নিশ্চিত হলে ওভারলেপিং বন্ধ হবে।

সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বিবিএস অডিটোরিয়ামে ন্যাশনাল অ্যাকাউন্টিং উইংয়ের বাস্তবায়নাধীন ‘ত্রৈমাসিক মোট দেশজ উৎপাদন (কিউজিডিপি) এবং জেলাভিত্তিক মোট দেশজ উৎপাদন (ডিজিডিপি) উন্নয়ন’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের কমিটমেন্ট হচ্ছে তথ্য ও উপাত্তকে নির্ভরযোগ্যভাবে উপস্থাপন করা। এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর কঠোর নির্দেশনা রয়েছে যে, তথ্য ও উপাত্ত সঠিকভাবে উপস্থাপন করতে হবে। এখানে কোনো ম্যানিপুলেট চলবে না।

তিনি আরও বলেন, আমাদের তথ্য ও উপাত্তের নির্ভরযোগ্যতা রাখতে হবে। আমরা বিগত সরকারের সময় জিডিপি নিয়ে সমালোচনা করেছি। তাই আমরা চাই সঠিক তথ্যটা উঠে আসুক।

বিবিএস’র মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো. ফরহাদ সিদ্দিকের সভাপতিত্বে সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব মিজ আলেয়া আক্তার, প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম। সেমিনারটি সঞ্চালনা করেন বিবিএস’র পরিচালক মুহাম্মদ আতিকুল কবীর।

বরিশালে অবৈধ মজুদের দায়ে দুই জ্বালানি বিক্রেতাকে জরিমানা

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় দুই জ্বালানি তেল বিক্রেতাকে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমান আদালত। এছাড়াও অবৈধভাবে মজুদ করা জ্বালানি তেল বিক্রি করে অর্থ সরকারী কোষাগারে জমা দেয়া হয়েছে।

রবিবার দিবাগত রাতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয় বলে জানান ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী হাকিম ও বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা উল হুসনা।

জরিমান আদায়কৃত দুই প্রতিষ্ঠান হলো- উপজেলার মীরগঞ্জ ফেরিঘাট এলাকার ‘মেসার্স হাওলাদার স্টোর’ ও ‘সিকদার স্টোর’।

নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, দুই প্রতিষ্ঠানের মালিক বরিশাল নগরীর লঞ্চঘাট থেকে অবৈধভাবে জ্বালানি তেল সংগ্রহ করে বাবুগঞ্জ উপজেলায় নিয়ে যায়। পরে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করে। জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) দেয়া তথ্য অনুযায়ী অভিযান চালিয়ে দুই প্রতিষ্ঠান থেকে ২ হাজার ৪০০ লিটার ডিজেল ও ৬০০ লিটার পেট্রোল উদ্ধার করা হয়।

এ সময় অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুদ ও বিক্রির অভিযোগে কুদ্দুস হাওলাদার ও সাইদুর রহমান শিকদারকে মোট ৮ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এছাড়াও জব্দকৃত তেল নিলামের মাধ্যমে স্থানীয় ট্রলার, ট্রাক্টর, স্পিডবোট ও আলফা চালকদের কাছে বিক্রি করা হয়। বিক্রয়লব্ধ ৩ লাখ ৯ হাজার ৬০০ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেয়া হয়েছে।

৮০ কোটি মানুষ কর্মসংস্থান হারাবে: বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট

মধ্যেপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত বন্ধ হলেও আগামী ১০ থেকে ১৫ বছরে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে ১২০ কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের ঘাটতি দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় ​​বাঙ্গা।

বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে কর্মক্ষম ৪০ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি করবে, ফলে ৮০ কোটি মানুষের চাকরির ঘাটতি থেকে যাবে।

মাস্টারকার্ডের সাবেক এই সিইও কোভিড-১৯ মহামারির পর থেকে বিশ্ব অর্থনীতিতে বিপর্যয় নেমে আসে বলেন জানান। এর সঙ্গে ধারাবাহিক স্বল্পমেয়াদী ধাক্কার কারণে সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ, বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের দীর্ঘমেয়াদী বিষয়ের ওপর মনোনিবেশ করানো একটি কঠিন কাজ বলে জানান।

তিনি বলেন, আর্থিক কর্মকর্তারা যেন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, মানুষকে বিদ্যুৎ গ্রিডের সঙ্গে সংযুক্ত করা এবং বিশুদ্ধ পানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করার মতো দীর্ঘমেয়াদী চ্যালেঞ্জগুলোর ওপর মনোযোগ ধরে রাখেন। আমাদের একই সঙ্গে হাঁটতে ও চুইংগাম চিবোতে হচ্ছে। আমরা এখন একটি স্বল্প গতির চক্রের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। দীর্ঘগতির চক্রটি হলো এই চাকরির পরিস্থিতির উন্নতি করা।

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের ছায়ায় এই সপ্তাহে বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের বসন্তকালীন বৈঠকে যোগ দিতে সারাবিশ্ব থেকে হাজার হাজার অর্থ কর্মকর্তা ওয়াশিংটনে সমবেত হবেন। এই যুদ্ধ বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির হার নিম্নমুখী এবং এবং মুদ্রাস্ফীতির হার বেড়ে যায়। অর্থনীতিতে এর প্রভাব কতটা পড়বে, তা নির্ভর করবে গত সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্বের ওপর।

এই যুদ্ধবিরতি ঘোষণার মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরেই ট্রাম্প ইরানের সভ্যতা ধ্বংস করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু হরমুজ প্রণালীতে ইরানের কার্যকর অবরোধের অবসান ঘটাতে পারেনি, যা বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে সবচেয়ে বড় বিপর্যয় নেমে আসে। এছাড়াও তিনি লেবাননে ইসরায়েল ও ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর মধ্যে চলমান সংঘাত শান্ত করতে পারেনি।

বিশ্বব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ, উন্নয়ন কমিটি, উন্নয়নশীল দেশগুলোর সঙ্গে এমন নীতি ও নিয়ন্ত্রক শর্তাবলী সহজ করার জন্য কাজ করার পরিকল্পনা তুলে ধরেছে, যা বছরের পর বছর ধরে বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বাধা সৃষ্টি করেছে।

বাঙ্গা বলেন, আলোচনায় অনুমতি সংক্রান্ত স্বচ্ছতা, দুর্নীতি দমন, শ্রম আইন, ভূমি আইন, ব্যবসা খোলার প্রতিবন্ধকতা, সরবরাহ ব্যবস্থা, উন্নত বাণিজ্য ব্যবস্থা এবং বাণিজ্যের ক্ষেত্রে মূল্য-বহির্ভূত বাধার মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

তিনি আশাবাদী তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে এবং তাদের চাহিদা পূরণকারী বেসরকারি সংস্থাগুলোর জন্য সুযোগ তৈরি করতে সমাধান খুঁজে পাওয়া যাবে।

তিনি আরও বলেন, আমি জানি না আগামী ১৫ বছরের মধ্যে এমন কোনো আদর্শ পরিস্থিতিতে পৌঁছানো সম্ভব হবে কি না, যেখানে প্রত্যেকের প্রয়োজন মেটানো হবে। এমনটা ঘটবে বলে আমার সন্দেহ আছে, কিন্তু যদি তা না করা হয়, তবে অবৈধ অভিবাসন এবং অস্থিতিশীলতার দিক থেকে এর পরিণতি বেশ গুরুতর হবে।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সাল নাগাদ বিশ্বজুড়ে ১১৭ মিলিয়নেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হবে। বঙ্গা বলেন, উন্নয়নশীল দেশগুলোর সংস্থাগুলো নিজেরাই বিশ্বব্যাপী তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণ শুরু করেছে, যার মধ্যে ভারতের রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ ও মাহিন্দ্রা গ্রুপ এবং নাইজেরিয়ার ডাঙ্গোটে অন্তর্ভুক্ত।

বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট বলেন, উন্নয়নশীল দেশগুলোর কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার আলোচনায় দেখা গেছে, তারা পরবর্তী প্রজন্মের জন্য আরও বেশি এবং উন্নত মানের চাকরি তৈরিতে আগ্রহী। এর পাশাপাশি পানির বিষয়টিও একটি বড় মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু হবে। বিশ্বব্যাংক, অন্যান্য উন্নয়ন ব্যাংকগুলোর সঙ্গে যৌথভাবে আরও এক বিলিয়ন মানুষের জন্য বিশুদ্ধ পানির নিরাপদ সরবরাহ নিশ্চিত করার একটি উদ্যোগ ঘোষণা করতে চলেছে। এছাড়াও আফ্রিকায় ৩০ কোটি পরিবারকে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া এবং স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নের জন্য বিদ্যমান উদ্যোগগুলোও এতে যুক্ত হবে।

বাঙ্গা বলেন, গত শরতে আইএমএফ এবং বিশ্বব্যাংকের বৈঠকে বিশ্বব্যাংক কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগের জন্য প্রয়োজনীয় মানবিক ও ভৌত অবকাঠামোর ওপর মনোযোগ দিয়েছিল এবং এই শরতে ব্যাংককে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বৈঠকে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ আকর্ষণের ওপর জোর দিয়ে এই ধারা অব্যাহত রাখা হবে।

বিশ্বব্যাংক এমন পাঁচটি খাত চিহ্নিত করেছে যেগুলো বিনিয়োগ থেকে লাভবান হবে এবং যেগুলো বৈশ্বিক বাণিজ্য বা উন্নত দেশগুলো থেকে আউটসোর্সিংয়ের ওপর নির্ভরশীল নয়। অবকাঠামো, ক্ষুদ্র কৃষকদের জন্য কৃষি, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, পর্যটন এবং মূল্য সংযোজিত উৎপাদন খাতকে চিহ্নিত করা হয়েছে।

বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্টের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অগ্রগতির ফলে এই খাতগুলো তাৎক্ষণিকভাবে প্রভাবিত হওয়ার সম্ভাবনা কম।

তিনি আরও বলেন, সমস্যাটা হলো, আমরা এটা একা করতে পারব না। ৮০০ মিলিয়নের সেই আশ্চর্যজনক সংখ্যায় পৌঁছানোর জন্য আমাদের এই বরফের গোলাটিকে পাহাড়ের ঢাল বেয়ে গড়িয়ে নামাতে হবে, আর গড়ানোর পথে এটি যেন প্রচুর বরফ সংগ্রহ করে।

সূত্র: রয়টার্স।

বাজেটে দেশের ব্যবসায়ীদের ওপর কোনো খড়গ নামবে না : বাণিজ্যম

আসন্ন ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেটে দেশের ব্যবসায়ীদের ওপর কোনো খড়গ নামবে না বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

তিনি বলেন, রাজস্ব শৃঙ্খলা আনতে আমাদের করের আওতা বাড়ানো দরকার। এই করের আওতা বাড়াতে আমরা ব্যক্তিশ্রেণির কর বাড়াচ্ছি না, বরং করদাতার সংখ্যা বাড়াচ্ছি। আমার বিশ্বাস, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও অর্থ মন্ত্রণালয় এ নিয়ে যে পরিকল্পনা ও কাজ করছে, তার ইতিবাচক প্রতিফলন আগামী বাজেট ও পরবর্তী বছরে আপনারা দেখতে পাবেন। আপনাদের জন্য কোনো খড়গ নামছে—এমন ধারণার কোনো ভিত্তি নেই।

সোমবার দুপুরে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ‘ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি প্রাক-বাজেট আলোচনা ২০২৬-২০২৭, বেসরকারি খাতের প্রত্যাশা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তব্যকালে এমনটা জানান তিনি।

মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের ফলে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে সার ও জ্বালানি খাতে সরকারের বাড়তি ব্যয় হচ্ছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, জিটুজি চুক্তির আওতায় যে এলএনজি আমার স্পট মার্কেট থেকে ১০ ডলারে কিনতাম, এখন সেটি কিনতে হচ্ছে ২০ ডলারে। যে ক্রুড অয়েল ৫০-৬০ ডলারে কিনতাম, সেটি এখন কিনতে হচ্ছে ১১৬ ডলারে। যে সার আমরা ৪৫৬ ডলারে কিনতাম, সেটা ৮০০ ডলারে কিনতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, দেশে কোনোকিছুর স্টোরেজ অ্যারেঞ্জমেন্ট নেই। আজকে যদি আমাদের কাছে ২ মাস রাখার মতো এলএনজির মজুদ থাকত তাহলে ১০ ডলারের এলএনজি স্পট মার্কেট থেকে ২০ ডলারে কিনতে হতো না। পৃথিবীর প্রতিটি দেশে আমদানিনির্ভর প্রতিটি পণ্যের স্ট্রেটেজিক রিজার্ভ আছে, শুধুমাত্র বাংলাদেশে নেই। আগামী দিনে আমরা এসব বিষয়ে কাজ করার পাশাপাশি প্রক্রিয়াগুলো আরও সহজ করতে কাজ করব।

সিআইএ-র সাবেক পরিচালকের মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে পদচ্যুত করার দাবি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে পদচ্যুত করার দাবি আরও জোরালো হয়েছে। এবার এ দাবির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-র সাবেক পরিচালক জন ব্রেনান।

বারাক ওবামা প্রশাসনে সিআইএ প্রধানের দায়িত্ব পালন করা ব্রেনান এক সাক্ষাৎকারে বলেন, অযোগ্যতা ও ঝুঁকিপূর্ণ আচরণের কারণে ট্রাম্পকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়া উচিত। তিনি দাবি করেন, মার্কিন সংবিধানের ২৫তম সংশোধনী এমন পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখেই তৈরি করা হয়েছে।

সাক্ষাৎকারে ব্রেনান আরও বলেন, ইরান নিয়ে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক উসকানিমূলক মন্তব্য এবং তা থেকে সম্ভাব্য প্রাণহানির ঝুঁকি তাকে গুরুতর উদ্বেগে ফেলেছে। তার মতে, এসব কারণেই প্রেসিডেন্টকে পদচ্যুত করার বিষয়টি যৌক্তিক হয়ে উঠেছে।

তিনি আরও বলেন, ট্রাম্প ‘স্পষ্টতই মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন’ এবং তার হাতে থাকা পরমাণু অস্ত্রসহ বিশাল সামরিক ক্ষমতা দেশ ও বিশ্বের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

সংসদীয় কূটনীতিই হতে পারে দুই দেশের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ সেতুবন্ধন

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার শক্তিশালী দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ভিত্তি হচ্ছে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম)। সোমবার সংসদ ভবনে তার কার্যালয়ে ভারতের বিদায়ী হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি এসব কথা বলেন।

স্পিকার ভারতকে বাংলাদেশের বিশ্বস্ত ও নিকটতম প্রতিবেশী হিসেবে উল্লেখ করেন। বিশেষ করে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে সভাপতি পদে সমর্থন দেওয়ায় ভারত সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

সেইসঙ্গে ভারতের এই সমর্থন প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রতি তাদের সহযোগী ও উদার দৃষ্টিভঙ্গিরই অনন্য বহিঃপ্রকাশ বলে জানান তিনি। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে স্পিকার বলেন, বর্তমান সংসদ অত্যন্ত প্রাণবন্ত এবং এখানে বিরোধী দল যথেষ্ট সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।

সংসদীয় সম্পর্ককে আরও উচ্চতায় নিতে দুই দেশের সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে সংসদীয় কূটনীতির ওপর জোর দিয়ে বলেন, সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ দুই দেশের মধ্যে শক্তিশালী সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করতে পারে। প্রতিনিধিদলের নিয়মিত সফর বিনিময় কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও বেগবান করবে।

বৈঠকে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, আঞ্চলিক সংযোগ বৃদ্ধি এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়ে অত্যন্ত ইতিবাচক ও গঠনমূলক আলোচনা হয়। এসময় নতুন স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় হাফিজ উদ্দিন আহমদকে অভিনন্দন জানান প্রণয় ভার্মা।

তিনি ভারত সরকারের পক্ষ থেকে স্পিকারের হাতে ভারতের সংবিধান ও একটি শুভেচ্ছা স্মারক তুলে দেন। সাক্ষাতে ভারতীয় হাইকমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং বাংলাদেশ সংসদ সচিবালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কার্যকারিতা হারাল অন্তর্বর্তী সরকারের ২০ অধ্যাদেশ

অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ২০টি অধ্যাদেশ কার্যকারিতা হারিয়েছে। বিচারবিভাগের স্বাধীনতা, মানবাধিকার, দুর্নীতিবিরোধী সংস্কার, ও গণভোটের মতো গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ নিয়ে জনমনে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন।

ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশগুলো নিয়ে শেষ হয়েছে জাতীয় সংসদের সিদ্ধান্ত। গত শনিবার থেকে এই ২০ অধ্যাদেশ তার কার্যকারিতা হারিয়েছে।
এর আগে শুক্রবার (১০ এপ্রিল) পাস হয় ২৪টি বিল, ৯ এপ্রিল ৩১টি, ৮ এপ্রিল ১৩টি, ৭ এপ্রিল ১৪টি, ৬ এপ্রিল ৭টি এবং ৫ এপ্রিল ২টি।

রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংক্রান্ত ও জুলাই যোদ্ধাদের দায়মুক্তিসহ এই ১১৩টি অধ্যাদেশকে ৮৭টি বিল পাসের মাধ্যমে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া চারটি পৃথক বিল পাসের মাধ্যমে বাতিল হয়েছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনসহ ৭টি অধ্যাদেশ।

এই সংসদে বহুল আলোচিত গণভোট, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার, দুর্নীতি দমন কমিশন সংশোধন, তথ্য অধিকার ও পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশসহ অন্তর্বর্তী সরকারের বাকি ১৩টি অধ্যাদেশ সংসদের অনুমোদন পায়নি।
ফলে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ২০টি কার্যকারিতা এখন আর নেই।

রহিতকরণ বিল পাসের মাধ্যমে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনসহ ৭টি অধ্যাদেশে গৃহীত কার্যক্রমের সুরক্ষা দেওয়া হলেও গণভোট, দুদক, গুমসহ ১৩টি অধ্যাদেশের ক্ষেত্রে কোনো সুরাহা আসেনি।

উল্লেখ্য, সংসদ চলমান না থাকাকালে রাষ্ট্রপতি যেসব অধ্যাদেশ জারি করেন, তা সংসদের অধিবেশন বসার ৩০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তির বাধ্যবাধকতা আছে। অন্যথায় অধ্যাদেশ স্বয়ংক্রিয়ভাবেই বাতিল হয়ে যায়।

২০ এপ্রিল বগুড়া যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

আগামী সোমবার (২০ এপ্রিল) বগুড়া যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সফরকালে তিনি বহুল প্রতীক্ষিত বগুড়া সিটি করপোরেশনসহ জেলার বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন।

প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার-১ মো. উজ্জ্বল হোসেন স্বাক্ষরিত এক সরকারি সফরসূচি থেকে এসব তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

সফরসূচি অনুযায়ী, ওইদিন সকালে তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে হেলিকপ্টারে বগুড়া জেলা পুলিশ লাইন্স হেলিপ্যাডে পৌঁছাবেন প্রধানমন্ত্রী।

এরপর বেলা পৌনে ১১টায় জেলা ও দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণে ই-বেইলবন্ড কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করবেন তিনি। বেলা ১১টায় তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বগুড়া সিটি করপোরেশনের উদ্বোধন ঘোষণা করবেন।
এরপর শহীদ জিয়াউর রহমান ডিগ্রি কলেজ মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান কার্যক্রম এবং বাঘবাড়ী নশিপুরস্থ চৌকিরদহ খালে খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করার কথা রয়েছে তার।

দুপুরের পর প্রধানমন্ত্রী শহীদ জিয়াউর রহমান গ্রাম হাসপাতাল পরিদর্শন করবেন এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পৈতৃক ভিটায় সময় কাটাবেন।

বিকেলে বগুড়া সার্কিট হাউসে নামাজ ও বিরতি শেষে বিকেল ৪টায় তিনি ঢাকার উদ্দেশে বগুড়া ছাড়বেন। প্রধানমন্ত্রীর এ সফরকে কেন্দ্র করে উত্তরবঙ্গের এই জনপদে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে এবং স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এটি একটি পূর্ণাঙ্গ সরকারি সফর ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তার সফরসঙ্গী হিসেবে থাকবেন।

চেলসিকে হারিয়ে আর্সেনালের ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে সিটি

চেলসির বিপক্ষে দাপুটে জয়ে শিরোপা দৌড়ে নতুন উত্তাপ ছড়িয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি। ৩-০ গোলের এই জয়ের ফলে লিগ টেবিলের শীর্ষে থাকা আর্সেনালের ঘাড়ে এখন নিঃশ্বাস ফেলছে সিটি।

স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে একেবারে ঝড় তোলে পেপ গার্দিওলার দল। নিকো ও’রেইলি, মার্ক গুহি ও জেরেমি ডকুর গোলেই বড় জয় নিশ্চিত হয়।
রায়ান চেরকি ছিলেন ম্যাচের অন্যতম নায়ক, তার দুটি অ্যাসিস্টেই ভেঙে পড়ে চেলসির রক্ষণ।

এই জয়ে সিটির পয়েন্ট ব্যবধান কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৬-এ, তাও আবার এক ম্যাচ কম খেলে। সামনে ইতিহাদ স্টেডিয়ামে দুই দলের মুখোমুখি লড়াই শিরোপা নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

এর আগে লিগ কাপ ফাইনালে আর্সেনালকে হারানো এবং এফএ কাপে লিভারপুলকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দেওয়ার পর এটি সিটির টানা তৃতীয় বড় জয়।
ফলে আবারও শিরোপা জয়ের দৌড়ে ভয়ঙ্কর রূপে দেখা যাচ্ছে দলটিকে।

অন্যদিকে, এই হারে চেলসির চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলার স্বপ্নে ধাক্কা লেগেছে। তারা এখন পঞ্চম স্থানে থাকা লিভারপুলের চেয়ে ৪ পয়েন্ট পিছিয়ে।