সৌদি আরবের হজ ও উমরাহ মন্ত্রী ড. তৌফিক বিন ফাউজান আল রাবিয়াহ এবং বাংলাদেশের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদের) মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে হজ্ব ও উমরাহ সেবা ও সহযোগিতা আরও জোরদারে উভয় দেশ ঐকমত্যে পৌঁছায়।
মদিনার কিং সালমান আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে ধর্মমন্ত্রী সৌদি আরবের হজ ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন ও প্রযুক্তিনির্ভর অগ্রগতির জন্য বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ ও ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন এবং সৌদি সরকারকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের সম্পর্ক ভ্রাতৃত্বপূর্ণ ও আস্থার ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে এ সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে এবং ধর্মীয় ও পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার হবে।
বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর প্রায় ৫ লাখ ওমরাহ ও ১ লাখ ২০ হাজার হজযাত্রী সৌদিতে আগমন করে উল্লেখ করে ধর্মমন্ত্রী হাজীদের কল্যাণে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব উপস্থাপন করেন।
এর মধ্যে রয়েছে ১০ জিলহজে কুরবানি সম্পন্ন করা, মিনা ও আরাফাতে সমন্বিত ক্যাম্প ব্যবস্থা, মাশায়ার ট্রেনের জন্য ডিজিটাল পেমেন্ট চালু, নুসুক প্ল্যাটফর্মে অ্যাক্সেস প্রদান, অনুমোদিত এজেন্সির মাধ্যমে ভিসা প্রক্রিয়াকরণ, বছরব্যাপী বাংলাদেশ হজ অফিস চালু রাখা, রিয়েল টাইম সমন্বয় জোরদার, বাংলা ভাষায় সহায়তা এবং কিউআর কোড ভিত্তিক ক্যাম্প ট্র্যাকিং।
সৌদি মন্ত্রী প্রস্তাবগুলো মনোযোগসহকারে গ্রহণ করেন এবং বাস্তবায়নে ইতিবাচক আশ্বাস প্রদান করেন। উভয় দেশ ভবিষ্যতে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে এবং বাংলাদেশি হাজীদের জন্য সেবা আরও সহজ, নিরাপদ ও উন্নত করার বিষয়ে আশ্বস্ত করে।
বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে সৌদি মন্ত্রীকে সৌজন্য উপহার প্রদান করা হয়। সৌদি মন্ত্রীও ধর্মমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা উপহার প্রদান করেন।
এ সময় ধর্ম সচিব, সৌদিতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত, হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বাংলাদেশ মিশনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, তৃতীয় উমরাহ ও ভিজিট ফোরামে অংশগ্রহণের জন্য ধর্মমন্ত্রী বর্তমানে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন।




