ব্যাটিং বিনোদনের বিশ্বকাপ

SHARE

bdc28অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডের মাটিতে বিশ্বকাপ। উপমহাদেশ তথা ক্রিকেট বিশ্বের দলগুলোর জন্য ভয়ের কারণ ছিল অনেক। কিন্তু মাঠে গড়াতেই বিশ্বকাপ আপন ডেরায় টেনে নিয়েছিল সব দলকে। আইসিসি সহযোগী দেশ থেকে শুরু করে সব দলই ব্যাটে-বলে চমক দেখিয়েছে।বিনোদিত করেছে ক্রিকেট বিশ্বকে।

গত সাত সপ্তাহ জুড়ে তাসমান সাগরের দুই পাড়ের দেশে হয়েছে ক্রিকেট লড়াই। আগের দশ আসরে ছিল না কোনো ডাবল সেঞ্চুরি। অথচ একাদশ আসরে ফাইনালের আগেই ক্রিকেটপ্রেমীরা দেখেছে দুটি ডাবল সেঞ্চুরি। দেড়শো ছাড়ানো ইনিংস ছিল সাতটি। আর সেঞ্চুরি ৩৮টি। ব্যাটসম্যানদের দাপটা এখানেই স্পষ্ট। বিশ্বকাপে টানা চার সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়েছেন শ্রীলঙ্কার কুমার সাঙ্গাকারা। টানা দুটি সেঞ্চুরি করেছেন বাংলাদেশের মাহমুদউল্লাহ রিয়াদও। চারশো রানের দুটি স্কোর করেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা।

উপরের চিত্রটা বোলারদের দুর্বিসহ জীবনের কথাই বলছে হয়তো। কিন্তু বোলাররাও কম যাননি। ২৮ বার বোলাররা ৪ উইকেট পেয়েছেন। দুটো হ্যাটট্রিকও ছিল বিশ্বকাপে।

লাইসেন্স নিয়ে বিশ্বকাপ সম্প্রচার করেছে ৪৪টি চ্যানেল, সাতটি ভাষায়, ২২০টি অঞ্চলে। ছিল ১০টি রেডিও। গ্রুপ পর্বে ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচে মেলবোর্নে উপস্থিত ছিল ৮৬ হাজার দর্শক। অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ড ম্যাচটা দেখেছে প্রায় ২.১ মিলিয়ন দর্শক। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ১৪ হাজার সাংবাদিক কভার করেছেন বিশ্বকাপ ক্রিকেট।slc28

নিউজিল্যান্ডের সাতটি, অস্ট্রেলিয়ার সাতটি ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হয়েছে বিশ্বকাপের মাঠের লড়াই। তবে এবার বিশ্বকাপে আম্পায়ারিংয়ের মান নিয়ে ছিল দলগুলোতে বড় অসন্তোষ। বাজে আম্পায়ারিংয়ের শিকার হয়েছে কয়েকটি দল।

দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে খেলেছে বাংলাদেশ। আম্পায়ারদের পক্ষপাতমূলক সিদ্ধান্তের বলি হয়ে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়ে টাইগাররা। আইসিসি সহযোগী দল আফগানিস্তান, আরব আমিরাত, আয়ারল্যান্ড, স্কটল্যান্ড চমক দেখিয়েছে। বিশেষ করে আইরিশরা র্দুভাগ্যের কারণে শেষ আটে যেতে পারেনি।

বড় দলগুলোর মাঝে ইংল্যান্ড হতাশ করেছে সবাইকে। গ্রুপ পর্ব থেকেই বাদ পড়ে তারা। ওয়েস্ট ইন্ডিজ, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তানের বিশ্বকাপও শেষ হয়ে যায় কোয়ার্টার ফাইনালে। সেমিফাইনাল থেকে বাদ পড়ে দক্ষিণ আফ্রিকা ও দশম আসরের চ্যাম্পিয়ন ভারত।