ধারাবাহিক লেনদেন কমছে ডিএসইতে

SHARE

5244শেয়ারবাজার উন্নয়নে ২০১০ সালের পর থেকে বিভিন্ন আইন-কানুন সংশোধনসহ অনেক সংস্কার হয়েছে। সর্বশেষ বাংলাদেশ ব্যাংকও বিনিয়োগকারীদের উৎসাহ দিতে ব্যাংকিং খাতে সুদের হার কমিয়েছে। একই সঙ্গে মুদ্রানীতি ও রেগুলেটরি সমর্থন টেকসই পুঁজিবার উন্নয়নেও সহায়ক হবে বলছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কিন্তু এরপরও ঘুরে দাঁড়ায়নি শেয়ারবাজার। ধারাবাহিকভাবে কমছে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) লেনদেন। গত চার সপ্তাহের ব্যবধানে গড় লেনদেন কমেছে ২১৭ কোটি ৫৭ লাখ টাকা বা ৩৪ দশমিক ৫৯ শতাংশ।

শেয়ারবাজার উন্নয়নে নানা উদ্যোগ ও প্রণোদনা দেওয়া সত্ত্বেও বিনিয়োগকারীদের আস্থার সংকটের করণে একের পর এক দরপতন হচ্ছে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

ডিএসইর সপ্তাহিক প্রতিবেদক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ১০ থেকে ১৪ জানুয়ারি ডিএসইতে সপ্তাহিক লেনদেনের গড় যেখানে ছিল ৬২৮ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। সর্বশেষ সপ্তাহে (৩১ জানুয়ারি থেকে ৪ ফেব্রুয়ারি) তা নেমে এসে ৪১১ কোটি ৪১ লাখ টাকায়। অর্থাৎ গত চার সপ্তাহের ব্যবধানে গড় লেনদেন কমেছে ২১৭ কোটি ৫৭ লাখ টাকা বা ৩৪ দশমিক ৫৯ শতাংশ।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে গত চার সপ্তাহ গড় লেনদেন চিত্রে দেখা যায়, এর মধ্যে গত (১০ থেকে ১৪ জানুয়ারি) ডিএসইতে সপ্তাহিক লেনদেনের গড় ছিল ৬২৮ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। পরের সপ্তাহে (১৭ থেকে ২১ জানুয়ারি) নেমে আসে ৫৮৮ কোটি ৩৪ লাখ টাকায়। তার পরে (২৪ থেকে ২৮ জানুয়ারি) সপ্তাহে গড়ে প্রতিদিন লেনদেন দাড়ায় ৪৩০ কোটি ৪৪ লাখ টাকার। সর্বশেষ (৩১ জানুয়ারি থেকে ৪ ফেব্রুয়ারি) সপ্তাহে লেনদেনের এই গড় নেমে এসে দাঁড়িয়েছে ৪১১ কোটি ৪১ লাখ টাকায়।

এদিকে সর্বশেষ সপ্তাহিক বাজার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স সপ্তাহে শেষে কমেছে ২ দশমিক ৪৭ পয়েন্ট বা দশমিক ০৫ শতাংশ, ডিএস৩০ সূচক বেড়েছে ১৩ দশমিক ৫৭ পয়েন্ট বা  দশমিক ৭৮ শতাংশ। আর শরীয়াহ সূচক বা ডিএসইএস বেড়েছে ৫ দশমিক ৭২ পয়েন্ট বা দশমিক ৫২ শতাংশ।

গেল সপ্তাহে হ্রাস পেয়েছে লেনদেন হওয়া অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের দর। ডিএসইতে তালিকাভুক্ত মোট ৩৩৩টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ৯৪টির, কমেছে ২২১টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ১৫টির। আর লেনদেন হয়নি ৩টি কোম্পানির শেয়ার।

ডিএসইতে টাকার অংকে লেনদেন হয়েছে ২ হাজার ৫৭ কোটি ৯ লাখ ১০ হাজার ৮৭২ টাকার। যা এর আগের সপ্তাহের তুলনায় ৯৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা বা ৪ দশমিক ৪২ শতাংশ কম। আগের সপ্তাহে ডিএসইতে লেনদেন হয়েছিল ২ হাজার ১৫২ কোটি ২৪ লাখ ৪৭ হাজার ৬২৩ টাকার। গত সপ্তাহে ডিএসইতে গড়ে প্রতিদিন লেনদেন হয়েছে ৪১১ কোটি ৪১ লাখ টাকার। যা তার আগের সপ্তাহে ছিল ৪৩০ কোটি ৪৪ লাখ টাকার।

সপ্তাহের ব্যবধানে বাজার মূলধন দশমিক ১৪ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ১৬ হাজার ৫৮৯ কোটি ৯৬ লাখ ৪৪ হাজার ৯২০ টাকায়। আর সার্বিক মূল্য আয় অনুপাত (পিই রেশিও) দশমিক ১৪ শতাংশ কমে ১৫ দশমিক ২৯ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

অন্যদিকে দেশের অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সপ্তাহে সিএএসপিআই সূচক কমেছে দশমিক ১৯ শতাংশ। সিএসই৩০ সূচক কমেছে ১ দশমিক ৫৮ শতাংশ। আর সার্বিক সূচক সিএসইএক্স কমেছে দশমিক ১৯ শতাংশ।

সপ্তাহে সিএসইতে গড়ে মোট লেনদেন হয়েছে ২৮০ টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিটের। এর মধ্যে দর বেড়েছে ৭৯ টির, কমেছে ১৮৩টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ১৮টির। টাকার অংকে লেনদেন হয়েছে ১৪৫ কোটি ৫১ লাখ ৩৫ হাজার ৪০ টাকা।