ইরানের শেষ শাহের নির্বাসিত পুত্র রেজা পাহলভি বিশ্ববাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, ইরানের সরকার উৎখাতে দেশটির আন্দোলনকারীদের সহায়তা করার জন্য। তিনি বলেছেন, ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্রের পতন হবেই—হবে কি না, সেই প্রশ্ন নয়; প্রশ্ন হলো, কবে হবে।’
যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বিরোধী নেতা রেজা পাহলভি ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর বিরুদ্ধে লক্ষ্যভিত্তিক বা ‘সার্জিক্যাল’ হামলার আহ্বান জানান। তাঁর দাবি, এতে আন্দোলনকারীদের কাজ সহজ হবে এবং প্রাণহানি কমানো সম্ভব হবে।
আরও দেখুন
মোবাইলে
সংবাদ লেখার প্রশিক্ষণ
ইংরেজি সংস্করণ
গণমাধ্যম প্রশিক্ষণ কোর্স
ইসলাম বিষয়ক
অপরাধ বিষয়ক আইনি সহায়তা
খেলাধুলা আপডেট
সংবাদ সাবস্ক্রিপশন
দুর্নীতি বিরোধী কর্মশালা
অনলাইন সংবাদ পোর্টাল
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ ডিসেম্বর অর্থনৈতিক সংকটকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত দুই হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। পরে এই আন্দোলন রূপ নেয় সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শাসনের অবসানের দাবিতে।
ইরান সরকার এই বিক্ষোভকে বিদেশি শত্রুদের মদদপুষ্ট ‘দাঙ্গা’ বলে উল্লেখ করেছে। তবে বিভক্ত বিরোধী শিবিরের মধ্যে রেজা পাহলভি একজন গুরুত্বপূর্ণ মুখ হিসেবে উঠে এসেছেন এবং এর আগেও তিনি বিক্ষোভ জোরদারের আহ্বান জানিয়েছিলেন।
কর্তৃপক্ষের কঠোর দমন অভিযানে আন্দোলনকারীরা প্রাণঘাতী শক্তির মুখে পড়ছেন। একই সঙ্গে প্রায় সম্পূর্ণ ইন্টারনেট ও যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, ফলে প্রকৃত পরিস্থিতি জানা কঠিন হয়ে পড়েছে।
ওয়াশিংটনে এক সংবাদ সম্মেলনে রেজা পাহলভি ইরানে ফিরে যাওয়ার অঙ্গীকার করেন এবং দেশটির জন্য একটি নতুন সংবিধান প্রণয়নের রূপরেখা তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর কিছু অংশ দমন অভিযানে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে এবং সরকার বিদেশি মিলিশিয়া এনে বিক্ষোভ দমন করছে।
ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘এটা ইরানের জনগণই ঠিক করবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি তাদের নিজেদের মুক্ত করতে সহায়তা করার চেষ্টা করছি।’
পাহলভি জানান, তিনি এমন একটি শাসনব্যবস্থার পক্ষে, যেখানে দেশের ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষা, ধর্ম ও রাষ্ট্রের পৃথকীকরণ, ব্যক্তিস্বাধীনতা এবং জনগণের ভোটে গণতান্ত্রিক সরকার গঠনের অধিকার নিশ্চিত থাকবে।
বর্তমান আন্দোলনের সূত্রপাত হয় তেহরানে দোকানিদের ধর্মঘট থেকে। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও মুদ্রার মূল্য পতনের প্রতিবাদে শুরু হওয়া এই আন্দোলন দ্রুত সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে এবং ধর্মীয় শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে রূপ নেয়। বিক্ষোভকারীদের স্লোগানের মধ্যে ছিল ‘স্বৈরশাসকের মৃত্যু’ এবং ‘এই বছরই সাইয়্যেদ আলি খামেনির পতন হবে’।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন এইচআরএএনএ জানায়, আন্দোলন শুরুর পর থেকে অন্তত দুই হাজার ৪৫৩ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১৪ জন শিশু রয়েছে। এ ছাড়া নিরাপত্তা বাহিনী বা সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ১৫৬ জন এবং সম্পৃক্ত নন এমন ১৪ জন বেসামরিক নাগরিকও নিহত হয়েছেন। একই সময়ে ১৮ হাজার ৪৭০ জনের বেশি বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।




