ধর্ষণের মামলায় ব্যবসায়ীপুত্র সাফাতের বাড়িতে পুলিশের অভিযান

SHARE

২৪আওয়ার রিপোর্ট : বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রীকে রাজধানীর বনানীতে দ্যা রেইন ট্রি নামের হোটেলে আটকে রেখে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আপন জুয়েলার্সের মালিকের ছেলে সাফাত আহমেদের বাড়িতে অভিযান চালিয়েছে পুলিশ।

আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে গুলশান-২ এলাকায় বনানী থানা পুলিশ এ অভিযান চালায়। তবে অভিযানে তাকে না পেয়ে তার বাবা ব্যবসায়ী দিলদার হোসেন সেলিমকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ।

দিলদার আহমেদ বলেন, ‘সাফাতকে খুঁজতে পুলিশ বাসায় এসেছে বেলা ১১টার দিকে। কিন্তু সাফাত সোমবার রাতে বেরিয়ে গেছে। তারপর তার (সাফাত) সঙ্গে আর যোগাযোগ হয়নি।’

বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বনানী থানার ওসি (তদন্ত) আবদুল মতিন জানান, বেলা ১১টার দিকে গুলশানের ৬২ নম্বর রোডের ২ নম্বর বাড়িতে এ অভিযান চালানো হয়। তবে সাফাতকে পাওয়া যায়নি। তার বাবাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

‘শুধু সাফাত নয়, এ মামলায় সঙ্গে সম্পৃক্ত সব আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সম্ভব্য স্থানে পুলিশি অভিযান চালানো হবে বলেও জানান পুলিশের ওই কর্মকর্তা।

অভিযোগ উঠেছে গত ২৮ মার্চ বনানীর ২৭ নম্বর রোডের কে ব্লকের ৪৯ নম্বর ‘দি রেইনট্রি’ হোটেলের একটি কক্ষে সারারাত দু্ই তরুণীকে আটকে রেখে ধর্ষণ করে সাফাত আহমেদ ও তার বন্ধু নাঈম আশরাফ। ১ মাস পর গত ৪ মে ওই দুই তরুণীর একজন এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ করেন।

এরপর ২ দিন টালবাহানা শেষে গত শনিবার মামলা নেয় পুলিশ। মামলায় পাঁচজনকে আসামি করা হয়। আসামিরা হলেন- সাফাত আহমেদ, একুশে টেলিভিশনের বিজ্ঞাপন বিভাগের কর্মকর্তা নাইম আশরাফ, পিয়াকো রেস্টুরেন্টের মালিক সাদনান সাকিফ, সাফাত আহমেদের দেহরক্ষী ও তার গাড়িচালক।

গত ৬ মে এ ঘটনায় ভুক্তভোগী দুই ছাত্রী থানায় মামলা করেন। পরে ৭ মে রোববার দুই ছাত্রীর মেডিক্যাল পরীক্ষা করা হয়।

এদিকে অভিযোগ উঠেছে, এই মামলায় আসামিরা প্রভাবশালী হওয়ায় পুলিশ তাদের আটক করছে না। ভুক্তভোগী দুই ছাত্রী অভিযোগ করেছেন, নানাভাবে পুলিশ তাদের হয়রানি করছে।

ওদিকে থানায় মামলা দায়েরের পর আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ তাদের আটক করেনি। এ নিয়ে গণমাধ্যমে লেখালেখির পর সোমবার থেকে পুলিশ নড়েচড়ে বসে। আর ওই পরিপ্রেক্ষিতেই এই অভিযান চালানো হয়।