মুক্তিযোদ্ধাদের সঠিক তথ্য জানা দরকার : খন্দকার মাহবুব

SHARE

3062মুক্তিযুদ্ধে যাদের রক্তের বিনিময়ে স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছি তাদের বিষয়ে সঠিক তথ্য জানা দরকার বলে মন্তব্য করেছেন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন। ‘খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করা হচ্ছে’-এমন খবর প্রকাশের পর এক প্রতিক্রিয়ায় সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, তাদের (মুক্তিযোদ্ধা) সঠিক ভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে না। দীর্ঘ ৪২ বছর যাবৎ আমরা শুধু মুখের কথাই বলি। সরকার শুধু আবেগের বশবর্তী হয়ে এই মামলা করছে।

এর আগে মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সঠিক সংখ্যার বিষয়ে খালেদা জিয়ার মন্তব্য নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে তার বিরুদ্ধে মামলা করার অনুমতি পেয়েছে বলে জানান আওয়ামী লীগের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মমতাজ উদ্দিন আহম্মেদ মেহেদী। তার এ সংবাদের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন সাংবাদিকদের সঙ্গে এ মন্তব্য করেন।

খন্দকার মাহবুব হোসেন আরো বলেন, গত ২১ ডিসেম্বর ইঞ্জিনিয়ার ইনস্টিটিউটে শহীদের সঠিক সংখ্যা নিয়ে বেগম খালেদা জিয়ার দেয়া বক্তব্যে যা ছিল তাতে রাষ্ট্রদ্রোহের কিছু নেই। রাষ্ট্রদ্রোহিতা হয় যদি কেউ সরকার উৎখাতের চেষ্টা করেন। যদি কেউ সরকারের প্রতি জনগণকে উস্কে দেয়ার জন্য বক্তৃতা দেয় তাহলে তা হবে রাষ্ট্রদ্রোহিতা। এখানে কেউ রাষ্ট্রদ্রোহিতা করেননি।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ও বিএনপি উভয়ের পাল্টা-পাল্টি বক্তব্য দেয়া হয়েছে। তাতে খালেদা জিয়ার বক্তব্য রাষ্ট্রদোহ নয়। মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা নিয়ে খালেদা জিয়ার বক্তব্যে রাষ্ট্রদ্রোহীতারও কিছু নেই।

খন্দকার মাহবুব বলেন, মুক্তিযুদ্ধে যারা শহীদ হয়েছেন তাদের বিষয়ে সঠিক কোনো তথ্য নেই। এ জন্য সঠিক তথ্য থাকা দরকার। খালেদা সঠিক বক্তব্য দিয়েছেন। ফৌজদারি দণ্ডবিধির ১২৪(ক) ধারায় রাষ্ট্রদ্রোহের যে সংজ্ঞার কথা বলা হয়েছে তাতে খালেদা জিয়ার বক্তব্য পরে না।

মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের বিষয়ে সঠিত তথ্য নিশ্চিত করার জন্য বিএনপির আগামী নিবার্চনী ইশতেহারে অর্ন্তভূক্ত করার জন্য বেগম খালেদা জিয়াকে অনুরোধ করা হবে বলেও জানান তিনি।

প্রসঙ্গত, গত ২১ ডিসেম্বর মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার কারণে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করার অনুমতি দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সম্পাদক মমতাজউদ্দীন আহমেদের আবেদন বিবেচনায় এনে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।