ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা-দেশের মর্যাদার প্রশ্নে আপস করব না : আসিফ নজরুল

SHARE

হঠাৎ করেই গত পরশু মধ্যরাতে খবর ছড়িয়ে পড়ে যে ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে না চাওয়া বাংলাদেশকে নিজেদের অনমনীয় অবস্থানের কথা জানিয়েছে আইসিসি। বিশ্বকাপ খেললে ভারতে গিয়েই খেলতে হবে, না হলে পয়েন্ট হারানোর ঝুঁকি থাকবে। তবে রাত পেরোতেই ইএসপিএন-ক্রিকইনফোর করা সেই প্রতিবেদনের দাবি নাকচ করে দেয় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

আইসিসিকে বোঝানোর অপেক্ষায় বিসিবিএর মধ্যেই জানা যায়, বিসিবি কার্যালয়ে বোর্ড সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল ও পরিচালকদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে পারেন আইন ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল।

শেষ পর্যন্ত বিসিবিতে না গেলেও তাঁর সঙ্গে দেখা করতে মন্ত্রণালয়ে যান বিসিবি সভাপতি ও পরিচালকরা। বৈঠক শেষে যে সারসংক্ষেপ উঠে এসেছে সেটি হচ্ছে, ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় বাংলাদেশ। একই সঙ্গে বাংলাদেশের পাঠানো ই-মেইলের জবাবে আইসিসি যে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে, এর উত্তর দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বিসিবি। ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল জানান, গত রাত কিংবা আজ সকালের মধ্যেই আইসিসিকে উত্তর পাঠানো হবে।

সেখানে ভারতের সার্বিক পরিস্থিতি যে বাংলাদেশের জন্য নিরাপদ নয়, সেটি পরিষ্কারভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করা হবে। বৈঠক শেষে তিনি বলেন, ‘আমরা আইসিসি থেকে যে চিঠি পেয়েছি, সেটি পড়ে আমার মনে হয়েছে, ভারতে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের জন্য যে গুরুতর নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি হয়েছে, সেটি তারা পুরোপুরি অনুধাবন করতে পারেনি। আমার কাছে বিষয়টি শুধু নিরাপত্তার নয়, জাতীয় মর্যাদার প্রশ্নও। তবে আমরা নিরাপত্তা ইস্যুকেই প্রাধান্য দিচ্ছি।

একই সঙ্গে ভারতের পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে আসিফ নজরুল বলেন, ‘যখন ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড নিজেরাই বলছে, কলকাতা নাইট রাইডার্সের এই খেলোয়াড়কে (মুস্তাফিজুর রহমান) নিরাপত্তা দেওয়া সম্ভব নয় এবং তাকে দল থেকে বাদ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে, তখন তো পরিষ্কার বোঝা যায় যে সেখানে নিরাপদ পরিবেশ নেই।’ আইসিসিকে নিজেদের অবস্থান বোঝাতে পারার ব্যাপারে আশাবাদী ক্রীড়া উপদেষ্টা। তাঁর কথা, ‘আমরা ভারতে বড় পরিসরের সাম্প্রদায়িক পরিস্থিতির কথা তুলে ধরতে চাই না। কিন্তু আমাদের ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা, বাংলাদেশের নিরাপত্তা এবং দেশের মর্যাদার প্রশ্নে কোনো আপস করব না। আমরা বিশ্বকাপ খেলতে চাই, তবে যৌথ আয়োজক শ্রীলঙ্কায় গিয়ে খেলতে চাই।

তিনি আরো জানান, আইসিসি যদি বাংলাদেশের প্রস্তাব গ্রহণ না করে, তবে সে পরিস্থিতি তখন বিবেচনা করা হবে। আপাতত মূল লক্ষ্য আইসিসিকে বোঝানো, ‘আমাদের প্রথম অবস্থান হচ্ছে আইসিসিকে বোঝানো। আমাদের যথেষ্ট শক্ত যুক্তি আছে। শক্ত যুক্তি দিয়ে আমরা আইসিসিকে বোঝাব। আমাদের অবস্থানের মূলনীতি হচ্ছে বাংলাদেশের নিরাপত্তা, বাংলাদেশের সম্মান আর বাংলাদেশের মর্যাদা। এখানে আমরা আপস করব না। কিন্তু আমরা অবশ্যই ক্রিকেট বিশ্বকাপ খেলতে চাই। তারপর পরবর্তী পরিস্থিতি যা হবে সেটা নিয়ে আমরা বসে সিদ্ধান্ত নেব।’

বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলও একই সুরে কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘আমরা আইসিসিকে আমাদের অবস্থান ব্যাখ্যা করব। আগেও আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে নিরাপত্তা ইস্যু এসেছে। হাইব্রিড মডেলে বিশ্বকাপ আয়োজনের মূল কারণই তো নিরাপত্তা। আশা করি, আমাদের যুক্তিগুলো আমরা সঠিকভাবে প্রমাণ করতে পারব।’