মিয়ানমার রাষ্ট্রদূতকে তলব করে তীব্র প্রতিবাদ

SHARE

বিজিবিকে লক্ষ্য করে বিজিপির গুলি ছোড়া ও বিজিবির নায়েক সুবেদার মিজানুর রহমানকে হত্যার প্রতিবাদে ঢাকায় নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত মিউ মিন্ট থানকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তলব করা হয়।

শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রাষ্ট্রদূতকে সেগুন বাগিচায় ডেকে এনে ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়।image_84177_0

পররাষ্ট্রসচিব মো. শহীদুল হক জানিয়েছেন, সকালে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় মিউ মিন্ট থানকে ডেকে এনে ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। সীমান্তে গুলি ছোড়া বন্ধ এবং নিহত বিজিবি সদস্যের লাশ ফেরত দেয়ার ব্যাপারে রাষ্ট্রদূতকে তাগিদ দেয়া হয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয় সূত্র জানায়, ঘটনার কড়া প্রতিবাদ জানিয়ে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে বিষয়টি তার সরকারকে জানাতে বলা হয়। রাষ্ট্রদূত মন্ত্রণালয়ে পৌঁছার পর সচিব (দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও কনস্যুলার) মুস্তফা কামাল তার সঙ্গে কথা বলেন।

মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত ওই বক্তব্য তার যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দেবেন বলে জানান।

এর আগে বৃহস্পতিবারও মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে মন্ত্রণালয়ে তলব করা হয়েছিল।

শনিবার সকালে বিজিবির বন্দারবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন ব্যাটেলিয়ন থেকে বিজিবির সদস্যদের নাইক্ষ্যংছড়ির দোছড়ি সীমান্তের সব বিওপিওগুলোতে মোতায়েন করা হয় বলে বিজিবি সূত্রে জানা যায়।

এদিকে বান্দারবানের নাইক্ষ্যংছড়ির দোছড়ি সীমান্তে শুক্রবার মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী- বর্ডার গার্ড পুলিশের (বিজিপি) গুলি ছোড়ার প্রেক্ষিতে সীমান্তের বিওপিওগুলোতে অতিরিক্ত বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

বুধবার সকালে বিজিবিকে লক্ষ্য মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনীর গুলি ছোড়ার ফলে গুলিবিদ্ধ বিজিবির পাইনছড়ি ক্যাম্পের অধিনায়ক নায়েক সুবেদার মিজানুর রহমান নিখোঁজ হন।

শুক্রবার বিকালে নিখোঁজ বিজিবি সদস্যের লাশ ফেরত দেয়ার কথা ছিল।

সে অনুযায়ী বিজিবির রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহম্মদ আলী ও কক্সবাজার সেক্টর কমান্ডার কর্নেল ফরিদসহ বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা শুক্রবার বিকাল তিনটায় পাইনছড়ির ৫৫ নম্বর পিলারের কাছে একটি কফিন নিয়ে অবস্থান করেন।

এ সময় মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী লাশ ফেরত না দিয়ে বিজিবির কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়তে থাকে। আত্মরক্ষার্থে বিজিবিও পাল্টা গুলি ছোড়ে।

এ ঘটনার পর থেকে বিজিবির আরো দুই সদস্য নিখোঁজ রয়েছে। তারা হলেন ল্যান্স নায়েক বাবুল ও সিপাহী মো. জাহাঙ্গীর। তবে বিষয়টি বিজিবির পক্ষ থেকে অস্বীকার করা হয়েছে।