বিএনপির জয়ের পর বিশ্বনেতাদের “তারেক রহমান” কে অভিনন্দন বার্তা

SHARE

বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) বিজয়ী হওয়ায় দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত পৃথক বার্তায় তারা বাংলাদেশের নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক বার্তায় বিএনপি ও তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, নানা চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে অগ্রসর হওয়া বাংলাদেশের জনগণ ভোটের মাধ্যমে তাদের মতামত স্পষ্টভাবে প্রকাশ করেছেন। নির্বাচনকালীন দায়িত্ব পালনকারী প্রধান উপদেষ্টার ভূমিকায় ড. মুহাম্মদ ইউনূস-এর অবদানের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। মালয়েশিয়া বাংলাদেশের নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে নতুন মাত্রায় উন্নীত করতে চায় বলে বার্তায় উল্লেখ করা হয়।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তারেক রহমান ও বিএনপিকে অভিনন্দন জানান। তিনি বাংলাদেশের জনগণের মঙ্গল কামনা করেন এবং দুই বাংলার মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

এর আগে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এক্সে দেওয়া বার্তায় তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, এই বিজয় বাংলাদেশের জনগণের আস্থার প্রতিফলন। ভারত একটি গণতান্ত্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের পক্ষে সমর্থন অব্যাহত রাখবে এবং দুই দেশের বহুমাত্রিক সম্পর্ক আরও জোরদারে একসঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী।

মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জু ফেসবুকে দেওয়া এক বার্তায় বিএনপি চেয়ারম্যানকে অভিনন্দন জানান। তিনি মালদ্বীপ ও বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সম্প্রসারণের আশাবাদ ব্যক্ত করেন। দুই দেশের অংশীদারত্ব আগামী দিনে নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসও তাদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক বিবৃতিতে বাংলাদেশের জনগণকে সফলভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করার জন্য অভিনন্দন জানায়। একই সঙ্গে বিএনপি ও তারেক রহমানকে বিজয়ের শুভেচ্ছা জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্র দুই দেশের সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট অভিন্ন লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করে।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এক্সে দেওয়া বার্তায় তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান এবং বাংলাদেশের জনগণকে নির্বাচন সম্পন্ন করার জন্য শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, পাকিস্তান বাংলাদেশের নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে কাজ করে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করতে চায়। দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের অভিন্ন লক্ষ্য এগিয়ে নিতে সহযোগিতার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। একই সময় পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারিও পৃথক বার্তায় অভিনন্দন জানান এবং পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিবেশী ও মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোর পাশাপাশি পশ্চিমা শক্তির অভিনন্দন বার্তা বাংলাদেশের নতুন সরকারের প্রতি আন্তর্জাতিক আগ্রহের প্রতিফলন। বিশেষ করে বাণিজ্য, শ্রমবাজার, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও উন্নয়ন সহযোগিতা—এই চারটি খাত আগামী সময়ে দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে। মালয়েশিয়া ও মালদ্বীপের ক্ষেত্রে প্রবাসী কর্মসংস্থান ও পর্যটন খাত গুরুত্বপূর্ণ; ভারতের সঙ্গে রয়েছে বাণিজ্য, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও যোগাযোগ অবকাঠামো সহযোগিতা; আর যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে কৌশলগত ও অর্থনৈতিক ইস্যুগুলো প্রাধান্য পেতে পারে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক মহল থেকে ধারাবাহিকভাবে আসা এসব বার্তা বাংলাদেশের নতুন সরকারের জন্য কূটনৈতিক যোগাযোগ জোরদারের একটি প্রাথমিক ইঙ্গিত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আগামী দিনগুলোতে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক যোগাযোগ, শুভেচ্ছা বিনিময় এবং সম্ভাব্য দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের মাধ্যমে এসব প্রত্যাশা কতটা বাস্তবায়িত হয়, সেটিই হবে পর্যবেক্ষণের বিষয়।