বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিগত ১৫ বছরে যারা লুটপাটে জড়িত ছিল তাদের শাস্তি দিন, কিন্তু তাদের প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে বেকারত্ব তৈরি করা কোনো সমাধান নয়। গতকাল শনিবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে চতুর্থ বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘ব্যবসায়ীদের ব্যাপারে চিন্তা-ভাবনা পরিবর্তন করা দরকার। তাদের বিশ্বাস করতে হবে।
লুটপাটে যারা জড়িত তাদের শাস্তি দিন। কিন্তু প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে কেন বেকারত্ব তৈরি করছি? এগুলো ভাবতে হবে। শুধু অর্থনৈতিক পথরেখা নয়, রাজনৈতিক পথরেখাও তৈরি করতে হবে। একটা দেশ যেখানে সব মানুষ তারা অন্তত একটা বেটার লিভিংয়ে থাকবে, ভালো অবস্থায় থাকবে এবং একটা ভালো গভর্ন্যান্সের মধ্যে থাকবে, ডেমোক্রেসিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেবে।
এই বিষয়টা আমরা দেখতে চাই।’
তিনি আরো বলেন, ‘রাজনীতির পথরেখা স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে বিএনপি এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছে। আমরা এই যে রিফর্মগুলো করেছি, চার্টারে সই করেছি, ঘোষণাপত্র সই করেছি। একটা জিনিস আমি খুব পরিষ্কার করে আপনাদের সামনে বলতে চাই, রিফর্মের যে প্রস্তাবগুলো আমরা সই করেছি, এসব ২০১৬ সালে আমাদের নেত্রী দেশনেত্রী খালেদা জিয়া এফিশিয়েন্টলি দিয়েছিলেন।
আজকের যে বিষয়গুলোতে আমরা একমত হয়েছি তার অনেক বিষয় সেখানে কিন্তু ছিল।’
মির্জা ফখরুল বলেন, স্বাস্থ্য খাতে আমাদের অনেক বেশি কাজ করা দরকার। একই সঙ্গে যেটা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, সেটা হচ্ছে শিক্ষা খাতকে আমূল পরিবর্তন করা। আমাদের জনগণের উন্নয়নের উপযোগী করার জন্য সবচেয়ে বেশি শিক্ষাকে ঢেলে সাজানো দরকার। এ জন্য রাজনৈতিক পথরেখায় স্থায়িত্ব ও স্থিতিশীলতা জরুরি।
সামগ্রিকভাবে আমরা সবসময়ই বাংলাদেশকে একটা সমৃদ্ধ বাংলাদেশ হিসেবেই দেখতে চাই। বিএনপি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দল হিসেবে সবসময় দেশের অর্থনীতি সচল রাখতে ভূমিকা রেখেছে। ওপেন ইকোনমি যুগের সূচনা করেছেন জিয়াউর রহমান। বিএনপি অর্থনীতি ধ্বংস করেছে, এ কথা কেউ কখনো বলতে পারেনি।
একই অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘বিএনপির সময় কোনো দিন ক্যাপিটাল মার্কেটে (পুঁজিবাজার) ধস নামেনি। বিএনপির সময় পলিটিক্যাল ডিসিশন নিয়ে গভর্নর অ্যাপয়েন্টমেন্ট করেনি। যেহেতু আমাদের সময় ব্যাংকিং সেক্টরে কোনো দিন সমস্যা হয়নি, আগামী দিনেও হবে না ইনশাআল্লাহ। রাজনীতিতে যেভাবে আমরা গণতন্ত্রের কথা বলছি, অর্থনীতিকেও আমাদের গণতন্ত্রের দিকে নিয়ে যেতে হবে। শুধু রাজনীতিকে গণতান্ত্রিক করবেন, নির্বাচন-সরকার-সংসদ হবে, সেটা কিন্তু সমাধান না। সলিউশন হবে আমরা যদি অর্থনীতিকে গণতান্ত্রিক করতে পারি।’




